প্রস্তর যুগ

বিশ্বের ইতিহাসে প্রস্তর যুগ বলতে মানব ও তার সমাজের বিবর্তনের ধারায় একটা পর্যায়কে বোঝান হয় যখন যখন মানুষের ব্যবহার্য হাতিয়ার তৈরির মূল উপকরণ ছিল পাথর । তবে পাথরের ব্যবহারই প্রস্তর যুগের একমাত্র সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য বলে মনে করা হয় না। বিরল হলেও কাঠ এবং প্রাণির হাড়ের তৈরি হাতিয়ার ব্যবহারের নিদর্শনও পাওয়া গেছে । এসময় স্বর্ণ ছাড়া অন্য কোন ধাতুর ব্যবহার ছিল অজানা । প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার থেকে ও পূর্ব আফ্রিকার সাভানা অঞ্চল থেকে বাকি বিশ্বে মানুষের ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকে প্রস্তর যুগের শুরু ধরা হয়। প্রস্তর যুগের শেষ হয় কৃষির উদ্ভাবন, গৃহপালিত পশুর পোষ মানানো এবং তামার আকরিক গলিয়ে তামা আহরনের মাধ্যমে মানুষ ধাতুর ব্যবহার শুরু করলে। এই যুগটিকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয় কারণ তখনো লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি এবং মানব সমাজের লিখিত ইতিহাস সংরক্ষণ করা শুরু হয়নি ।

প্রস্তর যুগকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয় ।

Ggantija Temples (1)
Ġgantija temples in Gozo, Malta. Some of the world's oldest free-standing structures.
প্রস্তর যুগ

↑ before Homo (Pliocene)

প্রাচীনপ্রস্তরযুগ

নিম্ন প্রাচীনপ্রস্তযুগ
Homo
আগুন নিয়ন্ত্রন, প্রস্তরযন্ত্রs
মধ্য প্রাচীনপ্রস্তরযুগ
Homo neanderthalensis
Homo sapiens
out of Africa
উচ্চ প্রাচীনপ্রস্তযুগ
behavioral modernity, atlatl, কুকুর

মধ্যপ্রস্তরযুগ

microliths, তীরধনুক, canoes

নব্যপ্রস্তরযুগ

Pre-Pottery Neolithic
কৃষিকাজ, animal husbandry, polished stone tools
Pottery Neolithic
pottery
Chalcolithic
metallurgy, ঘোড়া, চাকা
ব্রোঞ্জ যুগ

প্রাচীন প্রস্তর যুগ

এই যুগটি মুলত ঊষা প্রস্তর যুগ এর পরবর্তী ধাপকে বলা হয়। এখানে এই সময়ে মানুষেরা সবাই অশোধিত পাথর এর হাতিয়ার ব্যবহার করত। পূর্ব আফ্রিকা থেকে বিবর্তন এর মাধ্যমে মানুষ এর উতপত্তি ঘটার পরে প্রায় ১২ লক্ষ বছর অতিবাহিত হবার পরে ১০০০০০ থেকে শুরু করে প্রায় ৪০০০০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত সময়কাল কে ধরা হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগ। ম্যাগডেলেনিয় সংস্কৃতি, অ্যাবিচিলনিয় সংস্কৃতি, পিকিং মানব; এসমস্ত প্রাচীন প্রস্তর যুগ এর উল্লেখযোগ্য সংস্কৃতি এবং ম্নব গোষ্ঠী। আগুন এই সময় এর উল্লেখযোগ্য আবিস্কার। এই সময়ে মানুষ পুরোপুরি ভবে শিকার এবং খাদ্য সংগ্রহ এর উপরে নির্ভরশীল ছিল

অস্ট্রিয়ার ইতিহাস

অস্ট্রিয়ার ইতিহাস অস্ট্রিয়ার ইতিহাস এবং এর পূর্বসূরি রাজ্যগুলির প্রথম দিকের প্রস্তর যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান রাষ্ট্র পর্যন্ত ওস্তেরাচি (অস্ট্রিয়া) নামটি ১৯৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রচলিত ছিল যখন এটি বাভারিয়ার ডুচির এক বৃহত্তর ছিল এবং ১১৫৬ সাল থেকে জার্মান জাতির পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের একটি স্বাধীন ডুচি (পরে আর্চডুচি) ছিল (হিলিজেস রামিশেস রেখ ৯৬২-১৮০৬)।

