ইহুদি ধর্ম

ইহুদি ধর্ম (হিব্রু ভাষায়: יְהוּדִיםয়েহুদীম্) একটি প্রাচীন অব্রাহামীয় একেশ্বরবাদী ধর্ম। ধারণাগত মিল থেকে ধর্মতাত্ত্বিকগণ মনে করেন যে, ইহুদিধর্মের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ও দ্রুজ, বাহা'ইধর্ম প্রভৃতি অব্রাহামীয় ধর্ম। এই ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ হিসেবে পুরাতন নিয়ম-এর প্রথম পাঁচটি বইকে গণ্য করা হয়: আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনাপুস্তক, এবং দ্বিতীয় বিবরণ। এই পাঁচটি বইকে একত্রে "তোরাহ"ও বলা হয়ে থাকে। 'তোরাহ' শব্দটির অর্থ ' আইন '।

ইহুদি বিশ্বাসমতে, ঈশ্বর এক, আর তাঁকে যিহোভাহ (Jehovah, YHWH) নামে আখ্যায়িত করা হয়। মোশি হলেন ঈশ্বরের একজন বাণীবাহক। ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মতোই ইহুদিগণ পূর্বতন সকল বাণীবাহককে বিশ্বাস করেন, এবং মনে করেন মালাশী সর্বশেষ বাণীবাহক। ইহুদিগণ যিশুকে ঈশ্বরের বাণীবাহক হিসেবে অস্বীকার করলেও, খ্রিস্টানগণ ইহুদিদের সবগুলো ধর্মগ্রন্থ (পুরাতন নিয়ম)-কে নিজেদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মান্য করে থাকেন। ইহুদিধর্মকে সেমেটিক ধর্ম হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

'ইহুদি' শব্দটি এসেছে শব্দ 'ইয়াহুদা' থেকে যিনি ছিলেন নবী মোশির পূর্বপুরুষ ও ইয়াকুব এর পুত্র ও নবী ইউসুফ এর বড় ভাই ৷ তবে ইহুদি শব্দের শাব্দিক অর্থ হয় ‘প্রশংসাকারী’, এখানে ঈশ্বরের প্রশংসাকারী। যদিও এ ধর্মের প্রবর্তক মুসা কিন্তু ইহুদিরা বলেন এ ধর্মের প্রবর্তক আব্রাহাম ৷ ইহুদি ধর্মের বয়স প্রায় ৪০০০ বছর । ইহুদীদের ধর্মযাজককে ‘রাব্বি'(গুরু) বলা হয়।

ইতিহাস

প্রায় ২০০০ বছরের ইতিহাসে ইহুদি জনগণ এবং ইহুদি ধর্মের সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় দিক ছিল এর অভিযোজন এবং অবিচ্ছিন্নতা। প্রাচীন মিশর বা ব্যাবিলনিয়া সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে আধুনিক পশ্চিমা খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী এবং আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর সাথে মিথস্ক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়তে হয়েছে ইহুদিবাদকে। প্রতিটি গোষ্ঠী এবং মতাদর্শ থেকে বেশ কিছু জিনিস ইহুদি সমাজ-ধর্মীয় কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে, কিন্তু তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যও কখনও ক্ষূণ্ন হয় নি। এভাবেই একদিকে অভিযোজিত হয়েছে এই ধর্মটি এবং অন্যদিকে তার মৌলিক ঐতিহ্যকে অটুট রেখেছে। এ কারণে যেকোন সময়ের ইহুদি ঐতিহ্য তার পূর্বের সকল ইহুদি ঐতিহ্যের সমন্বয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। কোন এক যুগে যত অভিনবত্ব বা বিবর্তনই আসুক না কেন ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে সবসময়ই প্রাচীনত্ব বজায় রেখেছে ইহুদিরা।

ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা প্রায় সবসময়ই একেশ্বরবাদকে করে আবর্তিত হয়েছে। ইহুদিদের মধ্যে অনেক শ্রেণী-উপশ্রেণী থাকলেও এই একটি বিষয়ে কারও মধ্যে দ্বিমত নেই। সবাই এক বাক্যে কেবল এক ঈশ্বরকে মেনে নেয়। একেশ্বরবাদ প্রকৃতপক্ষে সার্বজনীন ধর্মের ধারণা দেয় যদিও এর সাথে কিছুটা স্বাতন্ত্র্য্যবাদ (particularism) যুক্ত রয়েছে। প্রাচীন ইসরায়েলে এই স্বাতন্ত্র্য্যবাদ নির্বাচনের রূপ নিয়েছিল। নির্বাচন বলতে ঈশ্বর কর্তৃক মানুষের মধ্য থেকে কাউকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করাকে বোঝায়। সেই তখন থেকেই ইহুদিরা মনে করতো, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একটি পূর্বপরিকল্পিত চুক্তিপত্র (কোভেন্যান্ট) থাকতে বাধ্য; সবাইকে এই চুক্তিপত্র মেনে চলতে হবে; না চললে পরকালে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ইহুদিদের এই চিন্তাধারার সাথে messianism এর সুন্দর সমন্বয় ঘটেছিল।

আফ্রিকায় জৈনধর্ম

আফ্রিকায় জৈনধর্ম উক্ত মহাদেশে ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের অনেক পরে এসেছে। সেই কারণে আফ্রিকায় এই ধর্মের ইতিহাসও সংক্ষিপ্ত সময়ের। আফ্রিকায় প্রায় ১ লক্ষ জৈন এবং ১০টি জৈন সংগঠন রয়েছে।

ইউসুফ

হযরত ইউসুফ (আঃ) (ইংরেজি: Joseph অথবা Yosef, হিব্রু: יוֹסֵף, আধুনিক Yosef তিবেরিয়ান Yôsēp̄; আরবি: يوسف, Yusuf) ইহুদি, খ্রিস্ট, এবং ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত একজন পয়গম্বর। কোরআন এবং হিব্রু বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে, তিনি হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর বারো ছেলের ১১তম ছেলে। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে জানতেন। ইউসুফ নামটি মুসলিম জাতি এবং মধ্যপ্রাচ্যর মধ্যে সাধারণ নামগুলোর একটি।

হিব্রু বাইবেল এবং কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ইউসুফ (আঃ) নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু শুধু কোরআনের সূরা ইউসুফে তার ঘটনা সম্পূর্ণ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউসুফের ঈর্ষান্বিত ভাইরা তাকে একটি কাফেলার দলের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করে দেয়, পরবর্তীতে তিনি মিশরের বাদশাহর পরে দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হন।

ইব্রাহিমীয় ধর্ম

ইব্রাহিমীয় ধর্ম বা আব্রাহামীয় ধর্ম (ইংরেজি: Abrahamic Religion) বলতে একেশ্বরবাদী ধর্মগুলোকে বোঝানো হয়, যাদের মধ্যে আব্রাহাম বা ইব্রাহিমের সাথে সম্পর্কিত ধর্মীয় উৎপত্তি অথবা ধর্মীয় ইতিহাসগত ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। এইসব ধর্ম তিনি বা তার বংশধর প্রচার করেছেন। ভারত, চীন, জাপান ইত্যাদি দেশের উপজাতিয় অঞ্চল বাদ দিয়ে সারা বিশ্বে এই মতবাদের আধিপত্য। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে যে তিনটি ধর্মগত শ্রেণীবিন্যাস পাওয়া যায়, এদের মধ্যে ইব্রাহিমীয় ধর্ম একটি শ্রেণী; অপর দুটি শ্রেণী হচ্ছে ভারতীয় ধর্ম (হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, ইত্যাদি) এবং পূর্ব এশীয় ধর্ম (তাওবাদ, শিন্তৌ ধর্ম, ইত্যাদি)।

