এজিয়ান সাগর

এজিয়ান সাগর (/[অসমর্থিত ইনপুট: 'ɨ']ˈdʒiːən/; গ্রিক: Αιγαίο Πέλαγος; তুর্কী: Ege Denizi[১]) বলকান অঞ্চল এবং আনাতোলিয়ান পেনিনসুলার মধ্যমর্তী একটি সাগর। এটি ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। গ্রীস এবং তুরস্কের মাঝে এই সাগরের অবস্থান। এটি দার্দেনেলাস ও বসফরাস প্রণালী দ্বারা মারমারা উপসাগর ও কৃষ্ণ সাগরের সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সাগরে এজিয়ান দ্বীপগুলোর অবস্থান।

এজিয়ান সাগর একসময় আর্কিপেলাগো (গ্রীক শব্দ, Αρχιπέλαγος, যার অর্থ প্রধান সাগর) নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু ইংরেজিতে এর অর্থ বিবর্তিত হয়ে এজিয়ান আইল্যান্ড বা আইল্যান্ড গ্রুপ (দ্বীপমালা)-এ পরিণত হয়।

Aegean Sea map
এজিয়ান সাগরের মানচিত্র

ভূগোল

এজিয়ান সাগরের আয়তন প্রায় ২১৪০০০ বর্গ কিলোমিটার। দ্রাঘিমাংশ বরাবর এই সাগরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬১০ কিলোমিটার বা ৩৮০ মাইল এবং অক্ষাংশ বরারবর দৈর্ঘ্য ৩০০ কিলোমিটার বা ১৯০ মাইল। এজিয়ান সাগরের সর্বোচ্চ গভীরতা ৩৫৪৩ মিটার। এই সাগরেই এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান। সাগরের দক্ষিণ দিকে কিথেরা, অ্যান্তিকিথেরা, ক্রিট, কাওস, কার্পাথোস ও রোডস দ্বীপগুলি সাগরটির সীমানা নির্দেশ করে।

ইতিহাস

Aegean Sea by Piri Reis
১৫২৮ শতকে এজিয়ান সাগরের ঐতিহাসিক মানচিত্র।

বর্তমান এজিয়ান সাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলের ইতিহাস প্রায় ৪০০০ খৃষ্টুপূর্বে সূচনা হয়েছিল। এর আগে এজিয়ান সাগরের সর্বত্র পানি পৃষ্ঠ বর্তমানের চেয়ে প্রায় ১৩০ মিটার নিচু ছিল। বর্তমানে যে উপকূল দেখা যায়, তার অভ্যুত্থান প্রায় ৭০০০ খৃষ্টপূর্বের দিকে।[২] ব্রোঞ্জ যুগ পরবর্তীকালে গ্রীস ও এজিয়ান সাগর অঞ্চল একত্রে এজিয়ান সভ্যতা নামে পরিচিতি পায়। প্রাযীনকালে এই সাগরের তীরবর্তী অঞ্চলেই বিশ্বের প্রাচীনতম দুইটি সভ্যতা মিনোয়ান ও মিসেনিয়ান গ্রিসের উত্থান হয়েছিল।[৩]

এরপরে শহর কেন্দ্রিক রাজ্য এথেন্স এবং স্পার্টার উত্থান হয়। এগুলো এথেনিয়ান সাম্রাজ্য ও হেলেনিক সভ্যতার অন্তর্গত। প্লেটো গ্রীকদের এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থান সম্পর্কে বলেছিলেন যে, ব্যাঙ যেভাবে পুকুরে অবস্থান করে, তেমনি গ্রীকরা এজিয়ান সাগর-তীরে বাস করে।[৪]

