ব্রোঞ্জ যুগ

ব্রোঞ্জ যুগ হল মানব সভ্যতার প্রাক ঐতিহাসিক কালের তিনটি প্রধান পুরাতাত্ত্বিক ভাগের (প্রস্তর যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ যুগ) দ্বিতীয় ভাগ। এই সময়কালে আধুনিক মানব ব্রোঞ্জ ধাতু ও চিহ্ন লিপির ব্যবহার করতে শিখেছিল। প্রাথমিক অবস্থার নগর সভ্যতা এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ব্রোঞ্জ যুগে তামার আকরিক থেকে তামা আহরণ করে একে টিন, আর্সেনিক বা অন্য ধাতুর সাথে মিশিয়ে মিশ্র ধাতু যেমন ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়েছিল। ব্রোঞ্জের উৎপাদন করা স্থান ও অন্য স্থানের মধ্যে ধাতুগুলির আদান-প্রদান করা চলেছিল। তামা-টিনের আকরিক সহজে পাওয়া যেত না এবং খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় সহস্রাব্দে আমদানি না হাওয়ায় পশ্চিম এশিয়াতে এই আকরিকসমূহ ছিল না। তখনকার বিশ্বের প্রায় সকল স্থানে নব্য প্রস্তর যুগের (ইংরেজি) পরে ব্রোঞ্জ যুগের আরম্ভ হওয়ার বিপরীতে কোনো কোনো অঞ্চলে তাম্র যুগ সেই স্থান নিয়েছিল। কিছু স্থানে, নব্য প্রস্তর যুগের পর লৌহ যুগের সূত্রপাত ঘটেছিল।[১]

Metallurgical diffusion
ইউরোপ ও এশিয়াতে ধাতুবিদ্যার বিস্তার (গাঢ় রঙের অংশ সবচেয়ে পুরানো)
ব্রোঞ্জ যুগ
নিওলিথিক

Near East (3300-1200 BC)

Caucasus, Anatolia, Aegean, Levant, Egypt, Mesopotamia, Elam, Sistan
Bronze Age collapse

India (3000-1200 BC)

Europe (2300-600 BC)

Beaker culture
Unetice culture
Urnfield culture
Hallstatt culture
Atlantic Bronze Age
Bronze Age Britain
Nordic Bronze Age

China (2000-700 BC)

Korea (800-400 BC)

arsenical bronze
writing, literature
sword, chariot

লৌহ যুগ

ইতিহাস

ব্রোঞ্জ যুগের গোটা সময়কালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রোঞ্জের ব্যবহার। অবশ্য সকল স্থানে ধাতুগুলির ব্যবহার ও প্রযুক্তির সূচনা এক সময়ে হয়নি।[২] সেই সময়ে ধাতুর বহুল ব্যবহারের সঙ্গে বাণিজ্যও ধীরে ধীরে প্রসার লাভ করেছিল।

ব্রোঞ্জ যুগের ভাগ

ব্রোঞ্জ যুগ
(খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩০০ - খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০)
Early Bronze Age
(3300 BCE - 2000 BCE)
Early Bronze Age I 3300 BCE - 3000 BCE
Early Bronze Age II 3000 BCE - 2700 BCE
Early Bronze Age III 2700 BCE - 2200 BCE
Early Bronze Age IV 2200 BCE - 2000 BCE
Middle Bronze Age
(2000 BCE - 1550 BCE)
Middle Bronze Age I 2000 BCE - 1750 BCE
Middle Bronze Age II 1750 BCE - 1650 BCE
Middle Bronze Age III 1650 BCE - 1550 BCE
Late Bronze Age
(1550 BCE - 1200 BCE)
Late Bronze Age I 1550 BCE - 1400 BCE
Late Bronze Age II A 1400 BCE - 1300 BCE
Late Bronze Age II B 1300 BCE - 1200 BCE

তথ্যসূত্র

  1. Iron In Africa: Revising The History : Unesco. Portal.unesco.org. Retrieved on 2013-07-28.
  2. Bronze was independently discovered in the Maykop culture of the North Caucasus as early as the mid-4th millennium BC, which makes them the producers of the oldest known bronze. However, the Maykop culture only had arsenical bronze, a naturally occurring alloy. Other regions developed bronze and its associated technology at different periods.

