ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা অথবা Geographic Co-ordinate System সংক্ষেপে GCS হল তিনটি স্থানাঙ্ক মানের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোন স্থানের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করার একটি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার ফলে পৃথিবীর যেকোন স্থানের একটি অনন্য স্থানাঙ্ক থাকে। স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার তিনটি মাত্রা হচ্ছে অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বা গভীরতা।

WorldMapLongLat-eq-circles-tropics-non
পৃথিবীর মানচিত্রে অক্ষাংশ (অনুভূমিক রেখা) এবং দ্রাঘিমাংশ (উল্লম্ব রেখা) দেখানো হয়েছে, Eckert VI projection; বড় সংস্করন (পিডিএফ, 1.8MB)

প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রা: অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ

Geographic coordinates sphere
অক্ষাংশ ফাই (φ) এবং দ্রাঘিমাংশ ল্যাম্বডা (λ)

প্রাচীন ব্যাবিলিয়ন তত্ত্ব, যা পরে গ্রিক দার্শনিক ভুগোলবিদ টলেমি পরিবর্ধিত করেছেন, অনুসারে পূর্ণ বৃত্ত ৩৬০ ডিগ্রীতে (৩৬০°) বিভক্ত।

  • অক্ষাংশ (latitude) হচ্ছে স্থানাঙ্ক ব্যবস্থায়, কোন স্থান বিষুবীয় তলের কেন্দ্রের সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তার পরিমাপ। একই অক্ষাংশ বিশিষ্ট সকল বিন্দুকে যোগ করে যে রেখা পাওয়া যায় সেটি ভূপৃষ্ঠের উপরে অবস্থিত একটি বৃত্ত এবং বিষুবীয় অঞ্চলের পরিধির সাথে সমান্তরাল। পৃথিবীর দু মেরুতে এই রেখাগুলো বিন্দুবৃত্ত গঠন করে। প্রতিটি মেরুর অক্ষাংশের পরিমাপ হচ্ছে ৯০ ডিগ্রী: উত্তর মেরু ৯০° উ; দক্ষিণ মেরু ৯০° দ। ০° সমান্তরাল অক্ষাংশকে বিষুব রেখা বলা হয়। এই রেখাটিই পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে বিভক্ত করেছে
  • দ্রাঘিমাংশ (longitude) স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার কেন্দ্রে পূর্বে বা পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের কোন বিন্দু বিষুব রেখার সাথে উল্লম্ব কোন পরিধির (যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে ছেদ করেছে) সাথে যে কোণ উৎপন্ন করে তার পরিমাপ। একই দ্রাঘিমাংশের সমস্ত বিন্দুকে নিয়ে যে রেখা পাওয়া যায় তাদের বলে মেরিডিয়ান বা ভূ-মধ্য রেখা। প্রতিটি ভূ-মধ্য রেখা একটি অর্ধবৃত্ত কিন্তু কেউ কারো সমান্তরাল নয়। সংজ্ঞানুসারে প্রতিটি রেখা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে মিলিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে যে ভূ-মধ্য রেখাটি রয়াল অবজারভেটরি, গ্রীনউইচ (যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কাছে) এর মধ্যে দিয়ে গেছে সেটিকে শূন্য-দ্রাঘিমাংশ বা প্রামাণ্য ভূ-মধ্য রেখা ধরা হয়।

এই দুটি কোণের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোন স্থানের আনুভূমিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।

উদাহরণস্বরুপ ঢাকার অক্ষাংশ ২৩°৪২′০″ উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৯০°২২′৩০″ পূর্ব (২৩°৪২′০″ উত্তর ৯০°২২′৩০″ পূর্ব / ২৩.৭০০০০° উত্তর ৯০.৩৭৫০০° পূর্ব)। সুতরাং পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিষুবরেখার ২৩°৪২′০″ উত্তরে ও গ্রীনউইচ থেকে ৯০°২২′৩০″ পূর্বে অঙ্কিত কোন ভেক্টর রেখা ঢাকার মাঝ দিয়ে যাবে।

সাধারণত ডিগ্রীকে মিনিটে (এক ডিগ্রীর ৬০ ভাগের একভাগ, সংকেত ′ অথবা "m") এবং সেকেন্ডে (এক মিনিটের ৬০ ভাগের একভাগ, সংকেত ″ অথবা "s") ভাগ করেও প্রকাশ করা হয়। ডিগ্রী প্রকাশের কয়েকটি রীতি রয়েছে:

  • DMS ডিগ্রী:মিনিট:সেকেন্ড (49°30'00"-123d30m00s)
  • DM ডিগ্রী:মিনিট (49°30.0'-123d30.0m)
  • DD দশমিক ডিগ্রী (49.5000°-123.5000d), সাধারণত দশমিকের পর ৪ ঘর পর্যন্ত।

DM অথবা DMS থেকে DD তে পরিনত করতে ব্যবহার করতে হয়, দশমিক ডিগ্রী = ডিগ্রীর পূর্ণসংখ্যা + মিনিটকে ৬০ দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফল + সেকেন্ডকে ৩৬০০ দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত ভাগফল। DMS সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় এবং মানচিত্র, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস প্রভৃতিতে এটি দেখা যায়।

অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ বিভিন্ন স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন হতে পারে। এরকম ভিন্ন স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার উদাহরন হচ্ছে WGS 84 যা সকল জিপিএস যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সহজ ভাষায়, বিভিন্ন স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার জন্য একই স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মান আলাদা হতে পারে।

তথ্যসূত্র

  • Portions of this article are from Jason Harris' "Astroinfo" which is distributed with KStars, a desktop planetarium for Linux/KDE. See [১]

বহিঃসংযোগ

আফগানিস্তানের ভূগোল

আফগানিস্তান এশিয়া মহাদেশের কেন্দ্রে, ইরানীয় মালভূমির ওপর অবস্থিত একটি দেশ। দেশটির আয়তন ৬৪৭,৫০০ বর্গকিলোমিটার। দেশটি স্থলবেষ্টিত ও পর্বতময়। হিন্দু কুশ পর্বতমালার অধিকাংশই এই দেশে অবস্থিত। দেশটিতে চারটি প্রধান নদী আছে: আমু দরিয়া, হারি রুদ, কাবুল নদী এবং হেলমন্দ নদী।

আফগানিস্তানের উত্তর সীমানায় তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান; পূর্বে চীন এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর; দক্ষিণে পাকিস্তান এবং পশ্চিমে ইরান।

দেশটির আয়তন ৬৫২,২২৫ বর্গ কিমি (২৫১,৮২৫ বর্গমাইল)। পূর্ব-পশ্চিমে এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১,২৪০ কিমি (৭৭০ মাইল); উত্তর-দক্ষিণে সর্বোচ্চ ১,০১৫ কিমি (৬৩০ মাইল)। উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম ও দক্ষিণের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি মূলত মরুভূমি ও পর্বতশ্রেণী। উত্তর-পূর্বে দেশটি ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে হিমবাহ-আবৃত পশ্চিম হিমালয়ের হিন্দুকুশ পর্বতের সাথে মিশে গেছে। আমু দরিয়া নদী ও এর উপনদী পাঞ্জ দেশটির উত্তর সীমান্ত নির্ধারণ করেছে।

আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চল সুউচ্চ পর্বতময় এলাকা। দেশটির প্রায় অর্ধেক এলাকার উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে ২,০০০ মিটার বা তার চেয়ে উঁচুতে অবস্থিত। ছোট ছোট হিমবাহ ও বছরব্যাপী তুষারক্ষেত্র প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত ৭,৪৮৫ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট নওশাক আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি পাকিস্তানের তিরিচ মির পর্বতশৃঙ্গের একটি নিচু পার্শ্বশাখা। পর্বতটি আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বে হিন্দুকুশ পর্বতমালার অংশ, যেটি আবার পামির মালভূমির দক্ষিণে অবস্থিত। হিন্দুকুশ থেকে অন্যান্য নীচু পর্বতসারি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে প্রধান শাখাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রসারিত হয়ে পশ্চিমের ইরান সীমান্ত অবধি চলে গেছে। এই নিচু পর্বতমালাগুলির মধ্যে রয়েছে পারোপামিসুস পর্বতমালা, যা উত্তর আফগানিস্তান অতিক্রম করেছে, এবং সফেদ কোহ পর্বতমালা, যা পাকিস্তানের সাথে পূর্ব সীমান্ত তৈরি করেছে। সফেকদ কোহ-তেই রয়েছে বিখ্যাত খাইবার পাস, যা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিগুলি দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমে অবস্থিত। এদের মধ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের হেরাত-ফেরা নিম্নভূমি, দক্ষিণ-পশ্চিমের সিস্তান ও হেলমন্দ নদী অববাহিকা, এবং দক্ষিণের রিগেস্তান মরুভূমি।