তথ্যসূত্র

  1. Ege Denizinin Orijinal Adı Nedir?, তুর্কী নৌবাহিনী ওয়েবসাইট
  2. Tjeerd H. van Andel and Judith C. Shackleton (Winter ১৯৮২)। Late Paleolithic and Mesolithic Coastlines of Greece and the Aegean]9,Journal of Field Archaeology। পৃষ্ঠা 445–454।
  3. Tracey Cullen, Aegean Prehistory: A Review (American Journal of Archaeology. Supplement, 1); Oliver Dickinson, The Aegean Bronze Age (Cambridge World Archaeology).
  4. John F. Cherry, Despina Margomenou, and Lauren E. Talalay। The familiar phrase giving rise to the title Prehistorians Round the Pond: Reflections on Aegean Prehistory as a Discipline

বহিঃসংযোগ

  • "Cultural Portal of the Aegean Archipelago"। Foundation of the Hellenic World। ১০ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১২
ইউরোপ

ইউরোপ (ইংরেজি: Europe) একটি মহাদেশ যা বৃহত্তর ইউরেশিয়া মহাদেশীয় ভূখণ্ডের পশ্চিমের উপদ্বীপটি নিয়ে গঠিত। সাধারণভাবে ইউরাল ও ককেসাস পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান এবং কৃষ্ণ সাগর-এর জলবিভাজিকা এবং কৃষ্ণ ও এজিয়ান সাগর সংযোগকারী জলপথ ইউরোপকে এশিয়া মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে।ইউরোপের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে কৃষ্ণ সাগর ও সংযুক্ত জলপথ রয়েছে। যদিও ইউরোপের সীমানার ধারণা ধ্রুপদী সভ্যতায় পাওয়া যায়, তা বিধিবহির্ভূত; যেহেতু প্রাথমিকভাবে ভূ-প্রাকৃতিক শব্দ "মহাদেশ"-এ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত।

ইউরোপ ভূপৃষ্ঠের দ্বারা বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাদেশ; ১,০১,৮০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৩৯,৩০,০০০ মা২) বা ভূপৃষ্ঠের ২% এবং তার স্থলভাগের ৬.৮% জুড়ে রয়েছে। ইউরোপের প্রায় ৫০টি দেশের মধ্যে, রাশিয়া মহাদেশের মোট আয়তনের ৪০% ভাগ নিয়ে এ পর্যন্ত আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয়দিক থেকেই বৃহত্তম (যদিও দেশটির ভূভাগ ইউরোপ এবং এশিয়া উভয় অঞ্চলে আছে), অন্যদিকে ভ্যাটিকান সিটি আয়তনে ক্ষুদ্রতম। ৭৩৯–৭৪৩ মিলিয়ন জনসংখ্যা বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১% নিয়ে ইউরোপ এশিয়া এবং আফ্রিকার তৃতীয় সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা ইউরো।

ইউরোপ, বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিস, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্মস্থান। এটি ১৫ শতকের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে উপনিবেশবাদ শুরু হবার পর থেকে। ১৬ থেকে ২০ শতকের মধ্যে, ইউরোপীয় দেশগুলির বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, অধিকাংশ আফ্রিকা, ওশেনিয়া, এবং অপ্রতিরোধ্যভাবে অধিকাংশ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্প বিপ্লব, যা ১৮ শতকের শেষেভাগে গ্রেট ব্রিটেনে শুরু হয়, পশ্চিম ইউরোপ এবং অবশেষে বৃহত্তর বিশ্বে আমূল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, এবং সামাজিক পরিবর্তন আনে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বৃদ্ধি বোঝায়, ১৯০০ সাল দ্বারা, বিশ্বের জনসংখ্যায় ইউরোপের ভাগ ২৫% ছিল।উভয় বিশ্বযুদ্ধ মূলত ইউরোপকে কেন্দ্র করে হয়, যার ফলে মধ্য ২০ শতকে বৈশ্বিক বিষয়াবলীতে পশ্চিম ইউরোপের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে, ইউরোপ লৌহ পরদা বরাবর পশ্চিমে ন্যাটো ও পূর্বে ওয়ারশ চুক্তি দ্বারা বিভক্ত ছিল। কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং পশ্চিম ইউরোপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় একীকরণে ফলে গঠিত হয়, ১৯৮৯ সালের বিপ্লব ও ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে উভয় সংগঠন পূর্বদিকে বিস্তৃত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আজকাল তার সদস্য দেশগুলোর উপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ নিজেদের মাঝে সীমানা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত করে।