বহিঃসংযোগ

অ্যাসিরীয়া

অ্যাসিরীয়া ছিলো প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের একটি প্রধান সেমিটিক রাজত্ব বা সাম্রাজ্য, যার আকৃতি প্রায় উনিশ শতাব্দী ধরে বা আনুমানিকভাবে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০৫ অব্দ পর্যন্ত পরিবর্তীত হয়েছে, এবং স্থায়ীত্ব ছিলো প্রারম্ভিক ব্রোঞ্জ যুগ থেকে শেষ লৌহ যুগ পর্যন্ত। উত্তর মেসোপটেমিয়ায় টাইগ্রিস নদীর উজানে কেন্দ্রীভূত অসিরীয়া বেশ কয়েকবার শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অ্যাসিরীয়া তার সময়ে মূল সূতিকাগার হিসেবে বৃহত্তর মেসোপটেমিয় "সভ্যতার ঊষালগ্নে" প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক সাফল্যের শীর্ষ স্থানে অসীন ছিল।

আলবেনীয় ভাষা

আলবেনীয় ভাষা (আলবেনীয় ভাষায়: Shqip) একটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা। বিশ্বের প্রায় ৬০ লক্ষ লোক এ ভাষায় কথা বলেন। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের কোন শাখার সদস্য নয়, তাই এটির কোন আত্মীয় ভাষা নেই। ১৮৫৪ সালে ফ্রান্‌ৎস বপ এটিকে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা হিসেবে শনাক্ত করেন।

আলবেনীয় ভাষা মূলত আলবেনিয়া-তে প্রচলিত। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী বলকান রাষ্ট্রসমূহ, গ্রিস, তুরস্ক ও ইতালিতে এর প্রচলন আছে। আলেবেনীয় ভাষার দুইটি প্রধান উপভাষা-দল আছে — উত্তরে ঘেগ এবং দক্ষিণের তোস্ক। এই দুইটি আবার আরও অনেক উপভাষায় বিভক্ত এবং এগুলির কতগুলি পারস্পরিক বোধগম্য (mutually intelligible) না-ও হতে পারে। ভাষাটির ইতিহাস অস্পষ্ট; অন্য ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলির সাথে ভাষাটির সুস্পষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার কারণ দ্বিবিধ। প্রথমত, ভাষাটি অন্য ভাষা থেকে প্রচুর শব্দ ঋণ নিয়েছে এবং এই শব্দগুলি ভাষাটির আধুনিক রূপ নির্মাণ করেছে। দ্বিতীয়ত, ভাষাটির অতি প্রাচীন নিদর্শন নেই বললেই চলে। ভাষাটির সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত নিদর্শন ১৫শ শতক থেকে পাওয়া এবং এগুলি ধর্মীয় বিষয়ের উপর লেখা।

১৯০৯ সালে ভাষাটির একটি লাতিন বর্ণমালা-ভিত্তিক সরকারি বর্ণমালা প্রণয়ন করা হয়।

মান্য বা আদর্শ আলবেনীয় ভাষা আলবেনিয়া রাষ্ট্রের সরকারী ভাষা। আলবেনিয়ার সরকারি ভাষাটি তোস্ক উপভাষার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এছাড়া এটি কসোভো ও ম্যাসিডোনিয়ার সরকারী ভাষাগুলির একটি।

ইন্দো-ইউরোপীয় অভিপ্রয়াণ

ইন্দো-ইউরোপীয় অভিপ্রয়াণ বলতে প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাভাষী মেষপালক বা রাখালী জীবন যাপনকারী জনগোষ্ঠীর অভিপ্রয়াণ বোঝানো হয়, যারা ইয়াম্‌নায়া এবং তদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পন্টিক-কাস্পিয়ান প্রান্তরের সংস্কৃতির এলাকা থেকে আনুমানিক ৪০০০ খ্রী.পূ. হতে অভিপ্রয়াণ শুরু করে। তাদের উত্তরসূরিরা ইউরোপের অধিকাংশে ও এশিয়ার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের অভিপ্রয়াণের পথে নতুন সংস্কৃতি ও সভ্যতা সৃষ্টি করতে করতে অগ্রসর হয়, যেমন উত্তর ইউরোপে তন্ত্রীত পণ্য সংস্কৃতি এবং উত্তর ভারতে বৈদিক সংস্কৃতি। এই মহাঅভিপ্রয়াণ দ্বারাই ইউরোপ, বৃহত্তর ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান ভাষা ও সংস্কৃতি নির্ধারিত হয়, এবং এর ফলে পরবর্তীকালে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা পরিবার সৃষ্টি হয়।

