শৈলশিরা

শৈলশিরা বা পর্বতশৃঙ্গ একটি ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য যা পাহাড় বা পাহাড়ের শৃঙ্খলে গঠিত যা কিছু দূরত্বে অবিচ্ছিন্ন চূড়া গঠন করে। শীর্ষ স্থান থেকে গঠিত চূড়া বরাবর রেখাগুলি, উভয় প্রান্তে নীচে নেমে যাওয়া অঞ্চলকে বলা হয় রিজলাইন

Tsubakurodake from Otenshodake 2002-8-22
জাপানের একটি পর্বতমালা
Bristol tenn ridgelines2
অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার মধ্যে একটি স্ট্রিটগ্রাফিক রিজ
The Table1
টুয়াসের প্রান্তগুলি হতে সৃষ্ট শৈলশিরা

প্রকারভেদ

আবদ্ধ শৈলশিরা

পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রবাহপথে কঠিন শিলাসমূহ বাঁধার সৃষ্টি করলে নদী এঁকেবেঁকে চলতে শুরু করে। এর ফলে নদীর একটি পাড় অপর পাড়কে আড়াল করে রাখে । ফলে নদীর গতিপথ সোজাসুজি বেশী দূর পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায় না, দূর থেকে মনে হয় যেন শৈলশিরাগুলি আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত অবস্থায় রয়েছে, যে কারণে এদের আবদ্ধ শৈলশিরা বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে।[১]

কর্তিত শৈলশিরা

পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চগতিতে নদী তীব্রগতিতে ক্ষয়কার্য করতে করতে অগ্রসর হতে থাকে। এইসময় নদী তার প্রবাহপথে অবস্থিত শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশগুলিকে ক্ষয় করে কিছুটা সোজাপথে অগ্রসর হয়। এরকম ক্ষয়প্রাপ্ত শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশগুলিকে কর্তিত শৈলশিরা (Truncated Spur) বলে।[২]

উদাহরণ

Vihren Pirin IMG 0859
পিরিন পর্বতের প্রধান শৈলশিরা

হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে মন্দাকিনী নদীর গতিপথে অসংখ্য আবদ্ধ শৈলশিরা এবং তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা, জলঢাকা, প্রভৃতি নদীর উচ্চ প্রবাহে কর্তিত শৈলশিরা দেখতে পাওয়া যায় ।

বৈশিষ্ট্য

আবদ্ধ শৈলশিরা বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরার বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ-

  • ক) এগুলি মূলত নদীর উচ্চ প্রবাহে পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়।
  • খ) এগুলি নদীর ক্ষয়কার্যজনিত ভূমিরূপ।
  • গ) এরা নদী প্রবাহের দৃশ্যমানতাকে দূর থেকে আড়াল করে রাখে।
  • ঘ) এগুলি মূলত খরস্রোতা নদীর উচ্চ প্রবাহে পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র

  1. https://bhoogolok.com
  2. "How Volcanoes Work - lava flow features"www.geology.sdsu.edu। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-১৩

বহিঃসংযোগ

অক্টোপাস

অক্টোপাস আটটি বাহু বিশিষ্ট সামুদ্রিক প্রাণী। দেখতে শামুকের মত না হলেও (শক্ত খোলস নেই) এরা শামুক-ঝিনুকের জাতভাই অর্থাৎ মোলাস্কা ফাইলামের অন্তর্ভুক্ত। এদের মাথার ঠিক পিছনেই আটটি শুঁড়-পা আছে তাই এরা সেফালোপোডা বা "মস্তক-পদ" শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত (স্কুইড-ও একই শ্রেণীর)। এরা নিশাচর, সাধারণতঃ ধীর গতিসম্পন্ন।প্রায় ১৫০ প্রজাতির ছোটবড় বিভিন্ন আকারের অক্টোপাস রয়েছে।