নদী উপত্যকাগুলি ও আরও কিছু ভূগর্ভস্থ পানিবিশিষ্ট নিম্নভূমি ছাড়া অন্য কোথাও কৃষিকাজ হয় না বললেই চলে। মাত্র ১২ শতাংশ এলাকা পশু চারণযোগ্য। দেশটির মাত্র ১ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল, এবং এগুলি মূলত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে অবস্থিত। যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বনভূমি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তান এত পর্বতময় যে এগুলির মধ্যকার রাস্তাগুলি দেশটির বাণিজ্য ও বহিরাক্রমণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার কুশান পাসের ভেতর দিয়ে এসে দেশটি আক্রমণ করেন এবং খাইবার পাস দিয়ে বের হয়ে গিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। এই একই পথ ধরে মোঘল সম্রাট বাবর ১৫শ শতকে এসে আফগানিস্তান ও ভারত দুই-ই করায়ত্ত করেন। অন্যদিকে সোভিয়েতরা সালাং পাস ও কেন্দ্রীয় হিন্দুকুশে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান দখল করে।

কনিয়স্কভলা

কনিয়স্কভলা (Końskowola, আধব [kɔɲskɔ'vɔla]) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পোল্যান্ডের একটি গ্রাম।

কুরভ

কুরভ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পোল্যান্ডের একটি গ্রাম।

ক্রিসমাস দ্বীপ জাতীয় পার্ক

ক্রিসমাস আইল্যান্ড জাতীয় উদ্যান হলো ক্রিসমাস আইল্যান্ডের বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে বিস্তমত একটি জাতীয় উদ্যান। এটি ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অস্ট্রেলিয়ার অংশ। এই পার্কটি বিভিন্ন জাতি প্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান, যার মধ্যে রয়েছে লাল কাঁকড়া, বার্ষিক গণনায় দেখা যায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন কাঁকড়া ডিম পারার জন্য সমুদ্রে আসে। ক্রিসমাস দ্বীপটি বিপন্ন প্রজাতি অ্যাবট সামুদ্রিক হাস এবং ফ্রিগেট পাখির একমাত্র বাসস্থান, যা এটিকে বিজ্ঞানীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

জর্দানের ভূগোল

জর্দান ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে অবস্থিত। দেশটি সিরিয়ার দক্ষিণে, ইরাকের পশ্চিমে, সৌদি আরবের উত্তর পশ্চিসে এবং ইসরায়েল ও পশ্চিম ব্যাংকের পূর্বে অবস্থিত। রাজনৈতিকভাবে দেশটি মধ্য বা নিকট প্রাচ্যেরে পশ্চিমে অবস্থিত বলেও বিবেচনা করা হয়ে থাকে। জর্দানের বর্তমান আয়তন ৯১,৮৮০ বর্গ কিলোমিটার।

১৯৬০ এবং ১৯৬৭ সালের ছয়দিন ব্যাপী যুদ্ধের, যদিও ব্যাপকভাবে স্বীকৃত না, সময় জর্দান পশ্চিম তীরের অন্তর্ভুক্ত অতিরিক্ত ৫৮৮০ বর্গ কি.মি. (২২৭৯ বর্গ মাইল) দাবি করে এবং তা শাসন করতে থাকে।

জর্দান একটি স্থলবেষ্টিত দেশ, তবে দক্ষিণ প্রান্ত ছাড়া যেখানে আকাবা উপসাগরের সাথে প্রায় ২৬ কি.মি. (১৬ মাইল) উপকূলীয় অঞ্চল রয়েছে যা লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ।

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা:

৩১°০০′ উত্তর ৩৬°০০′ পূর্ব

পৃথিবীর আকার

ভূগণিত অনুসারে পৃথিবীর আকার শব্দযুগলের বিভিন্ন অর্থ রয়েছে এবং এই শব্দযুগল দিয়ে পৃথিবীর আয়তন এবং আকৃতিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যদিও গোলক পৃথিবীর সত্যিকার চিত্রের কাছাকাছি অনুমান করা এবং আরও কিছু উদ্দেশ্যসাধনের সন্তোষজনক, ভূগণিতবিদগণ অনেকগুলো মডেল তৈরি করেছেন যা আরও সূক্ষ্মভাবে পৃথিবীর আকৃতির আনুমান করতে সাহায্য করে। এই মডেলগুলোর সমন্বিত পদ্ধতিসমূহ ন্যাভিগেশন, জরিপ, ক্যাডাস্ট্রার, ভূমির ব্যবহার, এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়াদির সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনের ধারণা প্রদান করে।

