১৪৯২


১৪৯২ গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর একটি অধিবর্ষ

সহস্রাব্দ: ২য় সহস্রাব্দ
শতাব্দী:
  • ১৪শ শতাব্দী
  • ১৫শ শতাব্দী
  • ১৬শ শতাব্দী
দশক:
বছর:
বিষয় অনুসারে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দ
শিল্পকলা এবং বিজ্ঞান
স্থাপত্য - শিল্প
রাজনীতি
রাষ্ট্রনেতৃবৃন্দ - সার্বভৌম রাষ্ট্র
জন্ম ও মৃত্যু বিষয়শ্রেণীসমূহ
জন্ম - মৃত্যু
প্রতিষ্ঠা ও বিলুপ্তি বিষয়শ্রেণীসমূহ
প্রতিষ্ঠা - বিলুপ্তি
শিল্প ও সাহিত্য
কবিতা
অন্যান্য পঞ্জিকায় ১৪৯২
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী১৪৯২
MCDXCII
আব উর্বে কন্দিতা২২৪৫
আর্মেনীয় বর্ষপঞ্জী৯৪১
ԹՎ ՋԽԱ
অ্যাসিরীয় বর্ষপঞ্জী৬২৪২
বাংলা বর্ষপঞ্জি৮৯৮–৮৯৯
বেরবের বর্ষপঞ্জি২৪৪২
বুদ্ধ বর্ষপঞ্জী২০৩৬
বর্মী বর্ষপঞ্জী৮৫৪
বাইজেন্টাইন বর্ষপঞ্জী৭০০০–৭০০১
চীনা বর্ষপঞ্জী辛亥年 (ধাতুর শূকর)
৪১৮৮ বা ৪১২৮
    — থেকে —
壬子年 (পানির ইঁদুর)
৪১৮৯ বা ৪১২৯
কপটিক বর্ষপঞ্জী১২০৮–১২০৯
ডিস্কর্ডীয় বর্ষপঞ্জী২৬৫৮
ইথিওপীয় বর্ষপঞ্জী১৪৮৪–১৪৮৫
হিব্রু বর্ষপঞ্জী৫২৫২–৫২৫৩
হিন্দু বর্ষপঞ্জীসমূহ
 - বিক্রম সংবৎ১৫৪৮–১৫৪৯
 - শকা সংবৎ১৪১৩–১৪১৪
 - কলি যুগ৪৫৯২–৪৫৯৩
হলোসিন বর্ষপঞ্জী১১৪৯২
ইগ্বো বর্ষপঞ্জী৪৯২–৪৯৩
ইরানি বর্ষপঞ্জী৮৭০–৮৭১
ইসলামি বর্ষপঞ্জি৮৯৭–৮৯৮
জুলীয় বর্ষপঞ্জী১৪৯২
MCDXCII
কোরীয় বর্ষপঞ্জী৩৮২৫
মিঙ্গু বর্ষপঞ্জীপ্রজা. চীনের পূর্বে ৪২০
民前৪২০年
থাই সৌর বর্ষপঞ্জী২০৩৪–২০৩৫

ঘটনাবলী

অক্টোবর-ডিসেম্বর

জন্ম

অক্টোবর-ডিসেম্বর

মৃত্যু

আন্দালুস

আন্দালুস(আরবি: الأنْدَلُس‎‎, trans. al-ʼAndalus; স্পেনীয়: al-Ándalus; পর্তুগিজ: al-Ândalus; কাতালান: al-Àndalus;Berber: Andalus or Wandalus) মুসলিম স্পেন বা ইসলামি ইবেরিয়া দ্বারা মধ্যযুগে মুসলিম শাসিত ইবেরিয়ান উপদ্বীপ বোঝানো হয়। বর্তমানে এটি স্পেন ও পর্তুগালের অংশ। সংক্ষিপ্তকালের জন্য ফ্রান্সের দক্ষিণের সেপ্টিমেনিয়া অঞ্চল এর অংশ ছিল এবং এটি পশ্চিম ইউরোপ ও ইতালিকে সংযুক্ত করেছিল। পুরো ইবেরিয়ান উপদ্বীপকে বোঝানো হলেও রিকনকোয়েস্টা অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে এর সীমানা পরিবর্তন হয়েছে। ৭১১ থেকে ১৪৯২ সাল পর্যন্ত এর আয়ুষ্কাল ধরা হয়।উমাইয়াদের হিস্পানিয়া বিজয়ের পর আন্দালুসকে পাঁচটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করা হয়। এগুলো মোটামুটি আধুনিক আন্দালুসিয়া, গেলিসিয়া ও পর্তুগাল, কাস্টিল ও লিওন, আরাগণ, বার্সেলোনা কাউন্টি ও সেপ্টিমেনিয়া নিয়ে গঠিত ছিল। রাজনৈতিক পরিচিতির দিক থেকে এটি যথাক্রমে উমাইয়া খিলাফতের প্রদেশ (৭১১-৭৫০), কর্ডোবা আমিরাত (৭৫০-৯২৯), কর্ডোবা খিলাফত (৯২৯-১০৩১) ও কর্ডো‌বা খিলাফতের তাইফা রাজ্য হিসেবে ছিল। এসকল শাসনের সময় মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় লক্ষ্য করা যায়। খ্রিষ্টান ও ইহুদিরা জিজিয়া দেয়ার বিনিময়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত। করডোবা খিলাফতের সময় আন্দালুস জ্ঞানের আলোকে পরিণত হয় এবং কর্ডো‌বা ইউরোপসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। জাবির ইবনে আফলা, আবু ইশাক ইবরাহিম আল জারকালি, আবুল কাসিম আল জাহরাউয়ি, ও ইবনে জুহরদের ত্রিকোণমিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, শল্যচিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য নানা বিষয় সংক্রান্ত গবেষণার ফলে ইসলামি ও পশ্চিমা সমাজ অগ্রগতি অর্জন করে। আন্দালুস ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্রের অন্যতম পরিগণিত হত এবং তা মুসলিম ও খ্রিষ্টান বিশ্বের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক আদানপ্রদানের স্থল হয়ে উঠে।