ইরাকের ইতিহাস

১৯২০ খ্রিস্টাব্দে ইরাককে আধুনিক রাষ্ট্রের অঞ্চল হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছিল। নিম্ন মেসোপটেমিয়া (প্রথমে ঐতিহাসিক বাবিলনিয়া এবং পরবর্তীতে 'ইরাক-আই' আরব নামেও) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার উচ্চ মেসোপটেমিয়া এবং সিরিয়ার মরুভূমি উভয়ে আরবীয় মরুভূমির অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইরাকের ইতিহাস বিশ্বের সবচেয়ে পুরাতন ইতিহাস হিসাবে পরিচিত। লেখা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত, আইন এবং দর্শনশাস্ত্র এগুলা ইরাকের পুরাতন ইতিহাসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং এর সাধারণ উপাধি হচ্ছে সভ্যতার দোলনা। উবায়েদের যুগে সভ্যতার প্রথম দিকে ক্রিসেন্টের অংশ হিসাবে, মেসোপটেমিয়ায় নবোপলীয় আবির্ভাব ঘটে এবং ব্রোঞ্জ যুগ জুড়ে (সুমেরীয়, আক্কাদীয়ান, ব্যাবিলনীয় ও আসিরিয়ান নিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে)। ব্যাবেলনের সাম্রাজ্যের পতনের পর, মেসোপটেমিয়ায় প্রথম ফার্সি শাসন চালু হয় এবং তারপর ধীরে ধীরে গ্রিক শাসনও চালু হতে থাকে। তৃতীয় শতাব্দীতে আবারো এটি পারসিয়ানদের নিয়ন্ত্রণের চলে গিয়েছিল। আরবদের কারনে জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল এবং তখন থেকে ইরাকের আরবী নাম আল-'ইরাক হিসাবে সময় সম্পর্কে তারিখগুলি নির্ধারণ করা হয়। ৭ ম শতাব্দীতে ইসলামি খিলাফতের বিজয়ের মাধ্যমে খলিফা রশিদুন সাসানিড সাম্রাজ্যটি ধ্বংস করেন । ৯ম শতাব্দীতে আব্বাসীয় খিলাফতের সময়ে বাগদাদ নগরী "ইসলামি স্বর্ণ যুগের" কেন্দ্রে পরিনত হয়ে ওঠে। ১০ম শতাব্দীতে বাওয়াহীদ ও সেলজুক আক্রমণ ও বিজয়ের ফলে বাগদাদের আয়তন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে ।১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মঙ্গোলেরা বাগদাদ আক্রমন করার মধ্য দিয়ে এর সম্প্রসারন বন্ধ হয়ে যায় ।তুর্কি-মঙ্গোল ও ইরাক মিলে একটি প্রদেশ গঠিত করে ।

ইরানের ইতিহাস

ইরানের ইতিহাস হল সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর ইরানের ইতিহাস, যা পশ্চিমা বিশ্বে পারস্য নামে পরিচিত। বৃহত্তর ইরান পশ্চিমে আনাতোলিয়া, বসফরাস ও মিশর, পূর্বে প্রাচীন ভারত ও সির দরিয়া, উত্তরে পারস্য উপসাগর এবং দক্ষিণে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইরান হল বিশ্বের প্রাচীনতম চলমান প্রধান সভ্যতার ভূমি, এতে খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দের ঐতিহাসিক ও নগর বসতির সন্ধান পাওয়া যায়। ইরানীয় উচ্চভূমির দক্ষিণ পশ্চিম ও পশ্চিম ভাগ প্রাচীন নিকট প্রাচ্য, প্রারম্ভিক ব্রোঞ্জ যুগের এলাম ও পরবর্তীকালে বিভিন্ন জাতি, যেমন কাসিতে, মানায়েন ও গুতিয়ানদের সাথে মিলিত হয়েছে। গেয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিডরিখ হেগেল পারস্যদের "প্রথম ঐতিহাসিক ব্যক্তি" বলে অভিহিত করেন। মাদা জাতি খ্রিস্টপূর্ব ৮২৫ অব্দে ইরানকে জাতি ও সাম্রাজ্য হিসেবে একীভূত করে। মহান কুরুশের প্রতিষ্ঠিত হাখমানেশী সাম্রাজ্য (৫৫০-৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) হল প্রথম পারস্য সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের ব্যপ্তি ছিল বলকান থেকে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া, যা তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত ছিল এবং এর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পার্সা। এটি এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য এবং প্রথম বৈশ্বিক সাম্রাজ্য। প্রথম পারস্য সাম্রাজ্য ইতিহাসের একমাত্র সভ্যতা যেখানে বিশ্বের ৪০ ভাগ লোকের সম্পৃক্ততা ছিল; ৪৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিশ্বের ১১২.৪ মিলিয়নের প্রায় ৪৯.৪ মিলিয়ন লোক এই সভ্যতার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। পরবর্তীকালে সেলুকসী, পার্থিয়ান ও সাসানীয় সাম্রাজ্য এই সাম্রাজ্যের স্থান দখল করে, যারা প্রায় ১,০০০ বছর ইরান শাসন করে এবং ইরানকে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। পারস্যের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল রোমান সাম্রাজ্য ও এর উত্তরসূরি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