হাউসবার্গের হাউসবার্গ এবং হাউসবার্গ-লোরেন (হাউস ওস্টেরিচ) দ্বারা অস্ট্রিয়া আধিপত্য ছিল ১২৭৩ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত। অস্ট্রিয়া সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিস পবিত্র রোম সাম্রাজ্যকে ভেঙে দেওয়ার পরে অস্ট্রিয়া অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের হয়ে ওঠে এবং এটিও এর অংশ ছিল ১৮০৮ সালের অস্ট্রো-প্রুশিয়ান যুদ্ধ অবধি জার্মান কনফেডারেশন। ১৮৬৬ সালে অস্ট্রিয়া হাঙ্গেরির সাথে দ্বৈত রাজতন্ত্র গঠন করে: অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য (১৮৬৭–১৯১৮)। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পরে যখন এই সাম্রাজ্যটি ভেঙে পড়েছিল, তখন অস্ট্রিয়া মূলত বেশিরভাগ সাম্রাজ্যের জার্মান-স্পেনীয় অঞ্চল (বর্তমান সীমান্ত) হয়ে যায় এবং জার্মান-অস্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্রের নামটি গ্রহণ করে তবে জার্মানির সাথে মিলিত হওয়া এবং নির্বাচিত দেশের নামটি মিত্রদের দ্বারা ভার্সাই চুক্তিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এটি প্রথম অস্ট্রিয়ান প্রজাতন্ত্রের (১৯১৮-১৯৩৩) গঠনের দিকে পরিচালিত করে।

প্রথম প্রজাতন্ত্রের পরে অস্ট্রোফ্যাসিজম অস্ট্রিয়াকে জার্মান রিক থেকে স্বাধীন রাখার চেষ্টা করেছিল। এঞ্জেলবার্ট ডললফাস স্বীকার করেছিলেন যে বেশিরভাগ অস্ট্রিয়ান জার্মান এবং অস্ট্রিয়ান ছিলেন, তবে তিনি চেয়েছিলেন যে অস্ট্রিয়া জার্মানি থেকে স্বাধীন থাকুক। ১৯৩৮ সালে অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত অ্যাডল্ফ হিটলার অস্ট্রিয়াকে আনস্ক্লাসের সাথে জার্মান রেখের সাথে সংযুক্ত করেছিলেন, যা অস্ট্রিয়ান জনগণের একটি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দশ বছর পরে অস্ট্রিয়া ১৯৫৫ সালে আবার দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র হিসাবে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হয়ে ওঠে।

অস্ট্রিয়া ১৯৯৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করেছিল।

কামাকুরা যুগ

কামাকুরা যুগ (鎌倉時代, কামাকুরাজিদাই, ১১৮৫-১৩৩৩) হল জাপানের ইতিহাসে কামাকুরা শোগুনতন্ত্রের শাসনকাল। ১১৯২ খ্রিঃ কামাকুরায় প্রথম শোগুন মিনামোতো নো য়োরিতোমোর নেতৃত্বে এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। যোদ্ধা জাতি সামুরাইদের উত্থান এবং জাপানে সামন্ততন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য এই যুগ স্মরণীয়।

১৩৩৩ খ্রিঃ কামাকুরা শোগুনতন্ত্রের বিলোপ এবং সম্রাট গো-দাইগোর নেতৃত্বে আশিকাগা তাকাউজি, নিত্তা য়োশিসাদা ও কুসুনোগি মাসাশিগের চেষ্টায় সম্রাটের প্রত্যক্ষ শাসনের ক্ষণস্থায়ী পুনর্গঠনের মাধ্যমে কামাকুরা যুগ শেষ হয়।

গান্ধার

গান্ধার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কাবুল ও সোয়াত নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন ইন্দো-আর্য রাজ্য। এটি প্রাচীন ভারতের ১৬টি মহাজনপদের মধ্যে একটি। হাখমানেশী যুগে এবং হেলেনীয় সময় কালের রাজ্যটির রাজধানী ছিল চরসদ্দা, কিন্তু পরে ১২৭ খ্রিষ্টাব্দে মহান কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক দ্বারা রাজধানী পেশাওয়ার শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিল।

