ইবরাহিম পাশা

ইবরাহিম পাশা (তুর্কী: Kavalalı İbrahim Paşa, ১৭৮৯ – ১০ নভেম্বর ১৮৪৮) ছিলেন মুহাম্মদ আলি পাশার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং মিশর ও সুদানের ওয়ালি (অর্থাৎ তত্বাবধায়ক)। তার পিতার প্রতিষ্ঠিত মিশরীয় সেনাবাহিনীতে তিনি একজন সেনাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। জীবনের শেষের দিকে মুহাম্মদ আলির অসুস্থতার কারণে তিনি তার উত্তরসুরি হন। মিশর ছাড়াও তার পিতার শাসনাধীন সিরিয়া, হেজাজ, মুরিয়া, থাসোস ও ক্রিটও তিনি শাসন করেছেন। ইবরাহিম পাশা তার পিতার পূর্বে মারা যান। তিনি চার মাস শাসন করেছিলেন।

ইবরাহিম পাশা
মিশর, সুদান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, হেজাজ, মুরিয়া, থাসোস, ক্রিটের ওয়ালি
Portrait d'Ibrahim Pacha 2
রাজত্বকাল২ মার্চ ১৮৪৮ – ১০ নভেম্বর ১৮৪৮
আরবিإبراهيم باشا
তুর্কিKavalalı İbrahim Paşa
জন্ম১৭৮৯
জন্মস্থানড্রামা, মেসিডোনিয়ার উসমানীয় প্রদেশ (বর্তমান গ্রিসের অংশ)
মৃত্যু১০ নভেম্বর ১৮৪৮
মৃত্যুস্থানকায়রো, মিশর এয়ালেত
সমাধিস্থলইমাম আল-শাফির মাজার, কায়রো, মিশর, ১০ নভেম্বর ১৮৪৮
পূর্বসূরিমুহাম্মদ আলি পাশা
উত্তরসূরিপ্রথম আব্বাস
দাম্পত্যসঙ্গীরাহাদিদজা
চিভেকিয়ার
হুশিয়ার খাতির
উলফাত
কালজার
সাআরেত
সন্তানাদিমুস্তাফা ফাজল পাশা
মুহাম্মদ বে
ইসমাইল পাশা
আহমেদ রিফাত
রাজবংশমুহাম্মদ আলি রাজবংশ
পিতামুহাম্মদ আলি পাশা
মাতাএমিনা

প্রারম্ভিক কর্মজীবন

কিছু মতানুযায়ী তিনি মুহাম্মদ আলির দত্তক পুত্র ছিলেন এবং তার মা ছিলেন একজন গ্রিক খ্রিষ্টান নারী।[১] এই মতানুযায়ী ইবরাহিম পাশার মাকে মুহাম্মদ আলি বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি ইবরাহিম পাশাকে নিজ পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উসমানীয় সংস্কৃতি ও মুসলিম বিশ্বাস অণুযায়ী বড় করেছেন। তবে এমন হতে পারে ইবরাহিম পাশার অমুসলিম পূর্বসূত্রীতা ঘটনা, এক জন অপমানিত ফরাসি কনসাল কর্তৃক গুজব হিসেবে ছড়ানো হয়েছিল ।[২]

স্বীকৃত মতানুযায়ী ইবরাহিম পাশা ১৭৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি মুহাম্মদ আলি ও আলির প্রথম স্ত্রীর সন্তান।[৩] এও জানা যায় যে তিনি উসমানীয় রুমেলিয়া প্রদেশের ড্রামা শহরের নিকটে নুসরাতলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। এই স্থান বর্তমানে গ্রিসের মেসিডোনিয়া অঞ্চলের অংশ।

১৮০৫ সালে তার বাবা মুহাম্মদ আলি মিশরের ক্ষমতা দখলের সময় ১৬ বছরের ইবরাহিম পাশাকে উসমানীয় কাপুদান পাশার কাছে জিম্মি হিসেবে পাঠানো হয়। উসমানীয় সুলতান কর্তৃক মুহাম্মদ আলি মিশরের ওয়ালি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ ও মেজর জেনারেল আলেক্সান্ডার ম্যাকেনজি ফ্রেসারের নেতৃত্বে একটি ব্রিটিশ অভিযানকে পরাজিত করার পর ইবরাহিম মিশরে ফেরার অণুমতি পান।

