ভূমিধস

ভূমিধস (ইংরেজি Landslide) বলতে পাহাড়-পর্বতের গা থেকে মাটির চাকা বা পাথরের খণ্ড বিরাট আকারে খসে নীচে পড়ার ঘটনাকে বোঝায়। অনেক সময় পাহাড়ের ওপর থেকে পানি ও মাটি মিশে কাদা আকারে বিপুল পরিমাণে নীচে নেমে আসলে তাকেও এক ধরনের ভূমিধ্বস আখ্যা দেয়া হয়।

Landslide 2
পাকিস্তানে মাটি ও রেগোলিথ-এর ভূমিধ্বস

ভূমিধ্বসের কারণ

Mameyes
মামেইসের ভূমিধ্বসে ১০০টিরও অধিক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছিলো। বৃষ্টির পানি জমে থেকে চাপ সৃষ্টি করায় এই ভূমিধ্বসের সূত্রপাত হয়।

ভূমিধ্বসের প্রধান কারণ হলো ঢালু স্থানের অস্থিতিশীলতা। বিভিন্ন কারণে ঢালু ভূমি অস্থিতিশীল হতে পারে।

ভূমিধ্বসের প্রাকৃতিক কারণ হলো -

  • ভূমিস্থ পানির চাপ।
  • গাছপালা কেটে ফেলা বা আগুনে পুড়ে যাওয়ার ফলে ভূমি ক্ষয় হওয়া।
  • নদী বা সমূদ্রের ঢেউয়ের ফলে ভূমিক্ষয়।
  • বৃষ্টিপাত কিংবা বরফ গলার ফলে মাটি নরম হওয়া।
  • ভূমিকম্পের কারণে ভূমি অস্থিতিশীল হওয়া।
  • ভূমিকম্পের কারণে মাটি তরলীভূত হয়ে যাওয়া।
  • অগ্ন্যুৎপাত

ভূমিধ্বস অনেক সময়ে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলেও ঘটে থাকে, যেমন -

  • যন্ত্রপাতি কিংবা রাস্তার গাড়ির দ্বারা সৃষ্ট কম্পন ও অনুরণন।
  • বিস্ফোরণ
  • বাঁধ বা মাটির স্তুপ, যা ঢালের উপরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
  • অগভীর জমি হতে গাছপালা কেটে ফেলা
  • কৃষি, নির্মাণ, কিংবা গাছ কাটার ফলে মাটি থেকে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া।

আরও দেখুন

আবরুৎসো

আবরুৎসো (ইতালীয়: Abruzzo) বা আবরুৎসি (Abruzzi) দক্ষিণ ইউরোপের রাষ্ট্র ইতালির দক্ষিণ-মধ্যভাগে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এর রাজধানীর নাম লাকিলা। অঞ্চলটির ভৌগোলিক আয়তন ১০৭৬৩ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ১২ লক্ষ অধিবাসী বাস করে (২০০৭)। প্রশাসনিকভাবে আবরুৎসো অঞ্চলটি চারটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত - লাকিলা, কিয়েতি, পেস্কারা এবং তেরামো। প্রদেশগুলির মূল শহর চারটিও একই নামের। অঞ্চলটির পশ্চিম সীমানা ইতালির রাজধানী রোম থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। আবরুৎসোর উত্তরে মার্কে, পশ্চিমে ও দক্ষিণ-পশ্চিমে লাৎসিও, দক্ষিণ-পূর্বে মোলিজে প্রশাসনিক অঞ্চলগুলি এবং পূর্বে আড্রিয়াটিক সাগর অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে মধ্য ইতালিতে পড়লেও ঐতিহ্যগতভাবে ও সাংস্কৃতিকভাবে আবরুৎসোকে দক্ষিণ ইতালীয় সংস্কৃতি বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কেননা ঐতিহাসিকভাবে এটি সিসিলি রাজ্যের অধীনে ছিল।আড্রিয়টিক সাগরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত অঞ্চলটির সিংহভাগই পাহাড় পর্বতে পূর্ণ। অঞ্চলটির ভেতর দিয়ে আপেন্নিন পর্বতমালা অতিক্রম করেছে। ভূসংস্থানিকভাবে অঞ্চলটি দুইটি স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত। পশ্চিম অংশটি মূলত লাকিলা প্রদেশে পড়েছে, এবং এটি আপেন্নিন পর্বতমালার তিনটি শৃঙ্খল ও এদের উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চল (লাকিলা, সুলমোনা ও ফুচিনো) নিয়ে গঠিত। পর্বতশৃঙ্খল তিনটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রসারিত হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে পূর্বে অবস্থিত ও সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্খলটি গ্রান সাস্‌সো দিতালিয়া নামে পরিচিত। এই অংশেই অঞ্চলটির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি অবস্থিত, যার নাম মোন্তে কর্নো (উচ্চতা ২৯১২ মিটার)। আবরুৎসোর পূর্ব অংশটিতে (গ্রান সাসসোর পূর্বদিকে) বেলে ও এঁটেল মাটির পাহাড় ও টিলা ধীরে ধীরে উচ্চতা হ্রাস পেয়ে আড্রিয়াটিক সাগরের কাছে অপ্রশস্ত একটি উপকূলীয় সমভূমিতে পরিণত হয়েছে। এখানেই কিয়েতি, পেস্কারা ও তেরামো প্রদেশগুলি অবস্থিত। উপকূলীয় তটরেখাতে উন্নত মানের প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়ের অভাব রয়েছে।

