ইবেরীয় উপদ্বীপ

ইবেরীয় উপদ্বীপ হল ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপদ্বীপ। বলকান উপদ্বীপের পর এর অবস্থান। সাধারণভাবে একে ইবেরিয়া বলে ডাকা হয়। মহাদেশের একেবারে দক্ষিণপশ্চিম প্রান্তে এর অবস্থান। এর মোট আয়তন ৫,৮২,০০০ বর্গ কিমি (২,২৫,০০০ বর্গ মাইল)। উপদ্বীপটিতে তিনটি দেশ অবস্থিত। এগুলো হল, স্পেন, পর্তুগাল, এন্ডোরা। সেসাথে ফ্রান্সের কিছু অংশ এবং জিব্রাল্টারের ব্রিটিশ সমুদ্র অঞ্চল রয়েছে।

ইবেরীয় উপদ্বীপ
A map of the Iberian Peninsula and its location in Europe.
ইবেরিয়ান উপদ্বীপের স্যাটেলাইট ছবি।
Iberian map europe
ভূগোল
অবস্থানদক্ষিণ & পশ্চিম ইউরোপ
স্থানাঙ্ক৪০° উত্তর ৪° পশ্চিম / ৪০° উত্তর ৪° পশ্চিম
আয়তন৫,৮১,৪৭১.১ বর্গকিলোমিটার (২,২৪,৫০৭.২ বর্গমাইল)
সর্বোচ্চ উচ্চতা৩,৪৭৮ মিটার (১১,৪১১ ফুট)
সর্বোচ্চ বিন্দুমুলহাচেন
প্রশাসন
বৃহত্তর বসতিএন্ডোরা লা ভেলা
বৃহত্তর বসতিজিব্রাল্টার
বৃহত্তর বসতিলিসবন
বৃহত্তর বসতিমাদ্রিদ
বৃহত্তর বসতিফন্ট-রোমু-ওডিলো ভিয়া
জনপরিসংখ্যান
বিশেষণইবেরিয়ান
জনসংখ্যা৫৭.২ নিযুত

ভূগোল

ইউরোপের তিনটি উপদ্বীপের মধ্যে (ইতালি, বলকানইবেরিয়া) এটি সর্বাপেক্ষা পশ্চিমে অবস্থিত। এর সীমানা হল, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্বে ভূমধ্যসাগর এবং উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণপশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর। উত্তরপূর্বে পিরেনিজ পর্বতমালা উপদ্বীপকে বাকি ইউরোপ থেকে পৃথক করে রেখেছে। উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত আফ্রিকার উত্তরপশ্চিম উপকূলের খুবই নিকটবর্তী এবং জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা পৃথক হয়ে আছে।

নাম

Iberia Europe satfoto 2014067
ইবেরিয়ান উপদ্বীপ ও দক্ষিণ ফ্রান্সের স্যাটেলাইট ছবি, মার্চ ২০১৪

গ্রিক নাম

ইবেরিয়া শব্দটি প্রাচীন গ্রিক শব্দ Ιβηρία (ইবেরিয়া) থেকে এসেছে। রোমান সাম্রাজ্যের অধীন গ্রিক ভূগোলবিদরা এই অঞ্চলকে বোঝাতে এ শব্দ ব্যবহার করতেন।[১] এ সময় শব্দটি দ্বারা কোনো একক রাজনৈতিক সত্তা বা পৃথক জাতিসত্তা বোঝাতে ব্যবহার হত না।[২] স্ট্রাবোর বর্ণিত ইবেরিয়ার সীমানা হল পিরেনিস পর্বতমালাসহ সেটি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের (তিনি শুধু পশ্চিম বলে উল্লেখ করেন) পুরো ভূভাগ।

প্রাচীন গ্রীকরা পশ্চিমমুখী নৌচালনা করে ইবেরিয়ান উপদ্বীপ আবিষ্কার করে। হেকাটিয়াস ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বে এই শব্দটি ব্যবহার করেন বলে জানা যায়।[৩] হেরোডোটাস ফোকাইয়ানদের ব্যাপারে বলেন যে “তারা প্রথম গ্রীকদের ইবেরিয়ার সাথে পরিচিত করায়।"[৪] স্ট্রাবোর মতে[৫] "Ἶβηρος (Ibēros)" ইবেরোসের এলাকা উত্তরে ফ্রান্সের রন নদী পর্যন্ত বিস্তৃত, কিন্তু বর্তমানে তারা পিরেনিজ পর্যন্ত এর সীমা ধরে”। পলিবিয়াস এ মতের সাথে যোগ করেন[৬] যে ইবেরিয়া ভূমধ্যসাগর থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি আটলান্টিক অংশের কোনো নাম দেননি। অন্যদিকে[৭] তিনি বলেন যে সাগুনটো হল ইবেরিয়া ও সেল্টিবেরিয়ার সংযোগকারী পাহাড়শ্রেণীর সমুদ্রোভিমুখী পাদদেশ।“

স্ট্রাবো কারেটানিয়ানদের পিরেনিজে বসবাসকারী ইবেরিয়ার জনগণ বলে উল্লেখ করেন যারা কেল্ট বা সেলটিবেরিয়ানদের থেকে পৃথক।[৮]

রোমান নাম

রোমানদের গ্রিক ভূগোলবিদদের থেকে পৃথকভাবে ইবেরিয়া উচ্চারণ করত। তারা একে ইবেরি বলে ডাকত।[৯] সর্বপ্রথম ২০০ খ্রিষ্টপূর্বে কুইনটাস এনিয়াস এ শব্দ ব্যবহার করেন। রোমানদের ইতোমধ্যেই কার্থেজের সাথে বিরোধের সময় উপদ্বীপের মানুষদের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। রোমান ভূগোলবিদ ও অন্যান্য লেখকরা পরবর্তী রোমান প্রজাতন্ত্রের সময় থেকে পুরো উপদ্বীপকে হিস্পানিয়া বলে উল্লেখ করতেন।