১৮১৩ সালে মুহাম্মদ আলি আরব উপদ্বীপে সৌদিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়র সময় ইবরাহিমকে উচ্চ মিশরের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। তিনি মামলুকদের বিরুদ্ধে লড়াই চালু রেখেছিলেন। ১৮১৬ সালে তিনি আরবে তার ভাই তুসুন পাশার স্থলাভিষিক্ত হন।

নজদে অভিযান

ইবরাহিম পাশা আরব উপদ্বীপে প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিলেন। অভিযানে সৌদি রাষ্ট্রের পতন হয়। মরুভূমির মধ্য দিয়ে সৌদিদের শক্তঘাটি দিরিয়া পৌছানো কষ্টসাধ্য হলেও তিনি এখানে হামলা চালান। গোলন্দাজ বাহিনীর কারণে ইবরাহিম পাশা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। ১৮১৮ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তিনি সৌদি প্রধান আবদুল্লাহ ইবনে সৌদকে বন্দী করতে সক্ষম হন। আবদুল্লাহ ইবনে সৌদকে কনস্টান্টিনোপল পাঠানোর পর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মুরিয়ায় অভিযান

Ibrahim-messolonghi
ইবরাহিম পাশা ১৮২৬ সালে মিসোলোনগি আক্রমণ করেন।
Ibrahim-Mehmet-Seve
ইবরাহিম পাশার সাথে তার পিতা মুহাম্মদ আলি পাশা ও কর্নেল সেভ (সুলাইমান পাশা, ডানে)।

১৮১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ইবরাহিম পাশা কায়রো ফিরে সেন। ফেরার পর তিনি মিশরীয় সেনাবাহিনীকে ইউরোপীয় রীতিতে গড়ে তোলার দায়িত্বে থাকা ফরাসি কর্নেল সেভ কে (সুলাইমান পাশা) কার্যকর সমর্থন দেন। ১৮২৪ সালে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ কর্তৃক মুহাম্মদ আলি মুরিয়ার গভর্নর হন। মাহমুদ চাইছিলেন যাতে গ্রীকদেরকে বিদ্রোহ দমনের জন্য প্রশিক্ষিত মিশরীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা যায়। ইতিপূর্বে গ্রীকরা উসমানীয় বাহিনীকে পরাজিত করেছিল।

ইবরাহিমকে পেলোপনেসে একটি স্কোয়াড্রন ও ১৭,০০০ সৈনিকের একটি বাহিনী দিয়ে পাঠানো হয়। ১৮২৪ সালের ৪ জুলাই তারা যাত্রা করেন। তবে প্রথম কয়েক মাস তারা বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি। গ্রিক ফায়ার শিপের হুমকি থাকায় তিনি মুরিয়ার দিকে আগাতে পারছিলেন না। গ্রিক নাবিকরা বেতনের দাবিতে বিদ্রোহ করার পর তিনি ১৮২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মোডন অবতরণ করতে সক্ষম হন। ইউরোপীয়দের হস্তক্ষেপের আগপর্যন্ত তিনি মুরিয়ায় ছিলেন।

গ্রীকদের তিনি খোলা মাঠের যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। মিসোলোনগির অবরোধের ফলে ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ১৮২৬ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি এর সফল পরিসমাপ্তি ঘটান। কিন্তু মানি উপদ্বীপে তিনি পরাজিত হন। গ্রিক গেরিলারা তার বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে। এ কারণে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তিনি এখানকার অনেককে বন্দী করে দাস হিসেবে মিশরে পাঠিয়ে দেন। এসকল পদক্ষেপের পর ইউরোপীয়রা হস্তক্ষেপ করে এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া নৌ বাহিনী পাঠায়। ইউরোপীয়দের বিজয়ের পর ইবরাহিম পাশা পিছু হটে আসেন।

