স্থানিকতা

স্থানিকতা (ইংরেজি: Endemism) প্রজাতির এমন এক ধর্ম যা নির্দেশ করে ঐ প্রজাতিটি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়া আর অন্য কোথাও বসবাস করে না বা জন্মে না।[১] কোন প্রজাতিকে যদি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়া আর অন্য কোথাও দেখা না যায় তবে ঐ প্রজাতিটিকে সেই ভৌগোলিক সীমারেখার জন্য স্থানিক প্রজাতি বলা হয়। কোন দেশের আবাসিক একটি প্রজাতি যদি অন্য আরেক দেশে পাওয়া যায় তবে প্রজাতিটিকে স্থানিক প্রজাতি বলা যায় না। স্থানিকতা যে শুধু দেশের জন্য হয় তা নয়। এটি অঞ্চল, দেশ, দ্বীপ, কোন নির্দিষ্ট একটি পাহাড় বা নির্দিষ্ট বনাঞ্চলও হতে পারে।[২] আবার স্থানিকতা যে কেবল প্রজাতির বেলায় বিবেচনা করা হয় তা নয়, উপপ্রজাতির ক্ষেত্রেও স্থানিকতা ধর্মটি হিসাব করা হয়।

স্থানিক প্রজাতিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন সব স্থানে বসবাস করে যেগুলো ভৌগোলিক ভাবে বিচ্ছিন্ন। যেমন- দ্বীপ; দ্বীপগুলো ভৌগোলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রজাত্যায়ন নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঘটতে পারে। অর্থাৎ নতুন প্রজাতির রূপান্তর ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বা নিউজিল্যান্ডের কথা। আবার ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়েও জীব বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে স্থানিকতা দেখা দিতে পারে; যেমন ইথিওপিয়ার পাহাড়ী অঞ্চল বা বৈকাল হ্রদের মত বৃহৎ জলাশয়।

Sonnerathuhn
ধূসর বনমোরগ, ভারতের একটি স্থানিক প্রজাতি

তথ্যসূত্র

  1. Colin Peter Groves। "endemism"। Encyclopaedia Brittanica। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১৩
  2. "ENDEMISM"। WORLD INSTITUTE FOR CONSERVATION & ENVIRONMENT, WICE। ১৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০১৩

আরও পড়ুন

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর (আরো পরিচিত কর্টেজ সাগর, কর্তেস সাগর অথবা সিন্দূর সাগর (ভার্মিলিয়ন সী) নামে; স্থানীয় স্প্যানিশ ভাষায় পরিচিত Mar de Cortés অথবা Mar Bermejo অথবা Golfo de California নামে) হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রান্তীয় সাগর যেটি বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপকে মেক্সিকোর মূলভূখন্ড থেকে পৃথক করেছে। সম্ভব্য ৪,০০০ কিমি (২,৫০০ মা)তটরেখা নিয়ে এর সঙ্গে মেক্সিকোর রাজ্য বাজা ক্যালিফোর্নিয়া, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সার, সোনোরা, এবং সিনালোয়ার সঙ্গে সীমানা রয়েছে। যেসব নদী ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে পতিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হল কলোরাডো, ফোর্ট, মেয়ো, সিনালোয়া, সোনোরা, এবং ইয়াকুই নদী। উপসাগরটির পৃষ্ঠ এলাকা প্রায় ১,৬০,০০০ কিমি২ (৬২,০০০ মা২)।

পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্রপূর্ণ সমুদ্র বলে বিবেচনা করা হয় এই উপসাগরটিকে, এবং ৫,০০০ এর অধিক দীর্ঘ অমেরুদন্ডী প্রজাতির আবাসস্থল। এক মিলিয়ন মানুষের বাসস্থান, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম উপদ্বীপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় উপদ্বীপের পরে। ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের কিছু অংশ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।