ইতিহাসের অধিকাংশ সময়জুড়ে আন্দালুসের সাথে উত্তরের খ্রিষ্টান রাজ্যগুলোর বিরোধ চলেছিল। উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর আন্দালুস কয়েকটি রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে যার মধ্যে গ্রানাডা আমিরাত উল্লেখযোগ্য। খ্রিষ্টান কাস্টিলিয়ানদের হামলা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আলমোরাভি সাম্রাজ্য হস্তক্ষেপ করে খ্রিষ্টান হামলা প্রতিহত করে, দুর্বল আন্দালুসিয়ান মুসলিম রাজাদের সরিয়ে আন্দালুসকে সরাসরি বার্বার শাসনের আওতায় আনা হয়। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে আন্দালুস মারাকেশ ভিত্তিক বার্বার মুসলিম সাম্রাজ্য আলমোরাভি ও আলমোহাদের প্রদেশে পরিণত হয়।

শেষপর্যন্ত উত্তরের খ্রিষ্টান রাজ্যগুলো তাদের মুসলিম প্রতিবেশি রাজ্যগুলোকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়। ১০৮৫ সালে ষষ্ঠ অলফেনসো টলেডো দখল করেন। এরপর মুসলিমদের ধীরে ধীরে পতনের সূচনা হয়। ১২৩৬ সালে করডোবার পতনের পর গ্রানাডা আমিরাত বর্তমান স্পেনের একমাত্র মুসলিম অঞ্চল হিসেবে টিকে ছিল। ১২৪৯ পর্তুগিজ রিকনকোয়েস্টা শুরু হয় এবং পর্তুগালের তৃতীয় অলফেনসো আলগারভ জয় করেন। ১২৩৮ সালে গ্রানাডা আমিরাত কাস্টিল রাজ্যের করদ রাজ্যে পরিণত হয়। অবশেষে ১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারিআমির দ্বাদশ মুহাম্মদ কাস্টিলের রাণী প্রথম ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ইসাবেলা ও তার স্বামী দ্বিতীয় ফার্ডিনেন্ড একত্রে "ক্যাথলিক সম্রাট" বলা হত। আত্মসমর্পণের পর আন্দালুসের রাজনৈতিক পরিচিতির অবসান ঘটে। এ অঞ্চলে ইসলামি সংস্কৃতির চিহ্ন এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

আবিষ্কারের যুগ

আবিস্কারের যুগ, বা অনুসন্ধানের যুগ (আনুমানিক ১৫শ শতাব্দীর শুরু থেকে সপ্তাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি), বলতে সেই সময়কে বুঝায় যার মাধ্যমে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ব্যাপক সমুদ্র অভিযানের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায় এবং বিশ্বায়নের সূচনা করে। এটি সেই সময়কেও নির্দেশ করে যখন ইউরোপে উপনিবেশবাদ এবং বাণিজ্যবাদের ব্যাপক উত্থান ঘটে এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় নীতি হিসবে গৃহীত হয়। এসময় ইউরোপীয়দের কাছে অজানা অনেক নতুন নতুন ভূখন্ড আবিষ্কার হয় যেখানে আগে থেকেই জনবসতির অস্তিত্ব ছিল। আর অইউরোপীয়দের কাছে এটা ছিল অজানা কোনো মহাদেশ থেকে আক্রমণকারীদের আগমনের শামিল।