এখানে পেস্কারা নদীটি জলবিদ্যুৎ শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অন্যদিকে সাংগ্রো, ত্রিনিও এবং বিফের্নো নদীগুলি নিম্নাঞ্চলীয় উপত্যকাগুলিতে কৃষিকাজের জন্য পানির যোগান দেয়। সবগুলি নদীই আড্রিয়াটিক সাগরে গিয়ে পড়েছে। নদীগুলির ঊর্ধ্বাংশে উজান অঞ্চলের বনজঙ্গল উজাড়ের কারণে বসন্ত ও শরৎকালের বৃষ্টিপাতের সময় সেখানে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস হয়। তা সত্ত্বেও আবরুৎসোকে ইউরোপের সবচেয়ে সবুজ শ্যামল অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা হয়, কেননা এর প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যা ইউরোপের এমন অঞ্চলগুলির মধ্যে বৃহত্তম। এখানে ইউরোপের প্রাণীপ্রজাতিগুলির প্রায় ৭৫% ঝুঁকিমুক্তভাবে বাস করে।

আবরুৎসোর রুক্ষ ভূ-প্রকৃতি এর অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সর্বদাই বাধার সৃষ্টি করেছে। ইতালির পশ্চিমভাগ থেকে পেস্কারা শহর পর্যন্ত একটি মহাসড়ক নির্মাণ করার পর থেকে অঞ্চলটি ইতালির বাকী অংশের সাথে অঞ্চলটির উন্নততর যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এছাড়া রোম থেকে পেস্কারা পর্যন্ত একটি রেলপথও আছে। অঞ্চলটির অর্থনীতি মূলত আঞ্চলিক ও কৃষিনির্ভর। উচ্চভূমিগুলিতে ভেড়া ও গবাদি পশুচারণ করা হয় এবং আলু ও গমের চাষ করা হয়। শূকরও পালন করা হয় এবং এখানকার ধূমায়িত হ্যাম ও সসেজ বিশেষভাবে খ্যাত। উপকূলীয় উপত্যকাগুলিতে ভুট্টা, জলপাই, আঙুর ও লেবু-জাতীয় ফলের চাষ হয়। ফুচিনো হ্রদের জলবিধৌত এলাকাতে মিষ্টি বিট চাষ করা হয়। অন্যান্য অর্থকরী ফসলের মধ্যে তামাক ও জাফরান উল্লেখযোগ্য। এছাড়া লাকিলা প্রদেশে বক্সাইট (অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ) খনন করা হয়। উপকূলীয় তটরেখাতে খুবই স্বল্প সংখ্যক প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়ের কারণে এখানে কোনও গুরুত্ববহ মৎস্যশিকার ও বাণিজ্যকেন্দ্র নেই। আড্রিয়াটিক উপকূলীয় এলাকার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তা অর্থনৈতিকভাবে এখনও তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতালিক গোত্রের অধিবাসীরা দীর্ঘ সময় রোমানদেরকে প্রতিহত করেছিল। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে এসে রোমানদের কাছে অঞ্চলটির পতন ঘটে। এলাকাটির রোমান নাম ছিল আপ্রুতিউম (যেটি প্রাচীন গোত্র প্রায়েতুতি-র নাম থেকে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়)। রোমান শাসনের সময়েও এখানকার স্থানীয় গোত্রগুলির নিজস্ব চরিত্র বজায় থাকে। মধ্যযুগের প্রথমার্ধে ৬ষ্ঠ থেকে ১১শ শতক পর্যন্ত অঞ্চলটি লোম্বারদীয় রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেসময় এটির স্পোলেতো'র ডিউকদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ১২শ ও ১৩শ শতকে এটি সিসিলি দ্বীপ-ভিত্তিক নরমান রাজ্যের অধীনে আসে। সেসময় অঞ্চলটি পোপরাজ্যের বিরুদ্ধে হোয়েন-ষ্টাউফেনদের পক্ষাবলম্বন করে। ১৩শ শতকে হোয়েনষ্টায়ফেন রাজবংশের পতনের পরে পালাক্রমে অঁজভাঁ, স্পেনীয়, ও বুরবোঁ শাসকদের অধীনে শাসিত হয়। ১২৪০ থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে অঞ্চলটি নাপোলি রাজ্যের অংশ হিসেবে শাসিত হয় এবং ১৮৬১ সালে অঞ্চলটি (পার্শ্ববর্তী মোলিজে অঞ্চলের সাথে একত্রে) "আবরুৎসি এ মোলিজে" নাম নিয়ে ইতালি রাজ্যের অধীনস্থ একটি অংশে পরিণত হয়। ১৯৬৩ সালে এটিকে আবরুৎসো ও মোলিজে নামের দুইটি পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে দেওয়া হয়।

