গাজা

গাজা শহর গাজা ভূখন্ডের একটি শহর যার ফিলিস্তিনী জনসংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। ক্যানানাইটিসরা ভুমধ্য সাগরের তীরে অবস্থিত এই শহরটি স্থাপন করেছিল খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে।[২]

গাজা
গাজা শহর
শহর
গাজা আকাশপ্রান্ত, ২০০৭
গাজা আকাশপ্রান্ত, ২০০৭
গাজার অফিসিয়াল লোগো

গাজার জাতীয় প্রতীক
গাজা ফিলিস্তিনী অঞ্চলসমূহ-এ অবস্থিত
গাজা
গাজা
গাজার অবস্থান, ফিলিস্তিনী অঞ্চলসমূহ
স্থানাঙ্ক: ৩১°৩১′ উত্তর ৩৪°২৭′ পূর্ব / ৩১.৫১৭° উত্তর ৩৪.৪৫০° পূর্বস্থানাঙ্ক: ৩১°৩১′ উত্তর ৩৪°২৭′ পূর্ব / ৩১.৫১৭° উত্তর ৩৪.৪৫০° পূর্ব
দেশ ফিলিস্তিনী জাতীয় কর্তৃপক্ষ
স্বরাষ্ট্রগাজা
প্রতিষ্ঠাকালখ্রিস্টপূর্বে ১৫তম শতাব্দী
শহরের মর্যাদা প্রদান১৯৯৪
সরকার
 • মেয়ররফিক তৌফিক আল-মাক্কি
আয়তন
 • মোট৪৫ কিমি (২৭ বর্গমাইল)
উচ্চতা০ মিটার (০ ফুট)
জনসংখ্যা (২০০৯)[১]
 • মোট৪,৪৯,২২১
 • জনঘনত্ব৯৯৮২.৬৯/কিমি (১৬৬৩৭.৮১/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল. (ইউটিসি+২)
দেশের টেলিফোন কোড+৯৭০-৮
ওয়েবসাইটmogaza.org

তথ্যসূত্র:

  1. 2009 census, page 61. Palestinian Central Bureau of Statistics.
  2. Middleton, Paul (২০০৭)। Israel vs Palestine। Magpie Books, London। পৃষ্ঠা 107। আইএসবিএন 13:978-1-84529-622-3 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য)
অপরাধ

অপরাধ (ইংরেজি: Crime, Misdemeanor, Felony) হচ্ছে কোন ব্যক্তি কর্তৃক আইনবিরুদ্ধ কাজ। দেশ বা অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রণীত আইনের পরিপন্থী কার্যকলাপই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। অপরাধ গুরুতর কিংবা লঘু - উভয় ধরনেরই হতে পারে। অপরাধের ফলে ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড, হাজতবাস বা কারাগারে প্রেরণসহ উভয় দণ্ড কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণদণ্ডও প্রদান করা হয়ে থাকে। যে বা যিনি অপরাধ করেন বা অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন, তিনি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে থানাসহ পুলিশ, গোয়েন্দা রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অণুযায়ী আদালতের মহামান্য বিচারক অপরাধীকে প্রয়োজনীয় ও যথোপযুক্ত শাস্তি দিয়ে থাকেন।

সাধারণতঃ অসৎ কর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধের সাথে যুক্ত থাকেন। কিন্তু সাধারণ জনগণও অপরাধের সাথে নিজেকে সংযুক্তি ঘটাতে পারেন। বিপরীতক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অণুযায়ী, মানব নয় এমন ধরনের প্রাণী অপরাধের সাথে যুক্ত হতে পারে না।সাধারণ ধারণা অণুযায়ী কোন ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তি বা সমাজের সমস্যা সৃষ্টিকল্পে যে সকল কাজ করেন তাই অপরাধ। অপরাধ হিসেবে কোন ব্যক্তিকে খুন, জখম, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণ, জালিয়াতি, অর্থপাচার ইত্যাদি রয়েছে যা পৃথিবীর সকল সভ্য দেশেই স্বীকৃত থাকায় দণ্ডনীয়। এছাড়াও, মদ্যপান, কোকেন, হেরোইন, গাজা সেবন, নিষিদ্ধ প্রাণীর মাংস খাওয়াসহ সমাজের বিরুদ্ধ কার্যাবলী সম্পাদন করা অপরাধের আওতাভূক্ত।

ইন্তিফাদা

ইন্তিফাদা (انتفاضة intifāḍah) একটি আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ প্রকম্পিত করা, জেগে ওঠা বা উত্থান। তবে পারিভাষিক প্রচলিত অর্থে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের দুইটি বড় ইসলামী আন্দোলন যা শুরু হয়েছিল মসজিদ গুলো থেকে তা বোঝানো হয়।১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে এবং ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে পশ্চিম তীর এবং গাজা এলাকায় ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়। দুইটি বড় গণজাগরণের পর এখন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন তৃতীয় ইন্তিফাদায় প্রবেশ করেছে।ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের পশ্চিম তীর এবং গাজা এলাকা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে আছে।

প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে এবং চলে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলন ছিল একটা অসহযোগ ধরনের আন্দোলন এবং গেরিলা পদ্ধতির প্রতিরোধ। ইজরাইল ইন্তিফাদা কে যেভাবে জবাব দিয়েছিল সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঈটঝাক র‍্যাবিন বর্ণনা করেন "জবরদস্তি, শক্তি এবং আঘাত" এই তিন শব্দে। ইন্তিফাদাহর প্রথম বছরেই ইজরাইল ৩১১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল যাদের ৫৩ জনই ছিল ১৭ বছরের কম বয়সী। ইন্তিফাদার প্রথম দুই বছরেই ২৩ থেকে ২৯ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু হাসপাতালের দ্বারস্ত হয়। বহু ফিলিস্তিনির শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