ইরানের অর্থনীতি

ইরানের অর্থনীতি বৃহৎ সরকারী ক্ষেত্র সম্বলিত মিশ্র ও ক্রান্তিকালীন অর্থনীতি। এটি ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী বিশ্বের আঠারতম অর্থনীতি। ইরানের অর্থনীতির ৬০ ভাগ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত। এই অর্থনীতি তেল ও গ্যাস উৎপাদন প্রধান, যদিও তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে চল্লিশের অধিক শিল্প জড়িত। তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জ গত দশকের বিশ্বের অন্যতম সফল স্টক এক্সচেঞ্জ। বিশ্বের ১০% তেল ও ১৫% গ্যাস সঞ্চয়সহ ইরানকে পরমাণু শক্তিধর বলে গণ্য করা হয়।ইরানের অর্থনীতিতে ধস নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে এর প্রভাব পড়ায়। ফলে প্রায় ৬০০,০০০ ব্যারেল তেল রফতানি হ্রাসসহ অর্ধেক আমদানি ও রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ইরানের অর্থনীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল যাকে তারা বনিয়াদ নামক বহু ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের উপস্থিতি। এদের সম্মিলিত বাজেটের পরিমাণ কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের চেয়েও ৩০ শতাংশ বেশি।

এশিয়া

এশিয়া ( (শুনুন) বা ) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ, প্রাথমিকভাবে পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এটি ভূপৃষ্ঠের ৮.৭% ও স্থলভাগের ৩০% অংশ জুড়ে অবস্থিত। আনুমানিক ৪৩০ কোটি মানুষ নিয়ে এশিয়াতে বিশ্বের ৬০%-এরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। অধিকাংশ বিশ্বের মত, আধুনিক যুগে এশিয়ার বৃদ্ধির হার উচ্চ। উদাহরণস্বরূপ, বিংশ শতাব্দীর সময়, এশিয়ার জনসংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে, বিশ্ব জনসংখ্যার মত।এশিয়ার সীমানা সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত হয়, যেহেতু ইউরোপের সাথে এর কোনো স্পষ্ট ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা নেই, যা এক অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডের গঠন যাকে একসঙ্গে ইউরেশিয়া বলা হয়। এশিয়ার সবচেয়ে সাধারণভাবে স্বীকৃত সীমানা হলো সুয়েজ খাল, ইউরাল নদী, এবং ইউরাল পর্বতমালার পূর্বে, এবং ককেশাস পর্বতমালা এবং কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণে। এটা পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং উত্তরে উত্তর মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত। ইউরাল পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং ভূমধ্যসাগর দ্বারা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশ দুটি পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন। এছাড়া লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সংকীর্ণ বেরিং প্রণালী একে উত্তর আমেরিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। উল্লেখ্য, বেরিং প্রণালীর একদিকে অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত রাশিয়ার উলেনা এবং অপর পাশে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা। এই প্রণালীটির সংকীর্ণতম অংশটি মাত্র ৮২ কি•মি• চওড়া, অর্থাৎ বেরিং প্রণালীর এই অংশ হতে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের দূরত্ব মাত্র ৮২ কি•মি•।

এর আকার এবং বৈচিত্র্যের দ্বারা, এশিয়ার ধারণা – একটি নাম ধ্রুপদি সভ্যতায় পাওয়া যায় - আসলে ভৌত ভূগোলের চেয়ে মানবীয় ভূগোলের সাথে আরো বেশি সম্পর্কিত। এশিয়ার অঞ্চল জুড়ে জাতিগোষ্ঠী, সংস্কৃতি, পরিবেশ, অর্থনীতি, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সরকার ব্যবস্থার মাঝে ব্যাপকভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