ভূগতিবিদ্যা

ভূগতিবিদ্যা হল ভূপ্রকৃতিবিদ্যার একটি উপক্ষেত্র, যা পৃথিবীর গতিবিদ্যা নিয়ে আলোকপাত করে। খনিজ সংশ্লেষণ কীভাবে ভূত্বকীয় পাত ও ভূতাত্ত্বিক উপাদান, যেমন সমুদ্রতল প্রসরণ, পর্বত গঠন, আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প, চ্যুতি, এবং অন্যান্য বিষয়াদিতে পরিবর্তিত হয় তা জানার জন্য ভূগতিবিদ্যা পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিত ব্যবহার করে। এটি চৌম্বক ক্ষেত্র, মহাকর্ষ, সিজমিক তরঙ্গ এবং শিলার খনিবিজ্ঞান ও তাদের আইসোটোপ মিশ্রণ পরিমাপ করে অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি প্রমাণ করার চেষ্টা করে। ভূগতিবিদ্যার পদ্ধতিসমূহ অন্য গ্রহ অন্বেষণেও ব্যবহৃত হয়।

ভূগাণিতিক উপাত্ত

ভূগাণিতিক উপাত্ত বা ভূগাণিতিক সিস্টেম (এছাড়াও: ভূগাণিতিক প্রসঙ্গ উপাত্ত বা ভূগাণিতিক প্রসঙ্গ সিস্টেম) হচ্ছে একটি স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা এবং প্রসঙ্গ বিন্দুর একটি সেট যা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের (অথবা অনুরূপ বস্তুর) অবস্থান সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। সমুদ্র সমতলের আনুমানিক উপাত্তের মান ডব্লিউজিএস ৮৪, যেটি হচ্ছে একটি প্রসঙ্গ উপবৃত্ত। আরও সঠিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় আর্থ গ্র্যাভিটেশনাল মডেল ২০০৮ (ইজিএম২০০৮) এ যেখানে কমপক্ষে ২,১৫৯টি গোলকীয় হারমনিক ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বা সময়ের জন্য অন্যান্য উপাত্তগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ১৯৫০ সালে ইউরোপে ইডি৫০ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল এবং এর মান ইউরোপে আপনার অবস্থানের উপর নির্ভর করে ডব্লিউজিএস ৮৪ এর থেকে কয়েক শত মিটার পর্যন্ত আলাদা হতে পারে। মঙ্গলের কোন মহাসাগর না থাকায় সমুদ্র স্তরের অস্তিত্ব নেই, তবে সেখানকার অবস্থান নির্ণয়ের জন্য অন্তত দুইটি মঙ্গলীয় উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে।

ভূগণিত, দিক নির্ণয়, এবং মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যা ও কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক দিকনির্ণয়ের ভূমি জরিপে উপাত্ত ব্যবহৃত হয় যার দ্বারা মানচিত্রের (কাগজ বা যান্ত্রিক) বিভিন্ন বিন্দুর সাথে পৃথিবীতে তাদের প্রকৃত অবস্থান সমন্বয় করা হয়। প্রতিটি উপাত্ত একটি এলিপ্সয়েড (ত্রিমাত্রিক উপবৃত্ত) দিয়ে শুরু হয়, এবং তারপর এতে অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং উচ্চতা সমন্বয় করা হয়। পৃথিবীর পৃষ্ঠের এক বা একাধিক অবস্থানকে স্থির "বেস পয়েন্ট" হিসাবে ধরে নেয়া হয়।

দুটি উপাত্তের স্থানাঙ্কের মধ্যবর্তী পার্থক্যকে উপাত্ত চ্যুতি বলা হয়। দুটি নির্দিষ্ট উপাত্তের মধ্যবর্তী উপাত্ত চ্যুতির মান একটি দেশ বা এলাকার উপর ভিত্তি করে পৃথক হতে পারে, এবং এই পার্থক্যের মান শূন্য থেকে কয়েকশত মিটার (কিছু দূরবর্তী দ্বীপপুঞ্জে কয়েক কিলোমিটার) পর্যন্ত হতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন উপাত্ত অনুসারে উত্তর মেরু, দক্ষিণ মেরু ও বিষুবরেখার অবস্থান আলাদা হতে পারে, অতএব প্রকৃত উত্তর মেরুবিন্দুর অবস্থান কিছুটা পৃথক হয়। ভিন্ন ভিন্ন উপাত্তে পৃথিবীর যথাযথ আকৃতি ও আকার নির্ণয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রক্ষেপণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে (প্রসঙ্গ ত্রিমাত্রিক উপবৃত্ত)।