ইসমাইল হানিয়া

ইসমাইল আবদুস সালাম আহমেদ হানিয়া (আরবি: إسماعيل عبد السلام أحمد هنية‎‎, Ismaʻīl Haniyya; (ইসমাইল হানিয়া বা ইসমাইল হানিয়াহ নামেও পরিচিত); জন্ম ২৯ জানুয়ারি ১৯৬৩) হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। ২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত আইন পরিষদের নির্বাচনে হামাস জয়লাভের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ফাতাহ-হামাস দ্বন্দ্বের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১৪ জুন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস তাকে পদচ্যুত করেন। কিন্তু ইসমাইল হানিয়া আদেশ মেনে নেননি এবং গাজা উপত্যকায় প্রধানমন্ত্রীত্ব করতে থাকেন।

ইসরায়েল

ইসরায়েল (হিব্রু ভাষায়: מְדִינַת יִשְׂרָאֵל‎ মেদিনাত্‌ য়িস্‌রা'এল্‌ ; আরবি: دَوْلَةْ إِسْرَائِيل‎‎ দাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌) পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্র। এটি ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব তীরে ও লোহিত সাগরের উত্তর তীরে অবস্থিত। দেশটির উত্তর স্থলসীমান্তে লেবানন, উত্তর-পূর্বে সিরিয়া, পূর্বে জর্দান ও ফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত ভূখন্ড পশ্চিম তীর, পশ্চিমে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড গাজা উপত্যকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর অবস্থিত।

ইসরায়েল সমগ্র জেরুসালেম শহরকে তার রাজধানী হিসেবে দাবী করে আসছে, যদিও এই মর্যাদা সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রই স্বীকার করে না। শহরের পশ্চিমভাগ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এখানে দেশটির সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি অবস্থিত। অর্থনৈতিকভাবে ইসরায়েল একটি অত্যন্ত উন্নত শিল্পপ্রধান রাষ্ট্র। ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত তেল আভিভ দেশটির অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রাণকেন্দ্র এবং বৃহত্তম নগর এলাকা। স্থুল আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসেবে ইসরায়েল বিশ্বের ৩৪তম বৃহত্তম অর্থনীতি। দেশটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরাষ্ট্র। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এটি এশিয়ার ৩টি উচ্চ-আয়ের রাষ্ট্রগুলির একটি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে এটি বিশ্বের ৩৯টি অগ্রসর অর্থনীতিসমৃদ্ধ দেশগুলির একটি।

ইসরায়েলে প্রায় ৮৩ লক্ষ লোকের বাস। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ; এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৮১ জন অধিবাসী বাস করে। এদের মধ্যে ৬১ লক্ষ ইহুদী জাতি ও ধর্মাবলম্বী এবং ১৭ লক্ষ আরব জাতিভুক্ত (যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান)। এটিই বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্র যেখানে ইহুদীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়। ইসরায়েলের জনগণ অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত; এখানকার প্রায় অর্ধেক জনগণের (২৫-৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে) বিশ্ববিদ্যালয় বা তার সমপর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, যা বিশ্বের ৩য় সর্বোচ্চ। দেশটির জীবনযাত্রার মান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ, এশিয়াতে ৫ম এবং বিশ্বে ১৯তম।ইসরায়েল নিজেকে একটি ইহুদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দাবী করে। এখানে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। এর এককক্ষবিশিষ্ট আইনসভার নাম

ক্নে‌সেত। প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

ইসরায়েলের জন্ম, ইতিহাস ও রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই ইসরায়েল প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলির সাথে বেশ কয়েকবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দেশটি ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা সামরিকভাবে দখল করে আছে। বর্তমানে পৃথিবীর ১৬১টি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ৩১টি রাষ্ট্র (মূলত মুসলমান অধ্যুষিত) এখনও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়নি এবং দেশটির সাথে তাদের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাদের অনেকের মতে ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের একটি অংশের অবৈধ দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড। তবে নিকটতম দুই আরব প্রতিবেশী মিশর ও জর্দানের সাথে ইসরায়েল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ও দেশ দুইটির স্বীকৃতিও লাভ করেছে।

ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত

ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত অনেক দিন ধরে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল এর মধ্যে চলে আসা সংঘাতকে নির্দেশ করে। একে বৃহত্তর অর্থে আরব-ইসরায়েল সংঘাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। দুইটি আলাদা জাতি করার জন্য অনেক পরিকল্পনাই করা হয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রও গঠিত হতো। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দুই দেশের অধিকাংশ মানুষই এই সংঘাত নিরসনে অন্য যেকোন পরিকল্পনার তুলনায় দুই-জাতি পরিকল্পনাকে বেশি সমর্থন করে। অধিকাংশ প্যালেস্টাইনী মনে করে, তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র হওয়া উচিত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা-কে কেন্দ্র করে। অধিকাংশ ইসরায়েলীও এই ধারণা সমর্থন করে। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন শিক্ষাবিদ সবকিছু বাদ দিয়ে একটিমাত্র রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করে। তাদের মতে সমগ্র ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা মিলে একটি দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র গঠিত হওয়া উচিত যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে। কিন্তু এ নিয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। কারণ প্রত্যেকেই অন্যের কোন না কোন প্রস্তাবে অসম্মতি জ্ঞাপন করছে।