রোমানরা নিকট ও দূর স্পেনের জন্য হিস্পানিয়া থিতেরিওরহিস্পানিয়া উলতেরিওর শব্দদ্বয় ব্যবহার করা শুরু করে। এসময় এর বিশাল অংশকে লুসিতানিয়া (দোউরু নদীর পর্তুগালের দক্ষিণ অংশ এবং পশ্চিম স্পেনের এক্সট্রেমাডুরা), গালাসিয়া (উত্তর পর্তুগাল ও স্পেনের গালিসিয়া ), থেলতিবেরিয়া (মধ্য স্পেন), বায়টিকা (আন্দালুসিয়া), ক্যানটাবরিয়া (উত্তর পশ্চিম স্পেন) এবং ভাসকোনস (বাস্ক) বলা হত। স্ট্রাবো বলেন যে রোমানরা হিস্পানিয়া ও ইবেরিয়া শব্দদ্বয় নিকট ও দূর বোঝাতে প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করত। তিনি যেসময় জীবিত ছিলেন সেসময় উপদ্বীপটি দুটি প্রদেশে বিভক্ত ছিল। এর একভাগ হল বায়টিয়া যা সেনেট কর্তৃক তদারক করা হত, বাকি অংশ সম্রাটের পক্ষ থেকে পরিচালিত হত।

তথ্যসূত্র

  1. First known use in that sense dates to 1618."Iberian"Online Etymological Dictionary
  2. Strabo। "Book III Chapter 1 Section 6"। GeographicaAnd also the other Iberians use an alphabet, though not letters of one and the same character, for their speech is not one and the same.
  3. Strabo (MCMLXXXVIII)। The Geography (ancient Greek and English ভাষায়)। II। Cambridge: Bill Thayer। পৃষ্ঠা 118, Note 1 on 3.4.19। অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  4. I.163.
  5. III.4.19.
  6. III.37.
  7. III.17.
  8. III.4.11.
  9. "Iberia, Iberi"। Félix Gaffiot's Dictionnaire Illustré Latin Français। Librairie Hachette। ১৯৩৪।
আন্দালুসীয় ঘোড়া

আন্দালুসীয় ঘোড়া, খাঁটি স্পেনীয় ঘোড়া বা পিআরই (স্পেনীয়: pura raza española নামেও পরিচিত), এটি ইবেরীয় উপদ্বীপের একটি ঘোড়ার জাত, যেখানে এর পূর্বপুরুষরা হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। আন্ডালুসিয়ান ১৫তম শতাব্দী থেকে একটি স্বতন্ত্র জাত হিসাবে স্বীকৃত, এবং এর গঠন কয়েক শতাব্দী ধরে খুব সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে। ইতিহাসের সর্বত্র, এটি যুদ্ধের ঘোড়া হিসাবে তার দক্ষতার জন্য পরিচিত, এবং আভিজাত্যের দ্বারা এটি পুরস্কৃত হয়েছিল। জাতটি স্পেনীয় সরকার কূটনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছিল এবং পুরো ইউরোপের রাজারা স্পেনীয় ঘোড়া চালাত এবং তার মালিক ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীতে, যুদ্ধ, রোগ এবং ক্রস-ব্রিডিং পশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং ১৯ শতকের শেষদিকে কিছুটা পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও, প্রবণতাটি বিংশ শতক শুরুর দিকে অব্যাহত ছিল। স্পেন থেকে আন্দালুসীয়দের রফতানি ১৯৬০ এর দশক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, তবে এই জাতটি তাদের সংখ্যা কম থাকলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সালে, বিশ্বব্যাপী ১৮৫,০০০ এরও বেশি নিবন্ধিত আন্দালুসীয় ছিল।

দৃঢ়ভাবে গঠিত এবং আটসাঁট সত্বেও মার্জিত, আন্দালুসীয়দের দীর্ঘ, ঘন ঘাড়ের লোম এবং লেজ আছে। তাদের বেশিরভাগেরই কোটের রঙ সাধারণ ধূসর, যদিও অন্যান্য অনেক রঙে পাওয়া যায়। তারা তাদের বুদ্ধি, সংবেদনশীলতা এবং দক্ষতার জন্য পরিচিত। এই দাবীর পক্ষে কোনও জেনেটিক প্রমাণ না থাকলেও, প্রজননকারীরা কার্দুসিয়ান নামে পরিচিত জাতের মধ্যে একটি উপ-জাতকে খাঁটি আন্দালুসীয় জাত হিসাবে বিবেচনা করে। জাতটি এখনও প্রধান জাতের থেকে আলাদা বলে বিবেচিত হয় এবং প্রজননকারীরা তাদের পছন্দ করেন কারণ কার্দুসীয় রক্তের এই ঘোড়াগুলির জন্য ক্রেতারা বেশি দাম দেয়। আন্দালুসীয় বা 'পিআরই' হিসাবে ঘোষিত ঘোড়ার রেকর্ড রাখার জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিযোগী রেজিস্ট্রি রয়েছে তবে তারা আন্দালুসীয় এবং 'পিআরই', বংশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশুদ্ধতা এবং স্টাড বইয়ের মালিকানার বৈধতা বিষয়ে তাদের সংজ্ঞা থেকে পৃথক। ২০১১ মোতাবেক কমপক্ষে একটি মামলা চলছে, স্পেনীয় 'পিআরই' স্টাড বইয়ের মালিকানা নির্ধারণ করতে।

আন্দালুসীয় ঘোড়া পর্তুগালের লুসিটানোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং বিশেষত ইউরোপ এবং আমেরিকাতে বিভিন্ন জাতের বিকাশ ঘটাতে এদের ব্যবহার করা হয়েছে। আন্দালুসীয় বংশের সাথে বংশবৃদ্ধিতে ইউরোপের অনেকগুলি রক্তের পাশাপাশি অ্যাজটেকার মতো পশ্চিমা গোলার্ধের জাত রয়েছে। বহু শতাব্দী বিকাশের পরে, আন্দালুসীয় জাতটি অ্যাথলেটিসিজম এবং স্ট্যামিনা জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ঘোড়াগুলি মূলত ক্লাসিকাল ড্রেসেজ, ড্রাইভিং, ষাঁড়ের লড়াই এবং স্টক ঘোড়া হিসাবে ব্যবহৃত হত। আধুনিক আন্দালুসীয়রা ড্রেসেজ, শো জাম্পিং এবং ড্রাইভিং সহ অনেক অশ্বারোহণের ক্রিয়াকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। জাতটি সিনেমায় বিশেষত ঐতিহাসিক এবং কাল্পনিক মহাকাব্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর হিসপানিয়া