ইহুদি

ইহুদি (হিব্রু:יְהוּדִים ইয়াহুদীম) মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা বনী-ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীমের পুত্র ইসহাক, তার পুত্র ইয়াকুব ওরফে ইসরাইল(ইস্রাঈল বা ইস্রায়েল) এর বংশধরগণ বনী-ইস্রায়েল নামে পরিচিত। ইয়াকুবের বারো পুত্রের নামে বনী-ইস্রায়েলের বারোটি গোষ্ঠীর জন্ম হয় যার মধ্যে ইয়াহুদা'র ছেলেমেয়েরা ইহুদি নামে পরিচিত।

ইহুদীদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ"হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর।"(সূরা ২-৪৭)

"তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।"(সূরা ২-৬৫)

"যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে।অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।"(সুরা ২-৮৩,৮৪,৮৫)

সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।"(সূরা ২-৯২)

"হে বনী-ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।"(সূরা ২-১২২)

"বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের আরাধনা করেছে, তারাই মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর এবং সত্যপথ থেকেও অনেক দূরে।"(সূরা ৫-৬০)

"আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।" (সূরা ৫-৪৪)

"ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।" (সূরা ৯-৩০)

"হে বনী-ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছি।আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না, তা হলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধবংস হয়ে যায়।"(সূরা ২০-৮০,৮১)

"আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন।"(সূরা ৪৫-১৬,১৭)

ইহুদি-বিদ্বেষ

ইহুদি-বিদ্বেষ বলতে ইহুদি জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈরিতা বা কুসংস্কারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এধরনের বিদ্বেষের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘৃণা থেকে শুরু করে এমনকি সংঘবদ্ধ জাতি-নিধনও পড়ে।

ইংরেজিতে একে বলা হয় এন্টি-সেমিটিজম (Anti-Semitism) ,যার অর্থ দাঁড়ায় সেমিটীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ। সেমিটীয় একটি বৃহৎ ভাষাভাষী গোষ্ঠী যার মধ্যে হিব্রুভাষী ছাড়াও আরবিভাষীরাও অন্তভুক্ত। তথাপি অ্যান্টি-সেমিটিজম ইহুদি-বিদ্বেষ বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। ইহুদি-বিদ্বেষের ইতিহাস প্রাচীন হলেও এটি চরম আকার ধারণ করে হিটলার-শাসিত জার্মানিতে।

টুপি

টুপি একপ্রকার পরিধেয় যা মাথা আবরণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। টুপি পাশ্চাত্যের 'হ্যাট'-এর সমতূল্য যা শৈত্য ও রৌদ্র নিরোধেও কাজ করে। সেনাবাহিনী পুলিশ ইত্যাদি ইউনিফর্মড বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ ধরনের টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখেন। হাসপাতালে নার্সরা টুপি মাথায় দায়িত্ব পালন করেন। রান্নাঘরে পাচক টুপি দিয়ে মাথা আবৃত করে রাখেন যাতে মাথার চুল খাদ্যদ্রব্যে না পড়ে। ক্রিকেট ও বেসবল খেলার মাঠে খেলোয়াড়রা সচরাচর টুপি ব্যবহার করেন। টুপি গঠনে হ্যাট, মাথাল এবং হেলমেট থেকে ভিন্ন।

তালমুদ

তালমুদ (ইংরেজি ভাষায়: Talmud, হিব্রু ভাষায: תלמוד, talmūd এর অর্থ হল LMD থেকে শিক্ষাদান, অধ্যয়ন করা, আলোচনা করা) ইহুদিদের একটি পবিত্র গ্রন্থ, তৌরাতের মত নয়। এটি কেবল ইহুদিদের দ্বারা মৌখিক আইন হিসেবে পরিচিত। একে সিনাই পর্বতে মুসার মাধ্যেমে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং রোমানরা জয় করার আগে পর্যন্ত যুগ যুগ ধরে চলে আসছিল। তালমুদ লেখতে নিযুক্ত করা শুরু হয়েছিল যখন, তাদের দ্বিতীয় উপাসনাগৃহ ধ্বংস হয়ে যায়। কারণ তারা ভয় পেয়েছিল যে ইসরায়েলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অন্তর্ধান করতে পারে।