কৃষ্ণ সাগর

কৃষ্ণ সাগর দক্ষিণপূর্ব ইউরোপের একটি সাগর। এটি ইউরোপ, আনাতোলিয়া ও ককেশাস দ্বারা বেষ্টিত এবং শেষ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগর এবং নানা প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগর-এর সাথে যুক্ত হয়। এটিকে বসফরাস প্রণালী মর্মর সাগর, ও দার্দানেলেস প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরের সাথে সংযুক্ত করে। এই সাগর পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়াকে বিভক্ত করে। কৃষ্ণ সাগর ক্রার্চ প্রণালী দ্বারা আজভ সাগরের সাথেও সংযুক্ত।

কৃষ্ণ সাগরের আয়তন ৪,৩৬,৪০০ কিমি২ (১,৬৮,৫০০ মা২) (আজভ সাগর বাদ দিয়ে), সর্বোচ্চ গভীরতা ২,২১২ মি (৭,২৫৭ ফু), এবং পানির আয়তন ৫,৪৭,০০০ কিমি৩ (১,৩১,০০০ মা৩)। কৃষ্ণ সাগর পূর্ব-পশ্চিমে উপবৃত্তাকার ভাবে এদের মাঝে বিস্তৃতঃ বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, এবং ইউক্রেন.

গ্যালিপলি

গ্যালিপলি উপদ্বীপ (ইংরেজী: Gallipoli, তুর্কি: Gelibolu Yarımadası; গ্রীক: Καλλίπολη অর্থঃ "সুন্দর শহর") তুরষ্কের ইউরোপীয় অংশে অবস্থিত একটি এলাকা। এর পশ্চিমে এজিয়ান সাগর এবং পূর্বে দার্দানেল্লেস। গ্যালিপলি শব্দটি গ্রীক শব্দ কাল্লিপলিস থেকে এসেছে। যার অর্থ সুন্দর শহর। প্রাচীন কালে এই অঞ্চল থ্যারাসিয়ান চেরসোনেস নামে পরিচিত ছিলো। (লাতিন: Chersonesus Thracica, গ্রীক: Θρακική Χερσόνησος)।

হেলেসপন্ট (বর্তমান নাম দার্দানেল্লেস) এবং মেলাস উপসাগর (বর্তমান নাম সারস উপসাগর) এর মাঝে উপদ্বীপ অঞ্চল দক্ষিণ-পশ্চিমে বিস্তৃত ছিলো। আগোরা নামক স্থানে মোটা প্রাচীর দ্বারা এই অঞ্চল সুরক্ষিত ছিলো। দেয়ালটি ৬.৫ কি.মি. প্রশস্ত ছিলো এবং লম্বা ছিলো ৭৭.৫ কি.মি.। ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিত্রবাহিনী গ্যালিপলিতে বেশ কিছু ব্যর্থ আক্রমণ পরিচালনা করে।