ঋগ্বেদের (১৫০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) সময় থেকে গান্ধারের অস্তিত্ব ছিল, পাশাপাশি জরাথুস্ট্রীয় আবেস্তায় এটি অহুর মজদা দ্বারা নির্মিত পৃথিবীর ষষ্ঠ সবচেয়ে সুন্দর জায়গা ভাক্করুত্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে হাখমানেশী সাম্রাজ্য গান্ধার রাজ্যকে অধিকৃত করে। ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার গান্ধার রাজ্য জয় করে; পরবর্তীকালে এটি মৌর্য সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে এবং তারপর ইন্দো-গ্রিক রাজত্বের অংশ হয়ে ওঠে। ইন্দো-গ্রীক রাজবংশের অধীনে গ্রেকো-বৌদ্ধধর্মের জন্য এই অঞ্চলটি একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং পরবর্তী সাম্রাজ্যের অধীনে গান্ধার-বৌদ্ধধর্মের জন্য এই অঞ্চলটি একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। এটি মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তারের কেন্দ্রীয় স্থান ছিল। এটি ব্যাক্ট্রিয়ান জরাথুস্ট্রবাদ এবং হিন্দুধর্মেরও কেন্দ্র ছিল। গান্ধার (গেরো-বৌদ্ধ) শিল্প স্থানীয় ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এটি কুষাণ সাম্রাজ্যের অধীনে প্রথম শতাব্দীর থেকে ৫ম শতাব্দীর মধ্যে তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। গান্ধার "এশিয়ার পারাপারের রাস্তা হিসেবে উদিত হয়ে" বাণিজ্য পথকে সংযুক্ত করে এবং বিভিন্ন সভ্যতার সাংস্কৃতিক প্রভাবগুলো গ্রহণ করে; ইসলাম ধর্ম এই অঞ্চলে রাজত্ব করতে শুরু করার পূর্বে ৮ম থেকে ৯ম শতাব্দী পর্যন্ত রাজ্যটি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। ১১তম শতাব্দী পর্যন্ত পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব স্থির ছিল।ফার্সি শব্দটি 'শাহী' ইতিহাসবিদ আল-বুরুনি ব্যবহার করে রাজকীয় রাজবংশের উল্লেখ করেছিলেন, যা কাবুল শাহী থেকে এসেছিল এবং ১০তম ও ১১তম শতাব্দীর ইসলামিক বিজয়গুলোর পূর্বে এই অঞ্চলটিতে শাসন করেছিলেন। ১০০১ খ্রিষ্টাব্দে গাজনির মাহমুদ জয়লাভের পর গান্ধার নামটি অদৃশ্য হয়ে যায়। মুসলিম আমলে, লাহোর থেকে বা কাবুল থেকে অঞ্চলটি পরিচালিত হতো। মুঘল আমলে এটি কাবুল প্রদেশর একটি স্বাধীন জেলা ছিল।

গুপ্ত সাম্রাজ্য

গুপ্ত সাম্রাজ্য (সংস্কৃত: गुप्त राजवंश, Gupta Rājavaṃśa) ছিল একটি প্রাচীন ভারতীয় সাম্রাজ্য। আনুমানিক খ্রিষ্টীয় ৩২০ থেকে ৫৫০ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে এই সাম্রাজ্য প্রসারিত ছিল। মহারাজ শ্রীগুপ্ত ধ্রুপদি সভ্যতা-র আদর্শে এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। গুপ্ত শাসকদের ভারতে যে শান্তি ও সমৃদ্ধি স্থাপিত হয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতে দেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করতে সক্ষম হয়। গুপ্তযুগকে বলা হয় ভারতের স্বর্ণযুগ। এই যুগ ছিল আবিষ্কার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাস্তুবিদ্যা, শিল্প, ন্যায়শাস্ত্র, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, ধর্ম ও দর্শনের বিশেষ উৎকর্ষের যুগ; বর্তমান হিন্দু সংস্কৃতি মূলত এই যুগেরই ফসল। গুপ্ত যুুগের আমলে অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি যেমন কালিদাস, আর্যভট্ট, বরাহমিহির, বিষ্ণু শর্মা -এর অবির্ভাব হয়েছিলো।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত, সমুদ্রগুপ্ত ও সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ সম্রাট তার সাম্রাজ্য সীমা দক্ষিণ ভারতেও প্রসার লাভ করে ।

