আমর ইবনুল আস

আমর ইবনে আল আস ছিলেন আরব সেনাবাহিনীর একজন সেনাপ্রধান, যিনি ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে মিশরে মুসলিম বিজয়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিত| তিনি নবী মুহাম্মাদ-এর সমসাময়িক একজন লোক এবং সাহাবী, যিনি ৮ম হিজরিতে (৬২৯ সাল) ইসলাম গ্রহণ করার পর মুসলিম সমাজ কর্তৃক দ্রুত উপরে উঠে আসেন| তিনি মিশরীয় রাজধানী "ফুসতাতের" গোড়াপত্তন করেন এবং এর কেন্দ্রে বিখ্যাত আমর ইবনে আস মসজিদ নির্মাণ করেন|

আমর ইবনুল আস মসজিদ

আমর ইবনুল আস মসজিদ (আরবি: جامع عمرو بن العاص‎‎) (আমর মসজিদ বলেও পরিচিত) ৬৪১-৬৪২ সালে মিশরের নতুন স্থাপিত রাজধানী ফুসতাতের কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত হয়। এটি ছিল আফ্রিকায় স্থাপিত প্রথম মসজিদ। শতাব্দীব্যপী পুনর্গঠনের কারণে মূল মসজিদটি বর্তমানে উপস্থিত নেই। তবে বর্তমান মসজিদটি পুরনো কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

আরবি ভাষা

আরবি ভাষা (العَرَبِيَّة, আল্-ʿআরবিয়্যাহ্ বা عَرَبِيّ ʻআরবিয়্য্) সেমিটীয় ভাষা পরিবারের জীবন্ত সদস্যগুলির মধ্যে বৃহত্তম। এটি একটি কেন্দ্রীয় সেমিটীয় ভাষা এবং হিব্রু ও আরামীয় ভাষার সাথে এ ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আধুনিক আরবিকে একটি "ম্যাক্রোভাষা" আখ্যা দেয়া হয়; এর ২৭ রকমের উপভাষা ISO 639-3-তে স্বীকৃত।

উজির

উজির (, ;আরবি: وزير‎‎; Wazeer, ফার্সি: vazīr‎‎, তুর্কী: vezir, উর্দু: وزیر‎‎, Vazeer) উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা উপদেষ্টার পদ। আব্বাসীয় খলিফারা মন্ত্রীদেরকে উজির উপাধি দিয়েছিলেন। পূর্বে তাদের কাতিব (সচিব) ডাকা হত।আধুনিক যুগে আরব বিশ্ব, ইরান, তুরস্ক, পূর্ব আফ্রিকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে সরকারের মন্ত্রীদের বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে উজিরে আজম শব্দ ব্যবহৃত হয়।

কায়রো

কায়রো মিশরের রাজধানী। আরবি শব্দ القاهرة আল-ক্বাহিরা থেকে এই নামের উৎপত্তি। আল-ক্বাহিরা শব্দের অর্থ "বিজয়ী"। এই শহরের খুব কাছেই প্রাচীন মিশরীয় বাবিলন শহর অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। নীল নদের ব-দ্বীপ এর শীর্ষ ভাগে এই শহরের অবস্থান। নদীর অপর তীরে ছিল মিশরের প্রাচীন রাজধানী মেমফিস।

চিত্তরঞ্জন সাহা

চিত্তরঞ্জন সাহা (জানুয়ারি ১, ১৯২৭ - ডিসেম্বর ২৬, ২০০৭) বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের একজন পথিকৃৎ। তিনি বাংলা একাডেমী বইমেলার উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পুঁথিঘর এবং মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মূদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ছত্রাক

ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে।

ঢাকা

ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। প্রশাসনিকভাবে এটি দেশটির ঢাকা বিভাগের প্রধান শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল এলাকাতে অবস্থিত। ঢাকা একটি অতিমহানগরী (মেগাশহর); ঢাকা মহানগরী এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ। জনসংখ্যার বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর (দিল্লি, করাচি ও মুম্বইয়ের পরেই) এবং সমগ্র বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহর। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরী; ১৩৪ বর্গমাইল আয়তনের এই শহরে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার লোকের বাস।ঢাকা শহরটি "মসজিদের শহর" নামেও পরিচিত। এখানে ৭০০-রও বেশি মসজিদ আছে। এছাড়া ঢাকা "বিশ্বের রিকশা রাজধানী" নামেও পরিচিত। এই শহরে রোজ প্রায় ৪০০,০০০ থেকে ৪৫০,০০০টি রিকশা চলাচল করে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।ঢাকা শহরের জলবায়ু ক্রান্তীয় আর্দ্র ও শুষ্ক প্রকৃতির। গড় তাপমাত্রা এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা শহরে বর্ষাকাল, সেসময় প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়।সপ্তদশ শতাব্দীতে পুরানো ঢাকা মুঘল সাম্রাজ্যের সুবহে বাংলা (বাংলা প্রদেশ) এর প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে এই শহর জাহাঙ্গীর নগর নামে পরিচিত ছিলো। বিশ্বব্যাপী মসলিন বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র ছিলো ঢাকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীগণ এখানে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসতেন। ঢাকাতে বিশ্বের সেরা মসলিন কাপড় উৎপাদিত হতো। যদিও আধুনিক ঢাকা শহরের বিকাশ ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসন আমলে, এই সময় নবাবগণ ঢাকা শাসন করতেন। এই সময় কলকাতার পরেই ঢাকা বাংলা প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হয়ে ওঠে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে ঢাকা নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরে ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৫০-৬০ সালের মধ্যে এই শহর বিভিন্ন সামাজিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষিত হয়। ইতিপূর্বে সামরিক আইন বলবৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, সামরিক দমন, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাণ্ডবলীলার মতো একাধিক অস্থির ঘটনার সাক্ষী হয় এই শহর।

ফাতেমীয় খিলাফত

ফাতেমীয় খিলাফত (আরবি: الفاطميون, al-Fāṭimiyyūn) ইসলামী খিলাফতগুলোর মধ্যে চতুর্থতম। এই খিলাফত ইসমাইলি শিয়া মতবাদকে ধারণ করত। পূর্বে লোহিত সাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই খিলাফতের অধীনস্থ ছিল। এটি তিউনিসিয়াকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এই রাজবংশ আফ্রিকার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল শাসন করত এবং মিশরকে খিলাফতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। সর্বোচ্চ সীমায় পৌছার পর ফাতেমীয় খিলাফতের অধীনে মাগরেব, সুদান, সিসিলি, লেভান্ট ও হেজাজ শাসিত হয়।

ফুসতাত

ফুসতাত (আরবি: الفسطاط‎‎, al-Fusţāţ) বর্তমান মিশরের একটি প্রাচীন নগরী ইসলামের ২য় খলিফা হযরত উমরের (রা:) শাসনামলে যার গোড়াপত্তন হয়েছিল। সেনাপতি আমর ইবনুল আসের নেতৃত্বে ৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানদের মিশর জয়ের পর রাজধানী স্থাপনের উদ্দেশ্যে নীল নদের তীরবর্তী স্থানে এই শহরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় দুই শত বৎসর এটি মিশরের রাজধানী ছিল। এটি এখন মাসর্‌ আল-আতিক্বাহ নামীয় পুরাতন কায়রো নগরীর অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকা।

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ (শুনুন ) দক্ষিণ এশিয়ার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়, পূর্ব সীমান্তে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণ উপকূলের দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপের সিংহভাগ অঞ্চল জুড়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ড অবস্থিত। নদীপ্রধান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদী। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় ছেয়ে আছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন ও দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশে অবস্থিত।