অনুসন্ধানের ধারা শুরু হয় পর্তুগিজদের ১৪১৯ এবং ১৪২৭ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের ম্যাদিরা ও আজোরো দ্বীপপুঞ্জ আবিষ্কার, ১৪৩৪ সালে আফ্রিকার উপকূল, ১৪৯৮ সালে ভারত আগমনের সমুদ্রপথ আবিষ্কার, স্পেনের রাজার সহয়তায় ১৪৯২ সাল থেকে ১৫০২ সাল পর্যন্ত ক্রিস্টফার কলম্বাসের আমেরিকা অভিযানের এবং মেগানলেসের ১৫১৯-১৫২২ সালের মধ্যে প্রথম পুরো পৃথিবী পরিভ্রমণের মাধ্যমে। এই সব আবিষ্কারগুলো আটলান্টিক,ভারত,প্রশান্ত মহাসাগরগুলোতে সমুদ্র অভিযান এবং আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্টেলিয়াতে স্থল অভিযানের দিকে ধাবিত করে, যা ১৯শ শতাব্দী পর্যন্ত বজায় ছিল এবং শেষ হয় বিংশ শতাব্দীর মেরু অঞ্চল অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

ইউরোপিয়ানদের এরকম অভিযানের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের এবং প্রাচীন বিশ্ব (ইউরোপ,এশিয়া,আফ্রিকা) ও নতুন বিশ্ব (আমেরিকা ও অস্টেলিয়া) এর সংযোগের মাধ্যমে উপনিবেশ সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে। পাশাপাশি কলম্বিয়ান বিনিময়ের মাধ্যমে বৃক্ষ, পশু, খাদ্য, মানব জনসংখ্যা ( দাসসহ),সংক্রামক রোগ জীবাণু এবং সংস্কৃতি পূর্ব গোলার্ধ এবং পশ্চিম গোলার্ধের মাঝে বিনিময় ঘটে।

বৈশ্বিক বাস্তুসংস্থান, কৃষি ও সংস্কৃতিতে বিশ্বায়নের এই ঘটনা সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। কারণ আবিষ্কারের যুগ এবং ইউরোপিয়ানদের অভিযানের পরেই পৃথিবীর বৈশ্বিক মানচিত্র তৈরি, নতুন বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি এবং দূরবর্তী সভ্যতার কাছে আসার সুযোগ হয়। কিন্তু পাশাপাশি ইউরোশিয়া ও আফ্রিকায় নতুন রোগের আগমন ঘটে যা আগে ছিল না, এর সাথে ইউরোপ কর্তৃক স্থানীয়দের দাস বানানো, শোষণ করা, তাদের উপর আধিপাত্য বিস্তার করা হয় এবং উপনিবেশ স্থাপন করে। আর এর মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা খ্রিস্ট ধর্ম পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পরে।

ইসলামি স্বর্ণযুগ

ইসলামি স্বর্ণযুগ ৬২২ সালে মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শক্তির উত্থানের সময় থেকে শুরু হয়। ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদ অবরোধের সময়কে এর শেষ ধরা হয়। ১৪৯২ সালে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের আন্দালুসে খ্রিষ্টান রিকনকোয়েস্টার ফলে গ্রানাডা আমিরাতের পতনকেও এর সমাপ্তিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের (৭৮৬-৮০৯) সময় বাগদাদে বাইতুল হিকমাহর প্রতিষ্ঠার ফলে জ্ঞানচর্চার প্রভূত সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফাতেমীয় যুগে (৯০৯-১১৭১) মিশর সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, আফ্রিকার লোহিত সাগর উপকূল, তিহামা, হেজাজ ও ইয়েমেন এর অন্তর্গত ছিল। এই যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী শহর বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডো‌বা বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাণিজ্য ও শিক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আরবরা তাদের অধিকৃত অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিল। হারিয়ে যেতে থাকা অনেক ধ্রুপদি রচনা আরবি ও ফারসিতে অনূদিত হয়। আরো পরে এগুলো তুর্কি, হিব্রু ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, পারসিয়ান, ভারতীয়, চৈনিক, মিশরীয় ও ফিনিশিয় সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান তারা গ্রহণ, পর্যালোচনা ও অগ্রগতিতে অবদান রাখে।

জামি

নূর আদ-দীন আবদার রহমান জামি (ফার্সি ভাষা: نورالدین عبدالرحمن جامی), মাওলানা নূর আল-দীন আবদার রহমান বা আবদার রহমান নূর আল-দীন মুহাম্মদ দাস্তি, বা সাধারণভাবে জামি বা তুর্কি ভাষায় মোল্লা জামি নামে পরিচিত, (৭ নভেম্বর ১৪১৪ - ৯ নভেম্বর ১৪৯২) ছিলেন একজন ফার্সি কবি। তিনি রহস্যধর্মী সুফি সাহিত্যের পণ্ডিত ও লেখক হিসেবে অবদানের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যসমূহ হল হাফত আওরং, তোহফা আল-আহরার, লায়লী-মজনু, ফাতিহা আল-শাবাব, লাওয়াই, আল-দুররা আল ফাকিরা।