উত্তর হিসপানিয়া বা নিকট হিসপানিয়া (লাতিন ভাষা - Hispania Citerior; স্পেনীয় ভাষা - Hispania Cercana, উচ্চারণ - ইসপানিয়া থেরকানা) বর্তমান স্পেনের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী একটি রোমান প্রদেশ। দ্বিতীয় পুনিক যুদ্ধে কার্থেজীয়দের কাছ থেকে ইবেরীয় উপদ্বীপের কর্তৃত্ব রোমান প্রজাতন্ত্রের হাতে আসার পর খ্রিস্টপূর্ব ১৯৭ অব্দে রোমানরা পিরেনিজ পর্বতের দক্ষিণে উপদ্বীপের তাদের নিজেদের কর্তৃত্বাধীন অঞ্চলকে প্রশাসনিকভাবে দু'টি প্রদেশে ভাগ করে। এর মধ্যে উত্তরের, অর্থাৎ রোম থেকে অপেক্ষাকৃত নিকট প্রদেশটির নাম দেওয়া হয় "নিকট হিসপানিয়া" বা "উত্তর হিসপানিয়া"। এই প্রদেশটি উত্তরে পিরেনিজ থেকে উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল ধরে বর্তমান স্পেনের উপকূলীয় শহর কার্তাখেনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।এই প্রদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু বিতর্ক আছে। আগে মনে করা হত এই প্রদেশের প্রধানদপ্তর প্রথমে কার্তাখেনা নোভা (বর্তমান কার্তাখেনা) থেকে পরিচালিত হলেও পরে সিজার অগাস্টাসের সময়ে তা তারাকো শহরে (বর্তমান তারাগোনা) স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু এখন মনে করা হয়, প্রথম থেকেই প্রশাসনিক দপ্তর হিসেবে কার্তাখেনার পাশাপাশি তারাকোকেও ব্যবহার করা হত। রোমান ভৌগোলিক স্ট্রাবোর লেখাও এর সাক্ষ্য বহন করে। পরবর্তীকালে প্রজাতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটলে সিজার অগাস্টাসের সময় উত্তর হিসপানিয়াও একটি রাজতান্ত্রিক প্রদেশে রূপান্তরিত হয়। এইসময় তারাকো থেকেই এর প্রশাসন পরিচালিত হওয়ায় একে হিসপানিয়া তারাকোনেনসিস নামেও অভিহিত করা হতে থাকে। তবে সরকারিভাবে তখনও পর্যন্ত হিসপানিয়া থিতেরিওর বা নিকট হিসপানিয়া নামটিই বজায় ছিল। এই প্রদেশের অন্যান্য শহরের মধ্যে সাগুন্তুম (বর্তমান নাম সাগুন্তো, ভ্যালেন্সিয়া শহরের উত্তরে অবস্থিত) ও ইয়েরদা (বর্তমান ইয়েইদা) উল্লেখযোগ্য।

হিসপানিয়া থিতেরিওরের রোমান প্রশাসন এই প্রদেশের পশ্চিমে বসবাসকারী থেলতিবেরীয়দের সাথে বারেবারে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পশ্চিমের বিভিন্ন অঞ্চলেও রোমের কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। সম্রাট অগাস্টাস খ্রিস্টপূর্ব ২৭ অব্দে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলে রোমের অধীন বিভিন্ন প্রদেশগুলিকে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। এইসময়ে হিসপানিয়া থিতেরিওরের সাথে আরও বেশ কিছু অঞ্চল যুক্ত করা হয় এবং সেই বৃহত্তর প্রদেশটিকে সাধারণভাবে হিসপানিয়া তারাকোনেনসিস নামে অভিহিত করা শুরু হয়। খ্রিস্টপূর্ব ২৯ - ১৯ অব্দে কান্তাব্রীয় যুদ্ধে রোমানদের জয়ের ফলে প্রায় সমগ্র ইবেরীয় উপদ্বীপ রোমানদের অধীন হয়ে পড়লে হিসপানিয়া তারাকোনেনসিসের আয়তন প্রভুত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। হিসপানিয়া থিতেরিওর নামটি এইসময় থেকেই অপ্রচলিত হয়ে পড়ে।

পর্তুগাল

পর্তুগাল (পর্তুগিজ: República Portuguesa) দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম অংশে, স্পেনের দক্ষিণে ও পশ্চিমে অবস্থিত। আটলান্টিক মহাসাগরে দেশটির দীর্ঘ উপকূল রয়েছে। এছাড়াও দুইটি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপপুঞ্জ পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণাধীন; এগুলি হল আসোরেস দ্বীপপুঞ্জ এবং মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ, যারা উভয়েই আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। লিসবন পর্তুগালের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর।

পর্তুগাল মোটামুটি আয়তাকৃতির। এর উত্তরের ভূমি পর্বতময় ও সবুজে ছাওয়া; এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং আবহাওয়া শীতল। এই অঞ্চলটি, বিশেষ করে দোউরু নদীর উপত্যকা আঙুরক্ষেতের জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে পর্তুগালের বিখ্যাত পোর্ট ওয়াইনের জন্য আঙুর উৎপাদিত হয়। পর্তুগালের মধ্য ও দক্ষিণ ভাগ উষ্ণতর এবং শুষ্কতর। এখানে আঙ্গুর ছাড়াও গম ও অন্যান্য কৃষিদ্রব্য উৎপাদিত হয়। এখানে কর্ক, ওক ও জলপাই গাছও জন্মে। দেশের একেবারে দক্ষিণে আলগার্ভে নামের অঞ্চলটি উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত রৌদ্রোজ্জ্বল বেলাভূমির জন্য পরিচিত।