তৌরাতের অর্থ এবং তার লেখা সর্ম্পকে পন্ডিত (hakhamim) এবং শিহ্মকদের (rabbanim) মধ্যে তালমুদে একটি বিতর্ক সংগ্রহ রয়েছে। এটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ

মিশনাহ (পুনরাবৃত্তি) (সি. ২০০ সাধারণ যুগ), সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শিহ্মকদের বিতর্ক অন্তর্ভুক্ত করে (দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত);

জেমারা (সম্পূর্ণতা) (সি. ৫০০ সাধারণ যুগ), দ্বিতীয় এবং পঞ্চম শতকের মধ্যে লিখা হয়েছে যা মিশনাহর মূল পাঠসংক্রান্ত একটি বিশ্লেষণ দেয়।

ধর্মতত্ত্ব

ধর্মতত্ত্ব (ইংরেজি ভাষায়: Theology) দর্শনকেন্দ্রিক জ্ঞানের একটি ক্ষেত্র যাতে ধর্মীয় অনুমান এবং আত্মপক্ষসমর্থনবিদ্যা (apologetics) সংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচিত হয়। উৎপত্তির প্রেক্ষাপট এবং ঐতিহাসিকভাবে ধর্মতত্ত্ব খ্রিস্টান ধর্মের সাথে বেশি সম্পৃক্ত যদিও পরবর্তীকালে সকল ধর্মের (বিশেষ করে ইসলাম এবং ইহুদি ধর্ম) অধ্যয়নই এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেদিক থেকে বলা যায়, ধর্ম, ধর্মের প্রভাব এবং ধর্মীয় সত্যের প্রকৃতি নিয়ে পদ্ধতিগত ও যৌক্তিক অধ্যয়নের নামই ধর্মতত্ত্ব। জ্ঞানের এই শাখার বহুল আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঈশ্বর, মানবতা, বিশ্বজগৎ, নির্বাণ বা মুক্তি এবং পরলোকতত্ত্ব।

নবী

নবী বলতে সেসব ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যারা দাবি করেন যে ঈশ্বরের সাথে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ বা বার্তা বিনিময় হয়েছে। তারা নিজেরা যে সকল শিক্ষা লাভ করেন তা নিঃস্বার্থভাবে অন্যান্য লোকদের মাঝে বিলিয়ে দেন। নবিদের অধিকাংশই মানুষকে সুসংবাদ অথবা সতর্কবার্তা প্রদান করেন। নবীগণ যে বার্তা লাভ করেন তাকে নবুয়াত বলা হয়।

ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম, মরমনবাদ, জরথ্রুস্ত্রবাদ, এবং অন্যান্য ধর্মে নবিগনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্রাহামিক ধর্মসমুহে, দুই ধরনের নবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন প্রধান নবী এবং অপ্রধান নবী। প্রধান নবীগণ মানুষকে বিভিন্ন রকমের শিক্ষা প্রদান করে থাকেন। অপরদিকে, অপ্রধান নবীগণ পূর্বের নবীগণের শিক্ষাকেই পুনঃবাস্তবায়ন করেন।

নরক

ধর্ম ও লোককথায় নরক একটি পরলৌকিক স্থান যা কোথাও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির যায়গা হিসেবে বর্ণিত। যেসব ধর্মের ঐশ্বরিক ইতিবৃত্ত রৈখিক (যেমন ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহ) সেসব ধর্মমতে প্রায়ই নরককে চিরস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বর্ণা করা হয়। আবর্তনশীল ইতিবৃত্ত বিশিষ্ট ধর্মমতে (যেমন ভারতীয় ধর্মসমুহে) প্রায়ই নরককে দুই জন্ম বা অবতারত্বের অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে বর্ণা করা হয়। সাধারণত এসব ধর্মসংস্কৃতিতে নরকের অবস্থান অপর মাত্রায় কিংবা মাটির নিচে।

