বারোক

বারোক (Baroque) দৃশ্যমান শৈলীর ইতিহাসের একটি পর্বকে নির্দেশ করে। এই পর্বে গতিময়তার অতিরঞ্জন এবং পরিষ্কার, সহজে বোধগম্য খুঁটিনাটির মাধ্যমে ভাস্কর্য, চিত্রাংকন, স্থাপত্য, সাহিত্য, নৃত্য, মঞ্চনাটক এবং সঙ্গীতে নাটকীয়তা, উত্তেজনা, উদ্দীপনা ও জাঁকজমক ভাব ফুটিয়ে তোলা হয়। ১৬০০ খিস্টাব্দের দিকে রোমে ও ইতালিতে শৈলীর এই ধারাটির আবির্ভাব ঘটে এবং পরে সমস্ত ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।[১]

ক্যাথলিক গির্জা বারোক শৈলীর জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের পেছনে উৎসাহ জুগিয়েছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কারের প্রত্যুত্তর হিসেবে ক্যাথলিক গির্জা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ধর্মীয় বিষয়বস্তুগুলি শিল্পের মাধ্যমে সরাসরি ও আবেগপূর্ণভাবে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে।[২][৩] অন্যদিকে অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা তাদের ক্ষমতা, বিজয় ও নিয়ন্ত্রণ সমাজচিত্তে আরোপ করার জন্য বারোক শিল্প ও স্থাপত্যের নাটকীয়তাকে ব্যবহার করত।

"বারোক" (Baroque) শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে। ফরাসি শব্দটি আবার পর্তুগিজ "barroco" বা স্পেনীয় "barrueco" থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়। শব্দটি মূল পর্বের অনেক পরে ১৯শ ও ২০শ শতকের শিল্প সমালোচকদের লেখায় প্রথম ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে "বারোক" পরিভাষাটি দিয়ে যেকোন শিল্পে খুঁটিনাটির অতিবাহুল্যকে নির্দেশ করতে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করা হয়।

1710-15 de Matteis Triumph of the Immaculate anagoria
নিষ্কলঙ্কের বিজয়,
পাওলো দে মাত্তেইস-এর সৃষ্টি
Sant'Andrea
সান্তাদ্রেয়া আল কুইরিনালে গির্জা, জান লোরেনৎসা বেরনিনি-র নকশাকৃত

তথ্যসূত্র

  1. Fargis, Paul (১৯৯৮)। The New York Public Library Desk Reference (third সংস্করণ)। New York: Macmillan General Reference। পৃষ্ঠা 262। আইএসবিএন 0-02-862169-7।
  2. Hughes, J. Quentin (1953). The Influence of Italian Mannerism Upon Maltese Architecture. Melitensiawath. Retrieved 8 July 2016. p. 104-110.
  3. Helen Gardner, Fred S. Kleiner, and Christin J. Mamiya, Gardner's Art Through the Ages (Belmont, CA: Thomson/Wadsworth, 2005), p. 516.
অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়া (জার্মান: Österreich ও্যস্টারাইশ্‌, ক্রোয়েশীয় ভাষায়: Austrija আউস্ত্রিয়া, হাঙ্গেরীয় ভাষায়: Ausztria অউস্ত্রিয়, স্লোভেনীয় ভাষায: Avstrija আভ্‌স্ত্রিয়া) পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। স্থলবেষ্টিত এই দেশের উত্তরে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র, পূর্বে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি, দক্ষিণে স্লোভেনিয়া ও ইতালি, এবং পশ্চিমে সুইজারল্যান্ড ও লিশ্‌টেন্‌ষ্টাইন। অস্ট্রিয়া মূলত আল্পস পর্বতমালার উপরে অবস্থিত। দেশটির তিন-চতুর্থাংশ এলাকাই পর্বতময়।

অস্ট্রিয়া একটি সংসদীয় গণতন্ত্র। এখানে ৯টি ফেডারেল রাজ্য রয়েছে। এটি ইউরোপের ৬টি রাষ্ট্রের অন্যতম যারা স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষতা ঘোষণা করেছে। অস্ট্রিয়া ১৯৫৫ থেকে জাতিসংঘের এবং ১৯৯৫ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

অস্ট্রিয়া অতীতে হাবসবুর্গ রাজাদের অধীনস্থ একটি বিস্তৃত শক্তিশালী সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ভিয়েনা ছিল সেই সাম্রাজ্যের রাজকীয় রাজধানী। ভিয়েনা এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর হিসেবে আদৃত। এর রাজকীয় রূপ, অসাধারণ বারোক স্থাপত্য, সঙ্গীত ও নাট্যকলা জগদ্বিখ্যাত। ভিয়েনা বর্তমানে অস্ট্রিয়ার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) শেষে অস্ট্রিয়ার অধীনস্থ বহুজাতিক সাম্রাজ্যটি ভেঙে যায় এবং তার স্থানে একাধিক জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। অস্ট্রিয়া নিজে একটি ক্ষুদ্র স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। নতুন রাষ্ট্রগুলি বাণিজ্য বাধার সৃষ্টি করলে অস্ট্রিয়া তার প্রাক্তন বৈদেশিক বাজার এবং জ্বালানির উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেশটির অর্থনীতি বৈদেশিক সাহায্যের পর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অস্ট্রিয়াতে রক্ষণশীল শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ১৯৩০-এর দশকের অর্থনৈতিক মন্দা দেশটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। যে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি ভিয়েনাকে সামাজিক গণতন্ত্রের মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছিল, ১৯৩৪ সালে তাদের পতন ঘটে এবং ডানপন্থী স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানি অস্ট্রিয়াকে নিজেদের সাথে সংযুক্ত করে নেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তি অস্ট্রিয়া দখল করে। এসময় মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা এখানে অবস্থান করছিল। ১৯৫৫ সালে অস্ট্রিয়া আবার স্বাধীন হয় এবং তারপর থেকে দেশটির অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে। বর্তমানে দেশটি একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। রপ্তানি ও পর্যটন শিল্প দেশটির আয়ের বড় উৎস। ভিয়েনার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং অস্ট্রিয়ার অসাধারণ সৌন্দর্যময় পার্বত্য ভূদৃশ্যাবলীর টানে এখানে বহু পর্যটক বেড়াতে আসেন।