জাপানি পুরা-প্রস্তর যুগ

জাপানি পুরা-প্রস্তর যুগ (旧石器時代, কিউসেইরেকিজিদাই) বলতে জাপানে মানুষের বসতিস্থাপনের সেই যুগটিকে বোঝায় যা আনুমানিক ৪০, ০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে শুরু হয়ে আনুমানিক ১৪,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে স্থানীয় মধ্য-প্রস্তর যুগ বা জোমোন যুগের আরম্ভ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অবশ্য ৩৫,০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের আগে জাপান দ্বীপপুঞ্জে মানুষের উপস্থিতির নিশ্চয়তা একটি বিতর্কিত বিষয়।অঞ্চলের প্রাচীনতম মানুষের হাড় পাওয়া গেছে শিযুওকার হামামাৎসু থেকে। তেজস্ক্রিয় তারিখ গণনার মাধ্যমে জানা গেছে জীবাশ্মগুলির বয়স ১৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ বছরের মধ্যে।

জুলাই বিপ্লব

জুলাই বিপ্লব ১৮৩০ সালে ফ্রান্সে সংগঠিত একটি বিপ্লব। ১৮৩০ সালের ২৬শে জুলাই থেকে ২৯শে জুলাই পর্যন্ত ৪ দিন স্থায়ী ছিল। এটি ১৮৩০ সালের ফরাসি বিপ্লব বা দ্বিতীয় ফরাসি বিপ্লব নামেও পরিচিত। জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সের দশম চার্লসকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্সের শাসনভার হাতে নেয় প্রথম লুই ফিলিপ। এই বিপ্লবের মাধ্যেম জনসাধারণে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রস্তর যুগ

দক্ষিণ এশীয় প্রস্তর যুগ দক্ষিণ এশিয়ায় প্যালিওলিথিক, মেসোলিথিক ও নিওলিথিক পর্ব জুড়ে বিদ্যমান ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম শারীরবৃত্তীয়ভাবে আধুনিক হোমো সেপিয়েন্স-এর প্রমাণ পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কার বাটাডোমবালেনা ও বেলিলেনা গুহাক্ষেত্রে। অধুনা পশ্চিম পাকিস্তানের মেহেরগড়ে নিওলিথিক পর্ব শুরু হয় ৭০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এবং শেষ হয় ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনাপর্বে। দক্ষিণ ভারতে মেসোলিথক পর্ব ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এখানে নিওলিথিক পর্ব স্থায়ী হয়েছিল ১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত। এরপর ব্রোঞ্জ যুগকে এড়িয়েই এখানে মেগালিথিক অন্তর্বর্তী পর্ব শুরু হয়ে যায়। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে যথাক্রমে ১২০০ ও ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ লৌহযুগ শুরু হয়েছিল।

নব্যপ্রস্তরযুগ

নব্যপ্রস্তরযুগ বা নবপোলিয় যুগ ইংরেজি: Neolithic (শুনুন) হলো প্রস্তরযুগের শেষ অধ্যায়, যখন পাথরের অস্ত্রশস্ত্র ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদির চরম উন্নতি সাধিত হয়েছিল। ASPRO chronology মতে খ্রিস্টপূর্ব ১০,২০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে এবং পরবর্তীতে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে এই যুগের সূচনা ঘটে। খ্রিস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দ থেকে ২,৫০০ অব্দের মধ্যে এই যুগের সমাপ্তি ঘটে। প্রথাগতভাবে এই যুগ হচ্ছে প্রস্তরযুগের সমাপ্তি। নব্যপ্রস্তর যুগ হলোসিন এপিপ্যালিওলিথিক যুগ অনুসরণ করে আসে এবং কৃষিকাজের সূচনাকালে নবপলীয় বিপ্লব ঘটে এবং এই সময়টাই নব্যপ্রস্তর যুগের শুরু। ধাতুর ব্যবহার শুরু হলে এই যুগ শেষ হয় এবং ব্রোঞ্জ যুগ, তাম্র যুগ এবং কোন কোন ভৌগোলিক অঞ্চলে লৌহ যুগ শুরু হয়। এই যুগে আচরণ এবং সংস্কৃতিতে প্রগতি এবং পরিবর্তন দেখা যায়, যার মধ্যে ছিল বন্য ও গৃহজাত শস্যের ব্যবহার এবং বন্য পশুকে গৃহপালিত পশুতে রূপান্তর। ধারণা করা হয় যে নব্যপ্রস্তর যুগ শুরু হয় লেভ্যান্টে (Jehrico, বর্তমানে পশ্চিম তীর) খ্রিস্টপূর্ব ১০,২০০-৮,৮০০ অব্দে।