পৃথিবী একটি অনিয়মিত ত্রিমাত্রিক উপবৃত্ত হওয়ায়, ডব্লিউজিএস ৮৪ এর তুলনায় স্থানীয় উপাত্ত থেকে একটি এলাকার পরিধি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া উদাহরণস্বরূপ, ওএসজিবি৩৬ থেকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের এলাকার ভূ-আকার সম্পর্কে সার্বজনীন ডব্লিউজিএস ৮৪ এর থেকে ভালো আসন্ন মান পাওয়া যায়। তবে, যথাযথ মানের তুলনায় একটি সার্বজনীন ব্যবস্থা অধিক সুবিধাজনক হওয়ায়, ডব্লিউজিএস ৮৪ উপাত্ত ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ বা ভিন্ন কোন স্থানাঙ্ক ব্যবস্থার সাহায্যে পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন বিন্দুর অবস্থান নির্দেশ করতে আনুভূমিক উপাত্ত ব্যবহার করা হয়। উলম্ব উপাত্তের সাহায্যে উচ্চতা বা গভীরতা পরিমাপ করা হয়।

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল বা সংক্ষেপে মাউন্ট ই নামে পরিচিত একটি ৩৪৫-শয্যার বেসরকারী হাসপাতাল। সিঙ্গাপুরের এই হাসপাতাল একটি বেসরকারী কোম্পানি, পার্কওয়ে হেলথ কোম্পানি কর্তৃক অধিকৃত ও পরিচালিত। ১৯৭৬ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এই হাসপাতাল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৯ সালের ৮ই ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে। হাসপাতালটিতে একই সাথে হৃদরোগ, ক্যান্সার চিকিৎসা, কিডনি রোগ, স্নায়ুজনিত রোগসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও এই হাসপাতালটি একই সাথে একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার অস্ত্রোপচার সম্পন্নে জন্য প্রসিদ্ধ। ১৯৯৫ সাল থেকে পার্কওয়ে হোল্ডিংস লিমিটেড হাসপাতালটির মালিকানা অধিকার করেছে।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথের অর্কার্ড সড়কে অবস্থিত এই হাসপাতাল জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জয়েন্ট কমিশন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অলাভজনক স্বাস্থ্য সংস্থা) দ্বারা স্বীকৃত। সিঙ্গাপুরের প্রথম কোনো বেসরকারী হাসপাতাল হিসেবে এখানেই সর্বোপ্রথম ওপেন-হার্ট সার্জারি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং আণবিক ঔষধ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও তা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে।ব্রুনাই-এর রাজপরিবার হাসপাতালটিতে একটি রাজকীয় সুইট প্রতিষ্ঠা করেছিল। অবশ্য পরে এই রাজকীয় কক্ষটি অন্যান্য রোগীদের ব্যবহারের জন্যেও খুলে দেয়া হয়।

২০১৬ সালের হিসাব মতে, হাসপাতালটিতে চার শয্যার ওয়ার্ডে একটি শয্যার জন্য প্রতিরাতে ২৭৬ মার্কিন ডলার গুণতে হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব রুমের খরচ রাত প্রতি ৬৪০ মার্কিন ডলার।হাসপাতাল সংলগ্ন মাউন্ট এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টার (এমইএমসি) অবস্থিত। এই ক্লিনিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ডাক্তার কর্তৃক চিকিতসাসেবা প্রদান করা হয়। সিঙ্গাপুর মেডিকেল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডাক্তারেরাই শুধুমাত্র এই হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে দায়িত্বপালন করতে পারেন। সব মিলিয়ে মোট ৩১টি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এই হাসপাতালে কর্মরত। স্নায়ুরোগ থেকে শুরু করে, হৃদরোগ, দন্তচিকিৎসা, পাকান্ত্রবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সেবা প্রদান করেন। রোগীর অবস্থা, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞভেদে চিকিৎসা খরচ বিভিন্ন হয়।

সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোগী ছাড়াও সারা বিশ্বে বিভিন্ন দেশ থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষ আসে। হাসপাতালটির কর্মীরা ইন্দোনেশীয় ভাষা, রুশ ভাষা এবং মাওয় ভাষাতেও পারদর্শী। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ঔষধের দোকানপাট রয়েছে।

বাংলাদেশের একাধিক বরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময় এই হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করেছেন। ২০১৩ সালের ২০শে মার্চ বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ফুসফুসের সংক্রমণ ব্যাধিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.