২০০৯ সালের ৬ই এপ্রিল একটি ভূমিকম্পে আবরুৎসোর রাজধানী লাকিলা শহরের মধ্যযুগীয় বহু ভবনের ক্ষতি হয় এবং ২৭৫ জনেরও বেশি লোক মারা যায়। ২০১৬ সালে আকিলা থেকে অদূরে আবরুৎসোর উত্তর প্রান্তে আরেকটি ভূমিকম্পে আবারও বহু ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়।

এমিলি লাউ

এমিলি লউ ওয়াই-হিং, জেপি (চীনা ভাষায়: 劉慧卿; জন্ম: ২১ জানুয়ারি, ১৯৫২) হল হংকংয়ের একজন রাজনীতিবিদ যিনি চ্যাম্পিয়ন প্রেস স্বাধীনতা ও মানবাধিকার। একজন সাবেক সাংবাদিক ১৯৯১ সালে লীগও নির্বাচনে সরাসরি হংকংয়ের লেজিসলেটিভ কাউন্সিল নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯০ এবং ২০০০-এর দশকে তিনি ২০১৬ সালে পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত নতুন অঞ্চল পূর্বের জন্য লেজিসলেটিভ কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারপার্সন ছিলেন, গণতান্ত্রিক পার্টি প্রধান।

ঘূর্ণিঝড় মাইকেল

ঘূর্ণিঝড় মাইকেল বা হারিকেন মাইকেল হচ্ছে দক্ষিণ ক্যারোলিনার উপর আছড়ে পড়া একটি দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। ১৯৩৫ সালের শ্রমিক দিবসের হারিকেন এবং ১৯৬৯ সালের হারিকেন ক্যামিলের পরে হারিকেন মাইকেন মাইকেল হচ্ছে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যা ব্যাপক ভূমিধস করেছে। এটি ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডলে ভূমিধস সৃষ্টিকারী সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেন। পাশাপাশি বায়ু গতিতে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূমিতে চতুর্থতম শক্তিশালী ভূমিধ্বসকারী হারিকেন।

জুন ২০১৭ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিধস

তিন দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে ১২ জুন ২০১৭ সোমবার মধ্যরাত ও ১৩ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার ভোরে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে ১৫৬ জন মানুষ মারা যায়। এবং সব মিলিয়ে ১৫২ মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় কয়েক শতাধিক মানুষ। বৈরী আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার কর্মীদের পক্ষে আটকেপড়া মানুষদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। আটকেপড়া এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন সম্মিলিতভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান, বলেন যে দেশের ইতিহাসে এই ভূমিধ্বস সবথেকে মারাত্মক ছিল।

জেট স্ট্রিম

জেট স্ট্রীম হল পৃথিবী সহ কিছু গ্রহের বায়ুমণ্ডলে দ্রুত প্রবাহিত, সংকীর্ণ, মৃদু বাতাসের স্রোত। পৃথিবীতে জেট স্ট্রিম প্রধানত ট্রপোপজের কাছাকাছি উচ্চতায় অবস্থিত পশ্চিমা বাতাস (যা পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়)। সাধারণত এর পথ সর্পিল আকৃতির। জেট স্ট্রিম শুরু হতে, থামতে, দুই বা ততোধিক অংশে বিভক্ত হতে, এক প্রবাহে একত্রিত হয়ে অথবা বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, যা জেট এর অবশিষ্ট দিকের বিপরীত।

মেরুর নিকটবর্তী জেট স্ট্রিম শক্তিশালী যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯-১২ কিলোমিটার (৩০,০০০-৩৯,০০০ ফুট) উপরে এবং ১০-১৬ কিলোমিটার (৩৩,০০০-৫২,০০০ ফুট) উচ্চতায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জেট কিছুটা দুর্বল। উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ গোলার্ধ প্রতিটিতে একটি মেরু জেট এবং একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জেট আছে। উত্তর গোলার্ধের পোলার জেট মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে উত্তর আমেরিকার উত্তর অক্ষাংশ, ইউরোপ ও এশিয়া এবং তাদের মধ্যবর্তী মহাসাগরে প্রবাহিত হয়, যখন দক্ষিণ গোলার্ধের পোলার জেট সারাবছর অ্যান্টার্কটিকায় চক্রাকারে আবর্তিত হয়।