পুরা প্রস্তর যুগ

পুরা প্রস্তর যুগ বা আদিম প্রস্তর যুগ বা প্যালিওলিথিক(উচ্চারণঃ অথবা ) বা প্যালিওলিথিক যুগ বলতে সেই সময়কালের ইতিহাসকে বোঝায় যখন আদিম মানুষ একদম প্রাথমিক পাথরের যন্ত্রপাতি বানাতে শুরু করেছিল। মানবজাতির প্রযুক্তিগত প্রাগৈতিহাসের প্রায় ৯৫% জুড়ে রয়েছে পুরা প্রস্তর যুগ। ২.৬ মিলিয়ন বছর আগে হোমিনিনিন যেমন অস্ত্রালোপিথেচিনদের মাঝে পাথরের যন্ত্রপাতি প্রচলনের সময় থেকে বর্তমান হতে ১০,০০০ বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিন যুগের শেষভাগ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি।

পুরাতত্ত্ব

পুরাতত্ত্ব বা পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন হল প্রাচীন যুগের দ্রব্যাদি; বিশেষত যেগুলো ভূমধ্যসাগরীয় সভ্যতা, গ্রিস ও রোম এর প্রাচীনকাল, প্রাচীন মিশর এবং অন্যান্য প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয় সংস্কৃতি থেকে প্রাপ্ত। মধ্য প্রস্তর যুগ এর হস্তশিল্প এবং এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের সভ্যতার নির্দশনগুলোর পুরাতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। চিনসহ অন্যান্য সংস্কৃতির হস্তশিল্পগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। চিনের ব্রোঞ্জনির্মিত শিল্পগুলো দুই থেকে তিন হাজার বছরের পুরনো এবং শতাব্দী ধরে সংগ্রহ ও অনুকরণ করা হয়েছে। প্রাক-কলম্বিয়ান যুগের মেসো আমেরিকা সংস্কৃতিতে প্রাচীন ওলমেক সভ্যতার নিদর্শন মেলে যেগুলো মাটির নিচে চাপা পড়েছিল এবং স্প্যানিশদের বিজয় পর্যন্ত সময়ের ঐতিহ্য বহন করে।

বৈদিক যুগ

বেদবর্ণিত সময়কালকে বৈদিক যুগ ব'লে চিহ্নিত করা হয় যখন ছ'সহস্রাধিক বছর পূর্বকালীন ঋষিরা অগ্নিকেন্দ্রীক নানাবিধ যজ্ঞে শক্তিপ্রকাশক বিভিন্ন সত্ত্বার প্রতি অপৌরুষেয়(জন্মলব্ধ কারো সৃষ্টি নয় যা) দৃষ্টমন্ত্র(যে মন্ত্রসমূহ মনকর্তৃক রচিত নয় বরং সাধনদ্বারা দৃষ্ট বা প্রাপ্ত)স্মরণের মাধ্যমে ব'য়ে চলেছেন অজস্র প্রার্থনা ও উপাসনা মন্ত্র । বেদগুলোকে এখন সেই সব রচনাদির সংকলন হিসেবে পাওয়া যায় যা হিন্দুধর্মের আদি হিন্দুশাস্ত্রাধারও বটে । এটিকে এরকম বলার মূল কারণ হলো, এই সময় সমস্ত বেদ ও উপনিষদ লেখা হয়। যা আগে মুখে মুখে পড়তে ও মনে রাখতে হত।