সিরিয়ান অভিযান

১৮৩১ সালে মুহাম্মদ আলির সাথে উসমানীয়দের বিরোধের এক পর্যায়ে ইবরাহিমকে সিরিয়া জয় করার জন্য পাঠানো হয়। অবরোধের পর তিনি একর দখল করেন। এরপর দামেস্ক ও দখল করা হয়। ইবরাহিম পাশা এশিয়া মাইনর আক্রমণ করেন এবং উজিরে আজম রশিদ মুহাম্মদ পাশাকে কোনিয়ার যুদ্ধে পরজিত করেন।

কুতাহয়ার চুক্তির পর সিরিয়া মুহাম্মদ আলির হাতে আসে। অভিযানের পর ইবরাহিম সিরিয়ার গভর্নরের পদ পান। ফরাসি অফিসার বেফর্ট‌ দা হাওটপল ১৮৩৪ থেকে ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত সহায়তা করেছেন। তিনি ইবরাহিম পাশার সেনাপ্রধান ছিলেন।[৪]

Battle of Nezib, Ibrahim Pasha
নেজিবে ইবরাহিম পাশা

১৮৩৮ সালে পুনরায় উসমানীয়দের সাথে মিশরের দ্বন্দ্ব্ব দেখা দেয়। ইবরাহিম পাশা নেজিবের যুদ্ধে উসমানীয়দের বিরুদ্ধে জয়ী হন। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রীয় সাম্রাজ্য এসময় হস্তক্ষেপ করে। ফলে মিশরীয়রা সামনে অগ্রসর হয়নি। শেষপর্যন্ত ১৮৪১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিরিয়া ত্যাগ করেন।

শেষ জীবন

ইবরাহিম পাশা তার বাকি জীবন শান্তিতে অতীবাহিত করেছেন। তবে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। ১৮৪৬ সালে তিনি পশ্চিম ইউরোপ সফরে যান। তার পিতা মুহাম্মদ আলি শারিরীক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তাকে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। জুলাই থেকে শুরু করে ১৮৪৮ সালের ১০ নভেম্বর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

সম্মাননা

  • অর্ডার অফ গ্লোরি অফ টার্কি - ১৮১৭
  • নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ জোসেফ অফ টুসকানি - ১৮৪৫
  • গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য লিজিয়ন দা অনার - ১৮৪৫
  • গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য টাওয়ার এন্ড সোর্ড, পর্তুগাল-১৮৪৬

আরও দেখুন

  • মুহাম্মদ আলি রাজবংশ

তথ্যসূত্র

  1. Maravelea, G.A.: "Sketch of the 1821 Revolution", Gamma Editions, Salonika 1959
  2. The New monthly magazine। Books.google.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-১৩
  3. The Lebanon in turmoil, Syria and the powers in 1860: Book of the marvels of ... - Iskandar Abkāriyūs, Iskandar ibn Yaʻqūb Abkāriyūs। Books.google.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-১৩
  4. Fawaz, Leila Tarazi। An occasion for war: civil conflict in Lebanon and Damascus in 1860। Books.google.com। পৃষ্ঠা 114। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৫-১৩
  • এই নিবন্ধটি একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনে: চিসাম, হিউ, সম্পাদক (১৯১১)। "Ibrahim Pasha"। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস।[[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্র ছাড়া ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]]

গ্রন্থপঞ্জি

  • See Edouard Gouin, L'Egypte au XIX' siècle (Paris, 1847); Aimé Vingtrinier, Soliman-Pasha (Colonel Sève) (Paris, 1886). A great deal of unpublished material of the highest interest with regard to Ibrahim's personality and his system in Syria is preserved in the British Foreign Office archives; for references to these see Cambridge Mod. Hist. x. 852, bibliography to chap. xvii.