জেট স্ট্রীম দুটি কারণের ফলাফল: সৌর বিকিরণ দ্বারা সৃষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় উত্তাপ যা বড় স্কেলে পোলার, ফেরেল, এবং হেডলি সঞ্চালন কোষ তৈরি করে এবং চলমান প্রধান অংশের উপর করিয়োলিস বলের কাজ পরিচালনা করে। কোরিয়োলিস বল নিজ অক্ষের উপর গ্রহের ঘূর্ণন দ্বারা সৃষ্ট হয়। অন্যান্য গ্রহগুলিতে, জেট স্ট্রীম চলে সৌর উত্তাপের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ উত্তাপ দ্বারা। পোলার জেট স্ট্রীম পোলার এবং ফেরল ঘূর্ণাবর্ত কোষের পদ্ধতির কাছাকাছি; গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জেট ফেরেল এবং হেডলি সঞ্চালন কোষের সীমানার কাছাকাছি গঠিত হয়।অন্যান্য জেট স্ট্রিমও বিদ্যমান। গ্রীষ্মে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে পূর্ব জেট তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে শুষ্ক বায়ু অধিক উচ্চতায় উচ্চ মাত্রার আর্দ্র বাতাসের সম্মুখীন হয়। নিম্ন স্তরের জেট বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ, ঠিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রের মতো। থার্মোস্ফিয়ারে ও জেট স্ট্রীম রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জেট স্ট্রিমের অবস্থান ব্যবহার করেন যা আবহাওয়া পূর্বাভাসে সহায়ক। জেট স্ট্রীমের প্রধান বাণিজ্যিক প্রাসঙ্গিকতা বিমান ভ্রমণের মধ্যে, যেমন ফ্লাইটের সময় নাটকীয়ভাবে বায়ু প্রবাহ বা তার বিপরীতে প্রবাহ হতে পারে, যা বিমানের জ্বালানী খরচ এবং সময় বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। এয়ারলাইন্সগুলো এই কারণে প্রায়ই জেট স্ট্রিমের 'সঙ্গে' উড়তে চেষ্টা করে। শক্তিশালী উত্তর আটলান্টিক ট্র্যাকগুলি এয়ারলাইনস এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে একসঙ্গে কীভাবে জেট স্ট্রীম এবং বায়ুকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে একত্রে কাজ করে এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বাধিক সুবিধা লাভ করে, এর একটি উদাহরণ। ক্লিয়ার-এয়ার টারবুলেন্স, বিমান যাত্রী নিরাপত্তায় একটি সম্ভাব্য বিপদ, যা প্রায়ই একটি জেট স্ট্রিমের সান্নিধ্যের মধ্যে পাওয়া যায়, কিন্তু এটি ফ্লাইট সময় খুব একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তৈরি করে না। এটি একটি সংকীর্ণ বেল্ট।

তিন গিরিসংকটের বাঁধ

তিন গিরিসংকটের বাঁধ বা তিন গলার বাঁধ (চীনা: 三峡大坝) চীনের হুবেই প্রদেশের য়িলিং জেলার স্যান্ডৌপিং শহরে ইয়াং চি কিয়াং নদীর উপর স্থাপিত একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বাঁধ। প্রতিষ্ঠাকালীন ক্ষমতার (২২৫০০ মেগাওয়াট) বিবেচনায় এটি পৃথিবীর বৃহত্তম শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র। ২০১৪ সালে এটি ৯৮.৮ টেরাওয়াট-ঘন্টা শক্তি উৎপাদন করে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করে, তবে ২০১৬ সালে ইতাইপু ড্যাম ১০৩.১ টেরাওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ উপাদনের মাধ্যমে তিন গিরিসংকটের বাঁধ অতিক্রম করে যায়।শেষ প্রধান ভূনিম্নস্থ পানির টারবাইনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০১২ সালের ৪ জুলাই কিছু লক ছাড়া পুরো প্রকল্পটির বিনির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। শিপ লিফটের কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। এর প্রতিটি প্রধান ওয়াটার টারবাইনের ক্ষমতা ৭০০ মেগাওয়াট। ২০০৬ সালে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছিল। ৩২টি প্রধান টারবাইনের সাথে দুটি ৫০ মেগাওয়াটের ছোট টারবাইন জোড়ায় কাজ করলে এর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা হয় ২২৫০০ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই বাঁধটি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করে এবং পানিধারণের মাধ্যমে নিম্নভাগে বন্যার আশঙ্কা হ্রাস করে। এই প্রকল্পটি চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সফল প্রকল্প যেখানে বৃহদায়তন টারবাইনের নকশা করা হয়েছে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস এর নিঃসরণ যথাসম্ভব কমানো হয়েছে। with the design of state-of-the-art large turbines, and a move toward limiting greenhouse gas emissions. তবে প্রকল্পটি কিছু প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক স্থল প্লাবিত করেছে এবং প্রায় ১.৩ মিলিয়ন লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে। এটি পরিবেশগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূমিধস এর ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিবিধ কারণে বাঁধটি দেশে বিদেশে আলোচিত ও সমালোচিত।