ক্রিসমাস দ্বীপ জাতীয় পার্ক

ক্রিসমাস আইল্যান্ড জাতীয় উদ্যান হলো ক্রিসমাস আইল্যান্ডের বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে বিস্তমত একটি জাতীয় উদ্যান। এটি ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অস্ট্রেলিয়ার অংশ। এই পার্কটি বিভিন্ন জাতি প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান, যার মধ্যে রয়েছে লাল কাঁকড়া, বার্ষিক গণনায় দেখা যায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন কাঁকড়া ডিম পারার জন্য সমুদ্রে আসে। ক্রিসমাস দ্বীপটি বিপন্ন প্রজাতি অ্যাবট সামুদ্রিক হাস এবং ফ্রিগেট পাখির একমাত্র বাসস্থান, যা এটিকে বিজ্ঞানীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

রিলা জাতীয় উদ্যান

রিলা জাতীয় উদ্যান (বুলগেরীয়: Национален парк „Рила“) হল বুলগেরিয়ার সবথেকে বড় জাতীয় উদ্যান যা দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে রিলা পর্বতশ্রেণীতে ৮১০.৪৬কিমি² জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষিত করার লক্ষে ১৯৯২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই উদ্যানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সিংহরাজ সংরক্ষিত বন

সিংহরাজ সংরক্ষিত বন হলো শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান এবং জীববৈচিত্র্যপূর্ণ স্থান। এই বন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানরূপে স্বীকৃত।ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) অনুযায়ী, সিংহরাজ দেশের প্রাথমিক গ্রীষ্মকালীন রেইন ফরেস্টের মধ্যে শেষ টেকসই বন। এই বনের, ৬০%-এর বেশি বৃক্ষ সম্পূর্ণ স্থানীয় এবং বেশিরভাগই দুর্লভ বলে বিবেচনা করা হয়।

এই পার্বত্য ও অদূষিত রেইন ফরেস্টটির দুর্লভ জীববৈচিত্র্যকে ব্যবসা-বাণিজ্যের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য, একে ১৯৭৮ সালে বিশ্ব জীবমন্ডল সংরক্ষণ স্বীকৃতি ও ১৯৮৮ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংরক্ষিত বনটির নামের অর্থ লায়ন কিংডম(সিংহের রাজ্য)।

বনটি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে মাত্র ২১ কি.মি (১৩‌ মাইল) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে মাত্র ৭ কি.মি (৪.৩ মাইল) লম্বা। কিন্তু,জায়গাটি স্থানিকতা প্রজাতির উদ্ভিদ, উভচর প্রাণী, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি জন্য স্বর্গস্বরূপ।

ঘন সবুজ উদ্ভিদের কারণে, বন্যপ্রাণীকে শুকনো-স্থানের ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের মতো এত সহজে দেখা যায় না। এখানে, প্রায় ৩টি হাতি এবং ১৫ বা তার বেশি চিতাবাঘ আছে। এখানকার, সবচেয়ে সাধারণ ও বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো স্থানীয় বেগুণী মুখী বানর।

এখানকার, পাখিরা ভীতিহীন ভীমরাজ ও উচ্চ-শব্দকারী কমলা-ব্যবলার পাখির নেতৃত্বের সাথে মিশ্রিত পাখির ঝাঁকে বসবাস করে। শ্রীলঙ্কার ২৬টি স্থানীয় পাখি প্রজাতির মধ্যে, ২০টি রেইন ফরেস্ট প্রজাতি এখানে বসবাস করে যাদের মধ্যে লালমুখো মালকোহা,সবুজ-কউকাল এবং শ্রীলঙ্কান নীল দোয়েল।

সরীসৃপ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলো স্থানীয় সবুজ পিট ভাইপার এবং কুঁঁজো-নাকওয়ালা ভাইপার। এছাড়াও, এখানে উভচর প্রাণীর বিশাল বৈচিত্র্য, বিশেষত বৃক্ষের ব্যাঙ আছে। অমেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে আছে স্থানীয় সোনাল, প্রজাপতি ও জোঁক।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.