এই সংঘতে দেশী-বিদেশী অনেকগুলো শক্তি ও বিষয় জড়িয়ে পড়েছে। সংঘতে সরাসরি অংশ নেয়া দলগুলো হচ্ছে, এক পক্ষে ইসরায়েল সরকার যার প্রধান নেতা এহুদ ওলমার্ট। আর অন্য পক্ষে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) যার প্রধান নেতা বর্তমানে মাহমুদ আব্বাস। এই দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা তৈরীতে কেন্দ্রী চরিত্র হিসেবে কাজ করে কোয়ার্টেট অফ দ্য মিড্‌ল ইস্ট (বা শুধু কোয়ার্টেট) নামে পরিচিত একটি দল। এই দলে কূটনৈতিকভাবে অংশ নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ। আরব লীগ এই সংঘাতের আরেক নায়ক যারা একটি বিকল্প শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। আরব লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিশর এতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।

২০০৬ সালের পর থেকে প্যালেস্টাইনীয় অংশ দুটি প্রধান দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে: ফাতাহ এবং হামাস। এর মধ্যে ফাতাহ-ই বর্তমানে সবচেয়ে বড়। এর ফলে দেশের কেন্দ্রীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক শাসিত মূল ভূমি ব্যবহারিক অর্থে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে: পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাস প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ইসরায়েলসহ অনেকগুলো দেশই হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। তার মানে, ২০০৬ এর নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও তাদেরকে কোন আন্তর্জাতিক সমঝোতা অণুষ্ঠানে অংশ নিতে দেয়া হবে না।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সমঝোতা অণুষ্ঠানটি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপোলিসে, ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে। এই আলোচনার মাধ্যমে ২০০৮ এর শেষ নাগাদ একটি চিরস্থায়ী শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারী দলগুলো বলেছে, ৬ টি প্রধান বিষয় আছে যেগুলোর সমাধান না হলে শান্তি আসবে না। এগুলো হচ্ছে: জেরুসালেম, শরণার্থী, আবাসন, নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং পানি। এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন রকম মতামতের সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যশে বোঝা যায়, সংঘাতটা শুধু ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনের মধ্যে নয়, উভয়ের অভ্যন্তরেও অনেক অর্ন্তর্দ্বন্দ্ব্ব্ব বিদ্যমান। এই সংঘাতের সবচেয়ে বীভৎস দিক হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী সহিংসতা। অনেক দিন ধরে এই অঞ্চলে এক নাগাড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এই যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো। শুধু সামরিক লোকই মারা যাচ্ছে না, সাথে প্রচুর বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

ইসরায়েলি শেকেল

ইসরায়েলি শেকেল বা নতুন শেকেল (হিব্রু ভাষায়: שֶׁקֶל חָדָשׁ‎ শেক়েল্ খ়াদাশ্; আরবি: شيقل جديد‎‎ শেক়েল্ জাদিদ্; মুদ্রা প্রতীক: ₪; ব্যাংক কোড: ILS) হল ইসরায়েলের মুদ্রা। শেকেল -এর ভগ্নাংশ হল আগোরা যার মূল্যমান ₪১-র ১০০ ভাগের ১ভাগ।ইসরায়েলি শেকেল-এর ব্যবহার ইসরায়েল ছাড়া, ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজা ভূখণ্ডতেও হয়।

গাজা ভূখণ্ড

গাজা ভূখণ্ড (আরবি: قطاع غزة ক্বিত্বা` গ়াজ়্‌জ়া, হিব্রু ভাষায়: רצועת עזה রেৎসু'আৎ 'আজ়্‌জ়া‎‎) ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। এর ৩২০ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে চারটি শহর, আটটি ফিলিস্তিনী শরনার্থী শিবির আর এগারোটি গ্রাম। প্রায় ১২ লক্ষ ফিলিস্তিনী ও ১৭,০০০ হাজার ইসরায়েলীর জন্য নতুন বসতি।

গাজা ভূখণ্ডের পশ্চিমে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে মিশর, এবং উত্তরে, পূর্বে, ও দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে ইসরায়েল।

যদিও জাতিসংঘে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতা পুরোপুরি স্বীকৃত নয়, এই অঞ্চলটি ইতমধ্যে ফিলিস্তিনী হামাস সরকারের শাসনে পড়ে। গাজা ভূখণ্ডের পূর্ব সীমান্ত ইসরায়েলের দখলে, এবং সাইনাই মরুভূমিস্থ দক্ষিণ সীমান্ত মিশরের দখলে রয়েছে। ১৯৪৮ সাল হতে ১৯৬৭ পর্যন্ত পুরো ভূখণ্ড মিশরের দখলে ছিল।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েলী যুদ্ধে ইসরায়েল এ ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যা এখনও ইসরায়েলের দখলে রয়েছে । অঞ্চলটি ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার (১৪১ বর্গ মাইল) মোট এলাকা দিয়ে ৪১ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দীর্ঘ এবং ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার (৩.৭ থেকে ৭.৫ মাইল) প্রশস্ত। [১৫] [১৬] প্রায় ১.৮৫ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি [3] 36২ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে, গাজা বিশ্বের তৃতীয়তম সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হয়। [17] [18] প্যালেস্টের মধ্যে একটি বিস্তৃত ইসরায়েলি বাফার জোন গাজার ফিলিস্তিনিদের কাছে সীমানার বাইরে অনেক জমি দেয়। [19] গাজার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার 2.91% (২014 সালের পূর্বাভাস), বিশ্বের 13 তম সর্বোচ্চ, এবং প্রায়ই ঘন ঘন হিসাবে উল্লেখ করা হয়। [16] [20] ২0২0 সালে জনসংখ্যা ২1 মিলিয়নে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সময়ে, গাজার প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকে। [21] ইসরায়েলি ও মিশরীয় সীমান্ত বন্ধের কারণে এবং ইসরায়েলি সমুদ্র ও বায়ু অবরোধের কারণে জনসংখ্যা গাজা স্ট্রিপ ছেড়ে যাওয়া বা প্রবেশ করতে অবাধে আমদানি বা রপ্তানির অনুমতি দেয় না। গাজা স্ট্রিপে সুন্নি মুসলমানরা প্যালেস্টাইনের জনগোষ্ঠীর প্রধানতম অংশ।