জেরার দেপার্দিও

জেরার জাভিয়ে মার্সেল দেপার্দিও (ফরাসি: Gérard Xavier Marcel Depardieu শুনুন ) (জন্ম ২৭শে ডিসেম্বর, ১৯৪৮) একজন ফরাসি অভিনেতা। তিনি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন ছাড়াও গোল্ডেন গ্লোব সেরা অভিনেতা পুরস্কার জিতেছেন।

তিনি অভিনীত চলচ্চিত্রের জন্য সমাদৃত হন। ল্য দার্নিয়ে মেত্রো (১৯৮০) চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে সিজার পুরস্কার লাভ করেন, পুলিশ (১৯৮৫) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার লাভ করেন, এবং সাইরানো দ্য বের্গেরাক (১৯৯০) চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, তার দ্বিতীয় সিজার পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

তিনি পিটার উইয়ারের সাথে হাস্যরসাত্মক গ্রিন কার্ড (১৯৯০) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতধর্মী বা হাস্যরসাত্মক অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের হলিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে রয়েছে রিডলি স্কট পরিচালিত ১৪৯২: কনকোয়েস্ট অব প্যারাডাইজ (১৯৯২), কেনেথ ব্রানা পরিচালিত হ্যামলেট (১৯৯৬), র‍্যান্ডাল ওয়ালেস পরিচালিত দ্য ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক (১৯৯৮) এবং অ্যাং লি পরিচালিত লাইফ অব পাই (২০১২)।

তিনি লেজিওঁ দনর ও অর্দ্রে দ্যু মেরিতের শেভালিয়ে হন। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে রাশিয়ার নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় এবং একই মাসে তিনি মন্টেনেগ্রোর দূত নির্বাচিত হন।

নাসরি রাজবংশ

নাসরি রাজবংশ (আরবি: بنو نصر‎‎ banū Naṣr) ছিল স্পেনের শেষ মুসলিম রাজবংশ। এই রাজবংশ ১২৩৮ থেকে ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত গ্রানাডা আমিরাত শাসন করেছিল। ১২১২ সালে লাস নাভাস দ্য টোলোসার যুদ্ধে আলমোহাদ খিলাফতের পরাজয়ের পর নাসরি রাজবংশ ক্ষমতায় আরোহণ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২৩ জন আমির গ্রানাডা শাসন করেছেন। শেষ শাসক দ্বাদশ মুহাম্মদ খ্রিষ্টান স্প্যানিশ রাজ্য আরাগন ও কাস্টিলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নাসরিদের শাসনামলে নির্মিত আলহাম্বরা প্রাসাদ এই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

বছরের তালিকা

এই পাতা পৃথক বছর পৃষ্ঠাগুলি ইনডেক্সসমূহ.

বাহামা দ্বীপপুঞ্জ

বাহামা দ্বীপপুঞ্জ(দাপ্তরিকভাবে বাহামাস কমনওয়েলথ,) (ইংরেজি: The Bahamas) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বে, কিউবা ও হিস্পানিওলা দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ৭০০টি দ্বীপ ও হাজার খানেক "কি" (cay, এক ধরনের ক্ষুদ্র বালুময় দ্বীপ) নিয়ে গঠিত একটি শৃঙ্খলাকার দ্বীপপুঞ্জ। কমনওয়েল্‌থ অভ বাহামাস নামে সরকারীভাবে পরিচিত দেশটি কমনওয়েল্‌থ অভ নেশন্‌সের একটি স্বাধীন সদস্য। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান, জলবায়ু ও ভূগোল এটিকে পর্যটকদের একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলে পরিণত করেছে। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের কাছে অবস্থিত হওয়ায় সারা বছরই এখানকার জলবায়ু খুব মৃদু । এখানে নীল সমুদ্রের পাশে অনেক সুন্দর সুন্দর সমুদ্রসৈকত অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র ও আরও দূরের দেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক এখানে বেড়াতে আসেন। দেশটির রাজধানী নাসাউ।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯২ সালে যখন আমেরিকাতে আসেন, তখন প্রথম যে স্থানটিতে তিনি অবতরণ করেছিলেন, তা ছিল বাহামা দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ। কলম্বাস দ্বীপটিকে স্পেনের সম্পত্তি বলে দাবী করেন এবং এর নাম দেন সান সালবাদোর। ১৭১৭ সালে এটিকে ব্রিটিশ উপনিবেশ করা হয়। বহু শতাব্দী ধরে রাজধানী নাসাউয়ের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত। ১৯৫৯ সালে সম্পত্তির উপর ভিত্তি করে পুরুষদের ভোটের আধিকার দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে মহিলাদেরও ভোটের অধিকার দেওয়া হয়। প্রোগ্রেসিভ লিবারেল পার্টির লিন্ডেন অস্কার পিন্ডলিং প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। উপনিবেশটি ১৯৬৪ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে স্বায়ত্তশাসন এবং ১৯৭৩ সালের ১০ই জুলাই পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৮০-র দশকে পিন্ডলিং ও তার দল দুর্নীতি ও মাদক চোরাচালান কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়েন। অর্থনীতির দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে পিন্ডলিং দেশটিকে বৈদেশিক ঋণের বোঝায় জর্জরিত করে দেন। এর ফলে ১৯৯২ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি রক্ষণশীল ফ্রি ন্যাশনাল মুভমেন্টের হুবার্ট ইনগ্রাহামের কাছে পরাজিত হন। ইনগ্রাহাম বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডোরিয়ান নামের একটি ৫ম শ্রেণীর হারিকেন ঘূর্ণিঝড় বাহামাতে আঘাত হানে, যাতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১৮৫ মাইল। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে মূল বাহামা দ্বীপের প্রায় ৪৫% ঘরবাড়ি (প্রায় ১৩ হাজার ভবন) আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়।