মুসলমানদের পারস্য বিজয়ের পর সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যা ইরানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অষ্টম থেকে দশক শতকে ইরানে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে এবং জরথুস্ত্রবাদ ও এর অন্যান্য শাখার বিলুপ্তি দেখা যায়। তবে পূর্বতন পারস্য সভ্যতার অর্জনসমূহ হারিয়ে যায়নি এবং এর বেশিরভাগই নব্য ইসলামি রাজনীতি ও সভ্যতায় গৃহীত হয়।

প্রারম্ভিক সময়কালের সংস্কৃতি ও সাম্রাজ্যের ইতিহাস সমৃদ্ধ ইরান মধ্যযুগের শেষার্ধে ও আধুনিক যুগের শুরুতে তীব্র ভোগান্তির শিকার হয়। যাযাবর উপজাতিদের অনেকগুলো আক্রমনে দেশটিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায় এবং পরবর্তীকালে এই উপজাতিদের প্রধান দেশটির শাসক হিসেবেও আবির্ভূত হয়।

এশিয়া

এশিয়া ( (শুনুন) বা ) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ, প্রাথমিকভাবে পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এটি ভূপৃষ্ঠের ৮.৭% ও স্থলভাগের ৩০% অংশ জুড়ে অবস্থিত। আনুমানিক ৪৩০ কোটি মানুষ নিয়ে এশিয়াতে বিশ্বের ৬০%-এরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। অধিকাংশ বিশ্বের মত, আধুনিক যুগে এশিয়ার বৃদ্ধির হার উচ্চ। উদাহরণস্বরূপ, বিংশ শতাব্দীর সময়, এশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে, বিশ্ব জনসংখ্যার মত।এশিয়ার সীমানা সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত হয়, যেহেতু ইউরোপের সাথে এর কোনো স্পষ্ট ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা নেই, যা এক অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের গঠন যাকে একসঙ্গে ইউরেশিয়া বলা হয়। এশিয়ার সবচেয়ে সাধারণভাবে স্বীকৃত সীমানা হলো সুয়েজ খাল, ইউরাল নদী, এবং ইউরাল পর্বতমালার পূর্বে, এবং ককেশাস পর্বতমালা এবং কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণে। এটা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। ইউরাল পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ দুটি পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। এছাড়া লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সংকীর্ণ বেরিং প্রণালী একে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। উল্লেখ্য, বেরিং প্রণালীর একদিকে অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত রাশিয়ার উলেনা এবং অপর পাশে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা। এই প্রণালীটির সংকীর্ণতম অংশটি মাত্র ৮২ কি•মি• চওড়া, অর্থাৎ বেরিং প্রণালীর এই অংশ হতে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দূরত্ব মাত্র ৮২ কি•মি•।

এর আকার এবং বৈচিত্র্যের দ্বারা, এশিয়ার ধারণা – একটি নাম ধ্রুপদি সভ্যতায় পাওয়া যায় - আসলে ভৌত ভূগোলের চেয়ে মানবীয় ভূগোলের সাথে আরো বেশি সম্পর্কিত। এশিয়ার অঞ্চল জুড়ে জাতিগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, পরিবেশ, অর্থনীতি, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সরকার ব্যবস্থার মাঝে ব্যাপকভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

কামরূপী উপভাষা

কামরূপী উপভাষা, পূর্বে কামরূপী ভাষা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও উত্তরবঙ্গ উচ্চারিত প্রথম প্রাচীন আর্য সাহিত্যিক ভাষা, কামরূপ ও উত্তরবঙ্গের প্রাথমিকভাবে বিকশিত। কামরূপী তিনটি উপভাষা যা পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ কামরূপী সঙ্গে ভিন্নধর্মী হয়।মধ্যযুগীয় কালে, এটা উভয় গদ্য এবং বিদ্যাপতি মত মাঝামাঝি ভারতের সাহিত্য পরিসংখ্যান চর্চা বিরুদ্ধে যেমন কবিতার জন্য যারা গদ্য ও মৈথিলী কবিতার জন্য সংস্কৃত ব্যবহার পন্ডিত ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পয়লা এবং সংস্কৃত সমান্তরালে সাহিত্য উদ্দেশ্যে তার সংলগ্ন এলাকায় দ্বারা ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কামরূপী উপভাষা নাটকীয় প্রভাব সঙ্গে লেখক ইন্দিরা গোস্বামীর কাজ ব্যবহার করা হয়েছে। কবি ও জাতীয়তাবাদী অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী বহুলাংশে তার কাজ কামরূপী ব্যবহৃত।

গ্রিসের ইতিহাস

গ্রিসের ইতিহাস বলতে বোঝায় গ্রিক জাতি এবং অতীতে তাঁদের দ্বারা বিজিত অঞ্চল তথা বর্তমান গ্রিস রাষ্ট্রের ইতিহাস সংক্রান্ত অধ্যয়ন।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গ্রিস জাতি অধ্যুষিত ও শাসিত অঞ্চলের সীমারেখায় নানা পরিবর্তন এসেছে। এই কারণে গ্রিসের ইতিহাসেও বিভিন্ন প্রকার বহিরাগত উপাদান এসে মিশেছে। গ্রিসের ইতিহাসের প্রতিটি যুগের সুনির্দিষ্ট লিখিত বিবরণ বিদ্যমান।