গ্রিস

গ্রিস (গ্রিক: Ελλάδα এলাদ়া বা Ελλάς এলাস্‌) ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের একটি রাষ্ট্র যা বলকান উপদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে উত্তরে বুলগেরিয়া, প্রাক্তন যুগশ্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রী মেসিডোনিয়া এবং আলবেনিয়া; পূর্বে তুরস্ক। গ্রিসের মূল ভূমির পূর্বে ও দক্ষিণে এজিয়ান সাগর অবস্থিত, আর পশ্চিমে রয়েছে আইওনিয়ান সাগর। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের উভয় অংশে গ্রিসের অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। গ্রিস ইউরোপ. এশিয়া এবং আফ্রিকার মিলন স্থলে অবস্থিত। বর্তমান গ্রিকদের পূর্বপুরুষ হচ্ছে এক সময়ের পৃথিবী বিজয়ী প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, বাইজান্টাইন সম্রাজ্য এবং প্রায় ৪ শতাব্দীর অটোমান সম্রাজ্য। এই দেশ পশ্চিমা বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞানের সূতিকাগার এবং গণতন্ত্রের জন্মদায়ক স্থান হিসেবে সুপরিচিত। গ্রিসের আরও কিছু বৃহৎ অবদান হচ্ছে পশ্চিমা দর্শন, অলিম্পিক গেম্‌স, পশ্চিমা সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং নাটক। সব মিলিয়ে গ্রিসের সভ্যতা সমগ্র ইউরোপে এক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী সভ্যতা হিসেবে পরিগণিত হত। বর্তমানে গ্রিস একটি উন্নত দেশ এবং ১৯৮১ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।। এছাড়া এটি ২০০১ সন থেকে ইকোনমিক অ্যান্ড মনিটারি ইউনিয়ন অফ দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৯৫১ সাল থেকে ন্যাটো এবং ১৯৬০ সাল থেকে ওইসিডি-এর সদস্য হিসেবে আছে।

গ্রীক অন্ধকার যুগ

গ্রীক অন্ধকার যুগ, হোমেরিক যুগ (মহাকবি হোমারের নামে নামকরণ করা হয়েছে) বা জ্যামিতিক যুগ (এসময়ের জ্যামিতিক শিল্পকলার বৈশিষ্ট অনুযায়ী নামকরণ করা হয়েছে) নামেও পরিচিত, গ্রীসের ইতিহাসের একটি যুগ, যা মিসিনিয়ান সভ্যতার শেষ দিকে খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দ থেকে শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৯ম শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রীসের প্রথম নিদর্শন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ থেকে এই যুগের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রোঞ্জ যুগের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, কারণ মিসিনিয়ান সময়ের বড় প্রাসাদ ও শহর ধ্বংস হয়েছিল বা পরিত্যাগ করা হয়েছিল। এই সময়কালীন হাইত্তিত সভ্যতা মারাত্মক রকমের অসংহতি দেখা যায় এবং ট্রয় থেকে গাজা শহর পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই ধ্বংসের পরে ছোটখাট বসতিতে খরা দেখা দেয় এবং জনসংখ্যা কমতে শুরু করে। গ্রীসে মিসিনিয়ান আমলাদের ব্যবহৃত গ্রীক ভাষার লিনিয়ার বি রচনাবলী বাজেয়াপ্ত করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দের পরে প্রাচীন গ্রীক তৈজসপত্রের অলঙ্করনে মিসিনিয়ান অলঙ্করণ কমতে থাকে এবং খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ থেকে ৭০০ অব্দে জ্যামিতিক পদ্ধতির অলঙ্করণ দেখা যায়।

অল্পবিস্তর সাংস্কৃতিক উন্নতির কারণে পূর্বে ধারণা করা হত এই সময়ে প্রধান ভূমি হেলেনেসের এবং বিদেশীদের মধ্যকার সকল যোগাযোগ বিচ্যুত হয়েছে। কিন্তু ইউবোয়ার লেলান্টাইন সমভূমির লেফকান্দি থেকে প্রাপ্ত হস্তনির্মিত দ্রব্যাদি থেকে জানা যায় পূর্বাঞ্চলের সাথে তাদের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল, বিশেষ করে খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ অব্দ থেকে লেভান্ত উপকূলের সাথে। এছাড়া উপ-মিসিনিয়ান সাইপ্রাস-এ ও সিরীয় উপকূলে আল মিনায় হেলেনেসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