ব্লো-ব্জাং-ন্যি-মা

ব্লো-ব্জাং-ন্যি-মা (তিব্বতি: བློ་བཟང་ཉི་མ, ওয়াইলি: blo bzang nyi ma) (১৪৩৯-১৪৯২) তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের দ্গে-লুগ্স ধর্মসম্প্রদায়ের দ্গা'-ল্দান বৌদ্ধবিহারের নবম দ্গা'-ল্দান-খ্রি-পা বা প্রধান ছিলেন।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১০ জুলাই ১৮৮৫ - ১৩ জুলাই ১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অবিভক্ত চব্বিশ পরগণা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সময়রেখার তালিকা

এটি একটি সময়রেখার তালিকা।

স্পেন

স্পেন (স্পেনীয়: España আ-ধ্ব-ব: [esˈpaɲa] (শুনুন) এস্‌পাঞা) বা স্পেন রাজ্য (স্পেনীয়: Reino de España) ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। শাসনব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী দেশটি একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। এটি ইবেরীয় উপদ্বীপের প্রায় ৮৫% এলাকা জুড়ে অবস্থিত। উপদ্বীপটির বাকী অংশে স্পেনের ক্ষুদ্রতর প্রতিবেশী রাষ্ট্র পর্তুগাল এবং ব্রিটিশ প্রশাসনিক অঞ্চল জিব্রাল্টার অবস্থিত। স্পেনের আয়তন ৫,০৫,৯৯০ কিমি২ (১,৯৫,৩৬০ মা২); আয়তনের বিচারে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ফ্রান্সের পরে স্পেন ইউরোপের ৪র্থ বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। বার্সেলোনা, বালেন্সিয়া, সেবিইয়া, বিলবাও এবং মালাগা অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।

স্পেনের উত্তর সীমানাতে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বাহু বিস্কায়া উপসাগর অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব সীমানায় পিরিনীয় পর্বতমালা স্পেনের সাথে ফ্রান্স এবং অতিক্ষুদ্র রাষ্ট্র অ্যান্ডোরার একটি প্রাকৃতিক সীমানা গঠন করেছে। পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে পর্তুগাল ও আটলান্টিক মহাসাগর স্পেনের বাকী সীমানা নির্ধারণ করেছে। স্পেনের সর্বদক্ষিণ বিন্দুটি মরক্কোর দিকে মুখ করে অবস্থিত এবং দেশ দুইটি সরু জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন; স্পেন তাই ইউরোপের সাথে আফ্রিকার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের লাস কানারিয়াস দ্বীপপুঞ্জ এবং ভূমধ্যসাগরের বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জগুলিও স্পেনের শাসনাধীন। এছাড়া মরক্কোতে সেউতা এবং মেলিইয়া নামের দুইটি ছিটমহল স্পেন পরিচালনা করে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত পেনিয়ন দে বেলেস দে লা গোমেরা নামক দ্বীপ, আলহুসেমাস ও চাফারিনাস দ্বীপপুঞ্জগুলিও স্পেনের অধিকারে পড়েছে। ব্রিটিশদের অধীনে অবস্থিত জিব্রাল্টার স্পেনের মূল ভূখণ্ডের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তসীমায় অবস্থিত।