প্রথম আদি গ্রিক উপজাতিটি মাইসেনিয়ান নামে পরিচিত। এরা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দের শেষ ভাগে এবং দ্বিতীয় সহস্রাব্দের প্রথমার্ধে গ্রিসে মূল ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করে। মাইসেনিয়ান উপজাতি যখন এই অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছিল, তখন এখানে একাধিক অ-গ্রিকভাষী ও দেশীয় আদি-গ্রিক উপজাতিগুলি বাস করত। এরা খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম সহস্রাব্দ থেকে এই অঞ্চলে কৃষিকার্য করে আসছিল।ভৌগোলিক বিস্তারের মধ্যগগনে গ্রিক সভ্যতা গ্রিস থেকে মিশর ও পাকিস্তানের হিন্দুকুশ পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। এই সময় থেকেই গ্রিক সংখ্যালঘুরা পূর্বতন গ্রিক সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে (যেমন: তুরস্ক, ইতালি, ও লিবিয়া, লেভ্যান্ট ইত্যাদি অঞ্চলে) বসবাস করছেন। বর্তমানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রিক অভিনিবেশকারীদের সন্ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে অধিকাংশ গ্রিকেরা ১৮২১ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত গ্রিস দেশ ও সিরিয়ায় বসবাস করেন।

জার্মানীয় ভাষাসমূহ

জার্মানীয় ভাষাসমূহ (ইংরেজি: Germanic languages) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি শাখা। এই শাখার সবগুলি ভাষা প্রত্ন-জার্মানীয় ভাষা থেকে উদ্ভূত, যা খ্রিস্টপূর্ব ১ম সহস্রাব্দের মধ্য পর্যায়ে ও দ্বিতীয়ার্ধে লৌহ-যুগীয় উত্তর ইউরোপে কথিত হত। প্রাচীন জার্মানীয় ভাষাভাষী লোকেরা ২য় শতাব্দীতে উত্তর ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্যের সীমান্তে বসতি স্থাপন করেছিল।

ইংরেজি ও জার্মান ভাষা সবচেয়ে বড় দুইটি জার্মানীয় ভাষা। ইংরেজিতে প্রায় ৪০ কোটি এবং জার্মান ভাষায় প্রায় ১০ কোটি লোক কথা বলেন। ; অনান্য উল্লেখযোগ্য জার্মানীয় ভাষার মধ্যে আছে ওলন্দাজ ভাষা (২ কোটি ভাষাভাষী) ও আফ্রিকান্স ভাষা (দেড় কোটি ভাষাভাষী); উত্তর জার্মানীয় ভাষা যেমন নরওয়েজীয়, ডেনীয়, সুয়েডীয়, আইসল্যান্ডীয় এবং ফারোয়েজীয় ভাষা (যেগুলির মোট ভাষাভাষী সংখ্যা প্রায় ২ কোটি)। এসআইএল ইন্টারন‌্যাশনাল ৫৩টি জার্মানীয় ভাষা ও উপভাষা তালিকাবদ্ধ করেছে।

ভাষাবিজ্ঞানীরা প্রায়শ জার্মানীয় ভাষাগুলিকে তিনটি দলে ভাগ করেন:

পশ্চিম জার্মানীয় ভাষাসমূহ: এদের মধ্যে আছে ইংরেজি, জার্মান, এবং নেদারল্যান্ডীয় ভাষাসমূহ (ওলন্দাজ ও ফ্লেমিশ)। এছাড়া আফ্রিকান্স ও ইডিশ-ও এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর জার্মানীয় ভাষাসমূহ: এদের মধ্যে আছে ডেনীয়, সুয়েডীয়, আইসল্যান্ডীয় এবং নরওয়েজীয়।

পূর্ব জার্মানীয় ভাষাসমূহ: এগুলি এখন বিলুপ্ত। গোথিক, এবং ভান্ডাল, বুরগুন্ডীয় ও আরও কিছু গোত্রের ভাষা এর মধ্যে পড়ত।জার্মানীয় ভাষাগুলির ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারে প্রবল সাদৃশ্য দেখা যায়। এগুলি সবগুলিই একটি আদি ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন জার্মানীয় ভাষার মধ্যে তুলনা করে এই আদি ভাষার রূপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