নেপালে স্বাস্থ্য

নেপালে স্বাস্থ্যসেবা সরকারি ও বেসরকারি দুইভাবেই দেয়া হয়। তবে তা আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র নেপালেই বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ করা গেছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। এছাড়াও দেশটির ভৌগলিক ও সামাজিক বৈচিত্রতা এবং বিভিন্ন মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, দাবানল, ভূমিধস, ভূমিকম্প ইত্যাদির কারণে এইসব রোগব্যধি দ্রুত বিস্তার লাভ করে থাকে। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীরা বিভিন্ন ধরনের রোগ সংক্রমণ, মৃত্যুঝুঁকি, পুষ্টিহীনতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে আছে। তবে, এখন স্বাস্থ্যসেবায় কিছুটা উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে বলতে গেলে মাতৃস্বাস্থের উন্নতি বেশ দারুণভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। এই উন্নতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১৯৭৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচক ০.২৯১ থেকে ২০১১ সালে বেড়ে দাড়িয়েছে ০.৪৫৮ -তে।

শিশু জন্মের সময় মৃত্যুহার ১৯৯০ সালে প্রতি ১০০,০০০-তে ৮৫০ জন থেকে ২০১৩ সালে তা কমে দাড়িয়েছে প্রতি ১০০,০০০-তে ১৯০ জনে।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার ২০০৫ সালে প্রতি ১০০০ জনে ৬১.৫ থেকে ২০১৮ সালে প্রতি ১০০০ জনে তা কমে দাড়িয়েছে ৩১.৪-তে।

শিশু মৃত্যুহার ১৯৯০ সালে ৯৭.৭০ থেকে ২০১৫ সালে তা কমে দাড়িয়েছে ২৯.৪০-তে।

পুষ্টিহীন শিশু: পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের মধ্যে খর্বতা ৩৭%, কৃশকায়তা ১১% এবং কম ওজন ৩০%।

প্রত্যাশিত গড় আয়ু ২০০৫ সালে ৬৬ বছর থেকে ২০১৮-তে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭১.৫ বছরে।

পরকালবিদ্যা

পরকালবিদ্যা হল থিওলজি বা ধর্মবিদ্যা'র একটি অংশ যেখানে সবকিছু শেষ হয়ে যাবার পরের গন্তব্যস্থল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটাকে সাধারণত "শেষ দিন" বা "পৃথিবীর সমাপ্তি" বলে অভিহিত করা হয়।

গ্রীক শব্দ ἔσχατος থেকে আগত eschatos এর অর্থ হল শেষ এবং -logy শব্দের অর্থ হল "কোন বিশেষ কিছুর ব্যপারে পড়াশোনা"। Eschatology শব্দটি ইংরেজী ভাষায় প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল ১৮৪৪ সালে। অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী "ধর্মতত্ত্বের সেই শাখা যেটা পাঠ করলে মৃত্যু, শেষ বিচার এবং আত্মার সর্বশেষ গন্তব্যস্থল সমন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায়"।অতীন্দ্রিয়বাদ অনুসারে, এই শব্দটা দ্বারা সাংকেতিকভাবে দৃশ্যমান পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার সাথে ঐশ্বরিক সত্ত্বার সাথে আত্মার মিলন হওয়াকে বুঝিয়ে থাকে। এবং অধিকাংশ ধর্মেই এটি একটি অবসম্ভাবী ঘটনা যার উল্লেখ আছে ধর্মগ্রন্থে বা প্রাচীন লোককথায়। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে- নবী, ঈসার পূনরাগমনের পরবর্তী সময়, পৃথিবীর শেষ সময় এবং শেষ বিচারের দিন এসব নিয়েই জড়িয়ে আছে এই পরকালবিদ্যা।

বিভিন্ন ধর্মের ইতিহাসকে বিভিন্ন যুগ বলে অভিহিত করা হয় (ধর্মীয় টার্ম এওন)। একযুগের অবসান হয় অন্যযুগের আগমনের মাধ্যমে। দুই পর্বের মধ্যবর্তী সময়কে সরাসরি পরকালবিদ্যা না বলে বলা হয় "যুগের অবসান" যার সরল নাম হল "পরিচিত জীবনধারার অবসান"। এভাবে যুগের অবসান হতে হলে ব্যাপক ধ্বংসলীলার মাধ্যমে সবকিছু শেষ হতে হয় না বরং কেবল একটা সময়সীমার পরিসমাপ্তি ঘটে। তবে আরেকটা যুগের শুরু হবার সময়টুকুতে একপ্রকার সংকটের সৃষ্টি হয়, কারণ একরকম জীবনাচার থেকে অন্যরকম ভাবে জীবনযাপন করতে হলে প্রায়শই বেশকিছু বাধার সম্মুখিন হতে হয় না পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরিবর্তনটা হতে পারে এমন: ইতিহাসে নতুন "শ্বর" এর প্রবেশ, কোন যুদ্ধ, জলবায়ুর পরিবর্তন অথবা নিছকই চিন্তাধারার পরিবর্তন।