ইয়োহান জেবাস্টিয়ান বাখ

ইয়োহান জেবাস্টিয়ান বাখ (জার্মান: Johann Sebastian Bach য়োহান্ জ়েবাস্টিয়ান্ বাখ়্ আ-ধ্ব-ব [ˈjoːhan zəˈbastjan ˈbax]) (২১শে মার্চ, ১৬৮৫ পু. প. – ২৮শে জুলাই, ১৭৫০ ন. প.) একজন জার্মান সুরকার ও অর্গানবাদক। তার কাজের পরিমাণ বিপুল। কয়ার, অর্কেস্ট্রা ও একক বাদনের জন্য লেখা তার ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সঙ্গীতকর্ম বারোক পর্বের বিভিন্ন সাঙ্গীতিক ধারাকে একত্রিত করে ও পূর্ণতা প্রদান করে। বাখ কোন নতুন ধরনের সঙ্গীত উদ্ভাবন করেননি। তবে তিনি কাউন্টারপয়েন্ট, ছোট থেকে বড় স্কেলে সুনিয়ন্ত্রিত প্রগমন, ইতালি ও ফ্রান্সের সঙ্গীত থেকে ঋণ করা ছন্দ ও টেক্সচারের প্রয়োগ, ইত্যাদি কৌশল ব্যবহার করে তার সমকালীন জার্মান সঙ্গীতকে ঋদ্ধ করেন। তিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা সুরকার হিসেবে খ্যাত।

জীবিত অবস্থায় একজন দক্ষ অর্গানবাদক হিসেবে প্রচুর খ্যাতি লাভ করলেও সুরকার হিসেবে বাখ তেমন পরিচিতি পান নি। বাখের সমসাময়িক অন্যান্য সুরকাররা বারোক ঘরানার গঠন ও "কনট্র্যাপচুয়াল" ধরনের সঙ্গীতের প্রতি তার অণুরাগকে সেকেলে মনে করতেন‌- বিশেষ করে তার সঙ্গীতজীবনের শেষের দিকে, যখন মূলধারার সঙ্গীত ক্রমশ "রকোকো", ও আরও পরবর্তীকালে ধ্রুপদী, রূপ গ্রহণ করতে থাকে। বাখের সঙ্গীত সম্পর্কে সঙ্গীতজ্ঞদের সত্যিকারের আগ্রহ দেখা যায় ১৯শ শতকের প্রথম দিকে; অন্যদের হাতে তার সঙ্গীতের চর্চাও শুরু হয় এ সময়েই।বাখের সঙ্গীতকর্ম চিন্তার গভীরতা, কৌশলগত দক্ষতা ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। নিচে Weihnachtsoratorium থেকে নেয়া কোরাস Ehre sei Gott in der Höhe শুনুন। এটি বাখ ১৭৩৪-এ রচনা করেন।

ওয়ারশ

ওয়ার্‌শ' বা ভারশাভা (পোলীয় ভাষায়: Warszawa ভ়ার্ষাভ়া; আ-ধ্ব-ব: [varˈʂava]) পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র পোল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও ১৫৯৬ সাল থেকে চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজধানী। প্রশাসনিকভাবে এটি দেশটির মাজোভিয়েৎস্কিয়ে প্রদেশের রাজধানী ও মাজোভিয়া অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ভৌগোলিকভাবে শহরটি পোল্যান্ডের কেন্দ্রভাগে ভিশলা নদীর তীরে অবস্থিত।

ওয়ারশ শহরে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, আইনসভা, সর্বোচ্চ আদালত ও অন্যান্য সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারী কার্যালয়গুলি অবস্থিত। মূল শহরের জনসংখ্যা ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ৮ম সর্বোচ্চ। এছাড়া ওয়ারশ মহানগর এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩১ লক্ষ। মূল শহরের আয়তন ৫১৭ বর্গকিলোমিটার ও মহানগর এলাকার আয়তন ৬১০০ বর্গকিলোমিটার।

১৩শ শতকের শেষদিকে জেলেদের একটি গ্রাম হিসেবে লোকালয়টির যাত্রা শুরু হয়। ১৪শ শতকে (১৩৪৪) এটি মাজোভিয়ার ডিউকদের রাজধানীতে পরিণত হয়।

১৫২৬ সালে এটি পোল্যান্ডের অংশে পরিণত হয়। ১৫৬৯ সালে পোল্যান্ডের রাজা ৩য় সিগিসমুন্ড ক্রাকোভের রাজপ্রাসাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে সেখান থেকে ওয়ারশ-তে তার রাজদরবার স্থানান্তর করেন। ওয়ারশ ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলির একটি হিসেবে গণ্য হত; এমনকি তখন একে “উত্তরের প্যারিস” হিসেবেও ডাকা হত।প্রতিবেশী তিন শক্তি - পশ্চিমের জার্মানি, উত্তরের সুইডেন ও পূর্বের রাশিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ওয়ারশ’ ঐ তিন দেশের মধ্যে রেষারেষির শিকার হয়েছে ইতিহাসে বার বার। ১৬৫৬ ও ১৭০২ সালে সুয়েডীয়রা শহরটির আংশিক ধ্বংসসাধন করে। ১৮শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে রাজা ২য় স্তানিসলাসের সময় স্বাধীন শহরটি এর হৃত শৌর্য আবার ফিরে পায়। কিন্তু ১৮শ শতকের শেষভাগে শহরটি জার্মানভাষী প্রুশয়ার অধীনে আসে। ১৯শ শতকের শুরুতে নেপোলিয়নের সুবাদে ওয়ারশ' স্বাধীন ডিউকরাজ্যের মর্যাদালাভ করলেও শীঘ্রই রাশিয়ার প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে এবং ১ম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এ অবস্থাতেই থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান আক্রমণে শহরটির প্রায় পুরোটাই (৮৫%) ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; জনসংখ্যা কমে এক-দশমাংশে পরিণত হয়। যুদ্ধের পরে সোভিয়েতরা পোল্যান্ডকে একটি উপগ্রহ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলে; সেসময় সোভিয়েত আর্থিক সাহায্যে ওয়ারশ’র ঐতিহাসিক পুরাতন শহরটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুনর্নির্মাণ করা হয়, যার কারণে শহরটির আরেক ডাকনাম "ফিনিক্স নগরী" (পৌরাণিক ফিনিক্স পাখি নিজের চিতাভস্ম থেকে পুনরুজ্জীবন লাভ করেছিল)।