সমুদ্রের বিভিন্ন অঞ্চলে অক্টোপাসেরা বসবাস করে, যার মধ্যে রয়েছে কোরাল শৈলশিরা, উন্মুক্ত অগভীর জল এবং সমুদ্রতল ইত্যাদি। কিছু কিছু আবার জোয়ার-ভাটা হয় এমন স্থানে আবার কিছু আছে গভীর সমুদ্রে বসবাস করে। বেশিরভাগ প্রজাতীই দ্রুত বর্ধমান, তাড়াতাড়ি পূর্ণবয়স্ক হয় আর কম বাঁচে। বংশবৃদ্ধির সময় পুরুষ অক্টোপাস বিশেষ শুঁড় দিয়ে শুক্রানু স্ত্রী অক্টোপাসে স্থানান্তর করে। এরপর সে ধীরে ধীরে মারা যায়। স্ত্রী অক্টোপাস নিষিক্ত ডিমগুলো কোন গুহা জাতীয় স্থানে রাখে এবং ফুটে বাচ্চা বেরোনো পযর্ন্ত যত্ন করে, তারপর সেও মারা যায়।

শিকারী প্রানীদের হাত থেকে বাচতে তারা কালি ছুড়ে মারে, ছদ্মবেশ ধরে বা রং পাল্টায় এবং ভীতি প্রদর্শন করে। এছাড়াও তারা আত্মরক্ষার জন্য দ্রুত পালানোর ক্ষমতা ও লুকিয়ে পড়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে। সব অক্টোপাসই বিষাক্ত, কিন্তু শুধুমাত্র নীল গোলক বিশিষ্ট অক্টোপাসই মানুষের জন্য মারাত্মক।

পৌরানিক কাহিনীতে অক্টোপাসকে সমুদ্রের দানবরূপে আখ্যায়িত করতে দেখা গেছে, যেমন নরওয়ের ক্রাকেন এবং আইনুদের আকোরোকামুই হিসেবে এবং সম্ভবত প্রাচীন গ্রীসে গর্গন রূপে। ভিক্টর হুগোর একটি বইয়ে, যার নাম টয়লার্স অব দ্যা সি, অক্টোপাসের সাথে একটি যুদ্ধের বয়ান আছে। আয়ান ফ্লেমিং অনুপ্রাণিত হয়ে বানান অক্টোপুসি। অক্টোপাসেরা জাপানের উত্তেজক চিত্রতেও স্থান করে নিয়েছে যার নাম সুঙ্গা। এশিয়ার সাগর ও ভূ-মধ্য সাগরের বিভিন্ন দেশে এদের খাদ্য হিসেবে খাওয়া হয়।

ইউরেশীয় পাত

ইউরেশীয় প্লেট একটি টেকটনিক প্লেট। ইউরেশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ এই প্লেটের উপর অবস্থিত। ইউরেশিয়া মহাদেশ হচ্ছে ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের ভূভাগের যোগফল, যার থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাদ যাবে ভারতীয় উপমহাদেশ, আরব উপদ্বীপ আর পূর্ব সাইবেরিয়ার চেরস্কি পর্বতমালার পূর্ব দিকের এলাকা। পশ্চিমে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা এবং উত্তরে গাক্কেল শৈলশিরার মধ্যে অবস্থিত মহাসাগরীয় ভূত্বক ইউরেশিয়ার অর্ন্তভুক্ত।

এই পাতের পূর্ব দিকের সীমানার উত্তরে আছে উত্তর আমেরিকান পাত আর দক্ষিণে আছে ফিলিপাইন সাগর পাত, আর সম্ভবত ওখোটস্ক এবং আমুরিয়ান পাত। এর দক্ষিণ সীমানার পশ্চিমে আফ্রিকান পাত; মধ্যে আরবীয় পাত আর পূর্ব দিকে ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাত।

টেমপ্লেট:Tectonics-stub

উত্তর মহাসাগর

উত্তর মহাসাগর বা সুমেরু মহাসাগর উত্তর গোলার্ধের সুমেরু অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের ক্ষুদ্রতম এবং সর্বাপেক্ষা কম গভীর একটি মহাসাগর। এটি পৃথিবীর পাঁচটি প্রধান মহাসাগরের অন্যতম। ইন্টারন্যাশানাল হাইড্রোগ্রাফিক অর্গানাইজেশন (আইএইচও) তথা আন্তর্জাতিক জললেখচিত্রন সংস্থা এটিকে মহাসাগরের স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে কোনো কোনো সমুদ্রবিদ এটিকে সুমেরু ভূমধ্যসাগর (Arctic Mediterranean Sea) বা সুমেরু সাগর (Arctic Sea)। তাদের মতে এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি ভূমধ্যসাগর। অন্যমতে, উত্তর মহাসাগর সব মহাসাগরের সমষ্টি বিশ্ব মহাসাগরের সর্ব-উত্তরে অবস্থিত অংশ।