প্রায় সকল আধুনিক পরকালবিদরা (ধর্মীয় এবং সেক্যুলার দু'ধরনেরই) বিশ্বাস ব্যপক ধ্বংসপ্রক্রিয়ার (গজব) মধ্যে দিয়ে পৃথিবী শেষ হবে। খৃষ্টীয় এবং ইহুদিবাদরা মনে করে এর ফলে বিশ্বজগৎ সৃষ্টির প্রক্রিয়া পূর্ণ হবে। উদাহরণস্বরূপ: প্রাচীন হিব্রুশাস্ত্র মতে, বাস্তবতা একটি সরলরেখায় চলে যা ঘুরে এসে একই যায়গায় মিলিত হয়। পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল ঈশ্বরের হাত ধরে আবার পৃথিবী ধ্বংসও হবে ঈশ্বরের হাতে। এভাবেই চরম পরিণতির মাধ্যমে সৃষ্টিচক্র সম্পন্ন হবে।

পরকালবিদ্যা ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে: আশাবাদী কিংবা নৈরাশ্যবাদী। কেউ মনে করে কিয়ামতের পরের সময়কাল হল দোজখ, আবার কেউ ধারণা করে মহাপ্রলয়ের পরেই স্বর্গীয় শান্তির শুরু।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে। এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার। মজুদের পরিমান ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রকল্প ব্যয় ২৫১.০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

ভাখশ নদী

ভাখশ নদী (তাজিক: Вахш), যেটি উত্তর-মধ্য তাজিকিস্তানে সুরখোব (Surkhob (Сурхоб)) নামেও পরিচিত এবং কির্গিজস্তানে কাইজেল-সু (কিরগিজ: Кызылсуу) নামে পরিচিত, একটি মধ্য এশিয়ার নদী এবং তাজিকিস্তানের অন্যতম প্রধান নদী। এটি আমু দরিয়ার একটি উপনদী।

ভূটানের পরিবহন ব্যবস্থা

ভুটানের পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় ৮,০০০ কিমি (৫,০০০ মা) রাস্তা এবং চারটি বিমানবন্দর আছে, তাদের মধ্যে তিনটি কার্যক্ষম এবং পরস্পরসংযুক্ত। পারো বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি। ভূটানের পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে, ১৯৬০ এর দশকের পর থেকে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন চলছে। ভূটানে কোন রেলওয়ে ব্যবস্থা নেই (যদিও একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে) এবং, ভুটান একটি স্থলবেষ্টিত দেশ এখানে বড় কোন জলপথ নেই তাই কোন

নদী বন্দরও নেই।

ভূমিকম্প

ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এই রূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। কম্পন-তরঙ্গ থেকে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তা ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই তরঙ্গ ভূ-গর্ভের কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে উৎপন্ন হয় এবং উৎসস্থল থেকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেণ্ড থেকে এক/দু-মিনিট স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভব করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে।

সাধারণ জ্ঞানে ভূমিকম্প শব্দটি দ্বারা যে কোন প্রকার ভূকম্পন জনিত ঘটনাকে বোঝায় - সেটা প্রাকৃতিক অথবা মনুষ্য সৃষ্ট যাই হোক না কেন। বেশিরভাগ ভূমিকম্পের কারন হল ভূগর্ভে ফাটল ও স্তরচ্যুতি হওয়া কিন্তু সেটা অন্যান্য কারন যেমন অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস, খনিতে বিষ্ফোরণ বা ভূগর্ভস্থ নিউক্লিয়ার গবেষনায় ঘটানো আনবিক পরীক্ষা থেকেও হতে পারে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ফাটলকে বলে ফোকাস বা হাইপোসেন্টার। এপিসেন্টার হল হাইপোসেন্টার বরাবর মাটির উপরিস্থ জায়গা।

মুকুড় জেলা

মুকুড় জেলা (ইংরেজি: Muqur District) আফগানিস্থানের বদগিস প্রদেশ এর পশ্চিম দিকে অবস্থিত।

মুকুড় জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই দুর্বল হিসাবে চিহিৃত ছিল, স্থানীয় তালিবান বিদ্রোহীদের ও আন্তঃ গোত্র কোন্দলের কারনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রায়শই চরম আকার ধারন করত, তবে এই পরিস্থিতির বর্তমানে পরিবর্তন এসেছে এবং জেলাকে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ন জেলা হিসাবে গন্য করা হয়।