১৯৮৯ সালে সাম্যবাদের অবসানের পরে এবং ১৯৯০-এর দশকের অর্থনৈতিক তেজ বৃদ্ধির সাথে সাথে শহরে নতুন নতুন কার্যালয় ভবন ও হোটেল নির্মিত হয়, ফলে শহরের দিগন্ত রূপরেখায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বর্তমানে প্যারিস, লন্ডন ও ফ্রাংকফুর্টের পাশাপাশি ওয়ারশ’ সর্বোচ্চ গগনচুম্বী অট্টালিকার অধিকারী ইউরোপীয় নগরীগুলির একটি। শহরকেন্দ্রে অবস্থিত কীর্তিস্তম্ভতুল্য সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান প্রাসাদ ওয়ার্‌শ’-র বৈশিষ্ট্যসূচক স্থাপনা। ১৯৮০ সালে ইউনেস্কো ঐতিহাসিক শহরকেন্দ্রটিকে একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা দেয়। শহরকেন্দ্রের মধ্যযুগীয় বাজার-চত্বরটিকে ঘিরে আছে রনেসঁস ও বারোক ঘরানার কিছু ভবন। শহরের প্রাসাদ, গির্জা ও অভিজাত বাসভবনগুলির স্থাপত্যে প্রায় সমস্ত প্রধান প্রধান ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর ছাপ সুস্পষ্ট; শহরকেন্দ্র থেকে হাঁটলেই গোথিক, রনেসঁস, বারোক ও নব্যধ্রুপদী পর্বের সব স্থাপত্যের চমকপ্রদ সব উদাহরণ চোখে পড়ে। কাছেই নদীর উপরে একটি দ্বীপে রাজা ২য় স্তানিসলাসের গ্রীষ্মকালীন বাসভবনটি রয়েছে, যার আরেক নাম “ভাসমান প্রাসাদ”। শহরটি সবুজ, এর এক চতুর্থাংশ এলাকা উদ্যানে আবৃত।শহরের জলবায়ু মিশ্র ধরনের; মহাসমুদ্র ও মহাদেশীয় উভয় প্রকারের জলবায়ুই শহরের জলবায়ুতে প্রভাব ফেলেছে। এখানকার গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা উষ্ণ (জুলাই মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ২৪.৪° সেলসিয়াস), এসময় ঝড়ো বৃষ্টি হয়। আবার শীতকালে তাপমাত্রা হিমশীতল হয়ে থাকে (জানুয়ারি মাসের সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা -৪.২° সেলসিয়াস) এবং এসময় প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে তুষারপাত হয়।

২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে ওয়ারশ’-র জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল ইহুদী। নাৎসিদের পরিকল্পিত গণহত্যার শিকার হয়ে এদের সিংহভাগই (প্রায় ৫ লক্ষ) মৃত্যুবরণ করলেও শহরে এদের সংস্কৃতির ছাপ আজও চোখে পড়ে। এছাড়া ওয়ারশ’ শহরে বিখ্যাত ধ্রুপদী সুরকার ফ্রেদেরিক শোপাঁ এবং বিজ্ঞানী নিকোলাউস কোপের্নিকুস ও মারি কুরি-র উদ্দেশ্যে নিবেদিত মূর্তি ও ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে।

শহরটি ফ্রেদেরিক শোপাঁ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে বিমানপথে বিশ্বের সাথে সংযুক্ত। জনপরিবহনের জন্য বাস, ট্রাম, পাতালরেল ও হালকা নগর রেল ব্যবস্থা আছে। ওয়ারশ’ রেল ও মহাসড়ক জালিকার একটি কেন্দ্র যেগুলির মাধ্যমে এটি পোল্যান্ডের সমস্ত বড় শহর ও ইউরোপের অনেক শহরের সাথে সংযুক্ত।

ওয়ার্‌শ’ শহরটিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর আছে, যাদের সংখ্যা ৩০-এরও বেশি; জাতীয় জাদুঘরে প্রাচীন আফ্রিকান নুবীয় চিত্রকর্ম ছাড়াও ১৪শ থেকে ২১শ শতক পর্যন্ত পোলীয় চিত্রকর্মের সংগ্রহ আছে। প্রতি বছর বইমেলা ছাড়াও এখানে নিয়মিত ভিয়েনিয়াভস্কি ভায়োলিন বা বেহালাবাদন প্রতিযোগিতা ও পঞ্চবাৎসরিক ফ্রেদেরিক শোপাঁ পিয়ানোবাদন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্‌শ' বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান। এ শহরেই পোল্যান্ডের জাতীয় বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি ও প্রায় ২০০০ আসনবিশিষ্ট মহানাট্যশালাটি অবস্থিত।

কাসের্তার প্রাসাদ

কাসের্তার প্রাসাদ (ইতালীয়: Reggia di Caserta; ইতালীয় উচ্চারণ: [ˌrɛddʒa di kaˈzɛrta], রেজ্জো দি কাসের্তা) দক্ষিণ ইতালীর ক্যাসের্তায় অবস্থিত একটি পুরাতন রাজকীয় বাসভবন যা নেপলসের রাজার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৮শ শতকে তৈরীর পর থেকেই এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদ এবং ইউরোপের অন্যতম বড় ভবন হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৭ সালে এটি ইউনেস্কো ঘোয়িত বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভূক্ত।

চেক প্রজাতন্ত্র

চেক প্রজাতন্ত্র (চেক ভাষায় Česká republika চেস্কা রেপুব্লিকা, Česko) মধ্য ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত বৃহত্তম শহর ও রাজধানীর নাম প্রাগ (Praha প্রাহা)। ঐতিহাসিক বোহেমিয়া অঞ্চল, মোরাভিয়া অঞ্চল ও সাইলেসিয়া অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে দেশটি গঠিত। ২০শ শতকের অধিকাংশ জুড়ে দেশটি প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ার সাথে মিলিতভাবে চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ১৯৯৩ সালে দেশ দুইটি ভাগ হয়ে যায়।

চেক প্রজাতন্ত্রকে চারটি দেশ ঘিরে রেখেছে। দেশটির উত্তরে পোল্যান্ড, পূর্বে স্লোভাকিয়া, দক্ষিণে অস্ট্রিয়া এবং পশ্চিমে জার্মানি। চেক প্রজাতন্ত্রের পর্বতবেষ্টিত পাহাড়ী পশ্চিম ভাগের নাম বোহেমিয়া আর পূর্বের নিম্নভূমির নাম মোরাভিয়া। উত্তরের নিম্নভূমি অঞ্চল সাইলেসিয়া নামে পরিচিত এবং এটি দক্ষিণ পোল্যান্ডেও বিস্তৃত।