প্রত্ন-জার্মানীয় ভাষাটি প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার তিনটি লিঙ্গ সংরক্ষণ করলেও আটটি কারক থেকে কমিয়ে ছয়টি কারক ব্যবহার করত এবং বিশেষণের রূপভেদ করত। পাঁচটি ভাবের স্থানে এতে তিনটি ভাব ছিল (নির্দেশক, অনুজ্ঞা ও সাপেক্ষ) এবং চারটি কালের স্থানে এটি দুইটি কাল (বর্তমান ও অতীত) ব্যবহার করত, যেগুলি থেকে বাকী কালগুলি গঠিত হত। কালক্রমে প্রত্ন-জার্মানীয় ভাষাটি তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।

তামা

তামা, ইংরাজি নাম কপার (Copper) একটি রাসায়নিক মৌল যার চিহ্ন Cu এসেছে ল্যাটিন শব্দ কিউপ্রাম (cuprum) থেকে এবং এর পারমাণবিক ক্রমাঙ্ক ২৯। তামা একটি নমনীয় ধাতু এবং এর তাপীয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহীতা খুব উঁচু দরের তাই অনেক বিজলিবাহী তারের মধ্যেই তামার তার থাকে । বিশুদ্ধ তামা খুব বেশি নরম ও নিজস্ব উজ্জ্বল বর্ণ সমন্বিত কিন্তু আবহাওয়ার সংস্পর্শে এর বাইরে একটি লালচে-কমলা বিবর্ণ স্তর তৈরী হয়। তামা ও তামার বহু মিশ্র ধাতু (যেমন ব্রোঞ্জ, পিতল ইত্যাদি) অনেক হাজার বছর ধরে মানুষের নিত্য সঙ্গী । প্রাচীনকালে তামার অনেক খনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে সাইপ্রাস (লাতিনে Cyprus ক্যুপ্রুস্‌) দ্বীপের খনিগুলো সবচেয়ে তাৎপর্যময়। অনেকের মতে তামার ইংরেজি নাম কপার (লাতিন নাম Cuprum কুপ্রুম) শব্দটি এখান থেকেই এসেছে।

নব্যপ্রস্তরযুগ

নব্যপ্রস্তরযুগ বা নবপোলিয় যুগ ইংরেজি: Neolithic (শুনুন) হলো প্রস্তরযুগের শেষ অধ্যায়, যখন পাথরের অস্ত্রশস্ত্র ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদির চরম উন্নতি সাধিত হয়েছিল। ASPRO chronology মতে খ্রিস্টপূর্ব ১০,২০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে এবং পরবর্তীতে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে এই যুগের সূচনা ঘটে। খ্রিস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দ থেকে ২,৫০০ অব্দের মধ্যে এই যুগের সমাপ্তি ঘটে। প্রথাগতভাবে এই যুগ হচ্ছে প্রস্তরযুগের সমাপ্তি। নব্যপ্রস্তর যুগ হলোসিন এপিপ্যালিওলিথিক যুগ অনুসরণ করে আসে এবং কৃষিকাজের সূচনাকালে নবপলীয় বিপ্লব ঘটে এবং এই সময়টাই নব্যপ্রস্তর যুগের শুরু। ধাতুর ব্যবহার শুরু হলে এই যুগ শেষ হয় এবং ব্রোঞ্জ যুগ, তাম্র যুগ এবং কোন কোন ভৌগোলিক অঞ্চলে লৌহ যুগ শুরু হয়। এই যুগে আচরণ এবং সংস্কৃতিতে প্রগতি এবং পরিবর্তন দেখা যায়, যার মধ্যে ছিল বন্য ও গৃহজাত শস্যের ব্যবহার এবং বন্য পশুকে গৃহপালিত পশুতে রূপান্তর। ধারণা করা হয় যে নব্যপ্রস্তর যুগ শুরু হয় লেভ্যান্টে (Jehrico, বর্তমানে পশ্চিম তীর) খ্রিস্টপূর্ব ১০,২০০-৮,৮০০ অব্দে।

পুরা প্রস্তর যুগ

পুরা প্রস্তর যুগ বা আদিম প্রস্তর যুগ বা প্যালিওলিথিক(উচ্চারণঃ অথবা ) বা প্যালিওলিথিক যুগ বলতে সেই সময়কালের ইতিহাসকে বোঝায় যখন আদিম মানুষ একদম প্রাথমিক পাথরের যন্ত্রপাতি বানাতে শুরু করেছিল। মানবজাতির প্রযুক্তিগত প্রাগৈতিহাসের প্রায় ৯৫% জুড়ে রয়েছে পুরা প্রস্তর যুগ। ২.৬ মিলিয়ন বছর আগে হোমিনিনিন যেমন অস্ত্রালোপিথেচিনদের মাঝে পাথরের যন্ত্রপাতি প্রচলনের সময় থেকে বর্তমান হতে ১০,০০০ বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিন যুগের শেষভাগ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা

প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা হল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাসমূহের একটি কল্পিত পূর্বসূরী ভাষা। ভাষাবিজ্ঞানীরা এরকম একটি ভাষার অস্তিত্বের কথা অনেক দিন ধরে মেনে নিলেও এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে।

ধারণা করা হয় প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় একক ভাষা হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে নিউলিথিক যুগে ব্যবহৃত হত। তবে এ সম্পর্কিত মতভেদ রয়েছে। কুরগান তত্ত্ব অনুসারে প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার আদি স্থান হল পূর্ব ইউরোপের পন্টিক-কাস্পিয়ান অঞ্চল।

প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার রূপমূলতত্ত্ব জটিল এবং এতে ধাতু বা শব্দের রূপ, স্বর পরিবর্তন ও উচ্চারণগত ভিন্নতা দেখা যায়। বর্তমান সময়ের বহুল ব্যবহৃত স্পেনীয়, ইংরেজি, হিন্দুস্থানি (হিন্দি ও উর্দু), পর্তুগিজ, বাংলা, রুশ, পাঞ্জাবি, জার্মান, ফরাসি, ও মারাঠি ভাষা প্রত্ন-ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোত্রের অধিভুক্ত।

প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম

প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলতে প্রাগৈতিহাসিক মানব সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মাচরণকে বোঝায়। বিশেষত প্রাচীন প্রস্তরযুগীয় ধর্ম, মধ্য প্রস্তরযুগীয় ধর্ম, নব্য প্রস্তরযুগীয় ধর্ম ও ব্রোঞ্জ যুগীয় ধর্মকে প্রাগৈতিহাসিক ধর্ম বলা হয়।

ব্রোঞ্জ

ব্রোঞ্জ এক প্রকারের সংকর ধাতু। সাধারণত তামার সাথে বিভিন্ন অনুপাতে টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ প্রস্তুত করা হয়। তবে অনেক সময় টিন ছাড়াও এতে দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ,অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, প্রভৃতি ধাতুও মিশানো হয়। ব্রোঞ্জ বেশ শক্ত ও নমনীয় এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। মানব সভ্যতার ইতিহাসের একটি পর্যায়কে ব্রোঞ্জ যুগ বলে অভিহিত করা হয়, কারণ সে সময় ব্রোঞ্জের অস্ত্র ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বহুল প্রচলিত ছিল।

সাধারণত ব্রোঞ্জে তামার ভাগ থাকে অন্তত ৬০ শতাংশ; এর সাথে টিনের ভাগ থাকে ১২% ও তার সাথে মিশেল থাকে আরও অন্যান্য নানা ধাতু (উপরে উল্লিখিত) ও এমনকী নানা অধাতব পদার্থ ও ধাতুকল্পও, যেমন - আর্সেনিক, ফসফরাস, সিলিকন, প্রভৃতি। অর্থাৎ, ধাতুবিজ্ঞানের ভাষায় ব্রোঞ্জ একটি নির্দিষ্ট সংকর ধাতু নয়, বরং তামা ও টিনের সাথে বিভিন্ন অনুপাতে অন্যান্য পদার্থের মিশ্রণে তৈরি একগুচ্ছ সংকর ধাতুকে একত্রে 'ব্রোঞ্জ' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

প্রাগৈতিহাসিক মানুষ নব্যপ্রস্তরযুগের শেষে এসে যখন ধাতুর ব্যবহার শেখে, সেই সময় থেকে লোহার ব্যবহার বহুল প্রচলিত হওয়ার আগে পর্যন্ত, সবচেয়ে শক্ত অথচ নমনীয় এবং ব্যবহারযোগ্য পদার্থ হিসেবে ব্রোঞ্জের ব্যবহারই হয়ে উঠেছিল সর্বাধিক প্রচলিত। এই সময়কেই ইতিহাসে ব্রোঞ্জ যুগ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। নিকট প্রাচ্যে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে সুমের সভ্যতার উত্থানের সাথে সাথে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা বলে ধরা হয়; চীন এবং ভারতীয় উপমহাদেশেও মোটামুটি ঐ একই সময়ে ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু হয়। এরপর তা ধীরে ধীরে ইউরেশিয়ার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ নিকট প্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হলে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তা ধীরে ধীরে সমগ্র ইউরেশিয়াতেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্রোঞ্জ যুগের অবসান হয়ে লৌহ যুগের সূচনা হয়। তবে তখনও ব্রোঞ্জের ব্যবহার আজকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণেই চালু ছিল।

মহেঞ্জোদাড়ো

মহেঞ্জোদারো (সিন্ধি: मोहन जोदड़ो موئن جو دڙو আ-ধ্ব-ব: [muˑənⁱ ʥoˑ d̪əɽoˑ]) ছিল প্রাচীন ভারতের সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম নগর-বসতিগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি অধুনা পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত। ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ নির্মিত এই শহরটি ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির অন্যতম এবং প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া ও ক্রিটের সভ্যতার সমসাময়িক। এই শহরের পুরাতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটিকে "একটি প্রাচীন সিন্ধু মহানগর" নামেও অভিহিত করা হয়।

