বাণিজ্য

বাণিজ্য হল পণ্য বা সেবা অথবা উভয়ের আদান প্রদানকে বুঝায়। একে ব্যবসাও বলা হয়। শিল্পে উৎপাদিত কোনো পণ্য বা সেবা সরাসরি গুদাম থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছায় না। এজন্য গুদামজাতকরণ, পরিবহন থেকে শুরু করে নানা ধাপ পেড়োতে হয়, আর ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর এইসকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে।[১]

Kaufmann-1568
জার্মানির এক ব্যবসায়ী, ষোড়শ শতাব্দী

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. http://webcache.googleusercontent.com/search?q=cache:YW68jw1oAGAJ:www.teachers.gov.bd/sites/default/files/presentation/Business-nine.pptx+&cd=1&hl=bn&ct=clnk&client=firefox-a
আফগানিস্তান

আফগানিস্তান, যার সরকারি নাম আফগানিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্র (পশতু: د افغانستان اسلامي جمهوریت: দে আফ্‌গ়ানিস্তান্‌ ইস্‌লামি জোম্‌হোরিয়াৎ‌; ফার্সি: جمهوری اسلامی افغانستان‎‎ জোম্‌হুরীয়ে এস্‌লমীয়ে অ্যাফ্‌গ়নেস্তন্‌ আ-ধ্ব-ব: [dʒomhuːɾije eslɒːmije æfɣɒːnestɒːn]) দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এটি ইরান, পাকিস্তান, চীন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যস্থলে একটি ভূ-বেষ্টিত মালভূমির উপর অবস্থিত। আফগানিস্তানকে অনেক সময় দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অংশ হিসেবেও গণ্য করা হয়। আফগানিস্তানের পূর্বে ও দক্ষিণে পাকিস্তান , পশ্চিমে ইরান, উত্তরে তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান এবং উত্তর-পূর্বে গণচীন। আফগানিস্তান শব্দটির অর্থ "আফগান (তথা পশতুন) জাতির দেশ"। আফগানিস্তান একটি রুক্ষ এলাকা - যার অধিকাংশ এলাকা পর্বত ও মরুভূমি আবৃত।শুধু পার্বত্য উপত্যকা এবং উত্তরের সমভূমিতে গাছপালা দেখা যায়। এখানকার গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া গরম ও শুষ্ক এবং শীতকালে প্রচণ্ড শীত পড়ে। কাবুল দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

আফগানিস্তান প্রাচীনকাল থেকেই এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বহু প্রাচীন বাণিজ্য ও বহিরাক্রমণ এই দেশের মধ্য দিয়েই সংঘটিত হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু লোক আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে চলাচল করেছেন এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। দেশটির বর্তমান জাতিগত ও ভাষাগত বৈচিত্র্য এই ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। আফগানিস্তানে বসবাসরত সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হল পশতু জাতি। এরা আগে আফগান নামেও পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে আফগান বলতে কেবল পশতু নয়, বরং জাতি নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিককেই বোঝায়।

আরব সাগর

আরব সাগর (ইংরেজি: Arabian Sea) বা সিন্ধু সাগর ভারত মহাসাগরের অংশবিশেষ, যার পশ্চিমে রয়েছে আরব উপদ্বীপ এবং পূর্বে ভারতীয় উপমহাদেশ। এর উত্তরে ইরান ও পাকিস্তান। দক্ষিণে এটি ভারত মহাসাগরের মূল অংশের সাথে মিলে গেছে। আরব সাগরের মূল বাহুগুলির মধ্যে আছে লোহিত সাগরের সাথে সংযোগকারী আদান উপসাগর এবং পারস্য উপসাগরের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী ওমান উপসাগর। আরব সাগরের সর্বোচ্চ বিস্তার ২,৪০০ কিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,০০০ মিটার। পাকিস্তানের করাচি এবং ভারতের মুম্বাই এই সাগরের তীরে অবস্থিত প্রধান সমুদ্র বন্দর।

ইন্টারনেট ব্রডওয়ে ডেটাবেজ

ইন্টারনেট ব্রডওয়ে ডেটাবেজ ( আইবিডিবি ) ব্রডওয়ে থিয়েটার প্রোডাকশন এবং তাদের কর্মীদের একটি অনলাইন ডাটাবেস । এটি ক্যারেন হাউসর ১৯৯৬ সালে কল্পনা করেছিলেন এবং তৈরি করেছিলেন। যা উত্তর আমেরিকা বাণিজ্যিক নাট্য সম্প্রদায়ের বাণিজ্য সংস্থা ব্রডওয়ে লিগের গবেষণা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়। ওয়েবসাইটটিতে আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয়ের জন্যও একটি সম্পর্কিত অ্যাপ রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। ল্যাটিন ইন্ডাস থেকে ইন্দোনেশিয়া শব্দটি এসেছে। ল্যাটিন শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় দ্বীপ। ডাচ উপনিবেশের কারণে তাদের দেয়া নামটি ওই অঞ্চলের জন্য প্রচলিত হয়। ১৯০০ সাল থেকে জায়গাটি ইন্দোনেশিয়া নামে পরিচিতি পায়। প্রায় ৫,০০০ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম জাকার্তা। সরকারী ভাবে ইন্দোনেশিয়ার নাম ইন্দোনেশীয় প্রজাতন্ত্রী (ইন্দোনেশীয় ভাষায় Republik Indonesia).