স্পেনের প্রাণকেন্দ্রে সমুদ্র সমতল থেকে অর্ধমাইল উচ্চতায় অবস্থিত মেসেতা (Meseta) নামক একটি প্রশস্ত কেন্দ্রীয় মালভূমি দেশটির বেশিরভাগ আয়তন জুড়ে অবস্থিত। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকাতেই গবাদি পশুপালন ও শস্য উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। মিগেল দে সের্ভান্তেসের দোন কিহোতে (Don Quixote) গ্রন্থে বর্ণিত সুউচ্চ বায়ুর কলগুলি এখনও এই গ্রামীণ অঞ্চলের বহু স্থানে ছড়িয়ে ছটিয়ে আছে। মেসেতা মালভূমির ভেতরে এবং এর চারপাশ ঘিরে অনেক পাহাড়-পর্বত রয়েছে, যাদেরকে স্থানীয় ভাষায় সিয়ের্‌রা (Sierra) নামে ডাকা হয়। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার পরে স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে বেশি পর্বতসংকুল দেশ। মেসেতা মালভূমিটির কেন্দ্রে মাদ্রিদ শহর অবস্থিত। মাদ্রিদ ইউরোপ মহদেশে সমুদ্র সমতল থেকে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী শহর। মেসেতা মালভূমিটির জলবায়ু রূঢ় এবং শুষ্ক। তাই স্পেনের বেশিরভাগ লোক সমুদ্র-উপকূল অঞ্চলে কিংবা প্রধান কিছু নদীর অববাহিকাতে বসবাস করে। দেশের উত্তর-পূর্ব অংশে রয়েছে এব্রো নদীর প্রশস্ত উপত্যকা, কাতালুনিয়ার পার্বত্য অঞ্চল এবং বালেন্সিয়া নামক পাহাড়ি উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল। উত্তর-পশ্চিমে আছে গালিসিয়া নামক অঞ্চল ও তার রুক্ষ কান্তাব্রীয় পর্বতমালা, যেখানে বৃষ্টিস্নাত শ্যামল নিবিড় অরণ্যাবৃত উপত্যকাগুলির মাঝে মাঝে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। স্পেনের দক্ষিণে আছে ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা ও আন্তোনিও মাচাদো তাদের কবিতায় যে নদীর গুণকীর্তন করে গেছেন, সেই গুয়াদালকিভির নদীর উপত্যকার কমলালেবু-জাতীয় ফলের বাগানে পরিপূর্ণ ভূমিগুলি। এই উপত্যকার থেকেই উঠে গেছে বরফাবৃত সিয়ের্‌রা নেবাদা পর্বতমালা। স্পেনের দক্ষিণ প্রান্তটি মরুময়; আলমেইরা নামের এই মরুভূমিটি আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিরই একটি প্রসারিত অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল অঞ্চলটিতে পামবৃক্ষের সারি, সুগন্ধী রোজমেরির ঝাড় ও অন্যান্য ক্রান্তীয় উদ্ভিদের দেখা মেলে। মৃদু জলবায়ুর সুবাদে বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জ ও এই অঞ্চলটিতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ও অবসরপ্রাপ্ত (বিশেষত উত্তর ইউরোপ থেকে) মানুষ বেড়াতে আসে।

স্পেনের প্রস্তরনির্মিত দুর্গপ্রাসাদ, বরফাবৃত পর্বতমালা, বিশালাকার সৌধ এবং আধুনিক ও পরিশীলিত শহরগুলির গল্প মুখে মুখে ফেরে। দেশটি তাই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল। স্পেন ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ একটি দেশ। স্পেনের গ্রামাঞ্চল আকর্ষণীয় সব দুর্গবেষ্টিত প্রাসাদ, প্রাচীন জল সরবরাহের নালা এবং প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে পরিপূর্ণ, কিন্তু এর শহরগুলি সন্দেহাতীতভাবে আধুনিক। আন্দালুসিয়া অঞ্চলের রাজধানী সেবিইয়া তার সঙ্গীতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত। কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা তার ধর্মনিরপেক্ষ স্থাপত্য এবং নৌপরিবহন শিল্পের জন্য সুবিদিত। আর জাতীয় রাজধানী মাদ্রিদের আঁকাবাঁকা সরু রাস্তা, জাদুঘর, গ্রন্থালয় এবং দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ধরে সক্রিয় জীবনধারার কথাও সবার জানা। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম শহর এবং বহু শতাব্দী ধরে দেশটির আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