পর্তুগাল খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। দৌরু নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রাক্তন রোমান বসতি পোর্তুস কালে থেকে পর্তুগাল নামটি এসেছে। খ্রিস্টীয় ৫ম শতকে রোমান শাসনের অবসানের পর ইউরোপের অভ্যন্তরভাগ থেকে জার্মানীয় জাতির লোকেরা এসে পর্তুগাল শাসন করে। এরপর উত্তর আফ্রিকা থেকে মুসলমানেরা এসে দেশটি দখল করে। এরপর এলাকাটি স্পেনীয় রাজাদের অধীনে আসে। ১২শ শতকে পর্তুগাল একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়।

১৫শ শতকে পর্তুগাল ইউরোপের প্রধান সমুদ্রাভিযান কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তী প্রায় ১০০ বছর পর্তুগিজ নাবিকেরা বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়ে যান এবং বিশ্বের সমুদ্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নাবিকদের সহায়তায় পর্তুগাল ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে তাদের উপনিবেশ ছিল। বর্তমানে পর্তুগিজ ভাষা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষার একটি, যা তার অতীতের বিশাল সাম্রাজ্যের পরিচয়বহ। ১৬শ শতকের শেষ নাগাদ পর্তুগালের শক্তি ও সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং দেশটি তার বেশির ভাগ এশীয় উপনিবেশ হারায়। পর্তুগাল তার বৃহত্তম উপনিবেশ ব্রাজিলের উপর ১৯শ শতক পর্যন্ত এবং তার বিশাল আফ্রিকান সাম্রাজ্যের উপর ২০শ শতক পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। পর্তুগালের অধীনে বিশ্বের এক বিশাল স্থলভাগ থাকলেও এটি ইউরোপের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলির একটি।

১৯১০ সাল পর্যন্ত পর্তুগালে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল। ঐ বছর পর্তুগালে প্রথম প্রজাতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটে। এর পরবর্তী বছরগুলি ছিল খুব অশান্ত। ১৯২৬ সালে কু-এর মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এটি পাঁচ দশক ধরে পর্তুগাল শাসন করে। ১৯৬০-এর দশকে আফ্রিকাতে ঔপনিবেশিক যুদ্ধের কারণে পর্তুগালের সম্পদ হ্রাস পায় এবং জাতীয় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালে একটি বিপ্লব ঘটে এবং একটি সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৫ সালে পর্তুগাল তার সমস্ত আফ্রিকান উপনিবেশকে স্বাধীনতা দিয়ে দেয়। ১৯৭৬ সালে প্রণীত নতুন সংবিধানে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে পর্তুগাল ইউরোপের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং অর্থনীতির আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। পর্তুগাল ১৯৮৬ সালে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ে (পরবর্তীকালে যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিণত হয়) যোগদান করে এবং ১৯৯৯ সালে মুদ্রা হিসেবে ইউরো-কে গ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালেই পর্তুগাল এশিয়াতে তার শেষ উপনিবেশ মাকাও-কে চীনের কাছে ফেরত দেয়।

পর্তুগালের ইতিহাস

পর্তুগালের ইতিহাস বলতে আমরা যদি শুধুমাত্র পর্তুগাল দেশটির ইতিহাসকে বুঝি তবে তার সূচনা মধ্যযুগের দ্বিতীয়ার্ধে। এর পূর্বে দেশটির সুদীর্ঘ ইতিহাস ইবেরীয় উপদ্বীপের সামগ্রিক ইতিহাসের সাথেই সংশ্লিষ্ট। কিন্তু মধ্যযুগের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই দেশটির পৃথক জাতিরাষ্ট্র হিসেবে উত্থান ঘটে; ভৌগোলিক আবিষ্কারের যুগে তার আবিষ্কৃত ও অধিকৃত ভূখণ্ডের ক্রমাগত ব্যাপক বিস্তারের ফলে এক বিশাল সাম্রাজ্যের পত্তন হয় ও খ্রিস্টীয় ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে পর্তুগাল বিশ্বের একটি প্রধান শক্তি হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে। কিন্তু ১৫৭৮ খ্রিষ্টাব্দে আলকাথারকিবিরের যুদ্ধের পর থেকেই তার পতনের সূচনা ঘটে। তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা হ্রাস পায়, সম্পদে ঘাটতি দেখা দেয়, তার সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে, নৌবাহিনীরও শক্তিক্ষয় ঘটে এবং শেষপর্যন্ত তা স্পেনীয় আর্মাদার অংশে পরিণত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি তার পূর্বতন মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হলেও ১৭৫৫ সালে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে তার রাজধানী শহর ভীষণরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনাপর্বে নেপলিয়নীয় যুদ্ধে এবং ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে তার বৃহত্তম উপনিবেশ ব্রাজিল স্বাধীনতা ঘোষণা করলে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় নিমজ্জিত হয় ও রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পায়। ১৯১০ সালে এক অভ্যুত্থানে রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটে ও প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়। কিন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত, সামাজিক সংঘর্ষে দীর্ণ একটি দেশে সর্বোপরি গির্জার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এই প্রজাতন্ত্রের পক্ষে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটে ও দেশে এক একনায়কতন্ত্রী সরকারের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই একমায়কতন্ত্রই বজায় থাকে। কিন্তু এইসময় সামরিক বাহিনী বিদ্রোহ করলে একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। পরের বছর পর্তুগাল আফ্রিকায় তার অবশিষ্ট সমস্ত উপনিবেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৮৬ থেকে এই দেশ তৎকালীন ইউরোপীয় ইকনমিক কমিউনিটি, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