কিছু ধর্মসংস্কৃতি যেসব পরকালকে পুরস্কার বা শাস্তির যায়গা হিসেবে বিবেচনা করে না সেসব ধর্মসংস্কৃতি নরককে কেবল প্রেতলোক (মৃতদের আবাসস্থল), কবর বা একটি অনির্ণেয় যায়গা হিসেবে বর্ণা করে থাকে।

বাইবেল

বাইবেল খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। বাইবেল শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে কইনি গ্রীক τὰ βιβλία, tà biblía, "বইগুলো" থেকে; বাইবেল অর্থাৎ ধর্ম শাস্ত্র, লিপি বা পুস্তক, ঈশ্বরের বাক্য।

প্রচলিত বাইবেল ৬৬টি পুস্তকের (বা অধ্যায়ের) একটি সংকলন, যা দুটি প্রধান পর্বে বিভক্ত — ৩৯টি পুস্তক সম্বলিত পুরাতন নিয়ম বা ওল্ড টেস্টামেন্ট এবং ২৭টি পুস্তক সম্বলিত নতুন নিয়ম বা নিউ টেস্টামেন্ট। খ্রিস্টধর্ম মতে ১৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৪০জন লেখক বাইবেল লিপিবদ্ধ করেছিলেন। বাইবেলের মুখ্য বিষয়বস্তু বা কেন্দ্রমণি হলেন যীশু।

পুরাতন নিয়ম মূলত হিব্রু ভাষায় লিখিত, তবে দানিয়েল ও ইষ্রা পুস্তক দুটির কিছু অংশ আরামীয় ভাষায় লিখিত। নতুন নিয়ম গ্রিক ভাষায় রচিত। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই বাইবেল লিপিবদ্ধ করেছেন বলা হয়। অনেক খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন, এই বাইবেল লিপিবদ্ধ হয়েছিল খ্রিস্টীয় ত্রিত্ববাদের অন্যতম পবিত্র আত্মার সহায়তায়। পৃথিবীর অনেক ভাষায় বাইবেল অনুদিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণের ক্ষেত্রে বাইবেল ও কুরআন-এর ভাষ্য কিছুু ক্ষেত্রে অভিন্ন।

তবে কুরআনে বাইবেলের বিপরীত কথাও পাওয়া যায়।

ভারতের ধর্মবিশ্বাস

ভারতের জনসংখ্যার ৭৬% হিন্দু। দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় ইসলাম জনসংখ্যার ১৯%। অন্যান্য ধর্মের প্রতি হিন্দু ধর্মের বদান্যতা লক্ষ্য করে জন হার্ডন লিখেছেন, “যদিও সাম্প্রতিক হিন্দুধর্মের সর্বাপেক্ষা লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্য হল ইহার অ-হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে সব ধর্মই সমান;...” অন্যান্য দেশজ ভারতীয় ধর্ম হল বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও শিখধর্ম। প্রাচীন ভারতে দুই প্রকার দার্শনিক ভাবধারা লক্ষিত হত; যথা – শ্রমণ ধর্ম ও বৈদিক ধর্ম। এই সমান্তরাল ভাবধারাদুটি সহস্রাধিক বছর ধরে একত্রে অবস্থান করেছিল। বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম উভয়েই ছিল শ্রমণ প্রথার প্রবহমান ঐতিহ্য। অন্যদিকে আধুনিক হিন্দুধর্ম বৈদিক ধর্ম থেকে উদ্ভূত। এই সহাবস্থানকারী ধর্মবিশ্বাসগুলি পরস্পর দ্বারা প্রভাবিতও হয়েছিল।

ভারতের জনসংখ্যার দুই শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী। জরথুস্ট্রবাদ ও ইহুদি ধর্ম ভারতে এক অতি প্রাচীন ইতিহাসের অধিকারী। ভারতে সহস্রাধিক জরথুস্ট্রবাদী ও ইহুদি দেখা যায়।