বাংলাদেশ টেলিভিশন

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন সংস্থা। এটি ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ হতে সাদা-কালো সম্প্রচার শুরু করে। সে সময় এটি পাকিস্তান টেলিভিশন নামে পরিচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম রাখা হয়। ১৯৮০ থেকে এটি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।

ব্যাক্টেরিয়া

ব্যাক্টেরিয়া (ইংরেজি: Bacteria; /bækˈtɪəriə/ (শুনুন); একবচন: bacterium) হলো এক প্রকারের এককোষী অণুজীব। এরা এবং (আরকিয়ারা) হল প্রোক্যারিয়ট (প্রাক-কেন্দ্রিক) অর্থাৎ এদের কোষে সংগঠিত নিউক্লিয়াস নেই, আছে ঝিল্লিহীন নিউক্লিয়য়েড, যার মধ্যে রৈখিক ক্রোমোজোম নেই আছে বৃত্তাকার ডিএনএ, ঝিল্লি (মেমব্রেন) ওয়ালা কোন অঙ্গাণু নেই এবং নেই কোন সাইটোকঙ্কাল। মানুষের দেহে কয়েক ট্রিলিয়ন কোষ আছে, তবে ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা এর থেকে ১০-১০০ গুণ বেশি। গ্রাম স্টেইন দ্বারা দুরকম ব্যাক্টেরিয়াকে সাধারণতঃ আলাদা করা যায়।

শাওয়ার

শাওয়ার (আরবি: شاور بن مجير السعدي‎‎) (মৃত্যু ১৮ জানুয়ারি ১১৬৯) ছিলেন ফাতেমীয় মিশরের উজির। উজির হলেও তিনি কার্যত শাসক ছিলেন। ১১৬২ সালের ডিসেম্বর থেকে ১১৬৯ সালে নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উজিরের পদে ছিলেন। তিনি সালাহউদ্দিনের চাচা শিরকুহর হাতে নিহত হন। শাওয়ার দ্রুত মিত্রতা পরিবর্তন করতেন। শত্রুর হস্তগত না হওয়ার জন্য তিনি রাজধানী ফুসতাত শহর জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সময়ের কথা

সময়ের কথা বাংলাদেশ এর রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন এ প্রচারিত একটি আলোচনামূলক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা করেছেন সৈয়দ মুনির খসরু, যিনি ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন শিক্ষক এবং পরিচালনা করেছেন আব্দুন নূর তুষার। ২০০৭ এর২২ জুন বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত - প্যাট্রিসিয়া বিউটিনিসের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের মাধ্যমের অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষাৎকারে বিউটিনিস রসিকতার ছলে বাংলাদেশীদের "কখনো কখনো ষড়যন্ত্রপ্রবণ" বলায় প্রথম পর্বটি উল্লেখযোগ্যভাবে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার রাত ৯:১০ এ প্রচারিত হয়; যেহেতু বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি গণ্য করা হয়, সেহেতু সময়টিকে সপ্তাহান্তিক মুখ্য সম্প্রচার সময় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। যদিও সময়ের কথা নতুন অনুষ্ঠান, তা সত্ত্বেও দর্শক-সমালোচকদের কাছে এটি যে উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে তার কারণ এর আকর্ষনীয় ও অভিনব মঞ্চ সজ্জা, মানসম্মত বিষয় নির্বাচন, সৃষ্টিশীল আঙ্গিক।. "সময়ের কথা"এর প্রতিটি পর্ব সাধারণত নির্বাচিত বিষয় অথবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেমন, নির্বাচনী ও রাজনৈতিক পূনর্গঠন, দুর্নীতি দমন অভিযান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মূল্যের উর্ধ্বগতি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। মাঝে মাঝে অনুষ্ঠানটিতে বিনোদন কেন্দ্রিক বিষয় যেমন বাংলা গান এর চলতি হাল , ক্রিকেট ইত্যাদিও আলোচিত হয়।

অন্য ভাষায় পড়ুন