ব্রোঞ্জ যুগ

ব্রোঞ্জ যুগ হল মানব সভ্যতার প্রাক ঐতিহাসিক কালের তিনটি প্রধান পুরাতাত্ত্বিক ভাগের (প্রস্তর যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ যুগ) দ্বিতীয় ভাগ। এই সময়কালে আধুনিক মানব ব্রোঞ্জ ধাতু ও চিহ্ন লিপির ব্যবহার করতে শিখেছিল। প্রাথমিক অবস্থার নগর সভ্যতা এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ব্রোঞ্জ যুগে তামার আকরিক থেকে তামা আহরণ করে একে টিন, আর্সেনিক বা অন্য ধাতুর সাথে মিশিয়ে মিশ্র ধাতু যেমন ব্রোঞ্জ তৈরি করা হয়েছিল। ব্রোঞ্জের উৎপাদন করা স্থান ও অন্য স্থানের মধ্যে ধাতুগুলির আদান-প্রদান করা চলেছিল। তামা-টিনের আকরিক সহজে পাওয়া যেত না এবং খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় সহস্রাব্দে আমদানি না হাওয়ায় পশ্চিম এশিয়াতে এই আকরিকসমূহ ছিল না। তখনকার বিশ্বের প্রায় সকল স্থানে নব্য প্রস্তর যুগের (ইংরেজি) পরে ব্রোঞ্জ যুগের আরম্ভ হওয়ার বিপরীতে কোনো কোনো অঞ্চলে তাম্র যুগ সেই স্থান নিয়েছিল। কিছু স্থানে, নব্য প্রস্তর যুগের পর লৌহ যুগের সূত্রপাত ঘটেছিল।

ভারতবর্ষে ইসলামি সাম্রাজ্য

'অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের মাধ্যমে ইসলামের ভারত বিজয়ের পর ভারতে ইসলামি সাম্রাজ্য শুরু হয়। ইসলামি সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের বেলুচিস্তান(পূর্বে মুলতান) এবং সিন্ধু অঞ্চলে উপস্থিত হয়। ইসলামি সভ্যতা আসার পর দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত দিল্লী সুলতান ও মুঘল সাম্রাজ্য উত্তর ভারতে শাসন করে।

ভারতের ইতিহাস

এই নিবন্ধটি ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পূর্ববর্তী ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস-সম্পর্কিত। ১৯৪৭-পরবর্তী ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস জানতে হলে দেখুন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস নিবন্ধটি। এছাড়া পাকিস্তান বা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাস জানতে হলে দেখুন যথাক্রমে পাকিস্তানের ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস। দক্ষিণ ভারত, অবিভক্ত বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস জানতে হলে দেখুন যথাক্রমে দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস, বাংলার ইতিহাস ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস।ভারতের ইতিহাস বলতে মূলত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ থেকে খ্রিষ্টীয় বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন -মধ্যযুগীয় ও প্রাক-আধুনিক কালের ইতিহাসকেই বোঝানো হয়। খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় দশ লক্ষ(?) বছর আগে উক্ত ভূখণ্ডে প্রথম মানববসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়। তবে ভারতের জ্ঞাত ইতিহাসের সূচনা হয় ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ১৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সিন্ধু সভ্যতার উন্মেষ ও প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে। পরবর্তী হরপ্পা যুগের সময়কাল ২৬০০ – ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সূচনায় এই ব্রোঞ্জযুগীয় সভ্যতার পতন ঘটে। সূচনা হয় লৌহ-নির্ভর বৈদিক যুগের। এই যুগেই সমগ্র গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে মহাজনপদ নামে পরিচিত ১৬টি প্রধান প্রধান রাজ্য-তথা-জনবসতির উত্থান ঘটে। এই জনপদগুলির অধিকাংশই রাজতান্ত্রিক হলেও এদের মধ্যে "লিচ্ছিবি" ছিল গণতান্ত্রিক। এই জনপদের মধ্যে অন্যতম ছিল মগধ।খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে মগধে জন্মগ্রহণ করেন মহাবীর ও গৌতম বুদ্ধ; পরবর্তীকালে যাঁরা ভারতের জনসাধারণের মধ্যে শ্রমণ ধর্মদর্শন প্রচার করেন।

অব্যবহিত পরবর্তীতেই একাধিক বৈদেশিক শাসনে আওতায় চলে আসে উত্তর-পূর্বের এই অঞ্চল। এগুলির মধ্যে ৫৪৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ প্রতিষ্ঠিত হখামনি পারসিক সাম্রাজ্য ৩২৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ মহামতি আলেকজান্ডারের রাজত্বকাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পাঞ্জাব ও গান্ধার অঞ্চলে ব্যাকট্রিয়ার প্রথম ডিমেট্রিয়াস কর্তৃক ১৮৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে স্থাপন করেন ইন্দো-গ্রিক রাজ্য। প্রথম মিনান্ডারের আমলে গ্রিকো-বৌদ্ধ যুগে এই রাজ্য বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির চরমে পৌঁছায়।

খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে উপমহাদেশে রাজনৈতিক ঐক্য সাধিত হয়। পরবর্তী দশ শতাব্দীকালে একাধিক ক্ষুদ্রকায় রাজ্য ভারতের বিভিন্ন অংশ শাসন করে। চতুর্থ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর ভারত পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পরবর্তী প্রায় দুই শতাব্দীকাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের যাবৎ এই ঐক্য বজায় থাকে। এই যুগটি ছিল হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের কাল। ভারতের ইতিহাসে এই যুগ "ভারতের সুবর্ণ যুগ" নামে অভিহিত । এই সময় ও পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতে রাজত্ব করেন চালুক্য, চোল, পল্লব ও পাণ্ড্য রাজন্যবর্গ। তাদের রাজত্বকাল দক্ষিণ ভারতের নিজস্ব এক সুবর্ণ যুগের জন্ম দেয়। এই সময়ই ভারতীয় সভ্যতা, প্রশাসন, সংস্কৃতি তথা হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ৭৭ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ কেরলের সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যের কথাও জানা যায়।

৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আরব সেনানায়ক মুহাম্মদ বিন কাশিম দক্ষিণ পাঞ্জাবের সিন্ধ ও মুলতান অধিকার করে নিলে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসনের সূচনা ঘটে। এই অভিযানের ফলে দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে সংগঠিত একাধিক অভিযানের ভিত্তিভূমি সজ্জিত করে। এরই ফলস্রুতিতে ভারতীয় উপমহাদেশে দিল্লি সুলতানি ও মুঘল সাম্রাজ্যের মতো মুসলমানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। মুঘল শাসনে উপমহাদেশের প্রায় সমগ্র উত্তরাঞ্চলটি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মুঘল শাসকরা ভারতে মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প ও স্থাপত্যকলার প্রবর্তন ঘটান। মুঘলদের সমকালেই দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব পশ্চিম ভারতে বিজয়নগর সাম্রাজ্য, অহোম রাজ্য এবং বাংলা, মারাঠা সাম্রাজ্য ও একাধিক রাজপুত রাজ্যের মতো বেশ কিছু স্বাধীন রাজ্যের উন্মেষ ঘটে। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ধীরে ধীরে মুঘলদের পতন শুরু হয়। এর ফলে আফগান, বালুচ ও শিখরা উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়। অবশেষে ব্রিটিশরা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার উপরে নিজেদের শাসন কায়েম করে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ও পরবর্তী শতাব্দীতে ধীরে ধীরে ভারত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে চলে যায়। ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের নামে অভিহিত সিপাহী বিদ্রোহেরপ্রেক্ষিতে কোম্পানির শাসনে অসন্তুষ্ট ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতকে ব্রিটিশ রাজের প্রত্যক্ষ শাসনে নিয়ে আসেন। এই সময়টি ছিল ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অবনমনের এক অধ্যায়। যদিও পাশ্চাত্য আধুনিক শিক্ষার প্রসার এই যুগেই বাংলার মাটিতে নবজাগরণের জন্ম দেয়।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দেশব্যাপী এক স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেয়। অবশেষে, ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ গ্রেট ব্রিটেনের অধীনতাপাশ ছিন্ন করে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়। উপমহাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাংশের মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি নিয়ে পাকিস্তান ও অবশিষ্ট অঞ্চল ভারতীয় প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে আত্ম-প্রতিষ্ঠা করে।

মধ্য প্রস্তর যুগ

মধ্য প্রস্তর যুগ বা মেসোলিথিক হল প্রাচীন প্রস্তর যুগ বা প্যালিওলিথিক এবং নব্য প্রস্তর যুগ বা নিওলিথিক-এর মধ্যবর্তী এক যুগ। ইউরোশিয়াতে মধ্য প্রস্তর যুগের ভিন্ন ভিন্ন কালক্রম রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে এটি মূলত প্লাইস্টোসিন যুগের পরবর্তী সময় এবং কৃষিকাজের উপকরণ আবিষ্কারের পূর্বের যুগ, যার স্থায়িত্বকাল ছিল ১০,০০০ থেকে ৫,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। কিন্তু লেভান্তে প্রাপ্ত ২০,০০০ থেকে ৯,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কৃষিজ উপকরণসমূহ মধ্য প্রস্তর যুগীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেইজি যুগ