আন্তর্ধর্মবিবাহ খুব একটা সুপ্রচলিত না হলেও, ভিন্ন ধর্মীদের প্রতি ভারতীয়রা সাধারণত সহিষ্ণু ও ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবাপন্ন। সাম্প্রদায়িক সংঘাত সমাজের মূলস্রোতের সমর্থন এদেশে পায় না। মনে করা হয়, ধর্মীয় সংঘাতের কারণ যত না আদর্শগত তার থেকে অনেক বেশি রাজনৈতিক। ভারতের ধর্মবৈভিন্ন্য সরকারের সর্বোচ্চ স্তর অবধি প্রসারিত। ভারতীয় সংবিধানে ভারত রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। এই ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও আইনশৃঙ্খলাগত কিছু বিধিনিষেধ ব্যতীত অন্য সর্বত্র ভারতীয় নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণ ও ধর্মপ্রচারের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য হল এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী একটি অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস আদিকাল থেকেই প্রসিদ্ধ ছিল এবং এর ইতিহাস থেকেই এটি সারা বিশ্বের এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। ইতিহাসের আদিকাল কাল থেকে এই অঞ্চল নানান কারণে বিখ্যাত ছিল। ধর্মীয় কারণে এই অঞ্চল যুগে যুগে বিখ্যাত ও শ্রদ্ধেয় হয়ে রয়েছে পৃথিবীর বুকে যেমন ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ইত্যাদি ধর্মের আবির্ভাব প্রচার ও প্রসার এই অঞ্চলে হয়েছে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে শুস্ক ও গরম জলবায়ু বিদ্যমান। এর চারপাশে প্রধান কিছু নদী রয়েছে যা সীমিত এলাকায় কৃষি ব্যবস্থায় সহায়তা করে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ পারস্য উপসাগর তীরে অবস্থিত এবং প্রচুর অশোধিত পেট্রোলিয়াম জ্বালানী তেল সম্পদে ভরপুর। মধ্যপ্রাচ্য আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বা জনপদে পরিণত হয়েছে।

মূসা

হযরত মূসা (আঃ) (ইংরেজি: Moses, হিব্রু: מֹשֶׁה, আধুনিক Mošə তিবেরিয়ান Mōšeh; আরবি: موسى, Mūsa; Ge'ez: ሙሴ Musse) ইহুদি, খ্রিস্ট, এবং ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত রাসুল বা ঈশ্বরের বার্তাবাহক। তিনি মোজেস নামেও পরিচিত ছিলেন। কোরআনে মুসা (আঃ) নাম অন্য নবীদের তুলনায় বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হয় যে মুসা (আঃ) ১২০ বছর বেচে ছিলেন। হযরত মুসা (আঃ) এর সম্প্রদায়ের নাম ছিল বনী-ইসরাঈল। বলা হয়, তার মুজিযাসমূহ বিগত অন্যান্য নবী-রসূলগণের তুলনায় সংখ্যায় বেশী, প্রকাশের বলিষ্ঠতার দিক দিয়েও অধিক।

শ্বর

শ্বর ধারণাটি বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। সাধারণত শ্বর হল একটি প্রাকৃত বা অতিপ্রাকৃত শক্তি যা স্বর্গীয় বা পবিত্র বলে বিবেচিত। একেশ্বরবাদী ধর্মে শুধুমাত্র একজন শ্বর গ্রহণ করা হয় এবং তাকে প্রাধান্য দিয়ে ঈশ্বর বা প্রভু ডাকা হয়, বহু-ঈশ্বরবাদী ধর্মে একাধিক শ্বরকে গ্রহণ করা হয়, এবং এক-ঈশ্বরবাদী ধর্মে একজনকে প্রধান শ্বর হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং অন্যান্য শ্বরদের অস্বীকার না করে তাদেরও সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। কিছু অ-ঈশ্বরবাদী ধর্মে সকল প্রধান সৃষ্টিকারী শ্বরকে অস্বীকার করা হয় কিন্তু কিছু শ্বর, যা জন্ম নেয়, মৃত্যু বরণ করে এবং পুনঃজন্ম লাভ করে তাদের গ্রহণ করে। পুরুষ শ্বরকে দেবতা এবং নারী শ্বরকে দেবী ডাকা হয়।