স্পেন পর্তুগাল বাদে ইউরোপের অন্য সমস্ত দেশ থেকে পিরিনীয় পর্বতমালার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন, ফলে দেশটির ইতিহাসও ঐসব দেশের তুলনায় অনেক ভিন্ন। প্রাচীনকালে ফিনিসীয়, কার্থেজীয় ও সবশেষে রোমানরা অঞ্চলটি দখল করেছিল। ৫ম শতকে উত্তর ইউরোপ থেকে আগত ভিজিগথ জাতির লোকেরা দেশটিকে শাসন করা শুরু করে। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে ৮ম শতকে উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত আরবভাষী মুসলিম আরব ও উত্তর বার্বার জাতি কেরা ইবেরীয় উপদ্বীপের অধিকাংশ দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মধ্যযুগের প্রায় পুরোটা জুড়েই মুসলিমরা স্পেনের মূল শাসক ছিল; তাদের রাজ্যের নাম ছিল আল আন্দালুস। ৯ম ও ১০ম দশকে শিক্ষা, গণিত, ভূগোল, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্যচর্চায় কর্দোবা ছিল গোটা ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় শহর। ১৫শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে উত্তর স্পেনের খ্রিস্টান রাজ্যগুলি একত্র হয়ে মুসলিম আরব আফ্রিকান কাছ থেকে হৃত ইবেরীয় উপদ্বীপ ফেরত নেবার জন্য যুদ্ধ করে এবং ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে শেষ মুসলিম আফ্রিকান গোত্রীয় শাসনকর্তাকে বিতাড়িত করা হয়। খ্রিস্টানরা স্পেন থেকে সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের নারকীয় ভাবে হত্যা ও বিতাড়িত করে এবং মুসলিম সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শনাবলী গুলো দখল করে নেয়।মুসলিমদের এই ভূখণ্ডটি ধীরে ধীরে খ্রিস্টান রাজ্যে পরিণত হয়। শেষ হয়ে যায় ৮০০ বছরের আল আন্দালুস (স্পেন) ইসলামী রাষ্ট্রের।খ্রিস্টান পুনর্দখল প্রক্রিয়ার এই সমাপনীমূলক বছরটিতেই অর্থাৎ ১৪৯২ সালে অভিযাত্রী নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে স্পেনের রাজার জাহাজের বহর আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করে। এরপরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং যোদ্ধারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ভ্রমণ করে এবং স্পেনীয় রাজার জন্য বিশাল আয়তনের ভূখণ্ড দখল করে। আমেরিকা মহাদেশ থেকে লুটকৃত ধনসম্পদের জন্য স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শক্তিতে পরিণত হয়। স্পেনীয় সৈনিক এবং ধর্মযাজকেরা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশবিশেষ ও মেক্সিকো থেকে শুরু করে এবং দক্ষিণে চিলি পর্যন্ত স্পেনের উপনিবেশ স্থাপন করে এবং সেখানে স্পেনীয় ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। ইউরোপে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে সেসময় পর্যায়ক্রমে কাস্তিলীয়, আরাগোনীয়, হাবসবুর্গীয় এবং বুর্বোঁ বংশের বিভিন্ন রাজা দেশটির শাসনের দায়িত্ব পালন করেন। বহু প্রজন্ম ধরে স্পেন ছিল গোটা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ; এর সাম্রাজ্য বিশ্বের সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে ছিল। ১৭শ শতকেই স্পেনের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। ১৮শ ও ১৯শ শতকে ইউরোপ মহাদেশ এবং সারা বিশ্বজুড়ে স্পেনের ক্ষমতা অবিরত হ্রাস পেতে থাকে এবং বিশ্বের ঘটনাবলিতে এর ভূমিকা তেমন ছিল না বললেই চলে। বিংশ শতাব্দীতে এসে ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত মতাদর্শের সংঘাতের উপর ভিত্তি করে সংঘটিত স্পেনের গৃহযুদ্ধ দেশটিকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেন্দ্রে ফেরত নিয়ে আসে। কিন্তু যুদ্ধশেষে স্বৈরশাসক ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর চার দশকব্যাপী শাসনের সময়ে স্পেন আরও বেশি একাকী হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে ফ্রাংকোর মৃত্যুর পর হুয়ান কার্লোস নামক বুর্বন বংশের রাজা আবার সিংহাসনে ফেরত আসেন এবং দেশটিতে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেসময় স্বৈরাচার থেকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দেশটির ঝঞ্ঝাটহীন রূপান্তর উল্লেখ করার মত। তখন থেকে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অনেকগুলি সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে, যাদের কেউ সমাজতন্ত্রবাদী, কেউ বা রক্ষণশীল।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে স্পেনে অনেক দেরিতে আধুনিকতার আগমন ঘটে। ১৯৬০-এর দশকের আগ পর্যন্ত স্পেনের সমস্ত শিল্পকারখানাগুলি উত্তরের কাতালুনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল। তখন থেকে স্পেনের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে। বিশেষ করে হালকা শিল্পগুলি (যেমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য) স্পেনকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে; এছাড়া সেবা খাত, বিশেষ করে পর্যটন খাতও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক স্পেনে বেড়াতে আসেন এবং এখানকার রৌদ্রোজ্জ্বল জলবায়ু, সমুদ্রসৈকত এবং ঐতিহাসিক শহরগুলিতে ভ্রমণ করেন।