ম্যানিলা

ম্যানিলা, দাপ্তরিকভাবে "ম্যানিলা শহর" (Filipino: Lungsod ng Maynilà টেমপ্লেট:IPA-tl) হলো ফিলিপাইনের রাজধানী। এটি বিশ্বের একটি অন্যতম প্রাচীনতম শহর এবং ২০১৮ সালের এক হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। ৩১ জুলাই ১৯০১ সালে "ফিলিপাইন কমিশন আইন "এর বলে শহরটিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং এটি ১৮ জুলাই ১৯৪৯ সালে প্রজাতন্ত্র ধারার ৪০৯ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সায়ত্বশাসন লাভ করে। মেক্সিকো ও মাদ্রিদ শহরের মতই ম্যানিলা কে বিশ্বের অন্যতম বৈশ্বিক শহর বলা হয়। এটির প্রশান্ত মহাসাগরের সংগে সংযোগ থাকার কারনে, এটির মাধ্যমে স্পেনীয় আমেরিকান দেশগুলোর সাথে এশিয়ার দেশ গুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বিখ্যাত নগরী ট্রয় এর থেকেও সংখ্যার দিক থেকে ম্যানিলা শহর সবচেয়ে বেশিবার যুদ্ধবিদ্ধস্ত হয়েছে এবং পুনর্নিমিত হয়েছে। টোকিওর পরেই সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ শহর হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ম্যানিলা, যদিও এটি দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এং সবচেয়ে ধনী শহরগুলোর একটি।

২৪ জুন ১৫৭১ সালে স্পেনীয় অভিযাত্রী মিগুইল লোপেয ডি লেগাজপি দ্বারা এটি "স্পেনীশ ম্যানিলা শহর" নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ম্যানিলা অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনের সাক্ষী। ফিলিপাইন এর প্রথম বিশ্ব্বিদ্যালয় (১৫৯০), লাইট স্টেশন (১৬৪২), লাইটহাউস টাওয়ার (১৮৪৬), পয়ঃনিশকাশন ব্যাবস্থা(১৮৭৮), র্যাপিড ট্রানজিট ব্যাবস্থা (১৯৮৪, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই প্রথম) ইত্যাদি ফিলিপাইন এই অবস্থিত।

শহরটি ম্যানিলা উপসাগরের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। পেগিস নদী ঠিক মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।এটি শহরটিকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। ১৬ টি প্রশাসনিক জেলা নিয়ে ম্যানিলা গঠিত যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিনোন্দা, এরমিটা, ইনট্রামুরাস, পোর্ট এরিয়া, সান্টা আনা ইত্যাদি।

ল্যাটেরাল রোড

ভুটানের ল্যাটেরাল রোড প্রাথমিক ভাবে দক্ষিণে-পশ্চিমে ফুসসোলিংক-এর সঙ্গে পূর্বের প্রান্তীক কেন্দ্র ট্রাশিগাং সংযুক্ত করে। মাঝখানে, ল্যাটেরাল রোড সরাসরি ওয়াংদু ফোড্রং, ট্রংসা এবং অন্যান্য জনসংখ্যা কেন্দ্রগুলির বা শহরের মাধ্যম দিয়ে অতিক্রম করে। এছাড়ার থিম্পু এবং অন্যান্য প্রধান জনসংখ্যা কেন্দ্র বা শহর, যেমন পারো ও পুনাখা প্রভৃতি এই সড়কের পাশে রয়েছে।

ল্যাটেরাল রোড ট্র্যাভেরসগুলি বেশ কয়েকটি উচ্চ পাস বা গিরিপথ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ট্রেমো লা এবং দো চু লা উল্লেখ যোগ্য। রাস্তাটির সর্বোচ্চ পাস বা গিরিপথ চ্যাপচাতে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩,৮০০ মিটার (১২,৫০০ ফুট) উঁচুতে মধ্য ভুটানের ট্রুমিশিং লাতে অবস্থিত।

