সাইপ্রাস

সাইপ্রাস (গ্রিক ভাষায় Κύπρος কিপ্রস্‌; তুর্কি ভাষায় Kıbrıs ক্যিব্র্যিস্‌), যার সরকারি নাম সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র (Κυπριακή Δημοκρατία কিপ্রিয়াকি দ়িমক্রাতিয়া; Kıbrıs Cumhuriyeti ক্যিব্র্যিস্‌ জুম্‌হুরিয়েতি), ভূমধ্যসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ এটি। এর পশ্চিমে গ্রিস, পূর্বে লেবানন, সিরিয়া এবং ইসরাইল, উত্তরে তুরস্ক ও দক্ষিণে মিসর। এটি ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্গত।

স্থানাঙ্ক: ৩৫° উত্তর ৩৩° পূর্ব / ৩৫° উত্তর ৩৩° পূর্ব

সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র
Κυπριακή Δημοκρατία (গ্রিক)
Kypriakí Dimokratía )
Kıbrıs Cumhuriyeti (তুর্কী)
সাইপ্রাসের জাতীয় পতাকা সাইপ্রাসের জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
পতাকা জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্যনেই
জাতীয় সঙ্গীত:  Ύμνος εις την Ελευθερίαν
Imnos is tin Eleftherian  (প্রতিবর্ণীকরণ)
স্বাধীনতার স্তবগান 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দেশটির অবস্থান
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দেশটির অবস্থান
দেশটির এমওডিআইএস কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্র
দেশটির এমওডিআইএস কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্র
রাজধানী
এবং বৃহত্তম নগরী
নিকোসিয়া
সরকারি ভাষা গ্রিক, তুর্কী
সরকার প্রজাতন্ত্র
 •  রাষ্ট্রপতি নিকোস অনাস্তাসিয়াদেস
স্বাধীনতা যুক্তরাজ্য থেকে
 •  তারিখ আগস্ট ১৬ ১৯৬০[১] 
 •  জল/পানি (%) নগণ্য
জনসংখ্যা
 •  টেমপ্লেট:UN Population আনুমানিক 1,170,125 (158th)
 •  2011 আদমশুমারি 838,897[ক][২]
 •  ঘনত্ব 123.4[খ][৩]/কিমি (82nd)
৩১৯.৫/বর্গ মাইল
মোট দেশজ উৎপাদন
(ক্রয়ক্ষমতা সমতা)
2016 আনুমানিক
 •  মোট $29.666 billion[৪] (126th)
 •  মাথা পিছু $34,970[৪] (35th)
মোট দেশজ উৎপাদন (নামমাত্র) 2016 আনুমানিক
 •  মোট $19.810 billion[৪] (114th)
 •  মাথা পিছু $23,352[৪] (33rd)
জিনি সহগ (2015)ধনাত্মক হ্রাস 33.6[৫]
মাধ্যম
মানব উন্নয়ন সূচক (2015)বৃদ্ধি 0.856[৬]
অতি উচ্চ · 33rd
মুদ্রা সাইপ্রিয়ট পাউন্ড (সিওয়াইপি)
সময় অঞ্চল ইইটি (ইউটিসি+২)
 •  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) ইইএসটি (ইউটিসি+৩)
কলিং কোড ৩৫৭
ইন্টারনেট টিএলডি .সিওয়াই
১. "Ymnos pros tin Eleutherian" is also used as the national anthem of Greece.
২. UN population estimate for entire island including Turkish-controlled areas.
৩. The .eu domain is also used, shared with other European Union member states.