সদোম ও গোমোরাহ

সদোম ও গোমোরাহ (; ) হল পশ্চিম এশিয়ার দুটি প্রাচীন শহর; বুক অব জেনেসিস, হিব্রু বাইবেল, নূতন নিয়ম এবং ডিউটেরোবিধিসম্মত উইজডমের বই, পাশাপাশি কুরআন এবং হাদিসেও এদের উল্লেখ পাওয়া যায়।

তাওরাত অনুসারে, সদোম ও গোমোরাহ আদ্মাহ, জেবোইম এবং জোয়ারা শহরগুলোর স্বজাতীয় শহর ছিল। এই পাঁচটি শহর "সমভূমির শহরসমূহ" নামে পরিচিত, যা কেনান ভূমির দক্ষিণাঞ্চলে জর্দান নদীর সমভূমিতে অবস্থিত। বর্তমান মৃত সাগরের উত্তরের ভূমিটিই হচ্ছে সেই সমভূমি, যেখানে জমিতে ভালো জলসেচের ব্যবস্থা থাকায় এবং তা সবুজ ও গৃহপালিত পশুচারণ জন্য উপযুক্ত থাকায় একে ইডেনের উদ্যান হিসেবে ধরা হতো।

ঈশ্বরের ঐশিক বিচারের ফলে সদোম ও গোমোরাহ এবং তার দুই প্রতিবেশী শহর সম্পূর্ণরূপে আগুন ও গন্ধক দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। শুধুমাত্র তার প্রতিবেশী শহর জোয়ার (বেলা) এই ধ্বংসকাণ্ড থেকে বেঁচে গিয়েছিল। আব্রাহামীয় ধর্মে, সদোম ও ঘমোরাকে অনুশোচনাহীন পাপের সমার্থক বলে বিবেচনা করা হয়; তাদের পতন সেখানে প্রবাদতুল্য ঐশ্বরিক শাস্তির নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। সদোম ও গোমোরাহ নামদু'টি বর্তমানে বিভিন্ন ভাষায় ব্যভিচার, সমকামিতা প্রভৃতি বিচ্যুতির একটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এদের কাহিনীটি ইংরেজি "সডামি" (পুরুষদের মধ্যে পরস্পর যৌন সংসর্গ বা পায়ুকাম) শব্দসহ বিভিন্ন ভাষায় সম অর্থের শব্দসমূহের জন্ম দিয়েছে। সডামি আইনসমূহ একটি যৌন "প্রকৃতির বিরুদ্ধে অপরাধ" -কে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে পায়ুসঙ্গম বা ওরাল সেক্স, সমকামিতা বা বিপরীতকামিতা উভয়, বা একজন ব্যক্তি এবং একটি অ-মানব পশু (জুওফিলিয়া) মধ্যে যৌন কার্যকলাপ।

সাশা ব্যারন কোহেন

সাশা নোয়াম ব্যারন কোহেন (জন্ম: ১৩ অক্টোবর ১৯৭১) একজন ব্রিটিশ অভিনেতা, কৌতুকাভিনেতা এবং চিত্রনাট্যকার। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অধীন ক্রাইস্টস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যারন কোহেন ব্যাপকভাবে সু-পরিচিত তার সৃষ্ট চারটি কাল্পনিক চরিত্র: আলি জি, বোরাত সাগদিয়েভ, ব্রুনো গেহার্ড এবং অ্যাডমিরাল জেনারেল আলাদীনের জন্য।