গাজা থেকে ২005 সালের ইসরায়েলি বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও, [২২] জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং সরকার এবং আইনী মন্তব্যকারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলটিকে এখনো ইসরাইলের দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচনা করে, মিশরের গাজায় অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা দ্বারা সমর্থিত। গাজার অভ্যন্তরে গাজায় সরাসরি বৌদ্ধ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং গাজার অভ্যন্তরের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে: এটি গাজার বাতাস এবং সামুদ্রিক স্থানকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং গাজার সাতটি স্থল সীমান্তের ছয়টি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। এটি গাজায় প্রবেশের অধিকারকে তার সামরিক বাহিনীতে সংরক্ষণ করে রাখে এবং গাজার সীমানার বাইরে একটি বোমার অঞ্চলকে রক্ষা করে। গাজা তার জল, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ এবং অন্যান্য ইউটিলিটি জন্য ইস্রায়েলের উপর নির্ভরশীল। [22]

ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের নির্বাচনে হামাস জয়ী হলে ২006 সালে, প্যালেস্টাইনী রাজনৈতিক দল ফাতাহ প্রস্তাবিত জোটের সাথে যোগ দিতে অস্বীকার করে, যতদিন না একটি স্বল্পকালীন ঐক্য সরকার চুক্তি সৌদি আরবের দ্বারা হস্তক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ চাপের মুখে যখন এই পতন ঘটে, তখন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরের একটি হামাস সরকার প্রতিষ্ঠা করে, যখন হামাস নিজেই গাজাতে সরকার গঠন করে। [23] ইসরায়েল এবং ইউরোপীয় কোয়ার্টেট হামাসের বিরুদ্ধে আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গাজা উপত্যকায় একটি সংক্ষিপ্ত গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ফাতাহ হামাস প্রশাসন পরিচালিত হয়। হামাস বিজয়ী হন এবং ফাতাহ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এবং পিপি'র নিরাপত্তা যন্ত্রের সদস্যকে স্ট্রিপ থেকে বের করে দেন, [২4] [২5] এবং সেই তারিখ থেকে গাজায় একমাত্র শাসন ক্ষমতায় রয়েছেন। [23]

গাজা স্ট্রিপ, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত এবং সীমিত মাছ ধরার অঞ্চল

গাজা সিটি স্কাইলাইন, ২007

গাজা উপত্যকায়, 2012

গাজা, আগস্ট ২014 ইসরায়েলি বোমা হামলার পর

ইতিহাস

আরও তথ্য: গাজার ইতিহাস

গাজায় শাসন, ওভারভিউ

গাজা অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, এটি যুক্তরাজ্য (1918-1948), মিশর (1948-1967) এবং তারপর ইসরায়েল কর্তৃক দখল করার আগে, 1994 সালে গাজায় স্বাধীন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ অসলো চুক্তির মাধ্যমে স্বশাসন প্রদান করে। । ২007 সাল থেকে গাজা স্ট্রিপ হামাস দ্বারা পরিচালিত হয়, যা ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে।

গাজার ২005 সালের ইসরায়েলি বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও, এই অঞ্চলটিকে এখনও জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং অধিকাংশ সরকার ও আইনি মন্তব্যকারীদের দ্বারা ইসরায়েলি দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [22] গাজার অভ্যন্তরে গাজায় সরাসরি বৌদ্ধ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং গাজার অভ্যন্তরের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে: এটি গাজার বাতাস এবং সামুদ্রিক স্থানকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং গাজার সাতটি স্থল সীমান্তের ছয়টি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। এটি গাজায় প্রবেশের অধিকারকে তার সামরিক বাহিনীতে সংরক্ষণ করে রাখে এবং গাজার সীমানার বাইরে একটি বোমার অঞ্চলকে রক্ষা করে। গাজা তার জল, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ এবং অন্যান্য ইউটিলিটি জন্য ইস্রায়েলের উপর নির্ভরশীল। [22]

1948 সালের যুদ্ধে গাজা স্ট্রিপ তার বর্তমান উত্তর ও পূর্ব সীমানা অর্জন করে, যা 194২ সালের ২4 ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মিসর বাহিনীবিষয়ক চুক্তি দ্বারা নিশ্চিত হয়। [২6] চুক্তির আর্টিকেল ভি