ইতিহাস

সাইপ্রাসকে বলা হয় দেবী আফ্রোদিতির জন্মস্থান। এখানে মানব বসতির আদিভূমি হচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা ‘ইতোকরেমনস’। খ্রিষ্টজন্মের ১০ হাজার বছর আগে এখানে শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারীদের বসতি ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা খ্রিষ্টপূর্ব আট হাজার ২০০ বছর আগে স্থায়ীভাবে গ্রামীণ জীবনের আওতায় আসে। এখানে প্রথম সভ্য মানুষ আসে আনাতোলিয়া থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২ হাজার ৪০০ বছর আগে। আর গ্রিকরা আসে খ্রিষ্টপূর্ব এক হাজার ৬০০ বছর আগে। এর পর আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় নানা জাতি ও বর্ণের লোক এখানে এসেছে। সাইপ্রাস ইতিহাসের বিভিন্ন সময় গ্রিক, রোমান, পারসীয় এবং মিসরীয় শাসকদের অধীনে শাসিত হয়। ৩৯৫ সালে এ দ্বীপটি বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায়। আরবরা এটি দখল করে ৬৪৩ সালে। ১১৯১ সালে তৃতীয় ক্রুসেডের সময় এটি দখল করে ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড। ১৫৩৯ সালে অটোমানরা এটি দখলে নেয়। ১৮৭৮ সালে দ্বীপটি ব্রিটেনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ১৯২৫ সালে দ্বীপটিকে ব্রিটিশরা নিজেদের একটি কলোনি বলে দাবি করে। অবশেষে ১৯৬০ সালের ১৬ আগস্ট এক চুক্তির মাধ্যমে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।[১]

রাজনীতি

সাইপ্রাসের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত, বহুদলীয়, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন একাধারে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। সরকারের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত। সরকার ও আইনসভা একত্রে আইন প্রণয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ হতে স্বাধীন।

সাইপ্রাস বর্তমানে একটি বিভক্ত রাষ্ট্র। তুর্কি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ১৯৭০-এর দশক থেকে দ্বীপের উত্তরের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই ঘটনাটি সাইপ্রাসের রাজনীতিতে আজ অবধি গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

সরকার পদ্ধতি

দেশটির সরকারব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্রপতিশাসিত। দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। যিনি প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নির্বাহী বিভাগ পরিচালনা করেন সরকার, আইন বিভাগ পরিচালনা করেন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। ১৯৬০ সালে প্রণীত সংবিধানে বলা হয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট হবেন অবশ্যই একজন গ্রিক সাইপ্রিয়ট বা জাতিগত গ্রিক এবং তুর্কি সাইপ্রিয়ট একজন হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট যিনি ওই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। ১৯৮৩ সালে তুর্কি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত অংশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে এ পর্যন্ত তুরস্ক ছাড়া আর কোনো দেশে তাদের সমর্থন করেনি। দেশটির হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যসংখ্যা ৫৯ জন। এর মধ্যে ৫৬ জন সরাসরি নির্বাচিত হন এবং বাকি তিনটি আসন মেরোনাইট, আর্মেনিয়ান এবং ল্যাটিন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত।[১]

ভূগোল

এখানকার আবহাওয়া সাধারণত গরম এবং শুষ্ক। নভেম্বর থেকে মার্চ অর্থাৎ শীতকাল হচ্ছে চাষাবাদের মৌসুম। শীতের এ মৌসুমে এখানে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়। শীতকালে এখানে নানা ধরনের সাইক্লোনও দেখা দেয়। এ সাইক্লোনগুলো উৎপন্ন হয় ভূমধ্যসাগরে। আর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে এখানকার আবহাওয়া থাকে শুষ্ক। এখানকার গড় বৃষ্টিপাত ৫৫০ মিলিমিটার। গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। তাপমাত্রার এ অবস্থা দেশটিতে বিশাল পর্যটন শিল্প বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।[১]

অর্থনীতি

সাইপ্রাসের অর্থনীতি দক্ষিণের সাইপ্রীয় গ্রিক সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং উত্তরের তুর্কি সাইপ্রীয় নিয়ন্ত্রিত এলাকার দ্বিবিধ অর্থনীতি নিয়ে গঠিত। গ্রিক নিয়ন্ত্রিত এলাকাটির অর্থনীতি উন্নত বলে স্বীকৃত।[১] আইএমএফ’র মতে, দেশটির মাছাপিছু আয় হচ্ছে ২৮ হাজার ৩৮১ ডলার। তারা অর্থনীতির সব ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুসরণ করছে। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তারা ইউরো মুদ্রাকে তাদের নিজস্ব মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করে। এ ছাড়া দেশটির আয়ের প্রধান খাতগুলো হচ্ছে পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য ইত্যাদি।