স্পেনের আছে গভীর সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলাগত ঐতিহ্য। ঐতিহাসিকভাবে স্পেনের মূল সাংস্কৃতিক অবদান দুইটি ক্ষেত্রে অধিক পরিলক্ষিত হয়: চিত্রকর্ম ও সাহিত্য। সাম্প্রতিককালে ঐ দুই ক্ষেত্রে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখে স্পেন চলচ্চিত্র নির্মাণ, স্থাপত্য এবং সঙ্গীতে অনেক বড় মাপের শিল্পী ও শিল্পকলা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে। কোররিদা বা ষাঁড়ের লড়াই এবং ফিয়েস্তা বা উৎসব স্পেনের সংস্কৃতির অন্যতম দুই অনুষঙ্গ। বহু বিচিত্র সংস্কৃতির মিলনে স্পেনের সংস্কৃতি গঠিত হয়েছে। কাস্তিলীয়, কাতালুনীয়, লুসিতানীয়, গালিথীয়, বাস্ক, রোমান, বিশেষ করে আরব মুসলিম, ইহুদী এবং জিপসিসহ আরও অনেক জাতি ও উপজাতিরা তাদের রন্ধনশৈলী ও রীতিনীতির জন্য বিখ্যাত এবং তারা বিশ্বের শিল্পকলার ঐতিহ্যে প্রচুর অবদান রেখেছে। রোমান শাসনের সময় রোমানদের ভাষা, সড়কব্যবস্থা ও সৌধগুলি স্পেনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং অনেক রোমান সম্রাটও স্পেনীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন যাদের মধ্যে ত্রাজান, হাদ্রিয়ান এবং মার্কুস আউরেলিউসের নাম উল্লেখযোগ্য। উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত মুসলমান বার্বার জাতির লোকেরা প্রায় ৮০০ বছর ধরে স্পেন শাসন করে এবং সুক্ষ্ম স্থাপত্য, গীতিকবিতা এবং জ্ঞানবিজ্ঞানে তারা ব্যাপক অবদান রেখে যায়।যা তৎকালীন অন্ধকার অসভ্য-বর্বর ইউরোপীয়দের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তার করেছে।স্পেনের ইসলামী শাসন এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল যা পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে।

এছাড়া জিপসি জাতির লোকেরা কান্তে হোন্দো নামের একধরনের ফ্লামেংকো ঘরানার গা-ছমছম-করা সঙ্গীতের উদ্ভাবন করে এমনকি রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর স্পেনকে আক্রমণকারী ভ্যান্ডাল, হুন এবং ভিজিগথ জাতির লোকদেরকেও স্পেনের সাহিত্যে ও সৌধে স্মরণ করা হয়।

স্পেনের প্রদেশগুলি আজও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। বাস্ক প্রদেশ ও কাতালুনিয়ার লোকেরা নিজেদেরকে স্পেনীয়-র পরিবর্তে বাস্কগোত্রীয় ও কাতালুনীয় ভাবতেই বেশি পছন্দ করে। মাদ্রিদ নামে দেশের রাজধানী হলেও অর্থনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্পকলা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনে স্পেনীয় ভাষা ছাড়াও প্রদেশভেদে আরও ৪টি ভাষাকে সহসরকারী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে; এগুলি হল কাতালান, গালিসীয়, বাস্ক এবং অক্সিতঁ ভাষাসমূহ।

১২ অক্টোবর

১২ অক্টোবর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ২৮৫তম (অধিবর্ষে ২৮৬তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ৮০ দিন বাকি রয়েছে।

১৪৯০-এর দশক

এটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুযায়ী ১৪৯০-এর দশক। এটি শুরু হয়েছে ১লা জানুয়ারি, ১৪৯০ থেকে এবং শেষ হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর, ১৪৯৯ তারিখে।

১৬ জানুয়ারি

১৬ জানুয়ারি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১৬তম দিন। বছর শেষ হতে আরো ৩৪৯ (অধিবর্ষে ৩৫০) দিন বাকি রয়েছে।

১৭৭৫

১৭৭৫ গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর একটি সাধারণ বছর।

২ জানুয়ারি

২ জানুয়ারি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের দ্বিতীয় দিন। বছর শেষ হতে আরো ৩৬৩ (অধিবর্ষে ৩৬৪) দিন বাকি রয়েছে।

৪২০

৪২০ গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর একটি অধিবর্ষ।

৬ নভেম্বর

৬ নভেম্বর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৩১০তম (অধিবর্ষে ৩১১তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ৫৫ দিন বাকি রয়েছে।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.