চেক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। গথিক, রেনেসাঁস, বারোক ও আধুনিক ধাঁচের স্থাপত্যকলা, নৈসর্গিক দৃশ্যাবলি সমৃদ্ধ গ্রামাঞ্চল, প্রাচীন প্রাসাদ, স্বাস্থ্যসম্মত খনিজ ঝর্ণা বা স্পা, ফ্রান্‌ৎস কাফকার লেখা আর আন্তোনিন দ্‌ভোরাকের সঙ্গীতের জন্য দেশটি র বিখ্যাত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দেশটি সোভিয়েত প্রভাবাধীন ছিল। ১৯৯০-এর দশকে দেশটির অর্থনীতি বেসরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র ইউরোপের সবচেয়ে শিল্পায়িত দেশগুলির একটি। তবে এর ফলে দেশটি পরিবেশ দূষণেরও শিকার।

ঐতিহ্যবাহী চেক দ্রব্যের মধ্যে আছে সুক্ষ্ম স্ফটিক এবং বিয়ার। পর্যটনও দেশটির আয়ের অন্যতম উৎস। দেশটির অতিথিরা প্রাগের স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হন। শহরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

চেক প্রজাতন্ত্র একটি উন্নত দেশ, উচ্চ জীবনযাত্রার মান সঙ্গে তাদের আছে উচ্চ আয়ের অর্থনীতি। এছাড়াও চেক প্রজাতন্ত্র ১১তম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, ওইসিডি, ওএসসিই এবং কাউন্সিল অফ ইউরোপের একজন সদস্য।

চেলো

চেলো বা ভায়োলনচেলো হল বেহালা প্রজাতির এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র। এর চারটি স্ট্রিং, তথা উচু থেকে নিচু সি২, জি২, ডি৩ ও এ৩, স্বয়ংসম্পূর্ণ পঞ্চম সুরে ব্যবহৃত হয়। চেলোর জন্য সঙ্গীত মূলত বাস ক্লেফে লেখা হয়ে থাকে এবং উচ্চতর সুরের জন্য টেনর ক্লেফ ও ট্রেবল ক্লেফ ব্যবহৃত হয়।

চেলোবাদক বা ভায়োলনচেলোবাদক এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে থাকেন। চেলো প্রায়ই বেজ অংশের জন্য বাজানো হয়ে থাকে, চেম্বার সঙ্গীতে স্ট্রিং কোয়ার্টার ও অর্কেস্ট্রা স্ট্রিং অংশ উভয় ক্ষেত্রেই বাজানো হয়। চেলো সিমফনি অর্কেস্ট্রা ও চেম্বার সঙ্গীতদলে ব্যবহৃত হয়।

জালৎস্‌বুর্গ

জালৎস্‌বুর্গ (ইংরেজি: Salzburg; Salzburg ; (অস্ট্র-বাভারিয়ান: Såizburg; সাধারণ অর্থে: "লবণাক্ত প্রাসাদ") অস্ট্রিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর এবং জালৎস্‌বুর্গ ফেডারেল এস্টেট-এর রাজধানী। জালৎস্‌বুর্গ-এর “পুরোনো শহর” আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এর বারোক স্থাপত্যের জন্য এবং আল্পস-এর উত্তরের সবচেয়ে সংরক্ষিত জায়গা। ১৯৯৭ সাল থেকে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৮-শতকের বিখ্যাত মিউজিক বাদক উলফগ্যাং আমেদিউস মোজার্ট এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জালৎস্‌বুর্গ প্রদেশের রাজধানী শহরে ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যেখানে প্রচুর শিক্ষার্থী লেখাপড়া করেন যারা এই এলাকার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন।

দমেনিকো জাম্পিয়েরি

দমেনিকো জাম্পিয়েরি (মতান্তরে দমেনিকিনো) (অক্টোবার ২১, ১৫৮১ - এপ্রিল ১৫, ১৬৪১) বলোনীয় ঘরানার (বা কাররাকাচ্চি ঘরানার) একজন গুরুত্বপূর্ণ ইতালীয় বারোক চিত্রশিল্পী ছিলেন।

দিয়েগো বেলাসকেস

দিয়েগো রোদ্রিগেস দে সিলবা ই বেলাসকেস (স্পেনীয় ভাষায়: Diego Rodríguez de Silva y Velázquez) (৬ই জুন, ১৫৯৯ - ৬ই আগস্ট, ১৬৬০) বিখ্যাত স্পেনীয় চিত্রশিল্পী। তিনি রাজা ফিলিপ ৪ এর রাজদরবারের প্রধান শিল্পী ছিলেন। সমসাময়িক বারোক যুগের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদী শিল্পী হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধ, মূলত পোর্ট্রেট শিল্পে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বহু দৃশ্যকে ছবিতে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি স্পেনের রাজ পরিবারের অনেকের পোর্ট্রেট এঁকেছেন বেলাসকেস। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ লোকের ছবি এঁকেছেন। তার শিল্পী ক্যারিয়ার চূড়ান্ত সফলতা লাভ করেছে লেস মেনিয়ান্সের (১৯৫৬) মাধ্যমে।

পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীত

ধ্রুপদী সঙ্গীত, মূলতঃ পাশ্চাত্য সংগীত প্রথা, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়েই গড়ে উঠেছে । যদিও ১৭৫০ থেকে ১৮২০ সালকে ক্ল্যাসিকেল (উচ্চাঙ্গ বা শাস্ত্রীয়) যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবুও এই নিবন্ধটিতে বিগত ১১ শ’শতকের সময় থেকে বর্তমান সময় অব্দি ক্ল্যাসিকেল (উচ্চাঙ্গ বা শাস্ত্রীয়)সংগীতের বিভিন্ন সময়কাল নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হলো।

এই ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় নিয়ম ১৫৫০ এবং ১৯০০ সাল এর মধ্যে সংহিতাবদ্ধ ওঠে, যা সাধারণ অনুশীলন সময়কাল হিসাবে পরিচিত ।

পাশ্চাত্য শিল্প সঙ্গীতের প্রধান সময় বিভাজন নিম্নরূপঃ

প্রাথমিক সময়কালঃমধ্যযুগীয় (৫০০-১৪০০)

রেনেসাঁ (১৪০০-১৬০০)

বারোক (১৬০০-১৭৫০)সাধারণ অনুশীলন কালঃবারোক (১৬০০-১৭৫০)

ধ্রুপদী (১৭৫০-১৮২০)

রোমান্টিক (১৮০৪-১৯১০)২০শ শতাব্দী (১৯০১-২০০০)আধুনিক (১৮৯০-১৯৩০)