দেশটিতে মানুষ বসতির ইতিহাস বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো। যাদের বলা হয় জাভাম্যান। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে তাইওয়ান থেকে একটি মানব প্রবাহের ধারা ইন্দোনেশিয়ায় যায় খ্রিষ্টজন্মের দুই হাজার বছর আগে। তারা আদিবাসীদের ধীরে ধীরে আরো পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। প্রথম শতাব্দীতে সভ্যতার বিস্তার ঘটে। কৃষিকেন্দ্রিক গ্রামীণ সমাজ গঠিত হয়। গড়ে ওঠে অসংখ্য শহর-নগর-বন্দর। সমুদ্র উপকূলে বিস্তার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্য। চীনের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া হয়ে। এর ফলে দেশটিতে এক দিক থেকে হিন্দু ধর্ম অন্য দিক থেকে আসে বৌদ্ধ ধর্ম। দু’টি ধর্ম জীবনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিমদের আগমন ঘটে। উত্তর সুমাত্রা হয়ে ক্রমে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত ইন্দোনেশিয়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে দেশটির প্রধান ধর্ম হয়ে যায় ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্রমেই ছাপিয়ে গিয়েছিল বৌদ্ধ আর হিন্দুপ্রধান এ অঞ্চলে। এর পর ধাপে ধাপে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে দেশটিতে। ব্রিটিশ আর ডাচরা তাদের সাম্রাজ্য স্থাপন করলেও ধর্ম ও সংস্কৃতিতে তারা কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি।

ওলন্দাজ বাংলা

বাংলায় ১৬১০ সাল থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক ছিলেন কোম্পানির অবসান না হওয়া পর্যন্ত। এটি ১৮২৫ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডের রাজ্যের উপনিবেশে ছিল, এর পর ওলন্দাজরা এটি ১৮২৪-এর ইঙ্গ-ওলন্দাজ চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশদের ছেড়ে চলে যায়। উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা নদীর মুখে পিপিলিতে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অঞ্চলে ওলন্দাজদের উপস্থিতি শুরু হয়। সাবেক উপনিবেশটি আজকে ওলন্দাজ ভারত নামে পরিচিত।

কুয়েত

কুয়েত রাজ্য একটি ছোট তেল সমৃদ্ধ, দক্ষিণে সৌদি আরব ও উত্তরে ইরাক বেষ্টিত রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম কুয়েত সিটি।

গণচীন

গণচীন বা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (চীনা: 中国 অর্থাৎ "মধ্যবর্তী রাজ্য", মান্দারিন চীনা উচ্চারণে: চুংকুও) পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। চীনের সাম্যবাদী দল দেশটি শাসন করে। বেইজিং শহর দেশটির রাজধানী।টেমপ্লেট:Sfnb গণচীনের শাসনের আওতায় পড়েছে ২২টি প্রদেশ, পাঁচটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল, চারটি কেন্দ্রশাসিত পৌরসভা (বেইজিং, থিয়েনচিন, সাংহাই এবং ছুংছিং), এবং দুইটি প্রায়-স্বায়ত্বশাসিত বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (হংকং এবং মাকাউ)। এছাড়াও চীন তাইওয়ানের ওপরে সার্বভৌমত্ব দাবী করে আসছে। দেশটির প্রধান প্রধান নগর অঞ্চলের মধ্যে সাংহাই, কুয়াংচৌ, বেইজিং, ছোংছিং, শেনচেন, থিয়েনচিন ও হংকং উল্লেখযোগ্য। চীন বিশ্বের একটি বৃহত্‌ শক্তি এবং এশিয়ার মহাদেশের একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি। দেশটিকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য পরাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। চীনের আয়তন প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। স্থলভূমির আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের ৩য়/৪র্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র (বিতর্কিত)।। সামগ্রিক আয়তনের বিচারে ও পরিমাপের পদ্ধতিভেদে এটি বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম এলাকা। চীনের ভূমিরূপ বিশাল ও বৈচিত্র্যময়। দেশটির অনুর্বর উত্তরাংশে অরণ্য স্টেপ তৃণভূমি এবং গোবি ও তাকলামাকান মরুভূমি যেমন আছে, তেমনি এর আর্দ্র দক্ষিণাংশে আছে উপক্রান্তীয় অরণ্যসমূহ। হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা, পামির মালভূমি ও থিয়েন শান পর্বতশ্রেণী চীনকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে ভৌগলিকভাবে আলাদা করেছে। ইয়াংসি নদী (বিশ্বের ৩য় দীর্ঘতম) ও পীত নদী (বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম) তিব্বতের মালভূমি থেকে উত্‌সারিত হয়ে পূর্বের জনবহুল অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪,৫০০ কিলোমিটার (৯,০০০ মা)। বোহাই সাগর, পীতসাগর, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর এর সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ করেছে। চীনের উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া; উত্তর পূর্বে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া; পূর্বে চীন সাগর; দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মায়ানমার, ভারত, ভূটান, নেপাল; দক্ষিণ পশ্চিমে পাকিস্তান; পশ্চিমে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কির্গিজিস্তান ও কাজাকিস্তান। এই ১৪টি দেশ বাদে চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান; দক্ষিণ চীন সাগরের উল্টো দিকে আছে ফিলিপাইন।