ব্যারন তার অভিনয় কর্মসূচিতে সেইসব সরল-বিশ্বাসী মানুষদের চরিত্রই ফুটিয়ে তোলেন যারা তাদের প্রাহসনিক অবস্থা এবং ব্যাঙ্গাত্মক আত্ম-প্রকাশমূলক পরিস্থিতি নিয়ে বুঝতে অপারগ। তার অন্যান্য কাজগুলো হলো মাদাগাস্কার (২০০৫-২০১২) নামক একটি ধারাবাহিক ছবিতে ত্রয়োদশ কিং জুলিয়ান এর চরিত্রে কণ্ঠ দেওয়া। পাশাপাশি তিনি সুইনি টডঃ দ্য ডিমন বারবার অব ফ্লিট স্ট্রীট (২০০৭), হুগো (২০১১) এবং লেস মিজারেবলস (২০১২) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়াও তিনি এমআই৬ এর এক গুপ্তচরের ভাই হিসেবে গ্রিমসবি (২০১৬) নামের একটি কৌতুকপ্রদ চলচ্চিত্র এবং এবং অ্যালিস থ্রু দ্য লুকিং গ্লাস (২০১৬) নামের আরো একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা রয়েছে।

ব্যারন কোহেন ১৯৯৯ সালে দ্য ইলেভ্যান ও'ক্লক শো নামক একটি কমেডি ধারাবাহিকের জন্য ব্রিটিশ কমেডি অ্যাওয়ার্ডস কর্তৃক সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি ডা আলি জি শো এর জন্য দুইটি বাফটা অ্যাওয়ার্ড, এমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য কয়েকবার মনোনয়ন, সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্যের জন্য অস্কার মনোনয়ন এবং তার চলচ্চিত্র বোরাতের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব পুরষ্কার অর্জন করেন। বোরাত চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার পর ব্যারন কোহেন বলেন যে, যেহেতু “বোরাত” আর “আলি জি” দর্শকদের মাঝে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তাই তিনি এই দুই চরিত্রে আর অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেন। একইভাবে ব্রুনো চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পরও ব্যারন কোহেন, ব্রুনো চরিত্রে আর অভিনয় না করার কথা জানিয়েছিলেন। ২০১২ সালের ব্রিটিশ কমেডি অ্যাওয়ার্ডসে তার আলি জি চরিত্রের জন্য ব্যারন কোহেন "আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড" অর্জন করেন। এছাড়াও ২০১৩ সালে কমেডি দক্ষতার জন্য বাফটা চার্লি চ্যাপলিন ব্রিটানিয়া অ্যাওয়ার্ডস পুরস্কার পান।

হিব্রু বাইবেল

হিব্রু বাইবেল (Hebrew Bible) বলতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় পুস্তকাবলীর সাধারণ অংশকে বোঝায়। পণ্ডিতেরা খ্রিস্টানদের পুরাতন বাইবেল (Old Testament) বা ইহুদিদের তানাখ (Tanakh) (যে গ্রন্থগুলো প্রকৃতপক্ষে একই) বোঝাতে গিয়ে এই পরিভাষাকেই নিরপেক্ষ মনে করে ব্যবহার করেন।

হিব্রু বাইবেলকে ইহুদিরা তানাখ বলে থাকে। গ্রন্থটির তিনটি অংশের আদ্যক্ষরের সমন্বয়ে তানাখ শব্দটি গঠিত: তৌরাহ, নবিইম, কেতুবিম।

২০১২

২০১২ খ্রিষ্টাব্দ (MMXII) একটি অধিবর্ষ যার প্রথম দিনটি রবিবার। গ্রেগরীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী এটা ২০১২তম বছরের সাধারণ যুগ অথবা এনো ডোমিনি; ৩য় মিলিনিয়াম এবং ২১শ শতাব্দীর ১২শ বছর।

এই বছরটি এলান টুরিং বছর হিসেবে নামাঙ্কিত করা হয়। টুরিং ছিলেন ব্রিটিশ একজন গণিতজ্ঞ, কম্পিউটার পথিকৃৎ ও কোড ব্রেকার যার জন্ম ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে; তার জন্মশতবর্ষ স্মরণেই এই নামাঙ্কন। ২০১২ সালে সম্পর্কিত বিভিন্ন সভ্যতা (মায়া, ইনকা) এবং মানুষের (নসট্রাদামুস) ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে।

প্রধান ধর্মাবলম্বী

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.