উচ্চ আধুনিক (১৯৫০-১৯৬৯)

সমসাময়িক (১৯৪৫/১৯৭৫- বর্তমান)

প্রাগ

প্রাগ(Prague) চেক: প্রাগ, [praɦa] (শুনতে), জার্মানি: Prag মূলধন ও চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম শহর। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৪তম বৃহত্তম শহর। এছাড়াও বোহেমিয়ার ঐতিহাসিক রাজধানী। Vltava নদীর ওপর দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত শহর বাড়ি সম্পর্কে ১.২৬ মিলিয়ন মানুষ, যখন তার বড় শহুরে জোন প্রায় ২ মিলিয়ন জনসংখ্যার আছে বলে অনুমান করা হয়। শহর একটি নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ, উষ্ণ গ্রীষ্মকালে এবং ঠাণ্ডা শীতকালে সঙ্গে. প্রাগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বনিম্ন বেকারত্বের হার হয়েছে।

প্রাগ ওয়াক্সিং এবং তার ১১০০ বছরের অস্তিত্বের সময় ভাগ্য ক্ষীয়মাণ সঙ্গে মধ্য ইউরোপের একটি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়েছে। রোমান সময় প্রতিষ্ঠিত এবং গথিক, রেনেসাঁ এবং বারোক যুগের দ্বারা সমৃদ্ধ, প্রাগ শুধুমাত্র চেক রাজ্যের রাজধানী নয়, বরং দুই পবিত্র রোমান সম্রাট সীট এবং এইভাবে এছাড়াও পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। এটা Habsburg রাজতন্ত্র এবং তার অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের এবং বিশ্বযুদ্ধের পর আমি চেকোস্লোভাকিয়ার রাজধানী ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। শহর বোহেমিয়ান এবং প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার, থার্টি ইয়ার্স ওয়ার, এবং বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে প্রধান ভূমিকা পালন, উভয় বিশ্বযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর কমিউনিস্ট আমলে।

প্রাগ বিখ্যাত সাংস্কৃতিক আকর্ষণ, যা অনেক সহিংসতা ও বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের ধবংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল একটি নম্বর থেকে বাড়িতে. প্রধান আকর্ষণ প্রাগ কাসল, চার্লস ব্রিজ, ওল্ড টাউন স্কয়ার প্রাগ জ্যোতির্বিদ্যা ঘড়ি সঙ্গে, ইহুদি কোয়ার্টার, Petřín পাহাড় ও Vyšehrad অন্তর্ভুক্ত. 1992 সাল থেকে, প্রাগ ব্যাপক ঐতিহাসিক কেন্দ্র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ইউনেস্কো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে.

শহর, অধিক দশ প্রধান জাদুঘর boasts অনেক থিয়েটার, গ্যালারী, সিনেমা, এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক চিত্র প্রদর্শনীতেও সঙ্গে বরাবর. একটি ব্যাপক আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা শহর সংযোগ করে. এছাড়াও, এটা প্রাগের চার্লস ইউনিভার্সিটি, মধ্য ইউরোপ প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় সহ সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়, বিস্তৃত করা হয়। প্রাগ GaWC গবেষণা অনুযায়ী একটি "Alpha-" বিশ্বব্যাপী শহর হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, ভিয়েনা তুলনীয় সিউল ও ওয়াশিংটন ডিসি প্রাগ ষষ্ঠ সেরা গন্তব্যস্থল TripAdvisor বিশ্বের তালিকায় ২০১৬ তম স্থান তার সমৃদ্ধ ইতিহাস এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য করে তোলে, এবং শহর, বার্ষিক বেশি 6.4 মিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শক পায় ২০১৪। প্রাগ যেমন লন্ডন, প্যারিস, ইস্তানবুল এবং রোম পর পঞ্চম সর্বাধিক দেখা ইউরোপীয় শহর। প্রাগের জীবিতদের কম খরচে এটা ইউরোপ স্থানান্তর পূর্বসূরী জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।

ভাল্লেত্তা

ভাল্লেত্তা (মাল্টীয় ভাষায়: Valletta ভ়াল্লেত্তা) মাল্টার রাজধানী ও প্রধান শহর। এটি মাল্টা দ্বীপের মধ্য-পূর্বাংশে অবস্থিত। শহরের মূল অংশের জনসংখ্যা ২০০৫ এর হিসাবে ৬৩১৫।

ভালেত্তা শহরে ১৬শ শতক ও তার পরবর্তী আমলে তৈরি হওয়া প্রাচীন প্রচুর ভবন রয়েছে। জেরুজালেমের সেন্ট জনের নাইটদের হাতে এসব ভবন তৈরি হয়েছিলো। শহরটির স্থাপত্যরীতি অনেকটা বারোক ঘরানার, যাতে যুক্ত হয়েছে ম্যানারিস্ট, নিওক্লাসিকাল ও আধুনিক রীতি। তবে শহরের অনেক জায়গাতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন বিদ্যমান। ১৯৮০ সালে ইউনেস্কো ভালেত্তা শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।শহরটির নাম রাখা হয়েছে জাঁ পারিসো দ্য লা ভালেত্তের নামানুসারে। ভালেত্তে ১৫৬৫ সালে তুর্কী উসমানীয় সাম্রাজ্যের এক আক্রমণ থেকে শহরটিকে প্রতিরক্ষা করেন। সেন্ট জনের নাইটদের প্রদত্ত শহরের পূর্ণ নামটি হলো "Humilissima Civitas Valletta — অর্থাৎ বিনয়ী শহর ভালেত্তা। শহরটির সৌন্দর্যের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন রাজবংশ এই শহরকে Superbissima — অর্থাৎ সর্বাপেক্ষা গর্বিত এই ডাকনাম দিয়েছিলো।