হিমধস

যখন তুষারাবৃত উঁচু পর্বতের কোনও দুর্বল তুষারস্তরের উপর বসে থাকা একটি সুসংবদ্ধ তুষারস্তুপ (snow pack) বা তুষারাবরণ (snow cover) ভেঙে খাড়া ঢাল বেয়ে দ্রুত পিছলে নেমে আসে, তখন সেই ঘটনাকে হিমধস (ইংরেজি: Avalanche বা Snowslide) বলে। হিমধসের সমার্থক কিছু পরিভাষা হল হিমানীসম্পাত, হিমানীসম্প্রপাত, হিমস্খলন, ইত্যাদি। একবার শুরু হবার পরে সাধারণত হিমধসের বেগ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এর ভর ও আয়তন বৃদ্ধি পেতে থাকে।হিমধস সাধারণত একই পার্বত্য এলাকায় একই পথে বারংবার ঘটে, যাকে হিমধস পথ (Avalanche path) বলা হয়। গড়ে যতটুকু সময় পরপর একই পথে হিমধস ঘটে, তাকে পুনরাগমন বিরতি (Return interval) বলে। হিমধস পথটি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত -- নিষ্ক্রান্তি অঞ্চল (Release zone), পথ (track) এবং অবক্ষেপণ অঞ্চল (Deposition zone)।হিমধস সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে বা বসন্তকালে হয়ে থাকলেও হিমবাহের চলনের কারণে বছরের যেকোনও সময়েই এটি ঘটতে পারে। মূলত মাধ্যাকর্ষণের কারণে হিমধসের সৃষ্টি হলেও এর পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে। পর্বতে তুষারপাতের কারণে উপরের তুষারস্তরের ওজন বৃদ্ধি, কিংবা কোনও বিশেষ কাঠামোগত কারণে তুষারের ভেতরের ভারবহন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, ইত্যাদি হিমধসের পেছনের মূল কারণ হতে পারে। সাধারণত কোনও তুষারঝড়ে ১ ফুট বা তার বেশি পুরু তুষারপাত হলে তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হিমধসের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তুষারের দ্রুত স্তুপীভবনের ফলে তার নিচের জমাট হিমখণ্ডের উপর চাপ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে হিমখণ্ডের নিচের একটি দুর্বল স্তরে ফাটল ধরে। হিমখণ্ডের স্তরগুলি সারা শীতকাল ধরে একের পর এক সৃষ্টি হয়; একটি স্তর আরেকটি স্তরের সাথে কীভাবে আবদ্ধ থাকে, সেটিই নির্ধারণ করে কোন্‌ স্তরটি দুর্বল হবে ও ভেঙে যাবে।পার্বত্য অঞ্চলে হিমধস একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য হয় কেননা এতে বিপুল পরিমাণ ভরবিশিষ্ট তুষার অত্যন্ত দ্রুতবেগে ধাবিত হয় এবং এর পথের উপরে পড়ে এমন সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে। সেইসাথে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বরফের নিচে চাপা পড়ে ও আটকা পড়ে মারা যেতে পারে। হিমধসে আটকা পড়ে গেলে হিমখণ্ড বা হিমস্তুপ থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যেতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি সম্ভব হয় না। তাই স্কিকারী বা স্নোবোর্ডকারীরা সরাসরি নিচের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ে পরে ডানে বা বামে সরে যেতে পারে। স্নোমোবিল চালকেরা মোটরের গতি বাড়িয়ে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। যদি এর পরেও মুক্তি না পাওয়া যায়, তাহলে কোন শক্ত গাছকে আকড়ে ধরতে হয়। গাছ না থাকলে জোরে সাঁতার কাটতে হয়, কেননা মানুষের শরীর হিমধসের চেয়ে তিন গুণ ভারী এবং খুব সহজেই ডুবে যেতে পারে। হিমধস একবার থেমে গেলে এটি কংক্রিটের মতো শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে যায়, তাই একবার হিমধসের ভেতরে আটকা পড়ে গেলে আর বের হবার উপায় নেই। যদি ১৫ মিনিটের মধ্যে খুঁড়ে বের করা হয়, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯৩%। কিন্তু ৪৫ মিনিটের পরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম, মাত্র ২০ থেকে ৩০%। ২ ঘণ্টা পরে খুবই কম লোক বেঁচে থাকে।ইউরোপে ও উত্তর আমেরিকাতে হিমধসের বিপদ বা ঝুঁকি নির্দেশকারী স্কেল বা মাপনী আছে, যেগুলি পর্বতারোহীদেরকে সতর্ক করতে সাহায্য করে।

১৯৮০ এজোরেস দ্বীপপুঞ্জ ভূমিকম্প

১লা জানুয়ারিতে এজোরেস স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে সংগঠিত, ১৯৮০ এজোরেস দ্বীপ ভূমিকম্পে ৬১ জনের মৃত্যু ঘটে, আহত হয়েছিল চারশতাধিক এছাড়া তের্সেইরা এবং সাও জর্জ দ্বীপপুঞ্জের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছিল। রিখটার স্কেলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি পিকো ও ফায়াল দ্বীপপুঞ্জকেও নাড়িয়ে তুলেছিল। এটি ঐতিহাসিক আজোরিয়ান ভূমিকম্পে একটি স্ট্রাইক স্লিপের ফাটলের দরুন ঘটেছিল।

ভূমিকম্পের পরে, পর্তুগীজ প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রামালহোকে এঅনেস তিনদিনে শোক দিবস ঘোষণা করেছিল, স্থানীয় বিমান বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত করেছিল, অল্পকালের মধ্যেই সরকার সমর্থিত এজেন্সিগুলো এতে যোগদান করে।

২০০৭-এর চট্টগ্রামের ভূমিধ্বস

২০০৭ সালের ১১ই জুন তারিখে বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বৃষ্টিজনিত ভূমিধ্বসে অন্তত ১২২ জনের প্রাণহানী ঘটে। প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে মাটি ও কাদার ঢল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বস্তি ও কাঁচা ঘরবাড়ি উপরে ধ্বসে পড়লে বহু মানুষ চাপা পড়ে যায়। অনেকে মানুষ নিখোঁজ হয়। রবিবার থেকে চলা টানা বর্ষণ এই ঘটনার মূল কারণ। আবহাওয়াবিদদের মতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রামে ২০ সে.মি. এরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.