বহিঃসংযোগ

ইবরাহিম পাশা
মুহাম্মদ আলি রাজবংশ
জন্ম: ১৭৮৯ মৃত্যু: ১০ নভেম্বর ১৮৪৮
পূর্বসূরী
মুহাম্মদ আলি পাশা
মিশরসুদানের ওয়ালি
১৮৪৮
উত্তরসূরী
প্রথম আব্বাস
আবদুল্লাহ বিন সৌদ

আবদুল্লাহ বিন সৌদ (আরবি: عبد الله بن سعود‎‎) (মৃত্যু ১৮১৮) প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের শেষ শাসক। ১৮১৪ থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত তিনি শাসন করেছেন। ১৮১৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আল সৌদ বংশের আরেকটি শাখা তুর্কি বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সৌদের নেতৃত্বে দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র গঠন করে।

ইসমাইল পাশা

ইসমাইল পাশা (আরবি: إسماعيل باشا‎‎ Turkish: İsmail Paşa) (৩১ ডিসেম্বর ১৮৩০ – ২ মার্চ ১৮৯৫) ছিলেন মিশর ও সুদানের খেদিভ। ১৮৬৩ থেকে ১৮৭৯ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। তিনি তার দাদা মুহাম্মদ আলি পাশার মত উচ্চাভিলাষী ছিলেন এবং তার শাসনামলে মিশর ও সুদানে অনেক আধুনিকায়ন করা হয়। এসময় শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ, নগরায়ন এবং আফ্রিকায় সীমানা বিস্তার করা হয়।

১৮৭৯ সালের একটি বক্তব্যে তার দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠে: "আমার দেশ এখন আর আফ্রিকার অংশ নয়; আমরা এখন ইউরোপের অংশ। তাই এটা স্বাভাবিক যে আমরা আমাদের পুরনো রীতিনীতি ত্যাগ করব এবং আমাদের সামাজিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন রীতিনীতি গ্রহণ করব"।

১৮৬৭ সালে তিনি খেদিভ (ভাইসরয়) হিসেবে উসমানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করতে সক্ষম হন। ইতিপূর্বে ১৫১৭ থেকে ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত তার পূর্ব‌সুরিরা ওয়ালি (গভর্নর) হিসেবে পরিচিত হতেন। তবে ইসমাইলের নীতির কারণে মিশর ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। ফলে সুয়েজ খাল কোম্পানিতে মিশরের শেয়ার যুক্তরাজ্যের কাছে বিক্রি করতে হয়।

উসমানীয়-সৌদি যুদ্ধ

উসমানীয়-সৌদি যুদ্ধ বা (উসমানীয়-ওয়াহাবি যুদ্ধ বলেও পরিচিত) ১৮১১ থেকে ১৮১৮ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়। যুদ্ধের এক পক্ষে ছিল মিশরের উসমানীয় শাসক মুহাম্মদ আলি পাশার অধীন মিশর এলায়েত এবং অন্য পক্ষে ছিল প্রথম সৌদি রাষ্ট্র। যুদ্ধের ফলে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যায়।

উসমানীয় সাম্রাজ্য

উসমানীয় সাম্রাজ্য (উসমানীয় তুর্কি: دَوْلَتِ عَلِيّهٔ عُثمَانِیّه, Devlet-i Aliyye-i Osmâniyye, আধুনিক তুর্কি: Osmanlı İmparatorluğu বা Osmanlı Devleti), ঐতিহাসিকভাবে তুর্কি সাম্রাজ্য বা তুরস্ক বলে পরিচিত, ছিল একটি ইসলামি সাম্রাজ্য। ১২৯৯ সালে অঘুজ তুর্কি বংশোদ্ভূত প্রথম উসমান উত্তরপশ্চিম আনাতোলিয়ার দ্বায়িত্ব পান সেলযুক সাম্রাজ্য কতৃক। প্রথম দিকে সেলযুক সাম্রাজ্যের প্রতি অনুগত থাকলেও সেলজুক সাম্রাজ্যের ক্রান্তিলগ্নে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এবং ধীরে ধীরে একটি বৃহত সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সেলজুক রাজবংশের জামাতাও ছিলেন এবং প্রথম উসমানের মাতা হালিমে সুলতান ছিলেন সেলজুক শাহজাদা নুমান এর মেয়ে অর্থাৎ আর্তুগুলের স্ত্রী প্রথম মুরাদ কর্তৃক বলকান জয়ের মাধ্যমে উসমানীয় সাম্রাজ্য বহুমহাদেশীয় সাম্রাজ্য হয়ে উঠে এবং খিলাফতের দাবিদার হয়। ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের কনস্টান্টিনোপল জয় করার মাধ্যমে উসমানীয়রা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য উচ্ছেদ করে।