মেইজি যুগ বলতে জাপানের সম্রাট মেইজির ৪৫ বছরের শাসনকালকে নির্দেশ করা হয়। এই সময়কাল ১৮৬৮ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল। এই সময়কালকে জাপানের আধুনিকায়নের যুগ হিসেবে অভিহিত করা হয়।শুধু তাই নয়, এই সময়ে বিশ্বের ইতিহাসে জাপান নিজেদেরকে একটি প্রথম সারির ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯১২ সালে সম্রাট মেইজির মৃত্যুর পর সম্রাট তাইশো সিংহাসনে আরোহণ করলে এই যুগের অবসান হয় এবং তাইশো যুগের সূচনা হয়।

লৌহ যুগ

প্রাগৈতিহাসিক যুগের যে সময়কালে কোন এলাকার ধাতব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি মূলত লোহা দ্বারা তৈরি হত সেই সময়কালকে প্রত্নতত্ববিদ্যায় লৌহযুগ বলা হয়। লোহার ব্যবহার শুরুর সাথে সাথে মানবসমাজে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যার মধ্যে কৃষিব্যবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শিল্পকলা অন্যতম।

প্রত্নতত্ববিদ্যায় প্রাগৈতিহাসিক যুগকে যে তিনভাগে ভাগ করা হয়, লৌহ যুগ হচ্ছে সেই তিন যুগের সর্বশেষ যুগ। প্রস্তর যুগ ও ব্রোঞ্জ যুগের পরে লৌহ যুগের আবির্ভাব। লৌহযুগের সময়কাল ও বৈশিষ্ট্য অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন। সব অঞ্চলেই লৌহযুগ শেষে ঐতিহাসিক যুগের আবির্ভাব, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল লিখিত সংরক্ষিত ইতিহাস। উদাহরণ স্বরুপ, ব্রিটেন এর লৌহযুগ শেষ হয় রোমান বিজয় এর মাধ্যমে, যার পর হতে ব্রিটেন এর লিখিত ইতিহাস সংরক্ষণ শুরু হয়।

সংখ্যা

সংখ্যা হলো পরিমাপের একটি বিমূর্ত ধারণা । সংখ্যা প্রকাশের প্রতীকগুলিকে বলা হয় অঙ্ক ।

স্বস্তিকা

স্বস্তিকা সংস্কৃত শব্দ। সাধারণ অর্থে কল্যাণ বা মঙ্গল বোঝায়। এর নির্দিষ্ট কোন অর্থ নেই। কারণ শব্দ থেকে শব্দ অনুবাদ করা গেলেও ভাব থেকে শব্দে, কিংবা ভাব থেকে ভাবে অনুবাদ করা কঠিন। যেহেতু সূর্য নিজেই সৌভাগ্য, সৃষ্টি এবং জীবনের প্রতীক, তাই সূর্যদেবতার সাথে স্বস্তিকার একধরনের সম্পর্ক টানতে চেয়েছেন অনেকেই। তবে সকল দিক এবং মত অনুসারেই স্বস্তিকা শুভের চিহ্ন। হাজার বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের অনুসারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে প্রতীকটি।

সংস্কৃত শব্দ স্বস্তিকা। সাধারণ অর্থে কল্যাণ বা মঙ্গল। তাৎপর্য উদ্ধার করতে গিয়ে হাবুডুবু খান পণ্ডিতেরা। কারণ শব্দ থেকে শব্দ অনুবাদ করা গেলেও ভাব থেকে শব্দে, কিংবা ভাব থেকে ভাবে অনুবাদ করা কঠিন। যেহেতু সূর্য নিজেই সৌভাগ্য, সৃষ্টি এবং জীবনের প্রতীক, তাই সূর্যদেবতার সাথে স্বস্তিকার একধরনের সম্পর্ক টানতে চেয়েছেন অনেকেই। তবে সকল দিক এবং মত অনুসারেই স্বস্তিকা শুভের চিহ্ন। হাজার বছর ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের অনুসারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রেখেছে প্রতীকটি।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.