পিথিয়াস

পিথিয়াস বা মাসালিয়ার পিথিয়াস (প্রাচীন গ্রিক - Πυθέας; পিথেয়াস; লাতিন - Pytheas Massiliensis; পিথেয়াস মাসালিয়েনসিস; জন্ম - আনুমানিক ৩৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ, মৃত্যু - আনুমানিক ৩১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর একজন গ্রিক ব্যবসায়ী, ভৌগোলিক, সমুদ্র অভিযাত্রী ও প্রাচীন যুগের একজন বড় ভৌগোলিক আবিষ্কারক। সেযুগের এক গ্রিক উপনিবেশ মাসালিয়ায় (আজকের ফ্রান্সের মার্সেই শহর) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তার সমকালীন যুগেই একদিকে আলেকজান্ডার যখন পূর্বদিকে ইউরোপের জানা জগতের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছিলেন, পিথিয়াস সেই সময় (৩২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অভিযান চালিয়েছিলেন উত্তরপশ্চিম ইউরোপ অভিমুখে। তার সেই যাত্রার বিবরণ তিনি লিপিবদ্ধ করেন একটি গ্রন্থে। গ্রন্থটির নাম ছিল যতদূর সম্ভব মহাসমুদ্র বিষয়ক (Περὶ τοῦ ᾿Ωκεανοῦ Perì toũ Okeanoũ বা পেরি তোউ ওকেয়ানোউ)। প্রাচীন যুগে গ্রন্থটি যথেষ্ট পরিচিত হলেও মূল গ্রন্থটি আমাদের হাতে এসে পৌঁছয়নি। তবে পরবর্তী বিভিন্ন লেখকের লেখায় (স্ট্রাবো, প্লিনি, এরাতোস্থেনেস, প্রভৃতি]] তার বিভিন্ন অংশের যে উল্লেখ আমরা পাই, তার থেকে আমরা এখনও তার কিছু অংশ সম্পর্কে জানতে পারি।

ষাঁড়ের লড়াই

অতীতে বাংলাদেশে ষাঁড়ের লড়াই একটি প্রসিদ্ধ খেলারূপে প্রচলন ছিল। লড়াই করার জন্য ষাঁড় গরু আলাদাভাবে লালন পালন করা হতো। এর দ্বারা হাল চাষ বা অন্য কোন ধরনের কাজ করা হতো না। ষাঁড়টিকে মোটাতাজা করা হতো শুধু লড়াই করার জন্য। শুকনো মৌসুমে গ্রামের বাজারে ঢোল পিটিয়ে ষাঁড়ের লড়াই দেখার আমন্ত্রন জানানো হতো। মাঠে ষাঁড়ের মালিকগণ তাদের ষঁড়গুলোকে বিভিন্ন রঙিন কাপড়, ঘুংগুর, দোয়াল দিয়ে গেঁথে নিয়ে আসতেন। দুদিকে দুজন রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে এসে দুপক্ষের ষাঁড়কে ছেড়ে দিয়ে সবাই মিলে ঢাক ঢোল পিটিয়ে ও বিভিন্ন তালে তালে গান করত। এভাবে উপস্থিত সকল ষাঁড়ের মধ্যে যে ষাঁড়টি প্রথম স্থান পেত তাকে পুরস্কার দেয়া হতো। সে পুরস্কার গরুর গলায় বেঁধে বাজারে বাজারে দেখানো হতো। বর্তমানে এই শৌখিন প্রথা বিলুপ্তির পথে।ইবেরীয় উপদ্বীপ, ফ্রান্স এবং লাতিন আমেরিকার অনেক ঐতিহাসিক ষাড়ের লড়াইয়ের স্থান রয়েছে। বৃহত্তম ভেন্যুটি হ'ল সেন্টার মেক্সিকো সিটির প্লাজা মেক্সিকো, যার ৪৮,০০০ দর্শক ধারনক্ষমতা রয়েছে এবং প্রাচীনতমটি বাজর প্লাজা এবং রন্ডার প্লাজা, স্পেনীয় প্রদেশের সালামানকা ও মালাগনা। সমস্ত ষাড়ের লড়াইয়ের স্থানেরই একটি মূল্য নির্ধারণের সিস্টেম রয়েছে, মূল কারণ সূর্য এবং ছায়া, লড়াইয়ের সান্নিধ্য এবং টরেরোর (যে লোকটি লড়াই করে) অভিজ্ঞতার মাত্রা।

পশু কল্যাণ সংস্থাগুলোর বিরোধিতা, তহবিল সংকট এবং ধর্মীয় কারনসহ বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে ষাঁড়ের লড়াই বিতর্কিত। বেশিরভাগ দেশে ষাড়ের লড়াই অবৈধ, তবে স্পেন এবং পর্তুগালের বেশিরভাগ অঞ্চলে, পাশাপাশি কিছু হিস্পানিক আমেরিকান দেশ এবং দক্ষিণ ফ্রান্সের কিছু অংশে এখনো রয়ে গেছে।

সৌদি আরবের ইতিহাস

সৌদি আরবের ইতিহাস যদিও এই অঞ্চলের মানব বসতির ইতিহাস ২০০০ বছরের পুরনো, তবে রাজ্যের বর্তমানে যে রূপ তার ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৭৪৪ সালে। এই অঞ্চল বিশ্ব ইতিহাসে দুবার বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করেছে:

৭ম শতাব্দীতে মুহাম্মদ (স.) এখানে ইসলামের প্রচার করেন এবং এটি খিলাফতের প্রথম কেন্দ্র।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে বিশাল তেলের মজুদ আবিষ্কার দেশটিকে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে।৭ম শতক থেকে মক্কা ও মদিনা শহরগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক তাৎপর্যপূর্ণ অঞ্চল। মক্কা হজ্জ পালনকারীদের একটি গন্তব্যস্থল। সামর্থ্যবান প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য জীবনে একবার হলেও এখানে আসা বাধ্যতামূলক। তবুও এই অঞ্চলটি পূর্বে আপেক্ষিক অদৃশ্য এবং বিচ্ছিন্ন ছিল

ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় এই অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান একজন স্থানীয় শাসকের দ্বারা কোন রকমে পরিচালিত হতো। আল সৌদ (সৌদি রাজকীয় পরিবার) কেন্দ্রীয় আরবের নজদের ছোটখাট স্থানীয় শাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তী ১৫০ বছর ধরে আল সউদ অঞ্চল পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। যাইহোক, ১৯০২ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে আল সউদ নেতা আব্দুল আজিজ বিজয় অর্জনের একটি সিরিজ পরিচালনা করেন যা ১৯৩০ সালে সৌদি আরব রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৫৩ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত, আব্দুল আজিজ একটি পুরাদস্তর রাজতন্ত্র হিসেবে সৌদি আরবকে শাসন করেন। এর পরে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁর ছয় পুত্র রাজ্যটির শাসন করেছে:

সৌদ আব্দুল আজিজের পরবর্তী উত্তরাধিকারী, রাজ পরিবারের অধিকাংশের কাছ থেকে বিরোধিতার মুখোমুখি হন এবং অবশেষে পদত্যাগ করেন।

ফয়সাল ১৯৬৪ সালে সৌদকে বদলে দেন। ১৯৭৫ সালে এক ভ্রাতুষ্পুত্রের দ্বারা তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত, ফয়সাল তেল সম্পদ দ্বারা চালিত বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের সময়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৩-এর তেল সংকটে সৌদি আরবের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে তেলের মূল্য বৃদ্ধি দেশটির রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং সম্পদ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে।

খালিদ ফয়সালের উত্তরাধিকারী। বিরোধীতার প্রথম প্রধান লক্ষণের সময় তিনি রাজা হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক চরমপন্থীরা সাময়িকভাবে মক্কার মসজিদ আল-হারামের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

ফাহাদ ১৯৮২ সালে রাজা হয়েছিলেন। তার শাসনামলে সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। যাইহোক, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্যদের সাথে দেশটি নিজেকে যুক্ত করার ফলে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ২০০০ সালের শুরুতে, ইসলাম বিরোধীরা সন্ত্রাসী হামলার একটি সিরিজ পরিচালনা করে।

আবদুল্লাহ ২০০৫ সালে ফাহাদকে অনুসরণ করে। তিনি দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি হালকা সংস্কার শুরু করেন এবং কিছুটা হলেও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করেন।

সালমান ২০১৫ সালে রাজা হন।

স্পেন

স্পেন (স্পেনীয়: España আ-ধ্ব-ব: [esˈpaɲa] (শুনুন) এস্‌পাঞা) বা স্পেন রাজ্য (স্পেনীয়: Reino de España) ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। শাসনব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী দেশটি একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। এটি ইবেরীয় উপদ্বীপের প্রায় ৮৫% এলাকা জুড়ে অবস্থিত। উপদ্বীপটির বাকী অংশে স্পেনের ক্ষুদ্রতর প্রতিবেশী রাষ্ট্র পর্তুগাল এবং ব্রিটিশ প্রশাসনিক অঞ্চল জিব্রাল্টার অবস্থিত। স্পেনের আয়তন ৫,০৫,৯৯০ কিমি২ (১,৯৫,৩৬০ মা২); আয়তনের বিচারে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ফ্রান্সের পরে স্পেন ইউরোপের ৪র্থ বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। বার্সেলোনা, বালেন্সিয়া, সেবিইয়া, বিলবাও এবং মালাগা অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।

স্পেনের উত্তর সীমানাতে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বাহু বিস্কায়া উপসাগর অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব সীমানায় পিরিনীয় পর্বতমালা স্পেনের সাথে ফ্রান্স এবং অতিক্ষুদ্র রাষ্ট্র অ্যান্ডোরার একটি প্রাকৃতিক সীমানা গঠন করেছে। পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে পর্তুগাল ও আটলান্টিক মহাসাগর স্পেনের বাকী সীমানা নির্ধারণ করেছে। স্পেনের সর্বদক্ষিণ বিন্দুটি মরক্কোর দিকে মুখ করে অবস্থিত এবং দেশ দুইটি সরু জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন; স্পেন তাই ইউরোপের সাথে আফ্রিকার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের লাস কানারিয়াস দ্বীপপুঞ্জ এবং ভূমধ্যসাগরের বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জগুলিও স্পেনের শাসনাধীন। এছাড়া মরক্কোতে সেউতা এবং মেলিইয়া নামের দুইটি ছিটমহল স্পেন পরিচালনা করে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত পেনিয়ন দে বেলেস দে লা গোমেরা নামক দ্বীপ, আলহুসেমাস ও চাফারিনাস দ্বীপপুঞ্জগুলিও স্পেনের অধিকারে পড়েছে। ব্রিটিশদের অধীনে অবস্থিত জিব্রাল্টার স্পেনের মূল ভূখণ্ডের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তসীমায় অবস্থিত।