গাজার ইতিহাস

গাজার ইতিহাস ৪০০০ বছরের জানা যায়। বিভিন্ন রাজবংশ, সাম্রাজ্য ও মানুষের দ্বারা গাজা শাসিত হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে, আবার জনবহুল হয়েছে। মূলত একটি কনানীয় উপনিবেশ, ফিলিস্তিনীদের দখলে আসা, এবং একটি প্রধান শহর হওার আগে এটা প্রায় ৩৫০ বছর ধরে প্রাচীন মিশরীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গাজার প্রায় ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইস্রায়েলীয়দের দখলে আসে, কিন্তু প্রায় ৭৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আসিরীয়ান সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে পরে। ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহান আলেকজান্ডার এই শহরকে ঘেরাত্ত ও দখল করে। অধিকাংশ অধিবাসীই হামলার সময় নিহত হন, এবং এই শহর, নিকটবর্তী বেদুইনরা দ্বারা পুনর্বাসিত হয় ও হেলেনীয় শিক্ষা ও দর্শনের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। ৯৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হাসমনিয়ান দের দখলে আসার আগে এটি দুই গ্রিকের উত্তরাধিকারী, সিরিয়ার সেলুসিড ও মিশরের টলেমির মধ্যে বারংবার হাতবদল হতে থাকে।

গাজা রোমান জেনারেল নিয়াস পম্পেয়াস ম্যাগনাস দ্বারা পুনর্নির্মিত হয় এবং ৩০ বছর পরে মহান হিরোদকে (যিহূদিয়ার রাজা) প্রদান করা হয়। রোমান সময়ের সময়ে গাজা বিভিন্ন সম্রাট থেকে অনুদান পেতে থাকে এবং তার সমৃদ্ধি বজায় রাখে। গ্রীক, রোমান, ইহুদি, মিসরীয়, পারসি ও নবতাঈের ৫০০ জন সদস্যের একটি বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্রীয় পরিষদ এই শহরকে নিয়ন্ত্রণ করত। শহরে খ্রিস্ট ধর্মে রূপান্তর শুরু ও সম্পন্ন হয় সেন্ট পরফায়রিয়াসের অধিনে, যিনি ৩৯৬ ও ৪২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ৮ টি পৌত্তলিক মন্দির ধ্বংস করেন। ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে, গাজা, মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আস দখল করেন, এবং অধিকাংশ গাজাবাসী গোড়ার মুসলমান শাসনকালে ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর শহরের সমৃদ্ধি ও পতন সময়কাল মাধ্যমে চলতে থাকে। ১১০০ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা, ফাতেমীয়দের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়, কিন্তু সালাহউদ্দিন আইয়ুবী তাদের বিতাড়িত করেন। ১৩ শতাব্দীর শেষের দিকে গাজা মামলুকদের হাতে থাকে, এবং সিনাই উপদ্বীপ থেকে কায়েসরা পর্যন্ত একটি বিশাল প্রদেশের রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৬শ শতকে, উসমান নিযুক্ত, রিদোয়ান রাজবংশের অধিনে এটি সুবর্ণ যুগের সাক্ষী হয়।

গাজা ১৯০৩ এবং ১৯১৪ সালে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প সম্মুখীন হয়। ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশ বাহিনী শহর দখল করে (গাজার তৃতীয় যুদ্ধে)। ২০শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে, মেন্ডেটরি শাসনাধীনে গাজা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৮ -এর আরব-ইসরাইলি যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের দেশত্যাগের ফলে শহরের জনসংখ্যা ফুলে ফেঁপে ওঠে। ১৯৬৭র ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরাইলদের দ্বারা দখল করার আগে পর্যন্ত গাজা মিশরের শাসনাধীনে ছিল। গাজায় প্রথম ইন্তিফাদার সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটি কেন্দ্র বিন্দু হয়ে ওঠে, এবং ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির অধীনে, এটি নতুন গঠিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য নির্ধারিত হয়। ২০০৫ সালে ইসরাইল একতরফাভাবে গাজা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। ২০০৭এ, হামাস, উভয় ফিলিস্তিনের নির্বাচনে বিজয়ী হিসেবে এবং শহরে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ সঙ্গে বিরোধপূর্ণ যুদ্ধে জিতে এবং তারপর থেকেই একমাত্র শাসক কর্তৃপক্ষ হয়েপরে। ইস্রায়েল পরবর্তীকালে ভূখণ্ড অবরোধ করে এবং ২০০৮-২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে এটির বিরুদ্ধে নিপীড়নের শুরু করে, কথিত রকেট হামলার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

জেরুসালেম

জেরুসালেম শহরটির এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থান ভূ-মধ্যসাগর ও মৃত সাগরের মধ্যবর্তী যোধাইয়ান পর্বতের মালভূমিতে। জেরুসালেম ৩৪ ডিগ্রী অক্ষাংশ ও ৩১.৫২ ডিগ্রী দ্রাঘিমাংশের উত্তরে অবস্থিত। জেরুসালেম একদিকে ইজরায়েল এবং পশ্চিম, অন্যদিকে ফিলিস্তিন এবং পূর্বের দ্বারা বিভক্ত বিভিন্ন কারণে। জেরুসালেম শহরটি কিছু ধর্মের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। তন্মধ্যে রয়েছে ইব্রাহিমীয় ধর্মের ইহুদী, খ্রিস্টধর্ম এবং ইসলাম। যার কারণে এটি একটি পবিত্র শহর হিসেবেও বিবেচিত। জেরুসালেমে প্রতিটি ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র কিছু জায়গা পাওয়া যায় এবং তিনটি ধর্মের মধ্যে ভাগাভাগি হয় এমন স্থান হল হারাম আল-শরিফ। জেরুসালেমের একটু দক্ষিণে, জর্ডন নদীর পশ্চিম প্রান্তেই আছে মৃত সাগর বা ডেড সী।