উত্তর মহাসাগরের প্রায় সমগ্র অংশই ইউরেশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। বছরের অধিকাংশ সময় এই মহাসাগরের অংশবিশেষ সামুদ্রিক বরফে ঢাকা থাকে। শীতকালে সম্পূর্ণ মহাসাগরটিই বরফে ঢাকা পড়ে যায়। উত্তর মহাসাগরের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা ঋতু অণুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। সমুদ্রের বরফের আবরণীর গলন ও জমাট বাঁধার কারণেই এমনটি হয়ে থাকে। পাঁচটি প্রধান মহাসাগরের তুলনায় এই মহাসাগরের জলের লবণাক্ততা কম। এর কারণ, বাষ্পীভবনের নিম্ন হার, বিভিন্ন বড়ো ও ছোটো নদী থেকে এসে মেশা মিষ্টি জলের প্রবাহ এবং পার্শ্ববর্তী উচ্চ লবণাক্ততাযুক্ত মহাসাগরগুলির সঙ্গে সীমাবদ্ধ সংযোগ ও বহির্গমন স্রোত। গ্রীষ্মকালে প্রায় ৫০% বরফ গলে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশানাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার (এনএসআইডিসি) উপগ্রহ তথ্যের মাধ্যমে গড় সময়কাল ও নির্দিষ্ট পূর্ববর্ষের সঙ্গে তুলনা করার জন্য উত্তর মহাসাগরের বরফাবরণী ও বরফ গলনের দৈনিক তথ্য রাখে।

ঋষি পাহাড়

ঋষি পাহাড় ভারতের উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ। এটি নন্দা দেবী অভয়ারণ্য বেষ্টিত পর্বত শৃঙ্গরাজির উত্তর-পূর্ব কোণে এবং নন্দা দেবী জীবমণ্ডল সংরক্ষণের পূর্ব বহির্ভাগে অবস্থিত। ত্রিশূলী ও হরদেওলের এই শৃঙ্গের দক্ষিনে অবস্থিত। মিলাম হিমবাহের অবস্থান এটির পূর্ব দিকে। মিলাম,দুনাগিরি ও উত্তর ঋষি গঙ্গা উপত্যকাকে, ঋষি পাহার তিন ভাগে চিহ্নিত করেছে।

১৯৭৫ সালে পশ্চিম শৈলশিরা দিয়ে এই শৃঙ্গটি প্রথমবার আরোহণ হয়।

কমলা নদী

কমলা নদী হল নেপালের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী।এই নদীটি চুরিয়া পর্বত শৈলশিরা থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপাল এর তরাই অঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।নদীটির পার্বত্য পথে বহু উপনদী রয়েছে । এছাড়া বহু পার্বত্য ঝরনা বা জলস্রোত এই নদীতে যুক্ত হয়েছে।নদীটি নিম্নপ্রবাহে বিহারে প্রায়শই বন্যা ঘটায়।এই বন্যা বিহারের জনজীবনের বিপর্যয় ঘটায়।

কাং ইয়াৎজে

কাং ইয়াৎজে (উচ্চতা ৬,৪০০ মিটার (২১,০০০ ফু)) ভারতের লাদাখ অঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্বত।

কাটাপাহাড়

কাটাপাহাড় হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং শহরের একটি শৈলশিরা। কাটাপাহাড় ও জালাপাহাড় শৈলশিরা দুটি অবজার্ভেটরি হিলে এসে মিশেছে।

যে পর্বতমালাটির উপর দার্জিলিং অবস্থিত, সেটি ইংরেজি Y-আকৃতিবিশিষ্ট। এটির মূল কাটাপাহাড় ও জালাপাহাড় এবং অবজার্ভেটরি হিল থেকে বেরিয়ে আসা দুটি অংশের উপর অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব শাখাটি হঠাৎ শেষ হয়েছে লেবং-এর কাছে। উত্তর-পশ্চিম অংশটি নর্থ পয়েন্টের পাশ দিয়ে গিয়ে টুকভের চা বাগানের কাছে মিশেছে।

কুশাং শেরপা

কুশাং শেরপা (ইংরেজি: Kushang Sherpa) (জন্ম ১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫) একজন ভারতীয় পর্বতারোহী, যিনি বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গ তিনদিক দিয়ে আরোহণ করে বিশ্বরেকর্ড করেন।