১৫২৬ সালে হাঙ্গেরি জয়ের পর ইউরোপের বলকান অঞ্চল সমূহ নিয়ে বড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৬শ ও ১৭শ শতাব্দীতে বিশেষত সুলতান প্রথম সুলাইমানের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, উত্তরে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকা জুড়ে , মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলসহবিস্তৃত একটি শক্তিশালী বহুজাতিক, বহুভাষিক সাম্রাজ্য ছিল। ১৭শ শতাব্দীর শুরুতে সাম্রাজ্যে ৩৬টি প্রদেশ ও বেশ কয়েকটি অনুগত রাজ্য ছিল। এসবের কিছু পরে সাম্রাজ্যের সাথে একীভূত করে নেয়া হয় এবং বাকিগুলোকে কিছুমাত্রায় স্বায়ত্ত্বশাসন দেয়া হয়।

উসমানীয় সাম্রাজ্য সুদীর্ঘ ছয়শত বছরেরও বেশী ধরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। তবে দীর্ঘদিনব্যাপী ইউরোপীয়দের তুলনায় সামরিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। ধারাবাহিক অবনতির ফলে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর আনাতোলিয়ায় নতুন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আধুনিক তুরস্কের উদ্ভব হয়। বলকান ও মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যের সাবেক অংশগুলো প্রায় ৪৯টি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

দিরিয়া অবরোধ

দিরিয়া অবরোধ ১৮১৮ সালে উসমানীয়-সৌদি যুদ্ধের শেষপর্যায়ে নজদ অভিযানের সময় সংঘটিত হয়। ইবরাহিম পাশার বাহিনী দিরিয়া পৌছালে আবদুল্লাহ বিন সৌদ দুর্বল সেনাবাহিনী নিয়ে তার রাজধানী রক্ষা করতে থাকেন। কয়েক মাসের অবরোধের পর ৯ সেপ্টেম্বর আবদুল্লাহ বিন সৌদ আত্মসমর্পণ করেন। তাকে বন্দী করে তার কোষাধ্যক্ষ ও সচিবকে সহ কায়রো নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবদুল্লাহকে ইস্তানবুল পাঠানোর পর সেখানে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। আরব উপদ্বীপের সকল প্রতিপক্ষকে দমন করে ইবরাহিম পাশা কায়রো ফিরে আসেন।

দিরিয়া আমিরাত

দিরিয়া আমিরাত ছিল প্রথম সৌদি রাষ্ট্র। ১৭৪৪ সালে (১১৫৭ হিজরি) এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাবের মধ্যে মিত্রতা স্থাপনের পর এর প্রতিষ্ঠা হয়। একে ওয়াহাবিরা তাওহিদের বিশ্বাসের পুনপ্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখেন। অনেক সালাফির দৃষ্টিতে এটি বৃহৎ পরিসরে সালাফি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা। ১৭৪৪ সালে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব ও মুহাম্মদ বিন সৌদ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়োজিত হন। মুহাম্মদ বিন সৌদের পুত্র আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদের সাথে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে তাদের পরিবারকে নিকটে আনে। এই মিত্রতা বর্তমান কালেও বিদ্যমান রয়েছে।

দ্বিতীয় আব্বাস হিলমি পাশা

দ্বিতীয় আব্বাস হিলমি বে (আব্বাস হিলমি পাশা নামেও পরিচিত) (আরবি: عباس حلمي باشا‎‎) (১৪ জুলাই ১৮৭৪ – ১৯ ডিসেম্বর ১৯৪৪) ছিলেন মিশর ও সুদানের শেষ খেদিভ। ১৮৯২ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ১৯১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি শাসন করেছেন। ১৯১৪ সালে তুরস্ক কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়ার পর খেদিভকে ব্রিটিশরা ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে। তার বদলে তার ব্রিটিশপন্থি চাচা হুসাইন কামেলকে ক্ষমতায় বসানো হয়। এর ফলে মিশরে চার শতাব্দী ধরে চলা উসমানীয় শাসনের অবসান হয়।