পর্যটন

দেশটির আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন। সাইপ্রাসে প্রতি বছর গড়ে ২৪ লাখ বিদেশী পর্যটক আসেন। ২০০৬ সালে মোট জিডিপি’র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে পর্যটন শিল্প থেকে। ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি লোকের অর্থাৎ দেশের মোট চাকরীজীবীর ২৯ দশমিক ৭ শতাংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে এ শিল্পে। ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম এর ২০০৭ সালের সূচকে পর্যটন শিল্পে সাইপ্রাসের অব¯'ান বিশ্বে ২০তম। দ্য সাইপ্রাস ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (সিটিও) নামের একটি সংগঠন সরকারের পক্ষে সাইপ্রাসের পর্যটন শিল্পের তত্ত্বাবধানে করে থাকে।[১]

প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘সাইপ্রিয়ট ন্যাশনাল গার্ড’। স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে এটি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী। সাইপ্রিয়ট ন্যাশনাল গার্ডের বর্তমান প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কনস্টান্টিনস বিসবিকাস।[১]

ধর্ম

গ্রিক সাইপ্রিয়টদের বেশিরভাগই গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের সদস্য এবং তুর্কি সাইপ্রিয়টদের বেশিরভাগই মুসলিম। ইউরোবেরোমিটার ২০০৫ অনুসারে, সাইপ্রাস হচ্ছে ইউরোপের প্রধান পাঁচটি ধার্মিক দেশের একটি। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যে পাঁচটি দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে সাইপ্রাস তাদেরও একটি। সাইপ্রাসের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ‘সাইপ্রিয়ট অর্থোডক্স চার্চ’।

শিক্ষা

সাইপ্রাসের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। সাইপ্রাসের মোট জিডিপি’র ৭ শতাংশ ব্যয় হয় শিক্ষার জন্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। সাইপ্রাসে একাধিক বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে সাইপ্রাসের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারীদের অনেকেই গ্রিস, ব্রিটেন, তুরস্ক, ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।[১]

সংস্কৃতি

খেলাধুলা, গান, সাহিত্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ পদ্ধতি এবং পরিবহনব্যবস্থাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে সাইপ্রিয়টদের রয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব ঐতিহ্য।[১]

তথ্যসূত্র

  1. Qposter। "সাইপ্রাস – Country Information"www.qposter.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৫
  2. "Statistical Service – Population and Social Conditions – Population Census – Announcements – Preliminary Results of the Census of Population, 2011" (Greek ভাষায়)। Statistical Service of the Ministry of Finance of the Republic of Cyprus। ২৯ ডিসেম্বর ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০১২
  3. United Nations, Department of Economic and Social Affairs, Population Division (২০১৩)। "World Population Prospects: The 2012 Revision, DB02: Stock Indicators"। New York।
  4. "Report for Selected Countries and Subjects"World Economic Outlook Database, April 2017। Washington, D.C.: International Monetary Fund। ১২ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৭
  5. "Gini coefficient of equivalised disposable income – EU-SILC survey"। Luxembourg: Eurostat। ২৮ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৭
  6. "Table 1: Human Development Index and its components"Human Development Reports। Stockholm: United Nations Development Programme। ২১ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৭

বহিঃসংযোগ


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি, বা বন্ধকরণ </ref> দেয়া হয়নি

.সিওয়াই

.সিওয়াই সাইপ্রাসের কান্ট্রি কোড টপ-লেভেল ডোমেইন, ইন্টারনেট প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সংকেত ও ডোমেইন সাফিক্স। নিবন্ধন সাইপ্রাসের নাগরিক, কম্পানি, সরকারি সংস্থার জন্য সীমাবদ্ধ। নিবন্ধনের সময় ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক পরিচিতি নাম্বার প্রয়োজন হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সাবডোমেইনে কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে তবে .com.cy সাইপ্রাসের সবার জন্য উন্মুক্ত।

অলিম্পিকে সাইপ্রাস

সাইপ্রাস ১৯৮০ সালে অভিষেকের পর থেকে প্রতিটি গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করেছে। সাইপ্রাস প্রথম পদক জিতে ২০১২ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে, যেখানে পুরুষদের সেইলিং প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল।

আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া

আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া (ইংরেজি: Akrotiri and Dhekelia), যার সরকারী পূর্ণনাম আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া সার্বভৌম ঘাঁটি অঞ্চলসমূহ (ইংরেজি: Sovereign Base Areas of Akrotiri and Dhekelia) একটি ব্রিটিশ অধীনস্থ সমুদ্র প্রতিকূলবর্তী অঞ্চল যা সাইপ্রাস দ্বীপে অবস্থিত। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, তুরস্ক ও সাইপ্রাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১৯৬০ সালে সম্পাদিত একটি চুক্তির মাধ্যমে অঞ্চলগুলিকে যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ব্রিটিশ রাজার অধীন উপনিবেশ সাইপ্রাসকে স্বাধীনতা প্রদান করা হয়। এখানে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি আছে এবং এটি ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ (ইংরেজি: European European, EU; ইংরেজি: (শুনুন)) ইউরোপ মহাদেশের অধিকাংশ দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট। এর অধীনে অভিন্ন মূদ্রা (ইউরো), ইউরোপীয় সংসদ, ইত্যাদি অনেক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ২৮।

উয়েফা

ইউনিয়ন অব ইউরোপীয়ান ফুটবল এসোসিয়েশন, যা উয়েফা, ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের জাতীয় ফুটবল এসোসিয়েশনগুলো এই সংস্থার সদস্য। এটি ইউরোপে জাতীয় ও দলগত পর্যায়ে প্রতিযোগিতা পরিচালনা, খেলোয়াড়ের প্রাইজমানি ও গনমাধ্যম প্রচারনাস্বত্ত্ব এবং খেলার নিয়ম-শৃংখলা রক্ষার কাজ নিয়ন্ত্রন ও সম্পাদন করে। কয়েকটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এশিয়া ও ইউরোপের মাঝামাঝি হওয়া সত্ত্বেও এএফসির সদস্য না হয়ে উয়েফার সদস্য হয়েছে। এরা হলো সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও আজারবাইজান (কাজাখস্তান পূর্বে এএফসির সদস্য ছিল)। সাইপ্রাসের কাছে ইউরোপ, এশিয়া অথবা আফ্রিকার সদস্য হওয়ার সুযোগ ছিল এবং তারা নিজেকে ইউরোপীয়ান ফুটবল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে উয়েফা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উয়েফা অন্যান্য সংস্থা থেকে সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তির দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশ্বের প্রায় সব উঁচুমানের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ইউরোপীয়ান লীগে খেলে থাকেন কেননা এখানে তাদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি অনেক বেশী। পৃথিবীর বিত্তবান ফুটবল দলগুলোর সিংহভাগই ইউরোপে খেলে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ ইংল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের লীগ। বিশ্বের শক্তিশালী জাতীয় ফুটবল দলের বেশিরভাগই ইউরোপের। বিশ্বকাপে ৩২টি দেশের মধ্যে ১৪টি দেশ ইউরোপের জন্য বরাদ্দ থাকে। বিশ্ব ফুটবল র‍্যাংকিং এ শীর্ষ ২০টি জাতীয় দলের ১৬টিই উয়েফা সদস্য।

১৯৫৪ সালের ১৫ই জুন সুইজারল্যান্ডের বাসেলে ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়ামের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ফল হিসেবে উয়েফা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ পর্যন্ত উয়েফার সদর দপ্তর প্যারিসে ছিল, পরে সদরদপ্তর বার্নে স্থানান্তরিত করা হয়। হেনরি দেলানয় প্রথম মহাসচিব এবং এবে স্কোয়ার্জ প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। উয়েফার প্রশাসনিক কার্যালয় ১৯৯৫ সাল থেকে সুইজারল্যন্ডের নায়নে অবস্থিত। শুরুতে ২৫টি জাতীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সদস্য হলেও বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৫৩টি।