মিউনিখ

মিউনিখ বা ম্যুনশেন (উচ্চারণ জার্মান ভাষায়: München ম্যুন্‌শেন্‌ আ-ধ্ব-ব [ˈmʏnçən] ; অস্ট্রো-বাভারীয়: Minga ) মধ্য ইউরোপের রাষ্ট্র জার্মানির দক্ষিণ-মধ্যভাগে, অস্ট্রিয়া-জার্মান সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি বৃহৎ শহর। প্রশাসনিকভাবে মিউনিখ জার্মানির বায়ার্ন (বাভারিয়া) রাজ্যের রাজধানী শহর। জনসংখ্যার বিচারে এটি বায়ার্ন রাজ্যের বৃহত্তম, দক্ষিণ জার্মানির বৃহত্তম এবং সমগ্র জার্মানির ৩য় বৃহত্তম নগরী (বার্লিন ও হামবুর্গের পরে)। এখানে প্রায় ১৫ লক্ষ লোকের বাস। ভৌগোলিকভাবে শহরটি আল্পস পর্বতমালার থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ৫২০ মিটার উচ্চতায় একটি সমতল মালভূমিতে অবস্থিত। ইজার নদীটি শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শিল্পোৎপাদন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবহনের দৃষ্টিকোণ থেকে মিউনিখ জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর, যার কারণে সারা দেশ থেকেই বহু অভিবাসী এখানে বসবাস করতে আসে। পর্যটকদের কাছে মিউনিখের অভিজাত সব বিপণী, চলতি নৈশক্লাব, উন্নতমানের মদ্যপানীয় চোলাইয়ের বিভিন্ন কারখানা ও প্রাণোচ্ছল উৎসব-উদ্দীপনা আকর্ষণের কিছু প্রধান কারণ। বাৎসরিক অক্টোবারফেস্ট ("অক্টোবার উৎসব") নামের বিয়ার পানের উৎসবটি সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে। এছাড়া মিউনিখ জার্মানি থেকে আল্পস পর্বতমালা অঞ্চলে প্রবেশের দ্বার হিসেবেও গণ্য হয়।

মিউনিখ রেলপথ ও মহাসড়কপথব্যবস্থার মাধ্যমে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সমস্ত বড় শহরের সাথে সংযুক্ত। মিউনিখ রেলস্টেশনটি জার্মানির ও ইউরোপের যাত্রীবাহী দ্রুতগামী রেল-পরিবহন ব্যবস্থার একটি প্রধান কেন্দ্র। ষ্টুটগার্ট, ন্যুর্নবের্গ ও জালৎসবুর্গ থেকে আগত মহাসড়কগুলি মিউনিখে এসে মিলিত হয়েছে। শহরের উত্তর-পূর্বদিকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরত্বে ১৯৯২ সালে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হয়, যার নামে ফ্রানৎস ইয়োজেফ ষ্ট্রাউস বিমানবন্দর। মিউনিখ শহরকেন্দ্রের অধিকাংশেই মোটরযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শহরে একটি আধুনিক পাতালরেল (দ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা) নির্মাণ করা হয়েছে।

মিউনিখের পুরাতন অংশটি ইজার নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এখানে বেশ কিছু বারোক ও রোকোকো স্থাপত্য ঘরানার ভবন ও স্থাপনা আছে, যেগুলির বেশিরভাগই ১৮শ শতকের প্রথমার্ধে বায়ার্নের শাসকেরা ইতালীয় স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে নির্মাণ করান। পুরাতন মিউনিখ শহরের কেন্দ্রস্থলে যে সুপরিচিত উন্মুক্ত চত্বরটি অবস্থিত, তার নাম মারিয়েনপ্লাৎস। মারিয়ানপ্লাৎস চত্বরের উপরেই আধিপত্য বিস্তার করে দাঁড়িয়ে আছে মিউনিখের নব্য-গোথিক শৈলীর কারুকার্যখচিত নতুন নগরভবন,যার স্থানীয় জার্মান নাম নয়েস রাটহাউস। ভবনটিকে ১৮৬৭ থেকে ১৯০৯ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। ভবনের বুরূজটির ঘন্টাঘরে প্রতিদিন একগুচ্ছ ঘন্টা ধ্বনিত করা হয়। একই চত্বরেই মিউনিখের পুরাতন নগরভবনটিও অবস্থিত, যার নাম আল্টেস রাটহাউস (১৫শ শতকের শেষভাগে নির্মিত)। চত্বর থেকে কাছেই আছে ১৫শ শতকে (১৪৮৮) নির্মিত ফ্রাউয়েনকির্শে ("কুমারী মেরির গির্জা") নামের বিলম্বিত-গোথিক স্থাপত্যশৈলীর সুবিশাল একটি ইষ্টকনির্মিত ক্যাথেড্রাল (ধর্মপালের আসনবিশিষ্ট গির্জা), যার দুইটি পেঁয়াজাকৃতির গম্বুজবিশিষ্ট বুরূজের প্রতিটির উচ্চতা ৯৯ মিটার (৩২৫ ফুট)। এই গির্জাটি মিউনিখ নগরীর প্রধানতম প্রতীক। পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের সম্রাট বায়ার্নের ৪র্থ লুডভিগের (আনু. ১২৮৩ - ১৩৪৭) সমাধি এই গির্জার অভ্যন্তরভাগে সংরক্ষিত আছে। মিউনিখের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গির্জার মধ্যে আছে শহরের প্রাচীনতম গির্জা পেটার্সকির্শে, যা ১১শ শতকে নির্মিত হয়; এবং মিখায়েলসকির্শে, যা হল ১৬শ শতকে রনেসঁস (রেনেসাঁ) ঘরানার স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি গির্জা যেখানে মিউনিখের তথা বায়ার্ন (বাভারিয়া) রাজ্যের প্রাক্তন শাসকবংশ ভিটেল্‌সবাখ পরিবারের পারিবারিক সমাধি-প্রকোষ্ঠটি অবস্থিত।

মিউনিখ শহরের আদি নগরপ্রবেশদ্বারগুলির অনেকগুলিই এখনও দণ্ডায়মান, যাদের মধ্যে ১৩১০ সালে নির্মিত জেন্ডলিঙার টোর (জেন্ডলিঙার প্রবেশদ্বার) এবং ১৩৩৭ সালে নির্মিত ইজার টোর (ইজার প্রবেশদ্বার) উল্লেখযোগ্য। শহরের হেলাব্রুন চিড়িয়াখানাটি জার্মানির বৃহত্তম চিড়িয়াখানাগুলির একটি। শহরের পরিসীমার মধ্যে আরও আছে হ্রদসহ একটি ইংরেজ উদ্যান (ইংলিশার গার্টেন), চীনা বৌদ্ধ প্যাগোডা এবং হাউস ডের কুন্‌স্ট নামের একটি শিল্পকলা প্রদর্শনীকেন্দ্র। ।

১৯৭২ সালে মিউনিখ শহরে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে শহরের উত্তরভাগে একটি বৃহৎ ক্রীড়াক্ষেত্র বা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়, যার নাম ওল্যুমপিয়াপার্ক।