দ্বিতীয় ফুয়াদ

দ্বিতীয় ফুয়াদ (আরবি: فؤاد الثاني‎‎ ফুয়াদ আল-সানি) (জন্ম ১৬ জানুয়ারি ১৯৫২) হলেন মিশরের মুহাম্মদ আলি রাজবংশের সদস্য। ১৯৫২ সালের জুলাই থেকে ১৯৫৩ সালের জুন পর্যন্ত তিনি মিশর ও সুদানের বাদশাহ ছিলেন।

নজদ অভিযান

নজদ অভিযান হল উসমানীয় সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে মিশর কর্তৃক পরিচালিত ধারাবাহিক সামরিক অভিযান। এটি ১৮১১ সাল থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী উসমানীয়-সৌদি যুদ্ধের অংশ। ১৮১৭-১৮ সময়ের এই অভিযানে ইবরাহিম পাশা নেতৃত্ব দেন। সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের আদেশে দিরিয়া জয় ও প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের পতন ঘটানো তাদের লক্ষ্য ছিল।

হানাকিয়াহ থেকে প্রায় ৩০,০০০ সৈনিক মদিনার পশ্চিমে অগ্রসর হয়। ১৮১৭ সালের নভেম্বরে তারা মাওয়িয়া গ্রাম দখল করে। এরপর আল রাস, আল খাবরা, উনাইজা ও বুরাইদা ডিসেম্বরে দখল করা হয়। ১৮১৮ সালের এপ্রিলে তারা দিরিয়া পৌছায়। কয়েকমাস অবরোধ করার পর ৯ সেপ্টেম্বর আবদুল্লাহ বিন সৌদ সমর্পণ করেন।

প্রথম আব্বাস হিলমি পাশা

প্রথম আব্বাস (আরবি: عباس الأول‎‎, তুর্কী: I. Abbas Hilmi Paşa, ১ জুলাই ১৮১২ – ১৩ জুলাই ১৮৫৪), (প্রথম আব্বাস হিলমি পাশা বা আব্বাস পাশা নামেও পরিচিত) ছিলেন মিশর ও সুদানের ওয়ালি। তিনি তুসুন পাশার পুত্র ও মুহাম্মদ আলি পাশার নাতি।

প্রথম ফারুক

ফারুক (আরবি: فاروق الأول ‎‎ Fārūq al-Awwal; ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯২০ – ১৮ মার্চ ১৯৬৫) ছিলেন মিশরের মুহাম্মদ আলি রাজবংশীয় দশম শাসক। তিনি তার পিতা প্রথম ফুয়াদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ক্ষমতালাভ করেছিলেন।তার পূর্ণ উপাধি ছিল, "মহামান্য প্রথম ফারুক, আল্লাহর রহমতে, মিশর ও সুদানের বাদশাহ, নুবিয়া, কুরদুফান ও দারফুরের সার্বভৌম"। ১৯৫২ সালে সংঘটিত বিপ্লবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তার শিশু পুত্র আহমেদ ফুয়াদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ফারুক ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তার বোন ফাওজিয়া ফুয়াদ ছিলেন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর স্ত্রী।

প্রথম ফুয়াদ

প্রথম ফুয়াদ (আরবি: فؤاد الأول‎‎ Fu’ād al-Awwal; ২৬ মার্চ ১৮৬৮ - ২৮ এপ্রিল ১৯৩৬) ছিলেন মিশর ও সুদানের সুলতান ও পরবর্তীকালে বাদশাহ। তিনি মিশর ও সুদানের মুহাম্মদ আলি রাজবংশীয় শাসকদের মধ্যে নবম। তার বড় ভাই সুলতান হুসাইন কামেলের উত্তরসুরি হিসেবে ১৯১৭ সালে তিনি মিশরের সুলতান হন। ১৯২২ সালে যুক্তরাজ্য মিশরের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়ার পর তিনি সুলতানের বদলে বাদশাহ উপাধি গ্রহণ করেন।