চীনারা তাদের দেশকে চুংকুও নামে ডাকে, যার অর্থ "মধ্যদেশ" বা "মধ্যবর্তী রাজ্য"। "চীন" নামটি বিদেশীদের দেওয়া; এটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের ছিন রাজবংশের নামের বিকৃত রূপ। চীনে বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বাস। এদের ৯০%-এরও বেশি হল চৈনিক হান জাতির লোক। হান জাতি বাদে চীনে আরও ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতির বাস। এদের মধ্যে আছে তিব্বতি, মঙ্গোল, উইঘুর, ছুয়াং, মিয়াও, য়ি এবং আরও অনেক ছোট ছোট জাতি। হান জাতির লোকদের মধ্যেও অঞ্চলভেদে ভাষাগত পার্থক্য দেখা যায়। যদিও শিক্ষাব্যবস্থায় ও গণমাধ্যমে পুতোংহুয়া নামের একটি সাধারণ ভাষা ব্যবহার করা হয়, আঞ্চলিক কথ্য ভাষাগুলি প্রায়শ পরস্পর বোধগম্য নয়। তবে চিত্রলিপিভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করে বলে সব চীনা উপভাষাই একই ভাবে লেখা যায়; এর ফলে গোটা চীন জুড়ে যোগাযোগ সহজ হয়েছে।

উত্তর চীন সমভূমি অঞ্চলে পীত নদীর উর্বর অববাহিকাতে বিশ্বের আদিতম সভ্যতাগুলির একটি হিসেবে চীনের উদয় হয়। হাজার হাজার বছর ধরে রাজারা বংশানুক্রমে চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এর মধ্যে প্রথম রাজবংশটির নাম ছিল শিআ রাজবংশ(আনু. 2070 BCE)। ২২১ BCEছিন রাজবংশ অন্যান্য ৬টি বৃহত্তম রাজ্য করায়ত্ত করে প্রথম একীভূত চৈনিক সাম্রাজ্য গঠন করে। এর পরে বহু হাজার বছর ধরে চীনের বহুবার সম্প্রসারণ, বিভাজন, ও সংস্কার সাধন হয়েছে। ১৯১২ সালে সর্বশেষ রাজবংশ ছিং রাজবংশের পতন ঘটে ও এর স্থানে চীন প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়। প্রজাতন্ত্রিটি ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চীনের মূল ভূখন্ড শাসন করে। সে বছর চীনের গৃহযুদ্ধে সাম্যবাদী জনগণের মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে এটি পরাজয় বরণ করেন। চীনের সাম্যবাদী দল ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর বেইজিং শহরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা করে। চীন প্রজাতন্ত্র সরকার তাইওয়ান দ্বীপে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে সাময়িক রাজধানী হিসেবে তাইপেই প্রতিষ্ঠা করেন। চীন প্রজাতন্ত্র সরকার ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার উভয়েই সমগ্র চীনের একমাত্র আইনসম্মত সরকার হিসেবে নিজেদের দাবী করে আসছে, তবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার বেশি অঞ্চলের অধিকারী এবং সারা বিশ্বে এর স্বীকৃতিও বেশি।