জনসংখ্যা: জেরুজালেমের জনসংখ্যা ৫,০০০ বছরের ইতিহাসে বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে।মধ্যযুগ থেকেই জেরুজালেমের পুরানো শহরটি ইহুদি,মুসলিম,খ্রিস্টান এবং আর্মেনিয়ান এই চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১৯০৫ সালের পূর্বের জনসংখ্যার তথ্য অনুমানের উপর ভিত্তি করে পাওয়া যায়। যেগুলো প্রধানত বিদেশী পরিব্রাজক বা সংস্থার কাছ থেকে জানা।কারণ পূর্বের জনসংখ্যার তথ্য সাধারণত জেরুজালেম জেলার মত বিস্তৃত এলাকার জন্য থাকত। এই অনুমান থেকে পাওয়া যায় যে ক্রুসেড যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত মুসলমানরা জেরুজালেমের বৃহত্তম গোষ্ঠী ছিল। ১৮৩৮ সাল থেকে ১৮৭৬ সালের মধ্যে ইহুদি বা মুসলমানরা সর্ববৃহৎ গোষ্ঠী ছিল কিনা তা নিয়ে বেশ কয়েকটি ধারণা বিদ্যমান, এবং ১৮৮২ সাল থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে কখনো ইহুদীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।১৯৫০ সালে, জেরুজালেমের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১,২০,৮৯৫।

২০১৬ সালের হিসাবে জেরুজালেমের মোট জনসংখ্যা ছিল ৮৮২,৭০০ জন। এর মধ্যে ৫৩৬,৬০০ জন ইহুদি এবং ৩৪৫,৯০০ জন অন্যান্য গোষ্ঠীর (৩১৯,৮০০ জন মুসলিম ১৫,৮০০ জন খ্রিস্টান এবং ১০,৩০০ জন শ্রেণীবিহীন) সদস্য ছিল। ২০০৩ সালে পুরানো শহরের জনসংখ্যা ছিলো ৩,৯৬৫ জন ইহুদী এবং ৩১,৪০৫ জন "আরব ও অন্যান্য" ধর্মাবলম্বী।

২০১৯ সালে জেরুজালেমের জনসংখ্যা ৯,১৯,৪০৭ বলা হয়েছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে।

পেত্রা

পেত্রা (গ্রিক: πέτρα; আরবি ভাষায়: البتراء, আল্‌-বুত্রা) একটি প্রাচীন আরব শহর। বর্তমান জর্দানের দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্রাম ওয়াদি মুসা-র ঠিক পূর্বে হুর পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী। পেত্রা নগরী মূলত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ ছিল। এটি বিখ্যাত এর অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভগুলোর জন্য। এটি তৈরি হয়েছে গুহার মধ্যে যা কোথাও কোথাও মাত্র ১২ ফুট চওড়া, মাথার ওপরে পাথরের দেয়াল। গুহার পাশেই রয়েছে কঠিন পাথরের দেয়ালের গায়ে গ্রথিত সেই প্রাচীন দালানগুলো যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ‘খাজনেত ফিরাউন’ নামের মন্দিরটি। মন্দিরটি ফারাওদের ধনভান্ডার নামেও পরিচিত। আরো রয়েছে একটি অর্ধগোলাকৃতির একটি নাট্যশালা যেখানে প্রায় ৩০০০ দর্শক একসাথে বসতে পারে।

পেত্রা নগরী ছিল অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। পেত্রার চারধারে ছিল উঁচু পাহাড় আর একটি অফুরন্ত ঝরনাধারা। পশ্চিমের গাজা, উত্তরের বসরা ও দামাস্কাস, লোহিত সাগরের পাশের আকুয়াবা ও লিউস এবং মরুভূমির উপর দিয়ে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার প্রধান সব বানিজ্যিক পথগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতো পেত্রা।

রোমান শাসনের সময় সমুদ্রকেন্দ্রিক বাণিজ্য পুরোদমে শুরু হলে পেত্রা দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে। ১০৬ এডি তে রোমানরা এটিকে দখল করে তাদের ‘আরব পেত্রাইয়া’ প্রদেশের অংশীভূত করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে শহরটির প্রভূত উন্নতি হলেও পরবর্তীকালে প্রতিদ্বন্দী শহর ‘পামিরা’ পেত্রার অধিকাংশ বানিজ্যই দখল করে নিলে তখন পেত্রার গুরুত্ব কমে যায়। মুসলমানেরা এটিকে তাদের দখলে নেয় সপ্তম শতকে এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ শতকে আবার ক্রুসেডাররা এটিকে দখল করলে ক্রমেক্রমে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া ৩৬৩ সালে এক ভূমিকম্প ধ্বংস করে দেয় এর দালানগুলো, নষ্ট করে দেয় এর পানি সঞ্চালন ব্যবস্থাকে। মধ্যযুগে পেত্রার ধ্বংসাবশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, ত্রয়োদশ শতকের দিকে পেত্রা দেখতে যান ইজিপ্টের সুলতান বাইবারস।