মারিয়েনপ্লাৎসের উত্তর-পূর্ব দিকে ভিটেলস্‌বাখ পরিবারের একাধিক ভবনবিশিষ্ট রাজকীয় প্রাসাদ এলাকাটিকে সহজভাবে "রেজিডেনৎস" নামে ডাকা হয়। এটিকে বহু শতাব্দী ধরে নির্মাণ করা হয় এবং বর্তমানে এটিকে একটি জাদুঘরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রেজিডেনৎস এলাকার রোকোকো স্থাপত্যঘরানায় নির্মিত কুভিলিয়েস নাট্যশালাটি (১৭৫১-১৭৫৩ সালে ফ্রঁসোয়া দ্য ক্যুভিলিয়ে-র নকশা করা) বর্তমানে বায়ার্ন রাজ্যের নাট্যশালায় পরিণত হয়েছে। এর ঠিক দক্ষিণেই আছে জার্মানির জাতীয় নাট্যশালা, যেটি বায়ার্ন রাজ্য গীতিনাট্যদলের আলয়। রেজিডেনৎসের রাজকীয় প্রাসাদের পার্শ্বদেশগুলি, এর অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন সৌকর্যমণ্ডিত সুদৃশ্য কক্ষ (যেমন রাইশেস সিমার), কোষাগারকক্ষ ও ভেতরের আঙিনাগুলি পর্যটকদের জন্য দর্শনীয়।

ইজার নদীর পূর্ব তীরে বায়ার্ন (বাভারিয়া) রাজ্যের রাজ্য সংসদভবন মাক্সিমিলিয়ানেউম অবস্থিত, যেটি ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। মাক্সিমিলিয়ানষ্ট্রাসে নামের একটি প্রশস্ত রাজপথের দুই পাশে বহু অভিজাত বিপণী ও চিত্রশালা আছে; এই পথ ধরে এগিয়েই মাক্সিমিলিয়ানেউম ভবনে পৌঁছানো যায়; আদিতে ভবনটি একটি রাজকীয় বিদ্যালয় ছিল।

শহরকেন্দ্র থেকে উত্তর-পশ্চিমে দৃষ্টিনন্দল ভূদৃশ্যবহুল মিউনিখ উদ্ভিদ উদ্যানের ভেতরে বারোক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত শ্লস ন্যুমফেনবুর্গ (ন্যুমফেনবুর্গ দুর্গ) অবস্থিত। ১৭শ শতকের শেষভাগে (১৬৬৪ সালে) দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু হয় । বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর।

মিউনিখ শহরে বহুসংখ্যক মনে দাগ কাটার মত জাদুঘর ও শিল্পকলা প্রদর্শনীকেন্দ্র অবস্থিত। ডয়চেস মুজেউম ("জার্মান জাদুঘর") একটি সমৃদ্ধ বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জাদুঘর যেটি ইজার নদীতে একটি দ্বীপের উপরে অবস্থিত। অন্যদিকে বায়ার্ন জাতীয় জাদুঘরে মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ১৯শ শতক পর্যন্ত সৃষ্ট চারু ও দারুকলার সংগ্রহ আছে। ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আল্টে পিনাকোটেক ("পুরাতন চিত্রকলা প্রদর্শনকেন্দ্র") নামের শিল্পকলা প্রদর্শনীকেন্দ্রটি শুধু জার্মানি নয়, সমগ্র ইউরোপের একটি অগ্রগণ্য শিল্পকেন্দ্র, যেখানে মধ্যযুগ থেকে ১৮শ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত আঁকা অনেক খ্যাতনামা শিল্পীর বহু চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে; এসব শিল্পীর মধ্যে আলব্রেখট ড্যুরার, রাফায়েল, এল গ্রেকো, পিটার পল রুবেনস ও রেমব্রান্টের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিধ্বস্ত একটি জাদুঘরকে প্রতিস্থাপন করতে ১৯৮১ সালে নয়ে পিনাকোটেক ("নতুন চিত্রকলা প্রদর্শনকেন্দ্র") নামের একটি চিত্রশালা উদ্বোধন করা হয়, যাতে ১৮শ শতক ও ১৯শ শতকের ইউরোপীয় শিল্পকলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ বিদ্যমান। এছাড়াও বিশাল আয়তনের পিনাকোটেক ডের মোডের্নে নামের চিত্রশালাতে ২০শ শতক ও ২১শ শতকের চিত্রকলা, নকশা ও স্থাপত্যের নিদর্শন প্রদর্শিত হয়। মোটরযান নির্মাতা বে এম ভে বা বি এম ডব্লিউয়ের প্রধান কার্যালয়ের ঠিক পাশেই একটি মোটরযান জাদুঘর আছে। শহরকেন্দ্র থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ক্যোনিগসপ্লাৎস নামের চত্বরে গ্ল্যুপটোটেক ও আন্টিকেন-জামলুঙেন নামের দুইটি প্রাচীন যুগের দ্রব্য ও নিদর্শনাদির সংগ্রহশালা আছে।

১ম বিশ্বযুদ্ধের পরে মিউনিখ উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এখান থেকেই আডলফ হিটলার ও নাৎসিবাদের উত্থান ঘটে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিউনিখ শহর থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরত্বে কুখ্যাত ডাখাউ ইহুদী বন্দীশিবিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালের অলিম্পিক প্রতিযোগিতা চলার সময় ফিলিস্তিনি জঙ্গী দল "কালো সেপ্টেম্বর" মিউনিখ থেকে ১১ জন ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদকে অপহরণ করলে শহরটি আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন হয়। বর্তমানে এখানে অপরাধের হার খুবই কম। ব্রিটিশ সাময়িকী মোনকল ২০১৮ সালে ধূলাবালিহীন, নির্মল, পরিচ্ছন্ন মিউনিখ শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের মর্যাদা দান করে।