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) (ইংরেজি: Asian Football Confederation (AFC)) হল এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলের সর্বোচ্চ পরিচালনা পরিষদ। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৪৭। অধিকাংশ সদস্যই এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের। কিন্তু এশিয়া ও ইউরোপ উভয় অঞ্চলে অবস্থিত আন্তমহাদেশীয় রাষ্ট্র যেমন- আজারবাইজান, জর্জিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও তুরস্ক এএফসির সদস্য না হয়ে তারা উয়েফার সদস্য হয়েছে। অন্য তিনটি রাষ্ট্র (আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস ও ইসরায়েল) যেগুলো ভৌগোলিকভাবে এশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত বরাবর অবস্থিত তারাও উয়েফার সদস্য। আবার অন্যদিকে ওশেনিয়া অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া এএফসির সদস্য হয়েছে ২০০৬ সালে, পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের একটি অঞ্চল গুয়ামও এর সদস্য হয়েছে,

তামা

তামা, ইংরাজি নাম কপার (Copper) একটি রাসায়নিক মৌল যার চিহ্ন Cu এসেছে ল্যাটিন শব্দ কিউপ্রাম (cuprum) থেকে এবং এর পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ২৯। তামা একটি নমনীয় ধাতু এবং এর তাপীয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহীতা খুব উঁচু দরের তাই অনেক বিজলিবাহী তারের মধ্যেই তামার তার থাকে । বিশুদ্ধ তামা খুব বেশি নরম ও নিজস্ব উজ্জ্বল বর্ণ সমন্বিত কিন্তু আবহাওয়ার সংস্পর্শে এর বাইরে একটি লালচে-কমলা বিবর্ণ স্তর তৈরী হয়। তামা ও তামার বহু মিশ্র ধাতু (যেমন ব্রোঞ্জ, পিতল ইত্যাদি) অনেক হাজার বছর ধরে মানুষের নিত্য সঙ্গী । প্রাচীনকালে তামার অনেক খনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে সাইপ্রাস (লাতিনে Cyprus ক্যুপ্রুস্‌) দ্বীপের খনিগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যময়। অনেকের মতে তামার ইংরেজি নাম কপার (লাতিন নাম Cuprum কুপ্রুম) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে।

তুর্কি ভাষা

তুর্কি (উচ্চারণ , তুর্কি ভাষায়: Türkçe ত্যুর্ক্‌চে আ-ধ্ব-ব:[tyɾktʃe]) বিশ্বের প্রায় ৭ কোটি মানুষের মুখের ভাষা। এটি মূলত তুরস্কে কথিত হয়, তবে সাইপ্রাস, গ্রিস, ও পূর্ব ইউরোপের বহু দেশে তুর্কীভাষী সম্প্রদায় আছে। এছাড়াও পশ্চিম ইউরোপে, বিশেষত জার্মানিতে একাধিক মিলিয়ন অভিবাসীর মুখের ভাষা তুর্কি। এটি তুর্কীয় ভাষাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষা।

তুর্কি ভাষার জন্ম মধ্য এশিয়ায়। সেখানে ভাষাটির ১২০০ বছর আগে লেখা নমুনা খুঁজে পাওয়া গেছে। উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে পাশ্চাত্যে উসমানীয় তুর্কি ভাষার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। উসমানীয় তুর্কি ছিল বর্তমান আধুনিক তুর্কি ভাষার পূর্বসুরি। ১৯২৮ সালে কামাল আতাতুর্কের বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের একটি হিসেবে উসমানীয় তুর্কি লিপিকে একটি ধ্বনিমূলক লাতিন বর্ণমালা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হয়। একই সাথে নবগঠিত তুর্কি ভাষা সংগঠন (Turkish Language Association) একটি প্রকল্প শুরু করে যেখানে ভাষাটি থেকে আরবি ও ফার্সি কৃতঋণ শব্দের পরিবর্তে স্থানীয় তুর্কি উৎসের প্রতিশব্দ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়।

তুর্কি ভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বরসঙ্গতি এবং ব্যাপক সংশ্লেষ। তুর্কি ভাষার প্রধান পদক্রম কর্তা কর্ম ক্রিয়া। তুর্কি ভাষায় তুমি-আপনি পার্থক্য (T-V distinction) পরিলক্ষিত হয়: মধ্যম পুরুষের বহুবচনাত্মক রূপটি একবচনে সম্মানার্থে প্রয়োগ করা যায়। তুর্কি ভাষায় বিশেষ্যের কোন প্রকারভেদ বা ব্যাকরণিক লিঙ্গ নেই।