বহু বছর অজানা থাকার পর এই প্রাচীন শহরটিকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে উন্মোচন করেন সুইস পরিব্রাজক জোহান লুডিগ বুর্খার্দত, ১৮১২ সালে। জন উইলিয়াম বার্গন তার নিউডিগেট পুরস্কার বিজয়ী বিখ্যাত এক সনেটে একে বর্ননা করেছেন “a rose-red city half as old as time” বলে। বার্গন কিন্তু পেত্রাতে যাননি। বলা যেতে পারে যেতে পারেননি। কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পর্যন্ত শুধুমাত্র ইউরোপীয়ানরাই সেখানে যেতে পারতেন। স্থানীয় লোক আর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যেতে হত সেখানে। ইউনেস্কো এটিকে ‘বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান’ ঘোষনা করে ১৯৮৫ সালে। ঘোষনায় পেত্রাকে বলা হয় “one of the most precious cultural properties of man's cultural heritage”। পেত্রা সংস্কৃতি, সম্পদ আর ক্ষমতায় একসময় যে কত সমৃদ্ধ ছিল তা প্রমাণ করতে পেত্রার ধ্বংসাবশেষই যথেষ্ট।

ফরখার জেলা

ফরখার জেলা আফগানিস্তানের তখর প্রদেশের একটি অন্যতম জেলা। এটি তালুকানের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত একটি জেলা। এটি উচ্চ পর্বত সঙ্গে বেষ্টিত একটি সুন্দর উপত্যকা হিসেবে পরিচিত। খানাবাদ নদীতে এই উপত্যকায় প্রবাহিত হয়ে থাকে। আফগানিস্তানের চারপাশের মানুষ দর্শনীয় স্থান দর্শনের জন্য এই উপত্যকায় চলে আসে। ফরখারের প্রায় ৯৯% মানুষ ফার্সি ভাষায় কথা বলে থাকে। ফরখারের জনসংখ্যা প্রায় ৪০,০০০ জন এর মত।

ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিন বা প্যালেস্টাইন (আরবি: فلسطين‎‎, ফিলাস্‌ত্বীন্‌),) সরকারিভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র (আরবি: دولة فلسطين‎‎, দাউলাৎ ফিলাস্‌ত্বীন্‌) ১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে আলজিয়ার্স শহরে নির্বাসনে ঘোষিত একটি রাষ্ট্র, যেখানে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও) ও প্যালেস্টাইন জাতীয় পরিষদ (পিএনসি) একপাক্ষিক ভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল । ১৯৮৮ ঘোষণার সময়ে কোনো অঞ্চলেই পিএলওর নিয়ন্ত্রণ ছিল না, যদিও তারা যে অঞ্চলগুলি দাবি করেছিল আন্তর্জাতিকভাবে সেইগুলি ইজরায়েলের দখলে ছিল। আরবরা দাবি করেছি, ১৯৪৭ সালে জাতি সংঘ দ্বারা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন বিভাগ যেভাবে প্রস্তাবিত হয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিন ভূখন্ড (গাজা ভূখন্ড ও ওয়েস্ট ব্যাংক) ছাড়াও ইসরায়েল শাসনাধিন অঞ্চলও ছিল এবং জেরুজালেমকে ঘোষিত রাষ্টের রাজধানী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৪ আরব লীগ শীর্ষ বৈঠকে স্থির হয়েছিল, পিএলও ফিলিস্তিনের জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি এবং ও তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠিত আহবান জানিয়েছিল । " ২২ নভেম্বর ১৯৭৪, থেকে একটি হিসেবে জাতি >পিএলও কে " রাষ্ট্রহীন-সত্তা " রুপে পর্যবেক্ষক অবস্থা রাখা হয়েছিল। যারা কেবলমাত্র জাতি সংঘে তাদের বক্তব্য রাখতে পারতেন, কিন্তু ভোট দেবারর কোনো ক্ষমতা ছিল না।

ফিলিস্তিনে ইসলাম

বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি জনগণের ধর্ম ইসলাম হওয়ার কারণে ফিলিস্তিনে ইসলামই হচ্ছে প্রধান ধর্ম। ইসরাঈলি দখলদারি বসতি[১] সহ পশ্চিম তীরের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম এবং গাজা উপতক্যায়[২] শতকরা ৯৯ ভাগই মুসলিম। ফিলিস্তিনের মুসলিমদের সাধারণত শাফিঈ মাযহাবের অনুসরণ করে থাকেন যা সুন্নি মুসলিমদের একটি শাখা।

মসজিদ আল-উমরি আল-কাবির

গাজার বড় মসজিদ (আরবি: جامع غزة الكبير‎‎, উচ্চারণ: জাআ-মা গাজা আল-কবির), এছাড়াও বড় উমরি মসজিদ নামে পরিচিত (আরবি: المسجد العمري الكبير‎‎, উচ্চারণ: জাআ-মা আল-ওমরি আল-কবির) গাজা ভূখন্ডের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম মসজিদ যা গাজার পুরানো শহরে অবস্থিত।