১৯৭৮ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের অবতারণার পর থেকে চীন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান প্রধান অর্থনীতিগুলির একটিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রাক্কলন অনুসারে এটি বিশ্বের ২য় বৃহত্তম অর্থনীতি (নামমাত্র মোট দেশজ উত্‌পাদন অনুযায়ী) এবং সর্ববৃহত্‌ অর্থনীতি (ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী)। এছাড়াও চীন বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক রাষ্ট্র। চীন একটি স্বীকৃত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় সেনাবাহিনীর অধিকারী। এর প্রতিরক্ষা বাজেট বিশ্বের ২য় বৃহত্তম। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জাতিসংঘের একটি সদস্যরাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে এটি চীন প্রজাতন্ত্রকে প্রতিস্থাপিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। এছাড়াও চীন বহু আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বহুপাক্ষিক সংগঠনের সদস্য, যার মধ্যে অন্যতম হল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্রিক্‌স, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার ফোরাম এবং জি-২০।

চীনের দুইটি বৃহত্তম নদী হোয়াংহো ও ইয়াংসি।

চট্টগ্রামে পর্তুগিজ উপনিবেশ

পোর্তো গ্র্যান্ডে ডি বেঙ্গলা বা ইংরেজিতে গ্র্যান্ড পোর্ট অফ বেঙ্গল হয়ে পোর্তো গ্র্যান্ডে যা মুলত ১৬'শ এবং ১৭'শ শতকের সময়ে চট্টগ্রামে পর্তুগিজ উপনিবেশ (ইংরেজি: Portuguese settlement in Chittagong)

অর্থাৎ চট্টগ্রামে পর্তুগিজ বনিক এবং নৌ উপনিবেশকে নির্দেশ করে । বঙ্গোপসাগরের এই অন্যতম বাণিজ্যিক অঞ্চলটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির উপনিবেশ ছিল।

১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ও পর্যটক ভাস্কো ডা গামার ভারত আগমনের পর ১৫১১ সালে পর্তুগিজরা মালাকা দখল করে নেয় এসময় বাংলার বিভিন্ন সমুদ্র পথে তাদের যাতায়াত বেড়ে যায় । ১৫২৮ সালে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে পর্তুগিজরা একটি কারখানা ও কাস্টমস ঘর স্থাপন করে যা খুব দ্রুত প্রায় ৫হাজার পর্তুগিজ বা ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের বিস্তার ঘটায় যারা পর্বরতিতে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড় এবং পাশ্ববর্তি দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপের বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে । এসময় পর্তুগিজরা চট্টগ্রামের অদূরে দেয়াঙ এলাকায় বিশাল নৌ এবং সামরিক দুর্গ স্থাপন করে ।

তৎকালীন সময়ে পোর্তো গ্র্যান্ডে বাংলা সালতানাতের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হত । যদিও এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য করায়ত্ত করার জন্য পর্তুগিজ বণিকগণ আরাকান রাজা ও মগ জলদস্যুদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলে । কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ১৬০৭ সালে পর্তুগিজদের সাথে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের দরূন দেয়াঙে আরকান রাজা কয়েকশ পর্তুগিজ বণিক ও তাদের পরিবারের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায় । পরবর্তিতে ১৬৬৮ সালে মোগল নৌ বাহিনী আরকানদের কাছ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর উদ্ধার করে এবং পর্তুগিজদের এ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করে ।তবুও পর্তুগিজদের বংশধরদের এখনও চট্টগ্রামে দেখা যায় এবং তারা ‘কালা ফিরিঙ্গি’ বা ‘মাটিয়া ফিরিঙ্গি’ নামে পরিচিত। এরা বাংলার প্রাচীনতম রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায় । এবং কথিত আছে, ফিরিঙ্গি বাজার নামে পরিচিত নগরীর একটি এলাকা তাদের নামেই নামকরণ করা হয়েছে ।

পর্তুগিজ উপনিবেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে বাংলা ভাষায় এমন বহু পর্তুগিজ শব্দের সংযোজন যেগুলি এখনও দৈনন্দিন কাজে প্রচলিত আছে। এসব শব্দের মধ্যে রয়েছে আনারস, পেঁপে, পাদ্রি, ফিতা, আলপিন, বোতাম, চাবি ইত্যাদি ।

দ্য হলিউড রিপোর্টার

দ্য হলিউড রিপোর্টার (ইংরেজি: The Hollywood Reporter) হচ্ছে একটি আমেরিকান বাণিজ্য ও বিনোদন ভিত্তিক ম্যাগাজিন। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এটি ছিলো বিনোদন শিল্পের সর্ববৃহৎ দুই প্রকাশনার একটি, এবং প্রথমটি ছিলো ভ্যারাইটি ম্যাগাজিন। বর্তমানেও এ দুটি ম্যাগাজিন বিনোদন শিল্পের প্রায় সব খবরাখবরই প্রচার করে আসছে।

পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্য। এই রাজ্যটি পূর্ব ভারতে বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিকে অবস্থিত। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই রাজ্যের জনসংখ্যা ৯ কোটি ১৩ লক্ষেরও বেশি। জনসংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য(প্রথম-উত্তর প্রদেশ,দ্বিতীয়- মহারাষ্ট্র, তৃতীয়-বিহার ) । এই রাজ্যের আয়তন । পশ্চিমবঙ্গ বাংলা-ভাষী বাঙালি জাতি অধ্যুষিত বাংলা অঞ্চলের একটি অংশ। এই রাজ্যের পূর্ব দিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং উত্তর দিকে নেপাল ও ভুটান রাষ্ট্র অবস্থিত। ভারতের ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, সিক্কিম ও অসম রাজ্যও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরটি হল ভারতের সপ্তম বৃহত্তম মহানগরী৷ ভৌগোলিক দিক থেকে দার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, গাঙ্গেয় বদ্বীপ, রাঢ় অঞ্চল ও উপকূলীয় সুন্দরবনের অংশবিশেষ এই রাজ্যের অন্তর্গত। বাঙালিরাই এই রাজ্যের প্রধান জাতিগোষ্ঠী এবং রাজ্যের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই বাঙালি হিন্দু।

প্রাচীন বাংলা ছিল একাধিক প্রধান জনপদের কেন্দ্রস্থল। খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক এই অঞ্চলটি জয় করেন। খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতাব্দীতে এই অঞ্চল গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৩শ শতাব্দীর পর থেকে ১৮শ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্ন পর্যন্ত একাধিক সুলতান, শক্তিশালী হিন্দু রাজন্যবর্গ ও বারো ভুঁইয়া নামধারী জমিদারেরা এই অঞ্চল শাসন করেন।

দিল্লি সলতনৎ এবং শাহী বাংলার সলতনৎ- এর সময়, ইওরোপবাসীরা বাংলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী বাণিজ্য প্রদেশ হিসেবে ধরতো মুঘল সাম্রাজ্য আমলে বিশ্বের মোট উৎপাদনের (সাকুল্য আভ্যন্তরীণ উৎপাদন) ১২ শতাংশ উৎপন্ন হত সুবে বাংলায় যা তখনকার দিনের বিহার , ঝাড়খণ্ড ,ওডিশা , অসম ,ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত ছিল। , যা সে সময় সমগ্র ইউরোপের চেয়ে জিডিপির চেয়ে বেশি ছিল।১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চলের উপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে। এরপর দীর্ঘকাল কলকাতা ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী। দীর্ঘকাল ব্রিটিশ প্রশাসনের কেন্দ্রস্থলে থাকার সুবাদে বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক পাশ্চাত্য শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের সূচনা ঘটে। এই ঘটনা পরবর্তীকালে বাংলার নবজাগরণ নামে পরিচিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলা ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় ধর্মের ভিত্তিতে এই অঞ্চল দ্বিখণ্ডিত হয়। বাংলার পূর্ব ভূখণ্ড নিয়ে নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ব বাংলা (পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ এবং অধুনা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র) গঠিত হয়। অন্যদিকে পশ্চিম ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কমিউনিস্ট সরকার পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছিল। বিশ্বের ইতিহাসে এই সরকারটিই ছিল সর্বাপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপ্রধান রাজ্য। ভারতের সাকুল্য আভ্যন্তরীণ উৎপাদনে অবদানের অনুপাতে পশ্চিমবঙ্গের স্থান ষষ্ঠ। লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, শিল্পকলা ও উৎসব-অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। নোবেল পুরস্কার জয়ী বাঙালি সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম এই রাজ্যে বিশেষ সমাদৃত ও জনপ্রিয়। কলকাতাকে "ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী" বলেও অভিহিত করা হয়। খেলাধূলার ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটি হল, এই রাজ্যের মানুষের মধ্যে জাতীয় স্তরে বিশেষ জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাণিজ্যিক মার্কা

বাণিজ্যিক মার্কা বা ট্রেডমার্ক (পণ্যচিহ্ন, বাণিজ্য প্রতীক, ইত্যাদি নামেও পরিচিত) বলতে এমন একটি বিশিষ্ট ও স্বতন্ত্র প্রতীককে বোঝায় যা কোনও পণ্য প্রস্তুতকারক বা ব্যবসায়ী তার পণ্যের বা সেবার গায়ে স্থাপন করে। বর্ণ, বর্ণগুচ্ছ, শব্দ, শব্দগুচ্ছ, চিত্রলৈখিক প্রতীক বা নকশা দিয়ে মার্কাটি সৃষ্টি করা হয়। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর পণ্য বা সেবা থেকে নিজস্ব পণ্য বা সেবাকে যাতে সহজে পৃথক করে চেনা যায়, সেই উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক মার্কা ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক মার্কা সাধারণত পণ্যের মোড়কের গায়ে, চালানপত্রে অথবা পণ্যের রশিদে অঙ্কিত থাকে। এছাড়া স্বত্বাধিকারীর ব্যবসায়িক স্থাপনাতেও এই প্রতীক প্রদর্শিত হয়ে থাকে। যথাযথ সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক মার্কা কেবলমাত্র নিবন্ধনকারী ব্যবসায়ী ব্যবহার করার একচেটিয়া আইনি অধিকার রাখেন। তবে কোনও কোনও দেশে নিবন্ধন না করেও ব্যবসায়ীরা তাদের বাণিজ্যিক মার্কা সংরক্ষণের ব্যাপারে আইনি সহায়তা পেতে পারেন।