স্টোনহেঞ্জ

স্টোনহেঞ্জ (ইংরেজি: Stonehenge) নিওলিথিক এবং ব্রোঞ্জ যুগের একটি স্তম্ভ যা মানমন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হয়। এটি ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের অ্যামাসবারির নিকটে অবস্থিত। এর ভৌগোলিক অবস্থান হচ্ছে ৫১°১০′৪৪,৮৫″উ, ১°৪৯′৩৫,১৩3″প।

সমতল ভূমির প্রায় ৮ মাইল উত্তরে স্টোনহেঞ্জ অবস্থিত। এতে বৃত্তাকারে বড় বড় দণ্ডায়মান পাথর রয়েছে এবং এগুলোর চতুর্দিকে মৃত্তিকা নির্মিত বাঁধ রয়েছে। স্টোনহেঞ্জের গঠন খানিকটা জটিল। এর বাইরের দিকে একটি বৃত্তাকার পরিখা রয়েছে। প্রবেশপথটির কিছুটা দূরেই রয়েছে মাটির বাঁধ। এ বাঁধের ভেতর চতুর্দিকে বেষ্টন করে আছে ৫৬টি মৃত্তিকা গহ্বর। পাথরগুলোর মধ্যে আরও দুই সারি গর্ত বেস্টন করে আছে। পাথরগুলোর গঠনের মধ্যে আছে দুইটি বৃত্তাকার এবং দুইটি ঘোড়ার খুরের নলের আকারবিশিষ্ট পাথরের সারি। এ ছাড়াও কতগুলো পৃথক পাথর রয়েছে অলটার স্টোন বা পূজা বেদীর পাথর বা শ্লটার স্টোন বা বধ্যভূমির পাথর।

হরপ্পা

হড়প্পা (উর্দু/পাঞ্জাবি: ہڑپہ, উচ্চারিত [ɦəɽəppaː]) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি প্রত্নস্থল। এটি সাহিওয়াল থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রত্নস্থলটি রাভী নদী [ রাভি নদীর] পুরনো খাতের ধারে অবস্থিত একটি স্থানীয় গ্রামের নামাঙ্কিত। হরপ্পার বর্তমান গ্রামটি প্রত্নস্থল থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আধুনিক হরপ্পা ব্রিটিশ আমল থেকেই একটি ট্রেন স্টেশন। কিন্তু এটি একটি ছোটো পাকিস্তানি শহরমাত্র।

প্রত্নস্থলে একটি প্রাচীন ব্রোঞ্জযুগীয় দুর্গশহরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এটি সেমেট্রি এইচ কালচার ও সিন্ধু সভ্যতার অংশ। মনে করা হয়, শহরটিতে ২৩,৫০০ মানুষ বসবাস করতেন। সেযুগের বিশ্বে এটি ছিল একটি বৃহৎ শহর।

ব্রিটিশ আমলে প্রাচীন হরপ্পা শহরটি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এই শহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে ইঁট এনে তা লাহোর-মূলতান রেলপথ নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

হামুরাবি

হামুরাবি (ইংরেজি: Hammurabi) ছিলেন ব্যাবিলয়নিয়ান সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত রাজা। পিতা সিন-মুবাল্লিত এর মৃত্যুর পর আঠারো বছর বয়সে ব্যাবিলন নগর রাষ্ট্রের সিংহাসনে বসেছিলেন তিনি। এই নগররাষ্ট্রের প্রথম রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা হিসেবে হামুরাবি যখন দায়িত্ব নেন, ব্যাবিলন তখন ছোট্ট একটি দেশ। মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে এ রকম আরো অনেকগুলো নগর রাষ্ট্র ছিল, আর সেই সব রাজ্যের নিজেদের মধ্যেও লড়াই ছিল। তবে তার পূর্বপুরুষদের সময়ই বোরসিপ্পা, কিশ এবং সিপ্পার পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করে ব্যাবিলনিয়ানরা আঞ্চলিক রাজশক্তি হয়ে ওঠার পথে খানিকটা এগিয়েছিল।

শামসি-আদাদ, লারসা, এশনুনা আর এলাম-এর মতো আরো কয়েকটি শক্তিশালী প্রতিবেশী রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতে প্রকৃতপক্ষে হামুরাবিই ব্যাবিলনিয়ান নগর রাষ্ট্রকে ব্যাবিলনিয়ান সাম্রাজ্যে রূপান্তর করেছিলেন। সে অর্থে তাকেই বলা যায় ব্যাবিলনিয়ান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.