দক্ষিণ ইউরোপ

ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ অংশটিকে দক্ষিণ ইউরোপ বলে। এটিকে অনেক সময় ভূমধ্যসাগরীয় ইউরোপ নামেও ডাকা হয়। ভৌগলিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ সংজ্ঞাতে দক্ষিণ ও পূর্ব স্পেন, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়ার আড্রিয়াটিক সাগর উপকূল, আলবেনিয়া, গ্রিস এবং ইউরোপীয় তুরস্কের পূর্ব থ্রাকে অঞ্চলটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়; পর্তুগাল ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী না হলেও এই দেশটিকেও দক্ষিণ ইউরোপের অংশ গণ্য করা হয়।এছাড়া ভূমধ্যসাগরের মধ্যে অবস্থিত কর্সিকা দ্বীপ, সার্দিনিয়া দ্বীপ, সিসিলি দ্বীপ, ক্রিট দ্বীপ, বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস ও মাল্টাকেও দক্ষিণ ইউরোপের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দেশ

ভূগোল মতে দেশ হল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল। এই দেশ শব্দটি প্রায়সই রাজনৈতিক বিভাগ বা সার্বভৌমিক রাষ্ট্র অঞ্চল বা সাবেক রাজনৈতিক বিভাগের ভৌগোলিক অঞ্চলকে সূচিত করে। সাধারণ ভাবে দেশ বলতে সার্বভৌমিক রাষ্ট্র-এর ধারণার সাথে মিলে যায় এবং যা রাষ্ট্র ,জাতি বা সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত।

পশ্চিম এশিয়া

পশ্চিম এশিয়া বলতে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি অঞ্চলকে বোঝায়। পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পশ্চিম এশিয়াতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ মিশর অন্তর্ভুক্ত নয় (দেশটিকে উত্তর আফ্রিকার অংশ ধরা হয়)। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য-বহির্ভূত ককেসাস অঞ্চলটিকেও পশ্চিম এশিয়ার অন্তর্গত করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার আয়তন প্রায় ৬২,৫৫,১৬০ বর্গকিলোমিটার এবং এখানে প্রায় ৩১ কোটির কিছু বেশি লোকের বাস।

জাতিসংঘের ভূবিন্যাস অনুযায়ী নিচের দেশগুলি পশ্চিম এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ-সাইপ্রাস সম্পর্ক

বাংলাদেশ – সাইপ্রাসের সম্পর্ক বলতে বাংলাদেশ এবং সাইপ্রাসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। উভয় দেশেরই কোন আবাসিক রাষ্ট্রদূত নেই। উভয় দেশই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের, কমনওয়েলথ অব নেশনস-এর সদস্য উভয় দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য উভয় দেশই আন্তরিক ও ইচ্ছা পোষন করে। সাইপ্রাসের চারপাশে আছে সাইপ্রাসকে ঘিরে রেখেছে ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক এবং গ্রিস। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয় ২০০৪ সালে। এর আয়তন ৯,২৫১ বর্গকিলোমিটার। দেশটি ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য ভূস্বর্গ। এই দ্বীপরাষ্ট্রের দুইটি অংশ তুর্কি সাইপ্রাস ও গ্রিক সাইপ্রাস। সর্বমোট লোকসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

লেবানন

লেবানন ( (শুনুন); আরবি: لبنان‎‎ Lubnān; Lebanese pronunciation: [lɪbˈnɛːn]; ফরাসি: Liban), এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এর উত্তর ও পূর্বে সিরিয়া, দক্ষিণে ইসরায়েলের সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও সাইপ্রাস দ্বীপ।

লেভ্যান্ট

লেভ্যান্ট যা পূর্ব ভূমধ্যাঞ্চল নামেও পরিচিত, আনাতোলিয়া এবং মিশর এর মাঝে অবস্থিত ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল। বর্তমানের সাইপ্রাস, জর্দান, লেবানন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইসরাইল এবং দক্ষিণ তুরস্ক (পুরাতন নাম আলেপ্পো ভিলায়েত) এর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিলো। পশ্চিম এশিয়া, পূর্ব ভূমধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা এবং আরব অঞ্চল এর উত্তর-পশ্চিমাংশের সাথে সংযোগ অঞ্চল হিসেবে সুপরিচিত ছিলো।