প্রথম মুয়াবিয়া

প্রথম মুয়াবিয়া (আরবি: معاوية ابن أبي سفيان‎‎}} মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান; ৬০২ – ২৯ এপ্রিল বা ১ মে ৬৮০) (মূল নাম, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান) ছিলেন খিলাফতের উমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি উমাইয়া গোত্রের দ্বিতীয় খলিফা। উসমান ইবনে আফফান এই গোত্র থেকে প্রথম খলিফা হন। মুয়াবিয়া পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের সাথে রাজনৈতিক বিষয়ে দক্ষ ছিলেন বলে মুহাম্মদ (সা.) তাকে সচিব নিযুক্ত করেন। আবু বকর ও উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতের সময় তিনি সিরিয়ায় মুসলিম পক্ষে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

সমুদ্রের দিক থেকে বাইজেন্টাইন আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তিনি লেভান্টে নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। এই নৌবাহিনী এজিয়ান সাগর ও মারমারা সাগরে বাইজেন্টাইনদের মোকাবেলা করতে ব্যবহৃত হয়। খিলাফত সাইজিকাসহ বেশ কিছু অঞ্চল জয় করে এবং এখানে একটি নৌঘাঁটি স্থাপন করে।

প্রাচীন গ্রিস

প্রাচীন গ্রিস হল গ্রিস ইতিহাসের অন্তর্গত প্রাচীন সভ্যতা যা প্রাচীন যুগ খ্রিস্টপূর্ব ৮ম-৬ষ্ঠ শতাব্দীতে শুরু হয় এবং ধ্রুপদি সভ্যতা (আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিরাজ করেছিল। এরপর পরই কালটি হচ্ছে প্রারম্ভিক মধ্যযুগ এবং বাইজেন্টাইন যুগ। প্রাচীন গ্রিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল ধ্রুপদি গ্রিস যুগ, যা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ থেকে ৫ম শতাব্দীতে সমৃদ্ধিলাভ করে। ধ্রুপদি গ্রিস শুরু হয় যখন একজন অ্যাথেনীয় নেতৃত্বে পারস্যদের উপদ্রব দমন করা হয়। মহামতি আলেকজান্ডারের বিজয়ের কারণে, হেলেনিস্টিক সভ্যতা মধ্য এশিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরের শেষ পশ্চিম পর্যন্ত সমৃদ্ধিলাভ করে।

ধ্রুপদি গ্রিস সংস্কৃতি, বিশেষ করে দর্শন, রোমান সাম্রাজ্য উপর একটি শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা ভূমধ্য অঞ্চল এবং ইউরোপে বিভিন্ন অংশে এর একটি সংস্করণের প্রভাব দেখা যায়। যার কারণে ধ্রুপদি গ্রিসেকে সাধারণত আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভিত্তি প্রদান যা দিগন্তকারী সংস্কৃতি বলে মনে করা হয়।

প্রান্তিক সাগর

প্রান্তিক সাগর (ইংরেজি marginal sea) কোন মহাসাগরের অংশবিশেষ যা কোন দ্বীপসমষ্টি, দ্বীপপুঞ্জ কিংবা উপদ্বীপ দ্বারা আংশিকভাবে বেষ্টিত। সাধারণত প্রান্তিক সাগরগুলি উন্মুক্ত মহাসাগরের সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে।

মিনোয়ান সভ্যতা

টেমপ্লেট:গ্রিসের ইতিহাস

মিনোয়ান সভ্যতা হলো ব্রোঞ্জ যুগে এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের একটি সভ্যতা যেটি ক্রিট দ্বীপ এবং অন্যান্য এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জে গড়ে ওঠে। এটি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ অব্দ হতে আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৪৫০ অব্দের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দে এসে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। এটি ইউরোপের প্রথম উন্নত সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করে যেটিতে ছিলো বিশাল ভবন, সরঞ্জাম, অত্যাশ্চর্য শিল্পকর্ম, লিখান ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়ের বিশাল বিস্তৃত ব্যবস্থা। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আর্থার ইভান্স এই সভ্যতাটি আবিষ্কার করেন। "মিনোয়ান" নামটি পৌরাণিক রাজা মিনোস থেকে উদ্ভূত এবং ইভান্স দ্বারা চিহ্নিত, যিনি নোসসোসে প্রত্মস্থলটি গোলকধাঁধা এবং মিনোটোরের সাথে চিহ্নিত করেছিলেন। মিনোয়ান সভ্যতাটিকে ইউরোপে এই জাতীয় সভ্যতাগুলোর মধ্যকার প্রথম দিকের হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্ট মিনোয়ানদের "ইউরোপীয় চেনের প্রথম লিঙ্ক" হিসাবে অভিহিত করেছেন।