গৌর

গৌর (Bos gaurus) বা বনগরু (বা ভারতীয় বাইসন) বিশ্বের বৃহত্তম গরু জাতীয় প্রাণী। এরা দক্ষিণ এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি।

গত তিন প্রজন্মে এই প্রজাতির পরিসরের কিছু অংশে ৭০% এর বেশি জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ১৯৮৬ থেকে আইইউসিএন লাল তালিকায় প্রজাতিকে সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ভালোভাবে সুরক্ষিত এলাকাগুলোয় জনসংখ্যার গতিধারা স্থিতিশীল এবং কিছু পূর্ব উপেক্ষিত এলাকায় পুনঃবৃদ্ধি পাচ্ছে।গৌর বন্য গরুর সবচেয়ে উঁচু প্রজাতি। মালয় বনগরুকে সেলাদুং এবং বর্মী বনগরুকে পাইউং বলা হয়। গৌরের গৃহপালিত জাতকে গয়াল বা মিঠুন বলে।

জলাপাহাড়

জলাপাহাড় হল একটি শৈলশিরা ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং শৈলশহরের একটি অঞ্চল। ব্রিটিশ আমলে এখানে একটি ব্রিটিশ সামরিক ক্যাম্প ছিল। এই শৈলশিরাটি অবজার্ভেটরি হিলে কাটাপাহাড় শৈলশিরায় মিলিত হয়েছে। সেন্ট পল’স স্কুল এখানেই অবস্থিত। এই স্কুলটি চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়া অনুমোদিত সবচেয়ে পুরনো স্কুলগুলির অন্যতম। জলাপাহাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গের এক মনোরম দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয়।

যে পর্বতমালার উপর দার্জিলিং শহরটি অবস্থিত, সেটি ইংরেজি ওয়াই (Y) অক্ষরের আকৃতি-বিশিষ্ট। এই পর্বতমালার পাদদেশে রয়েছে কাটাপাহাড় ও জলাপাহাড় এবং দুইটি বাহু অবজার্ভেটরি হিল থেকে দুই দিকে বিভক্ত হয়ে প্রসারিত হয়েছে। উত্তর-পূর্ব বাহুটি হঠাৎ করে নিচে নেমে লেবং অভিক্ষিপ্তাংশে শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু উত্তর-পশ্চিম বাহুটি নর্থ পয়েন্ট হয়ে এগিয়ে গিয়ে টাকবার চা বাগানের কাছে অবস্থিত একটি উপত্যকায় শেষ হয়েছে।জলাপাহাড়ের একটি বিখ্যাত স্থাপনা হল ব্রায়ানস্টোন। ১৮৪৮ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি ছিল বিশিষ্ট ভারততত্ত্ববিদ জোসেফ ডালটন হুকার ও ব্রায়ান হটন হগসনের বাসভবন। সেন্ট পল’স স্কুলটি ১৮৬৪ সালে দার্জিলিঙে স্থানান্তরিত হয়েছিল। অন্যান্য কয়েকটি বাড়ির সঙ্গে ব্রায়ানস্টোনের পুরনো ম্যানরটি বর্তমানে এই স্কুলের সম্পত্তি।

টেরাম কাংরি

টেরাম কাংরি কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর উপশাখা সিয়াচেন মুজতাঘ পর্বতশ্রেণীর অন্তর্গত একটি সংঘবদ্ধ পর্বতস্তূপ। টেরাম কাংরি পর্বতস্তূপের তিনটি শৃঙ্গ বর্তমান। এগুলি হল টেরাম কাংরি- ১, টেরাম কাংরি- ২ ও টেরাম কাংরি- ৩।

নতুন দিল্লি

নতুন দিল্লি হল ভারতের রাজধানী ও ভারত সরকারের প্রশাসনিক, আইন ও বিচারবিভাগীয় কেন্দ্র। এটি দিল্লি সরকারেরও কেন্দ্র। নিউ দিল্লি দিল্লি মহানগরীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত এবং এটি দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের ১১টি জেলার মধ্যে অন্যতম জেলা।