স্পেনের প্রাণকেন্দ্রে সমুদ্র সমতল থেকে অর্ধমাইল উচ্চতায় অবস্থিত মেসেতা (Meseta) নামক একটি প্রশস্ত কেন্দ্রীয় মালভূমি দেশটির বেশিরভাগ আয়তন জুড়ে অবস্থিত। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকাতেই গবাদি পশুপালন ও শস্য উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। মিগেল দে সের্ভান্তেসের দোন কিহোতে (Don Quixote) গ্রন্থে বর্ণিত সুউচ্চ বায়ুর কলগুলি এখনও এই গ্রামীণ অঞ্চলের বহু স্থানে ছড়িয়ে ছটিয়ে আছে। মেসেতা মালভূমির ভেতরে এবং এর চারপাশ ঘিরে অনেক পাহাড়-পর্বত রয়েছে, যাদেরকে স্থানীয় ভাষায় সিয়ের্‌রা (Sierra) নামে ডাকা হয়। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার পরে স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে বেশি পর্বতসংকুল দেশ। মেসেতা মালভূমিটির কেন্দ্রে মাদ্রিদ শহর অবস্থিত। মাদ্রিদ ইউরোপ মহদেশে সমুদ্র সমতল থেকে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী শহর। মেসেতা মালভূমিটির জলবায়ু রূঢ় এবং শুষ্ক। তাই স্পেনের বেশিরভাগ লোক সমুদ্র-উপকূল অঞ্চলে কিংবা প্রধান কিছু নদীর অববাহিকাতে বসবাস করে। দেশের উত্তর-পূর্ব অংশে রয়েছে এব্রো নদীর প্রশস্ত উপত্যকা, কাতালুনিয়ার পার্বত্য অঞ্চল এবং বালেন্সিয়া নামক পাহাড়ি উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল। উত্তর-পশ্চিমে আছে গালিসিয়া নামক অঞ্চল ও তার রুক্ষ কান্তাব্রীয় পর্বতমালা, যেখানে বৃষ্টিস্নাত শ্যামল নিবিড় অরণ্যাবৃত উপত্যকাগুলির মাঝে মাঝে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। স্পেনের দক্ষিণে আছে ফেদেরিকো গার্সিয়া লোর্কা ও আন্তোনিও মাচাদো তাদের কবিতায় যে নদীর গুণকীর্তন করে গেছেন, সেই গুয়াদালকিভির নদীর উপত্যকার কমলালেবু-জাতীয় ফলের বাগানে পরিপূর্ণ ভূমিগুলি। এই উপত্যকার থেকেই উঠে গেছে বরফাবৃত সিয়ের্‌রা নেবাদা পর্বতমালা। স্পেনের দক্ষিণ প্রান্তটি মরুময়; আলমেইরা নামের এই মরুভূমিটি আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিরই একটি প্রসারিত অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল অঞ্চলটিতে পামবৃক্ষের সারি, সুগন্ধী রোজমেরির ঝাড় ও অন্যান্য ক্রান্তীয় উদ্ভিদের দেখা মেলে। মৃদু জলবায়ুর সুবাদে বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জ ও এই অঞ্চলটিতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ও অবসরপ্রাপ্ত (বিশেষত উত্তর ইউরোপ থেকে) মানুষ বেড়াতে আসে।

স্পেনের প্রস্তরনির্মিত দুর্গপ্রাসাদ, বরফাবৃত পর্বতমালা, বিশালাকার সৌধ এবং আধুনিক ও পরিশীলিত শহরগুলির গল্প মুখে মুখে ফেরে। দেশটি তাই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল। স্পেন ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ একটি দেশ। স্পেনের গ্রামাঞ্চল আকর্ষণীয় সব দুর্গবেষ্টিত প্রাসাদ, প্রাচীন জল সরবরাহের নালা এবং প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে পরিপূর্ণ, কিন্তু এর শহরগুলি সন্দেহাতীতভাবে আধুনিক। আন্দালুসিয়া অঞ্চলের রাজধানী সেবিইয়া তার সঙ্গীতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত। কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা তার ধর্মনিরপেক্ষ স্থাপত্য এবং নৌপরিবহন শিল্পের জন্য সুবিদিত। আর জাতীয় রাজধানী মাদ্রিদের আঁকাবাঁকা সরু রাস্তা, জাদুঘর, গ্রন্থালয় এবং দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ধরে সক্রিয় জীবনধারার কথাও সবার জানা। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম শহর এবং বহু শতাব্দী ধরে দেশটির আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

স্পেন পর্তুগাল বাদে ইউরোপের অন্য সমস্ত দেশ থেকে পিরিনীয় পর্বতমালার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন, ফলে দেশটির ইতিহাসও ঐসব দেশের তুলনায় অনেক ভিন্ন। প্রাচীনকালে ফিনিসীয়, কার্থেজীয় ও সবশেষে রোমানরা অঞ্চলটি দখল করেছিল। ৫ম শতকে উত্তর ইউরোপ থেকে আগত ভিজিগথ জাতির লোকেরা দেশটিকে শাসন করা শুরু করে। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক দুর্বলতার সুযোগে ৮ম শতকে উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত আরবভাষী মুসলিম আরব ও উত্তর বার্বার জাতি কেরা ইবেরীয় উপদ্বীপের অধিকাংশ দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মধ্যযুগের প্রায় পুরোটা জুড়েই মুসলিমরা স্পেনের মূল শাসক ছিল; তাদের রাজ্যের নাম ছিল আল আন্দালুস। ৯ম ও ১০ম দশকে শিক্ষা, গণিত, ভূগোল, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্যচর্চায় কর্দোবা ছিল গোটা ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় শহর। ১৫শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে উত্তর স্পেনের খ্রিস্টান রাজ্যগুলি একত্র হয়ে মুসলিম আরব আফ্রিকান কাছ থেকে হৃত ইবেরীয় উপদ্বীপ ফেরত নেবার জন্য যুদ্ধ করে এবং ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে শেষ মুসলিম আফ্রিকান গোত্রীয় শাসনকর্তাকে বিতাড়িত করা হয়। খ্রিস্টানরা স্পেন থেকে সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের নারকীয় ভাবে হত্যা ও বিতাড়িত করে এবং মুসলিম সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শনাবলী গুলো দখল করে নেয়।মুসলিমদের এই ভূখণ্ডটি ধীরে ধীরে খ্রিস্টান রাজ্যে পরিণত হয়। শেষ হয়ে যায় ৮০০ বছরের আল আন্দালুস (স্পেন) ইসলামী রাষ্ট্রের।খ্রিস্টান পুনর্দখল প্রক্রিয়ার এই সমাপনীমূলক বছরটিতেই অর্থাৎ ১৪৯২ সালে অভিযাত্রী নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে স্পেনের রাজার জাহাজের বহর আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করে। এরপরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং যোদ্ধারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ভ্রমণ করে এবং স্পেনীয় রাজার জন্য বিশাল আয়তনের ভূখণ্ড দখল করে। আমেরিকা মহাদেশ থেকে লুটকৃত ধনসম্পদের জন্য স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শক্তিতে পরিণত হয়। স্পেনীয় সৈনিক এবং ধর্মযাজকেরা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশবিশেষ ও মেক্সিকো থেকে শুরু করে এবং দক্ষিণে চিলি পর্যন্ত স্পেনের উপনিবেশ স্থাপন করে এবং সেখানে স্পেনীয় ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। ইউরোপে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে সেসময় পর্যায়ক্রমে কাস্তিলীয়, আরাগোনীয়, হাবসবুর্গীয় এবং বুর্বোঁ বংশের বিভিন্ন রাজা দেশটির শাসনের দায়িত্ব পালন করেন। বহু প্রজন্ম ধরে স্পেন ছিল গোটা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ; এর সাম্রাজ্য বিশ্বের সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে ছিল। ১৭শ শতকেই স্পেনের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। ১৮শ ও ১৯শ শতকে ইউরোপ মহাদেশ এবং সারা বিশ্বজুড়ে স্পেনের ক্ষমতা অবিরত হ্রাস পেতে থাকে এবং বিশ্বের ঘটনাবলিতে এর ভূমিকা তেমন ছিল না বললেই চলে। বিংশ শতাব্দীতে এসে ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত মতাদর্শের সংঘাতের উপর ভিত্তি করে সংঘটিত স্পেনের গৃহযুদ্ধ দেশটিকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেন্দ্রে ফেরত নিয়ে আসে। কিন্তু যুদ্ধশেষে স্বৈরশাসক ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর চার দশকব্যাপী শাসনের সময়ে স্পেন আরও বেশি একাকী হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে ফ্রাংকোর মৃত্যুর পর হুয়ান কার্লোস নামক বুর্বন বংশের রাজা আবার সিংহাসনে ফেরত আসেন এবং দেশটিতে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেসময় স্বৈরাচার থেকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দেশটির ঝঞ্ঝাটহীন রূপান্তর উল্লেখ করার মত। তখন থেকে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অনেকগুলি সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে, যাদের কেউ সমাজতন্ত্রবাদী, কেউ বা রক্ষণশীল।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে স্পেনে অনেক দেরিতে আধুনিকতার আগমন ঘটে। ১৯৬০-এর দশকের আগ পর্যন্ত স্পেনের সমস্ত শিল্পকারখানাগুলি উত্তরের কাতালুনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল। তখন থেকে স্পেনের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে। বিশেষ করে হালকা শিল্পগুলি (যেমন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য) স্পেনকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে; এছাড়া সেবা খাত, বিশেষ করে পর্যটন খাতও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক স্পেনে বেড়াতে আসেন এবং এখানকার রৌদ্রোজ্জ্বল জলবায়ু, সমুদ্রসৈকত এবং ঐতিহাসিক শহরগুলিতে ভ্রমণ করেন।