মুহাম্মদ আলি পাশা

মুহাম্মদ আলি পাশা আল-মাসউদ ইবনে আগা (উসমানীয় তুর্কি: محمد علی پاشا المسعود بن آغا; আরবি: محمد علي باشا‎‎ / ALA-LC: Muḥammad ‘Alī Bāshā; আলবেনীয়: Mehmet Ali Pasha; তুর্কি: Kavalalı Mehmet Ali Paşa; ৪ মার্চ ১৭৬৯ – ২ আগস্ট ১৮৪৯) ছিলেন উসমানীয় সেনাবাহিনীর একজন উসমানীয় আলবেনীয় কমান্ডার। তিনি পাশা পদে পদোন্নতি লাভ করেছিলেন এবং নিজেকে মিশর ও সুদানের খেদিভ ঘোষণা করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি জাতীয়তাবাদি না হলেও সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার সংস্কারের ফলে তাকে আধুনিক মিশরের স্থপতি বিবেচনা করা হয়। মিশরের বাইরে তিনি লেভান্টও শাসন করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত মুহাম্মদ আলি রাজবংশ ১৯৫২ সালের বিপ্লবের আগ পর্যন্ত মিশর শাসন করেছে।

মুহাম্মদ তাওফিক পাশা

মুহাম্মদ তাওফিক পাশা (আরবি: محمد توفيق باشا‎‎; ৩০ এপ্রিল বা ১৫ নভেম্বর ১৮৫২ – ৭ জানুয়ারি ১৮৯২) ছিলেন মিশর ও সুদানের খেদিভ। ১৮৭৯ থেকে ১৮৯২ সাল পর্যন্ত তিনি খেদিভের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশরের মুহাম্মদ আলি রাজবংশীয় ষষ্ঠ শাসক।

শাহনায পাহলভি

রাজকন্যা শাহনায পাহলভি (ফার্সি: شهناز پهلوی‎‎; জন্ম ২৭ অক্টোবর ১৯৪০) ছিলেন ইরানের রাজকন্যা এবং ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি এবং তার প্রথম স্ত্রী মিশরের ফৌযিয়া ফুয়াদের প্রথম ও জ্যেষ্ঠ কন্যা। সাম্রাজ্যে অানুষ্ঠানিক ব্যবহারশৈলী অনুযায়ী তাকে "আপনার রাজকীয় মহিমা" সম্মোধন করা হতো।

সাইদ পাশা

মুহাম্মদ সাইদ পাশা (আরবি: محمد سعيد باشا‎‎, তুর্কী: Mehmed Said Paşa, ১৭ মার্চ ১৮২২ – ১৮ জানুয়ারি ১৮৬৩) ছিলেন মিশর ও সুদানের ওয়ালি। ১৮৫৪ থেকে ১৮৬৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি উসমানীয় সুলতানের অধীনস্থ হলেও তিনি কার্যত স্বাধীনভাবে শাসন পরিচালনা করেছেন। সাইদ পাশা ছিলেন মুহাম্মদ আলি পাশার চতুর্থ পুত্র। তিনি প্যারিসে পড়াশোনা করেছেন।

সাইদের অধীনে আইন, ভূমি ও কর ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়। পশ্চিমা ঋণ নিয়ে এসময় মিশর ও সুদানে কিছু অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন করা হয়। ১৮৫৪ সালে সুয়েজ খালের জন্য জমি প্রদানের আইন অনুমোদিত হয়। খাল খননের দায়িত্ব ফরাসি নাগরিক ফার্ডি‌নেন্ড দ্য লেসেপ্সকে প্রদান করা হয়েছিল। ব্রিটিশরা ফরাসিদের হাতে খাল খননের বিরোধিতা করে এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের তরফ থেকে যাতে এই কাজে অনুমতি দেয়া না হয় সেজন্য দুই বছর পর্যন্ত তৎপরতা চালায়।

১৮২১ সালে তার বাবা সুদান অধিকার করে একে মিশরের সাথে যুক্ত করেছিলেন। মূলত দাস সংগ্রহের জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। সুদানে দাস সংগ্রহের অভিযান বন্ধের জন্য ইউরোপীয় চাপের কারণে সাইদ অভিযান নিষিদ্ধের আদেশ জারি করেন। তবে স্বাধীন দাস ব্যবসায়ীরা এই আদেশ মানেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় সাইদের শাসনামলে মিশর ইউরোপীয় কারখানার জন্য তুলার প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠে। ১৮৬৩ সালে তৃতীয় নেপোলিয়নের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্বিতীয় মেক্সিকান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দমনের জন্য সুদানি ব্যাটেলিয়নের কিছু অংশ প্রেরণ করে সহায়তা করেছিলেন।