রোম

রোম বা রোমা (ইতালীয়: Roma [ˈroːma] (শুনুন), লাতিন: Rōma) ইতালির একটি ষর এবং বিশেষ কমুনে ("Roma Capitale" নামে)। রোম ইতালি ও লাসিও অঞ্চলের রাজধানী। ২.৯ মিলিয়ন অধিবাসী নিয়ে ১,২৮৫ কিমি২ (৪৯৬.১ মা২) এটি দেশের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে জনবহুল কমুনে এবং শহুরে জনসংখ্যা দ্বারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চতুর্থ সবচেয়ে জনবহুল শহর। রোম মেট্রোপলিটন শহরের জনসংখ্যা ৪.৩ মিলিয়ন। লাসিওর মধ্যে, টাইবার নদীর তীরে বরাবর, শহরটি ইতালীয় উপদ্বীপের কেন্দ্রীয় পশ্চিম অংশে অবস্থিত। ভ্যাটিকান সিটি, রোম শহরের সীমার মধ্যে একটি স্বাধীন দেশ, একটি শহরের মধ্যে একটি দেশের বিদ্যমানের একমাত্র উদাহরণ: এই কারণে রোমকে প্রায়ই দুই রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।রোমের ইতিহাস আড়াই হাজার বছরের বেশি পুরোনো। যদিও খ্রিষ্টপূর্ব ৭৫৩-এর কাছাকাছি সময়ে রোম প্রতিষ্ঠার সময়কাল থেকে রোমান পুরাণ উল্লেখিত, এই অঞ্চলে অনেক আগে থেকে মানব বসতি ছিলো, যার ফলে এটি ইউরোপের প্রাচীনতম অধ্যুষিত শহরগুলোর অন্যতম। লাতিনদের একটি মিশ্রণ থেকে শহরের প্রথম দিকের জনসংখ্যা সম্ভূত, এত্রুস্কান এবং সাবিন্স। অবশেষে, শহরটি ধারাবাহিকভাবে রোমান রাজ্য, রোমান প্রজাতন্ত্র ও রোমান সাম্রাজ্য-এর রাজধানীতে পরিণত হয়, এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্মস্থান হিসাবে একে গণ্য করা হয়। একে "Roma Aeterna" (শাশ্বত শহর) এবং "Caput Mundi" (বিশ্বের রাজধানী) হিসেবে গণ্য করা হয়, প্রাচীন রোমান সংস্কৃতি দুইটি কেন্দ্রীয় ধারণা।

সাম্রাজ্যের পতনের পর, যা মধ্যযুগের শুরু চিহ্নিত করে, রোম ধীরে ধীরে পোপের শাসনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। যা ১ম শতকে নির্ধারিত হয়ে ৮ম শতক পর্যন্ত চলছিলো। তখন এটি পেপাল রাষ্ট্রের রাজধানী হয় এবং ১৮৭০ সাল পর্যন্ত ছিলো।

রেনেসাঁ-এর শুরু থেকে, পঞ্চম নিকোলাস (১৪২২-৫৫) থেকে প্রায় সব পোপ শহরটিকে বিশ্বের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করতে লক্ষ্য

চারশো বছর ধরে স্থাপত্য-সংক্রান্ত এবং শহুরে পরিকল্পনা সুসঙ্গতভাবে অনুসরণ করেন। এর দরুণ, রোম, ইতালীয় রেনেসাঁসের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে, এবং তারপর বারোক শৈলী জন্মস্থান। বারোক সময়ের বিখ্যাত শিল্পী এবং রেনেসাঁ স্থপতিরা রোমকে তাদের কার্যকলাপ কেন্দ্রে পরিণত করে এবং শহর জুড়ে শ্রেষ্ঠ শিল্পকলা তৈরি করে। ১৮৭১ সালে রোম, ইতালি রাজ্য এবং ১৯৪৬ সালে ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের রাজধানীতে পরিণত হয়।

রোমের গ্লোবাল শহরের স্বীকৃতি আছে। ২০১১ সালে, রোম পৃথিবীর ১৮-তম সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী শহর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে ৩য়, এবং ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটক আকর্ষণ ছিলো। এর ঐতিহাসিক কেন্দ্র বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ইউনেস্কো দ্বারা তালিকাভুক্ত। সৌধ ও জাদুঘর যেমন ভ্যাটিকান জাদুঘর এবং কলোসিয়াম বিশ্বের সর্বাধিক দেখা পর্যটক গন্তব্যস্থলগুলির মধ্যে একটি। রোম ১৯৬০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজন করে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আসন রয়েছে।

সন্ত পিটারের গির্জা, মিউনিখ

সেন্ট পিটার্স‌ গির্জা জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত রোমান ক্যাথলিক গির্জা। এটি মিউনিখের সবচেয়ে পুরনো পেরিশ গির্জা। স্থানীয়ভাবে গির্জাটি আল্টার পিটার বা পুরনো পিটার নামে পরিচিত। গির্জাটি পিটার্সবার্গ‌ল নামক পাহাড়ে অবস্থিত, যা মিউনিখের ঐতিহাসিক পুরনো শহরের একমাত্র উল্লেখযোগ্য উচু স্থান।

১০০ ইউরো নোট

একশো ইউরোর নোটটি (প্রতীক: € ১০০) ইউরো ব্যাংকনোটের উচ্চ মূল্যের একটি ব্যাংকনোট যা ২০০২ সালে ইউরোর (এর নগদ রূপে) প্রচালন থেকে ব্যবহার করা হয়ে হচ্ছে। ২৩টি দেশ (আইনগতভাবে ২২টি) তাদের একমাত্র মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছে। ২০১৫ সাল অনুযায়ী যার জনসংখ্যার ৩৩৮ মিলিয়নের বেশি। এটা ইউরো নোটের তৃতীয় বৃহত্তম নোট যার আকৃতি ১৪৭ x ৮২মিমি এবং একটি সবুজ রঙের রেখাচিত্র আছে। একশো ইউরোর ব্যাংকনোটে বারোক এবং রকোকো (১৭শ-১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত) স্টাইলের সেতু এবং খিলান / প্রবেশপথ অঙ্কন করা রয়েছে।

একশো ইউরোর ব্যাংকনোটে বিভিন্ন যেমন, জলছাপ, অদৃশ্য কালি, হলোগ্রাম এবং ক্ষুদ্রছাপা যা নোটের নির্ভেজালত্ব প্রমাণসহ জটিল নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে, ইউরোজোনে প্রায় ২,০৯৪,১৭১.৬৬৬টি একশো ইউরোর ব্যাংকনোট বাজারে রয়েছে।

১৫ এপ্রিল

১৫ এপ্রিল গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ১০৫তম (অধিবর্ষে ১০৬তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ২৬০ দিন বাকি রয়েছে।

২ বৈশাখ

২ বৈশাখ বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বছরের ২য় দিন। বছর শেষ হতে ৩৬৩ দিন (অধিবর্ষে ৩৬৪ দিন) অবশিষ্ট রয়েছে।

২১ অক্টোবর

২১ অক্টোবর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ২৯৪তম (অধিবর্ষে ২৯৫তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ৭১ দিন বাকি রয়েছে।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.