স্পেনের আছে গভীর সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলাগত ঐতিহ্য। ঐতিহাসিকভাবে স্পেনের মূল সাংস্কৃতিক অবদান দুইটি ক্ষেত্রে অধিক পরিলক্ষিত হয়: চিত্রকর্ম ও সাহিত্য। সাম্প্রতিককালে ঐ দুই ক্ষেত্রে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখে স্পেন চলচ্চিত্র নির্মাণ, স্থাপত্য এবং সঙ্গীতে অনেক বড় মাপের শিল্পী ও শিল্পকলা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে। কোররিদা বা ষাঁড়ের লড়াই এবং ফিয়েস্তা বা উৎসব স্পেনের সংস্কৃতির অন্যতম দুই অনুষঙ্গ। বহু বিচিত্র সংস্কৃতির মিলনে স্পেনের সংস্কৃতি গঠিত হয়েছে। কাস্তিলীয়, কাতালুনীয়, লুসিতানীয়, গালিথীয়, বাস্ক, রোমান, বিশেষ করে আরব মুসলিম, ইহুদী এবং জিপসিসহ আরও অনেক জাতি ও উপজাতিরা তাদের রন্ধনশৈলী ও রীতিনীতির জন্য বিখ্যাত এবং তারা বিশ্বের শিল্পকলার ঐতিহ্যে প্রচুর অবদান রেখেছে। রোমান শাসনের সময় রোমানদের ভাষা, সড়কব্যবস্থা ও সৌধগুলি স্পেনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং অনেক রোমান সম্রাটও স্পেনীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন যাদের মধ্যে ত্রাজান, হাদ্রিয়ান এবং মার্কুস আউরেলিউসের নাম উল্লেখযোগ্য। উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত মুসলমান বার্বার জাতির লোকেরা প্রায় ৮০০ বছর ধরে স্পেন শাসন করে এবং সুক্ষ্ম স্থাপত্য, গীতিকবিতা এবং জ্ঞানবিজ্ঞানে তারা ব্যাপক অবদান রেখে যায়।যা তৎকালীন অন্ধকার অসভ্য-বর্বর ইউরোপীয়দের মধ্যে জ্ঞানের বিস্তার করেছে।স্পেনের ইসলামী শাসন এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল যা পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছে।

এছাড়া জিপসি জাতির লোকেরা কান্তে হোন্দো নামের একধরনের ফ্লামেংকো ঘরানার গা-ছমছম-করা সঙ্গীতের উদ্ভাবন করে এমনকি রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর স্পেনকে আক্রমণকারী ভ্যান্ডাল, হুন এবং ভিজিগথ জাতির লোকদেরকেও স্পেনের সাহিত্যে ও সৌধে স্মরণ করা হয়।

স্পেনের প্রদেশগুলি আজও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। বাস্ক প্রদেশ ও কাতালুনিয়ার লোকেরা নিজেদেরকে স্পেনীয়-র পরিবর্তে বাস্কগোত্রীয় ও কাতালুনীয় ভাবতেই বেশি পছন্দ করে। মাদ্রিদ নামে দেশের রাজধানী হলেও অর্থনীতি, ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্পকলা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে কাতালুনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা এর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনে স্পেনীয় ভাষা ছাড়াও প্রদেশভেদে আরও ৪টি ভাষাকে সহসরকারী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে; এগুলি হল কাতালান, গালিসীয়, বাস্ক এবং অক্সিতঁ ভাষাসমূহ।

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.