বাহরাইন

বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। বাহরাইন পারস্য উপসাগরের পশ্চিম অংশের ৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর পূর্বে কাতার ও পশ্চিমে সৌদী আরব। সবচেয়ে বড় দ্বীপটিও বাহরাইন নামে পরিচিত এবং এতে দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী মানামা অবস্থিত।

প্রায় ৫,০০০ বছর আগেও বাহরাইন একটি বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। সবসময়ই এটি শক্তিশালী প্রতিবেশীদের অধীনস্থ ছিল। ১৭শ শতকে এটি ইরানের দখলে আসে। ১৭৮৩ সালে মধ্য সৌদী আরবের আল-খলিফা পরিবার নিজেদেরকে বাহরাইনের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তখন থেকে তারাই দেশটিকে শাসন করে আসছে। ১৯শ শতকের কিছু সন্ধিচুক্তির ফলে যুক্তরাজ্য দেশটির প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পায়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাহরাইন ব্রিটিশ প্রভাবাধীন ছিল।

বাহরাইনের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি সেখানেই জন্ম-নেওয়া। এছাড়া বাহরাইনে শিয়া মুসলিমদের সংখ্যা সুন্নী মুসলিমদের প্রায় দ্বিগুণ। তবে সুন্নীরা বাহরাইনের সরকার নিয়ন্ত্রণ করেন।

১৯৩০-এর দশকে বাহরাইন পারস্য উপসাগরের প্রথম দেশ হিসেবে তেল-ভিত্তিক অর্থনীতি গঠন করে, কিন্তু ১৯৮০-র দশকের শুরুর দিকেই এর সমস্ত তেল ফুরিয়ে যায়। তবে দেশটি এই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগ করে রেখেছিল এবং দেশটির অর্থনীতি এখনও উন্নতি করে যাচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ইংরেজি World Trade Organization ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন) একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বের বাণিজ্য সংক্রান্ত নীতি প্রবর্তন এবং সদস্য রাষ্ট্র বা পক্ষ সমূহের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে সাহায্য করে থাকে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অবস্থিত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সিল্ক রোডের প্রারম্ভিক দিনগুলি থেকে ট্যারিফ এবং ট্রেডের সাধারণ চুক্তি (জিএটিটি) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার জন্মের থেকে, বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে এবং জাতিগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই পৃষ্ঠাটি বাণিজ্যের ইতিহাস, তার প্রাথমিকতম শিকড় থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত ট্রেস করে।

রবার্টো আঝেভো ডব্লিউটিও'র ৬ষ্ঠ মহাপরিচালক। চার বছরের মেয়াদের জন্য ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে, বিশ্বব্যাংকের সদস্যরা পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনরায় নিয়োগ পান, যা ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে।

বেলজিয়াম

বেলজিয়াম (ওলন্দাজ: België বেল্‌য়া, ফরাসি ভাষায়: Belgique ব্যল্‌ঝ়িক্‌, জার্মান ভাষায়: Belgien বেল্‌গিয়েন্‌) উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের একটি দেশ। এটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। এটি ইউরোপের ক্ষুদ্রতম ও সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির একটি। বেলজিয়াম ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ইউরোপের সর্বাধিক নগরায়িত দেশ; এখানকার ৯৭% লোক শহরে বাস করে। নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবুর্গের সাথে মিলে বেলজিয়াম নিচু দেশগুলি গঠন করেছে। দেশটির নাম বেল্গায়ে নামের এক কেল্টীয় জাতির নাম থেকে এসেছে। এই জাতিটি এখানকার আদি অধিবাসী ছিল; খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ অব্দে জুলিয়াস সিজার এলাকাটি দখল করে নেন। ব্রুসেল শহরটি বেলজিয়ামের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। ইউরোপীয় কমিশন, ন্যাটো এবং বিশ্ব শুল্ক সংস্থার সদর দপ্তর ব্রাসেল্‌স-এ অবস্থিত। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লমেন্টের নতুন ভবন এখানে অবস্থিত। ইউরোপীয় পার্লমেন্টের আদি ভবন ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অবস্থিত। বেলজিয়াম ইউরো জোন-এ অবস্থিত এবং এর মুদ্রা ইউরো। ইউরো প্রবর্তনের পূর্বে বেলজিয়ামের মূদ্রার নাম ছিল বেলজিয়াম ফ্রাঁ ।