সাগর

সমুদ্র বা বিশ্ব মহাসাগর হল লবণাক্ত জলের পরস্পর সংযুক্ত জলরাশি, যা পৃথিবীর উপরিতলের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ আবৃত করে রেখেছে। সমুদ্র পৃথিবীর জলবায়ুকে সহনীয় করে রাখে এবং জলচক্র, কার্বন চক্র ও নাইট্রোজেন চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ সমুদ্র পরিভ্রমণ করছে ও সমুদ্রাভিযান চালিয়ে আসছে। তবে সমুদ্র-সংক্রান্ত বিজ্ঞানসম্মত চর্চা বা সমুদ্রবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে মোটামুটিভাবে ১৭৬৮ থেকে ১৭৭৯ সালের মধ্যে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের প্রশান্ত মহাসাগর অভিযানের সময়। "সমুদ্র" শব্দটির মাধ্যমে অবশ্য বিভিন্ন মহাসাগরের ছোটো এবং আংশিকভাবে ভূ-বেষ্টিত অংশগুলিকেও বোঝানো হয়ে থাকে।

সমুদ্রের জলে সর্বাধিক পরিমাণে যে ঘনবস্তু দ্রবীভূত অবস্থায় রয়েছে, তা হল সোডিয়াম ক্লোরাইড। এছাড়া অন্যান্য অনেক মৌলের সঙ্গে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের লবন। কয়েকটি মৌল রয়েছে অতিসূক্ষ্ম কেন্দ্রীভূত অবস্থায়। সমুদ্রজলের লবণাক্ততা সর্বত্র সমান নয়। পৃষ্ঠতল ও বড়ো বড়ো নদীর মোহনার কাছে জলের লবণাক্ততা কম; অন্যদিকে সমুদ্রের গভীরতর অংশে লবণাক্ততা বেশি। যদিও বিভিন্ন মহাসাগরগুলির মধ্যে দ্রবীভূত লবনের আপেক্ষিক অনুপাতের পার্থক্য কমই হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠতলের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু তরঙ্গ সৃষ্টি করে। সেই তরঙ্গ সমুদ্রের অগভীর স্থানে প্রবেশ করে ভেঙে পড়ে। সমুদ্রের উপরিতলের সঙ্গে বায়ুর ঘর্ষণের ফলে সমুদ্রস্রোতেরও সৃষ্টি হয়। এই সমুদ্রস্রোতগুলি ধীরগতিতে অথচ নিয়মিতভাবে মহাসাগরগুলির মধ্যে জল প্রবাহিত করে। মহাদেশগুলির গড়ন ও পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস প্রভাব) ইত্যাদি কয়েকটি কারণ এই প্রবাহের অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ব পরিবহণ বেষ্টণী নামে পরিচিত গভীর-সমুদ্রস্রোতগুলি মেরু অঞ্চল থেকে ঠান্ডা জল প্রত্যেকটি মহাসাগরে বহন করে আনে। নিজের অক্ষের চারিদিকে পৃথিবীর আবর্তন, পৃথিবীর চারিদিকে পরিক্রমণরত চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বল, সামান্য পরিমাণে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে সাধারণত দিনে দু’বার সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান ও পতন ঘটে। এই ঘটনা জোয়ার-ভাটা নামে পরিচিত। উপসাগর ও নদীর মোহনায় জোয়ার-ভাটার মাত্রা অত্যন্ত বেশি হয়। মহাসমুদ্রের নিম্নবর্তী ভূগর্ভে ভূসাংগাঠনিক পাতের নড়াচড়ার ফলে সমুদ্রের তলদেশে ঘটা ভূমিকম্পের ফলে বিধ্বংসী সুনামির উদ্ভব ঘটে। অবশ্য আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, প্রবল ভূমিধ্বস অথবা উল্কাপিণ্ডের সংঘাতেও অনেক সময় সুনামির সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়া, প্রোটিস্ট, শৈবাল, উদ্ভিদ, ছত্রাক ও প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। এই জন্য সমুদ্রে একটি বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক বাসস্থান ও বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে। এই জাতীয় বাসস্থান ও বাস্তুতন্ত্র সমুদ্রের উপরিতলের সূর্যালোকিত জলভাগ ও তটরেখা থেকে উল্লম্বভাবে শীতল ও অন্ধকার সমুদ্রতলস্থ ক্ষেত্রের জলের উচ্চচাপযুক্ত সুগভীর অংশ এবং উত্তর মেরু অঞ্চলের বরফের তলায় স্থিত শীতল জল থেকে অক্ষরেখা বরাবর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বর্ণবৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীরগুলি পর্যন্ত প্রসারিত রয়েছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বেশ কিছু প্রধান গোষ্ঠীর বিবর্তন ঘটেছে সমুদ্রে। জীবনের উৎপত্তিও সম্ভবত সমুদ্রেই ঘটেছিল।