১৯১১ সালে দিল্লি দরবারে ভারত-সম্রাট পঞ্চম জর্জ নিউ দিল্লি শহরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ব্রিটিশ স্থপতি স্যার এডউইন লুটিয়েনস ও স্যার হারবার্ট বেকার এই শহরের নকশা প্রস্তুত করেছিলেন। ১৯৩১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি নিউ রাজধানী উদ্বোধন করেন তদনীন্তন ভাইসরয় লর্ড আরউইন।

নরওয়েজীয় সাগর

নরওয়ে সাগর (The Norwegian Sea) উত্তর মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর যা নরওয়ের উত্তর পশ্চিমে এবং উত্তর সাগর এবং গ্রিনল্যান্ড সাগরের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। এটি উত্তর পূর্বে ব্যারেন্টস সাগরের সাথে যুক্ত। এটি দক্ষিণ পশ্চিমে একটি মগ্ন-গিরি (যেটি আইসল্যান্ড এবং ফারো দ্বীপপুঞ্জ এর মধ্যে অবস্থিত) দ্বারা আটিলান্টিক মহাসাগর থেকে আলাদা হয়েছে। উত্তরে এটি জন মায়ান নামের একটি শৈলশিরা দ্বারা গ্রিনল্যান্ড সাগর থেকে পৃথক হয়েছে।

এই সাগরের বেশীরভাগ তলদেশই মহীসোপানের অন্তর্ভুক্ত নয়, যা অনান্য সাগরের মতো নয়, এবং আনুমানিক দুই কি.মি. গড় গভীরতায় অবস্থিত। সমুদ্রের তলদেশের নীচে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সমৃদ্ধ সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এবং প্রায় এক কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে এসব অনুসন্ধান করা হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মাছে সমৃদ্ধ যেগুলো ডিম পাড়া ও প্রজননের জন্য উত্তর আটলান্টিক এবং বেরেন্টস সাগর (কড) থেকে নরওয়েজিয়ান সাগরে পাড়ি জমায়। উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোত তুলনামূলকভাবে পানির স্থিতিশীল এবং উষ্ণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করে, এতে করে আর্কটিক সমুদ্রের বিপরীতে, নরওয়েজিয়ান সাগর সারা বছর বরফমুক্ত থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, নরওয়েজিয়ান সাগরের প্রচুর পরিমাণের পানির অধিক পরিমাণে তাপ শোষণের ক্ষমতা নরওয়ের হালকা শীতের উৎস হিসাবে উপসাগরীয় স্রোত এবং অনান্য স্রোতের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

পুরুলিয়া জেলা

পুরুলিয়া জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মেদিনীপুর বিভাগে অবস্থিত একটি জেলা। জেলাসদর পুরুলিয়া। এই জেলার পূর্ব সীমান্তে বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা; এবং অপর তিন দিক ঝাড়খণ্ড রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত। বাংলা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৫৬ সালে পূর্বতন বিহার রাজ্যের মানভূম জেলার সদর মহকুমাটি পুরুলিয়া জেলা নামে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই থেকে এই জেলা পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গ। এই জেলার অধিবাসীরা মূলত বাঙালি ও সাঁওতাল। পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে কম জনঘনত্ব বিশিষ্ট জেলা। রঘুনাথপুর-আদ্রা, ঝালদা ও বলরামপুর এই জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত।

ব্লারিস শৈলশিরা

ব্লারিস রিজ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি শৈলশিরা। ব্লারিস রিজ নামটি স্থানীয় ধর্মপ্রচারক জেএম ব্লেয়ারের নামানুসারে রাখা হয়েছে।

মাউন্ট এভারেস্ট

মাউন্ট এভারেষ্ট (ইংরেজি: Mount Everest), যা নেপালে সগরমাথা (নেপালি: सगरमाथा) এবং তিব্বতে চোমোলাংমা (তিব্বতি: ཇོ་མོ་གླང་མ, ওয়াইলি: jo mo glang ma) নামে পরিচিত, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এই শৃঙ্গটি হিমালয়ের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার (২৯,০২৯ ফু) হলেও পৃথিবীর কেন্দ্র হতে এই শৃঙ্গের দুরত্ব সর্বাধিক নয়। চীন ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষবিন্দু দিয়ে গেছে।