ফ্রান্স এবং উত্তর ইউরোপের সমভূমির মধ্যস্থলে অবস্থিত। এর উত্তরে উত্তর সাগর। ইউরোপের একটি ভৌগোলিক সঙ্গমস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি মধ্যযুগ থেকেই একটি প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। উত্তর সাগরের মাধ্যমে দেশটি বাকী বিশ্বের সাথে বাণিজ্য চালায়। বেলজিয়ামের অবস্থান সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বহু যুদ্ধ হয়েছে। ১৮৩০ সালে বেলজিয়াম স্বাধীনতা লাভ করে।

বেলজিয়াম তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত- ফ্ল্যান্ডার্স, ওয়ালোনিয়া এবং ব্রাসেলস ক্যাপিটাল সিটি। ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলটি ব্রাসেলসের উত্তর ও পশ্চিমে অবস্থিত; এখানে বেশির ভাগ লোক ওলন্দাজ (ফ্লেমিশ) ভাষায় কথা বলেন এবং এরা ফ্লেমিং নামে পরিচিত। ওয়ালোনিয়া ব্রাসেলসের পূর্বে ও দক্ষিণে অবস্থিত এবং এখানকার বেশির ভাগ লোক ফরাসি ভাষায় কথা বলেন; এরা ওয়ালোন নামে পরিচিত। ব্রাসেলস অঞ্চলের উভয় জাতের লোকের বাস। প্রতিটি অঞ্চলই প্রায় স্বায়ত্তশাসিত; কিন্তু ফ্লেমিং ও ওয়ালোনদের মধ্যে এখনও তীব্র দ্বনদ্ব বিদ্যমান। ফ্ল্যান্ডার্স এলাকা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে আগ্রহী।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত একটি জয়েন্ট‌-স্টক কোম্পানি। এর সরকারি নাম "ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি"। ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাণী প্রথম এলিজাবেথ এই কোম্পানিকে তখনকার ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে বাণিজ্য করার রাজকীয় সনদ প্রদান করেন। এ সনদ কোম্পানিটিকে ২১ বছর পর্যন্ত পূর্ব ভারতে একচেটিয়া বাণিজ্য করার প্রাধিকার অর্পণ করেছিল। তবে পরবর্তীকালে এ কোম্পানি ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এবং ১৮৫৮ সালে বিলুপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে। অত:পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারত শাসন শুরু করে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অধীন বা যুক্তরাজ্য কর্তৃক প্রশাসিত এলাকার সমষ্টি। এর মধ্যে আছে স্বশাসিত উপনিবেশ, উপনিবেশ, অধিরাজ্য, ম্যান্ডেট এবং এ ধরনের অন্যান্য এলাকা সমূহ। ১৬ শতকের শেষ থেকে এবং ১৮ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত ইংল্যান্ড বিদেশে দখলকৃত এবং বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো শক্তিশালী ছিল। এটি প্রায় শতক ধরে চলমান ছিল এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য ছিল। ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ৪৫ কোটি ৮০ লাখ যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আয়তন ছিল ৩,৩৭,০০,০০০ বর্গকিমি (১,২০,১২,০০০বর্গ মাইল), পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় এক চতুর্থাংশ।