সমুদ্র মানবজাতিকে প্রচুর খাদ্য সরবরাহ করে। এর মধ্যে মাছই প্রধান। তবে শেলফিস, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও সামুদ্রিক শৈবাল পাওয়া যায় সমুদ্র থেকে। এগুলি হয় জেলেরা জাল ফেলে ধরে অথবা জলের তলায় চাষ করা হয়। এছাড়াও মানুষ সমুদ্রকে ব্যবহার করে বাণিজ্য, পর্যটন খনিজ উত্তলোন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যুদ্ধ ও সাঁতার, প্রমোদ ভ্রমণ ও স্কুবা ডাইভিং ইত্যাদি অবকাশ যাপনের কাজে। এই সব কাজকর্মের জন্য সমুদ্র দূষিত হয়। মানব সংস্কৃতিতেও সমুদ্রের গুরুত্ব অসীম। হোমারের ওডিসি মহাকাব্যের যুগ থেকে সাহিত্যে, সামুদ্রিক শিল্পকলায়, থিয়েটারে ও উচ্চাঙ্গ সংগীতে সমুদ্রের উপস্থিতি লক্ষণীয়। পৌরাণিক সাহিত্যের সিলা ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষেত্রে সমুদ্র প্রতীকীভাবে দৈত্য হিসেবে চিত্রিত হয়েছে এবং অচেতন মন ও স্বপ্ন ব্যাখ্যার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

হেলেন

("হেলেন'" এখানে পুনর্নির্দেশ হয়। "হেলেন নামের অন্যান্য চরিত্রদের জন্য দেখুন হেলেন (দ্ব্যর্থতা নিরসন))

গ্রিক পুরাণ অনুসারে হেলেন (গ্রিক ভাষা: Ἑλένη, Helénē) হল জিউস ও লেডার কণ্যা এবং স্পার্টার রাজা মেনিলাউসের স্ত্রী। হেলেন সাধারণত ট্রয়ের হেলেন নামে বিশেষ পরিচিত। তার ভাই-বোনদের নাম হচ্ছে: ক্যাস্টর, পলিডিউসিস এবং ক্লিটেমনেসট্রা। ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস হেলেনকে নিয়ে স্পার্টা থেকে ট্রয়ে পালিয়ে এসেছিল। এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই মেনিলাস যুদ্ধযাত্রা করে এবং ট্রোজান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.