সাইপ্রাস জাতীয় ক্রিকেট দল

সাইপ্রাস ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাইপ্রাসের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা ১৯৯৯ সালে আইসিসির অনুমোদিত সদস্য হয়। কিন্তু ২০০৬ সালের আগস্ট মাসের আগে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় নি। তারা ২০০৬ সালের ইউরোপীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ বিভাগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়। সেখানে তারা রানার্সআপ হয়। ২০০৭ সালে তারা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এর তৃতীয় বিভাগে অংশ নেয়, যেখানে তারা ৮ দলের মধ্যে ৭ম হয়। পরে সাইপ্রাস আইসিসি চতুর্থ বিভাগ আয়োজন করে এবং তারা টুর্নামেন্টটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১১ সালে সাইপ্রাস আইসিসি দ্বিতীয় বিভাগ টি-টুয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়, যেখানে সুইডেনকে ১০ম স্থান নিরধারনী ম্যাচে হারিয়ে তারা ১০ম হয়। ২৯ ডিসেম্বর ২০১২ অনুসারে আইসিসি ইউরোপীয় টুয়েন্টি২০ র‍্যাংকিঙ্গে সাইপ্রাসের অবস্থান ২৪ তম।

সাইপ্রাসের জাতীয় পতাকা

সাইপ্রাসের পতাকা প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৬০ সালের ১৬ই আগস্ট, যখন লন্ডন-জুরিখ চুক্তি সম্পাদনকালে সংবিধান রচনা করে সাইপ্রাসকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

পতাকাটিতে রয়েছে সাদা জমিনের (শান্তির প্রতীক) উপর দ্বীপরাষ্ট্রটির মানচিত্র এবং এর নিচে দু'টি জলপাই পাতা (শান্তির প্রতীকরূপে)। সাইপ্রাস একমাত্র রাষ্ট্র যার ভৌগোলিক এলাকা নিজস্ব জাতীয় পতাকায় দৃশ্যমান। পতাকার মানচিত্রটির রঙ তাম্র-হলুদ রঙের, যা ঐ দ্বীপে খনিজ সম্পদ তামার প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে।

সীমিত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রাষ্ট্রসমূহের তালিকা

রাজনীতির একটি অংশ নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং আইনত () সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট স্বীকৃতি চেয়েছে কিন্তু সার্বজনীনভাবে তেমন স্বীকৃত হয়নি। এই সত্ত্বাগুলি তাদের এলাকা কার্যত () নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এ রকম সত্ত্বাগুলোর একটি অংশ অতীত থেকেই বিদ্যমান রয়েছে।

এখানে দু ধরনের ঐতিহ্যগত মতবাদ রয়েছে যা একটি ধারণা প্রদান করে যে একটি আইনত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কিভাবে আসে। ঘোষণামূলক তত্ত্বে আন্তর্জাতিক আইনে একটি রাষ্ট্রর নিম্নলিখিত চারটি বৈশিষ্ট্য সংজ্ঞায়িত হয়েছেঃ

একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড

একটি স্থায়ী জনগোষ্ঠী

একটি সরকার এবং

অপর কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের যোগ্যতাঘোষণামূলক তত্ত্ব অনুযায়ী, অন্য সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ছাড়াও একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্ত্বিত্ব থাকতে পারে। সাংবিধানিক তত্ত্বে আন্তর্জাতিক আইনে এভাবে রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করেছে যে সার্বভৌম রাষ্ট্র হতে হলে অন্যান্য রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হতে হয় যেসব রাষ্ট্র পূর্ব থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্য।

১২ সেপ্টেম্বর

১২ সেপ্টেম্বর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ২৫৫তম (অধিবর্ষে ২৫৬তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ১১০ দিন বাকি রয়েছে।

সাইপ্রাসের বিভিন্ন বিষয়ের নিবন্ধসমূহ
সার্বভৌম রাষ্ট্র
সীমিত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রাষ্ট্রসমূহ
নির্ভরশীল অঞ্চল
আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ববাহী
বিশেষ অঞ্চল
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.