মসজিদটি একটি প্রাচীন ফিলিষ্টাইন মন্দিরের স্থলে দাঁড়িয়ে আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। জায়গাটি ৫ম শতকে একটি গির্জা নির্মাণ করতে বাইজেনটাইনরা ব্যবহার করে, কিন্তু ৭ম শতাব্দীতে মুসলিমদের বিজয়ের পর এটি একটি মসজিদে রুপান্তরিত হয়। ১০ম শতকের দিকে একজন আরব ভূগোলবিদ এটিকে "সুদৃশ্য" হিসাবে বর্ণনা করেন। গ্রেট মসজিদ এর মিনার ১০৩৩ সালে একটি ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ১১৪৯ সালে ধর্মযোদ্ধারা (ক্রুসেডাররা) একটি প্রধান গির্জা নির্মাণ করে যেটি জন ব্যাপটিস্টকে উত্সর্গ করে, কিন্তু ১১৮৭ সালে আইয়ুবীয় রাজবংশ এর বেশিরভাগই ধ্বংস করে, এবং এরপর ১৩শ শতাব্দীর শুরুর দিকে মামলুক এটিকে একটি মসজিদ হিসেবে পুনঃনির্মাণ করে। এটা ১২৬০ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এটি শীঘ্রই পুনঃস্থাপন করা হয় কিন্তু ঐ শতকের শেষের দিকে ভূমিকম্প এটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে। এর প্রায় ৩০০ বছর পরে উসমানীয়রা মসজিদ পুনরুদ্ধার করে। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ গোলাবর্ষণের পর এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরবর্তীতে সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল ১৯২৫ সালে এটি পুনরুদ্ধার করে।

মেনাখেম বেগিন

মেনাখেম বেগিন (listen ; হিব্রু ভাষায়: מְנַחֵם בֵּגִין‎; পোলীয়: Mieczysław Biegun; রুশ: Менахем Вольфович Бегин Menakhem Vol'fovich Begin; জন্ম: ১৬ আগস্ট, ১৯১৩ - মৃত্যু: ৯ মার্চ, ১৯৯২) পোল্যান্ডের ব্রেস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইসরায়েলের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। ইসরায়েলের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, লিকুদ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে ইহুদিদের নিয়ে গড়া সশ্রস্ত্র সংগঠন ইরগানের নেতৃত্ব দেন। ইরগানের প্রধান হিসেবে তিনি ফিলিস্তিনের বিষয়ে ব্রিটিশদের নজর কাড়েন। ১৯৪৭-৪৮ সালে আরবদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনকে ঘিরে গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

রবার্ট আউমান

রবার্ট আউমান (জন্ম জুন ৮, ১৯৩০) একজন ইসরায়েলি গণিতবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির (United States National Academy of Sciences) একজন সদস্য। তিনি ২০০৫ সালে টমাস শেলিং এর সাথে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান।

আউমান ১৯৩০ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৮ সালে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসেন। তিনি গণিতে ১৯৫০ সালে সিটি কলেজ অফ নিউইয়র্ক থেকে বি,এস, এবং এম আই টি থেকে ১৯৫২ সালে এম, এস, ও ১৯৫৫ সালে পি,এইচ,ডি, ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেমের গণিত বিভাগে যোগ দেন।

আউমান ডানপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন Professors for a Strong Israel এর একজন সদস্য। তিনি ২০০৫ সালে ইসরায়েলের গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবী করেন গেম থিওরি (Game Theory) অনুসারে ফিলিস্তিনিদের হাতে জমি ফিরিয়ে দেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

হামাস

হামাস (আরবি: حماس‎‎ (আরবি: حماس হামাস, "উদ্দীপনা", حركة المقاومة الاسلامية হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া, "ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন" এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ) হল ফিলিস্তিনি সুন্নি ইসলামী বা ইসলামী রাজনৈতিক দল যে গাজা স্ট্রিপ নিয়ন্ত্রণ করে। হামাসের ইজ্ আদ-দীন আল-কাসসাম ব্রিগেড নামে একটি সামরিক শাখা আছে। জানুয়ারী ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্ট সংসদীয় নির্বাচনে অধিকাংশ আসন জিতে,জুন ২০০৭ সাল থেকে হামাস ফিলিস্তিন অঞ্চলের গাজা ভূখণ্ড পরিচালিত করছে এবং তারপর সহিংস সংঘাতের মাধ্যমে ফাতাহ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে পরাজিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইস্রায়েল এবং জাপান হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে,

২০০৮

২০০৮ গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর একটি অধিবর্ষ।

২০১৪ ইসরায়েলের ফিলিস্তিন আক্রমণ

২০১৪ ইসরায়েলের ফিলিস্তিন আক্রমণ বা ইসরায়েলের দেয়া কোড নাম মিভৎযা যুক এইতান (হিব্রু ভাষায়: מִבְצָע צוּק אֵיתָן‎) হচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কর্তৃক ৭ জুলাই মধ্যরাতে গাজা ভূখণ্ডে করা আক্রমণ। ইসরায়েলি সরকার গাজা থেকে আসা রকেটের পাল্টা জবাব হিসেবে দাবি করেছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে তিন ইসরায়েলি কিশোর হত্যাকে কেন্দ্র করে; যার জন্য ইসরায়েলি সরকার হামাসকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে। কিন্তু হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। যদিও এই ঘটনার জন্য কয়েকশোর অধিক ফিলিস্তিনিকে পশ্চিম তীরে আটক করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে কয়েকজন কট্টর ইহুদি আবু খাদির নামের এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরকে হত্যা করে। এই আক্রমণের ফলে ইসরায়েলের কেউ মারা না গেলেও; ২,১৪৩ এর অধিক ফিলিস্তিনি মারা যায় যার তিন চতুর্থাংশই বেসামরিক ব্যক্তি। এছাড়াও নিষ্করুণ ইসরায়েলি হামলার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০,৮৯৫-জন ফিলিস্তিনির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব, বান কি মুন এই পরিস্থিতিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার জন্য বড় বাঁধা হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.