১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মহান ত্রিকোণমিতিক সর্বেক্ষণের ফলে মাউন্ট এভারেস্টের (যা তৎকালীন যুগে ১৫ নং পর্বতশৃঙ্গ নামে পরিচিত ছিল) উচ্চতা নির্ণয় করা হয় ৮,৮৪০ মি (২৯,০০২ ফু)। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সার্ভেয়র জেনারেল অ্যান্ড্রিউ স্কট ওয়াহর সুপারিশে রয়েল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি তাঁর পূর্বসূরী জর্জ এভারেস্টের ১৫ নং পর্বতশৃঙ্গর নাম পরিবর্তন করে মাউন্ট এভারেস্ট রাখে। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে একটি ভারতীয় জরিপে এই শৃঙ্গের উচ্চতা নির্ণয় করা হয় ৮,৮৪৮ মি (২৯,০২৯ ফু), যা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে একটি চীনা জরিপ দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।

ব্রিটিশ পর্বতারোহীরা সর্বপ্রথম এই পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের চেষ্টা শুরু করেন। নেপালে এই সময় বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় ব্রিটিশরা তিব্বতের দিক থেকে এই পর্বতের উত্তর শৈলশিরা ধরে বেশ কয়েক বার আরহণের চেষ্টা করেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে ব্রিটিশরা তিব্বতের দিক থেকে ৭,০০০ মি (২২,৯৭০ ফু) উচ্চতা পর্য্যন্ত ওঠেন। এরপর ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের অভিযানে তাঁরা এই পথে ৮,৩২০ মি (২৭,৩০০ ফু) উচ্চতা পর্য্যন্ত ওঠে মানবেতিহাসের নতূন কীর্তি স্থাপন করেন। এই অভিযানে অবতরনের সময় তুষারধ্বসে সাতজন মালবাহকের মৃত্যু ঘটে। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের অভিযান এভারেস্ট আরোহণের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় অভিযান: জর্জ ম্যালোরি ও অ্যান্ড্রিউ আরউইন শৃঙ্গের দিকে আরোহণের একটি অন্তিম প্রচেষ্টা করেন কিন্তু আর ফিরে আসতে ব্যর্থ হন, যার ফলে তাঁদের আরোহণই প্রথম সফল আরোহণ কি না সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে নেপালের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব শৈলশিরা ধরে প্রথম এই শৃঙ্গজয় করেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ২৫ শে মে, চীনা পর্বতারোহী ওয়াং ফুঝোউ, গোনপো এবং চু ইয়িনহুয়া উত্তর শৈলশিরা ধরে প্রথম শৃঙ্গজয় করেন।

রিমো পর্বত

রিমো পর্বত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবস্থিত কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর রিমো মুজতাঘ উপপর্বতশ্রেণীর একটি পর্বতস্তূপ।

সালতোরো কাংরি

সালতোরো কাংরি সালতোরো পর্বতশ্রেণীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গগুলির মধ্যে একত্রিশতম ।

হিমবাহ

হিমবাহ (ইংরেজি: Glacier) হল বরফের বিরাট চলমান স্তুপ বা নদী। সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে তুষার পড়ার হার গ্রীষ্মে গলনের হারের চেয়ে বেশি হলে পাহাড়ের উপরে তুষার জমতে শুরু করে এবং জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়। এই বরফজমা এলাকাটিকে বরফক্ষেত্র (Ice field) বলে। যখন এই জমা বরফ নিজের ওজনের ভারে এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ধীরগতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে, তখন তাকে হিমবাহ বলে। তবে জমা বরফ এত পুরু হয় এবং এর নিম্নগতি এতই ধীর যে তাকে স্থিরই মনে হয়।

ভারতের উত্তরে পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালাতে অবস্থিত গ্রেট বালটোরা পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের কাছে রংবুক ও কাশৃঙ্গ হিমবাহ অবস্থিত। অস্ট্রিয়া-ইতালি সীমান্তে আল্পস পর্বতমালার সিমিলাউন হিমবাহে ১৯৯১ সালে একজন মানুষের অবিকৃত দেহের সন্ধান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় দেহটি প্রায় ৫,৩০০ বছর সেখানে সমাহিত হয়ে ছিল।হিমবাহের কোন অংশ আলগা হয়ে অত্যন্ত দ্রুত পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে আসলে তাকে হিমানী সম্প্রপাত (avalanche) বলে। অনেক সময় হিমানী সম্প্রপাতের কারণে প্রাণহানি ও সম্পদের ধ্বংস ঘটে।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.