মুম্বই

মুম্বই (মারাঠি: मुंबई; মুম্বাই, আ-ধ্ব-ব:[ˈmʊm.bəi] ) (পূর্বনাম বোম্বাই বা বম্বে) ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী। মুম্বই ভারতের সর্বাধিক জনবহুল শহর এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল শহরগুলিরও অন্যতম। এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি চল্লিশ লক্ষ। নবি মুম্বই ও থানে সহ মুম্বই মহানগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল মহানগরীয় অঞ্চলগুলির অন্যতমও বটে। ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত মুম্বই একটি স্বাভাবিক সমুদ্রবন্দর। ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই শহর আলফা বিশ্ব নগরী হিসেবে ঘোষিত।যে সাতটি দ্বীপকে কেন্দ্র করে আধুনিক মুম্বই মহানগরী গড়ে উঠেছে, সুদূর অতীতে সেই সাতটি দ্বীপ ছিল মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বসতি। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এই দ্বীপগুলি নানান দেশীয় রাজ্য ও সাম্রাজ্যের অধীনস্থ ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মুম্বই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাদে বোম্বাই ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এক উল্লেখযোগ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর বোম্বাই শহর তদনীন্তন বোম্বাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬০ সালে সংযুক্ত মহারাষ্ট্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন রাজ্য মহারাষ্ট্র গঠিত হলে বোম্বাই উক্ত রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৯৫ সালে শহরের নাম পরিবর্তিত করে মুম্বই রাখা হয়।মুম্বই ভারতের বাণিজ্য ও বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। দেশের ৫ শতাংশ জিডিপি এই শহর থেকেই উৎপাদিত হয়। এছাড়া ভারতীয় অর্থনীতির ২৫ শতাংশ শিল্প উৎপাদন, ৪০ শতাংশ সমুদ্রবাণিজ্য ও ৭০ শতাংশ পুঁজি লেনদেন মুম্বইতেই সাধিত হয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, বোম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ, ভারতের জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংস্থা এবং বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানি ও বহুজাতিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় এই শহরেই অবস্থিত। বলিউড নামে পরিচিত ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পকেন্দ্রটিও এই শহরে অবস্থিত। মুম্বইয়ের ব্যবসাগত সুযোগসুবিধা এবং এখানকার জীবনযাত্রার উচ্চ মান সমগ্র দেশের মানুষকে আকৃষ্ট করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে এই শহরে বসবাস শুরু করেন। ফলে মুম্বই বর্তমানে ভারতের নানা সম্প্রদায় ও ভারতীয় সংস্কৃতির মহামিলনভূমিতে পরিণত হয়েছে।

লাইসেন্স

লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র হলো কোনকিছু করা, ব্যবহার করা বা নিজের করে নেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি।

লাইসেন্স দুটো পক্ষের মধ্যকার চুক্তির উপাদান হিসেবে একটি পক্ষ থেকে অন্য পক্ষকে মঞ্জুর করা যায়। লাইসেন্সে অন্য একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা হলো "লাইসেন্সকৃত বস্তু ব্যবহারের একটি অনুমোদন।"

বিশেষ করে লাইসেন্স কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইশু হতে পারে এমন সব কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন দিতে যা অন্যথায় নিষিদ্ধ হতো। এর জন্যে ফি পরিশোধ বা সক্ষমতা প্রমাণের প্রয়োজন পড়তে পারে। এ আবশ্যিকতা কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হতে সাহায্য করে।

লাল পুর জেলা

লাল পুর আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশের পূর্বে একটি জেলা , যা পাকিস্তানের সীমানায় খুব কাছেই । এখানের মোট জনসংখ্যার ১০০% পশতুন । ২০০২ সালে এখানে ৩৪,৫১৬ জন জনসংখ্যা অনুমান করা হয় । যার ১৩,৮০০ জন ১২ বছরের কম বয়সী শিশু । এই জেলাটি লাল পুর গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ।

গত শতাব্দীতে বেশ কয়েক আফগান রাজনীতিকের বাড়ি ছিল এই লাল পুরে । মার্চকেহাল পরিবার লালপুরের বিখ্যাত পরিবার। মার্চকেহাল হল তারাক জাই মোমন্ডস উপজাতি। "খান কর" ( খান রাজ পরিবার) যা মার্চেলেল মমাদের একটি উপজাতি, রয়্যাল পরিবারের সদস্যরা মোমান্ডদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী। খানের অনেক পরিচিত আফগান মুখ রয়েছে, যেমন আমির শের আফগানিস্তানের আলী খান। লাল পুর এই উপমহাদেশে আফগানিস্তান থেকে রাশিয়া (বর্তমানে বর্তমান কেন্দ্রীয় ইউরোপীয় প্রজাতন্ত্র) এবং অন্যান্য দেশ থেকে বাণিজ্য জন্য একটি বিখ্যাত বাণিজ্য রুট হিসাবে ব্যবহার করা হত । খানের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করতে হবে । খানের অনুমতি ছাড়া কোনও বাণিজ্য পরিচালিত হত না। লালপুরা একটি রাজ্য হিসাবে গণ্য করা হয়, খান তার নিজের সেনাবাহিনী নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত করতেন । আফগান যুদ্ধের সময় খানের সাথে অনেকবার ব্রিটিশদের লড়াই করেছিল। আফগানিস্তানের আমিরের পিতা লাল পুরের সাদাত খান ছিলেন আফগানিস্তানের বিখ্যাত আমির আইয়ুব খানের পিতামহ । এছাড়াও তিনি ময়মন বিজয়ী বা আফগান প্রিন্স চার্লি হিসাবে পরিচিত ছিলেন ।

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম যা সরকারি বাণিজ্য কলেজ বা, শুধুমাত্র কমার্স কলেজ নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি কলেজ। এটি বাণিজ্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.