সাইদের শাসনামলে শেখদের প্রভাব হ্রাস করা হয়। অনেক বেদুইন এসময় যাযাবর অভিযানে ফিরে যায়।

১৮৫৪ সালে তিনি মিশর ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরে মিশরের প্রথম স্ট্যান্ডার্ড গেজ রেলপথ চালু হয়। কাফর এল-জায়াত থেকে আলেক্সান্দ্রিয়া পর্যন্ত এই রেলপথ চালু ছিল। সাইদের সম্ভাব্য উত্তরসুরি আহমেদ রিফাত পাশা ১৮৫৮ সালে ট্রেন ভ্রমণকালে নীলনদ অতিক্রমের সময় তার ট্রেনটিকে একটি বার্জ‌ বহন করছিল। ট্রেনটি এসময় নীলনদে পড়ে যাওয়ায় রিফাত পাশা মারা যান। এর ফলে ১৮৬৩ সালে সাইদের মৃত্যুর পর তার ভাইপো ইসমাইল পাশা শাসনভার লাভ করেন।

ভূমধ্যসাগরের বন্দর পোর্ট সাইদ তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।

সাইদ পাশা দুইবার বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী ইনজি হানিমেফেন্দি। এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেলেকবের হানিমেফেন্দি। এই দম্পতির দুই পুত্র ছিল। তারা হলেন মুহাম্মদ তুসুন পাশা ও মাহমুদ পাশা।

সৌদি আরবের একত্রীকরণ

সৌদি আরবের একত্রীকরণ ছিল আল সৌদ কর্তৃক পরিচালিত একটি সামরিক ও রাজনৈতিক অভিযান। সৌদ পরিবার এতে আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলের বিভিন্ন গোত্র, শেখ শাসনাধীন এলাকা, আমিরাত ও রাজ্যকে জয় করে নেয়। ১৯০২ থেকে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই একত্রীকরণ সম্পন্ন হয় এবং এর মাধ্যমে আধুনিক সৌদি আরব জন্মলাভ করে। এতে নেতৃত্ব দেন আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। সৌদি আরবকে কখনো কখনো তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করা হয়। এর পূর্বে প্রথম ও দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। তবে সেগুলো পরবর্তীতে ভেঙে যায়।

দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্রের পতনের পর ১৮৯৩ সাল থেকে সৌদ পরিবার উসমানীয় ইরাকে নির্বাসিত ছিল। এসময় আল রশিদদের অধীনে জাবাল শামার আমিরাত বৃদ্ধি পায়। ১৯০২ সালে আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ রিয়াদ পুনর্দখল করেন। এটি আল সৌদ রাজবংশের প্রাক্তন রাজধানী ছিল। ১৯১৩ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে তিনি বাকি নজদ, হাসা, জাবাল শামার আমিরাত, আসির ও হেজাজ (ইসলামের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা এসময় হেজাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল) জয় করতে অগ্রসর হন। ১৯২৭ সালে এসময় বিজিত অঞ্চল নিয়ে নজদ ও হেজাজ রাজতন্ত্র গঠিত হয়। পরবর্তীতে তা আল হাসা ও কাতিফের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৩২ সালে সৌদি আরব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

হুসাইন কামেল

সুলতান হুসাইন কামেল (আরবি: السلطان حسين كامل‎‎, তুর্কী: Sultan Hüseyin Kamil Paşa, নভেম্বর ১৮৫৩ – ৯ অক্টোবর ১৯১৭) ছিলেন মিশরের সুলতান। ১৯১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ১৯১৭ সালের ৯ অক্টোবর তিনি সুলতান ছিলেন।

হুসাইন কামেল ছিলেন খেদিভ ইসমাইল পাশার পুত্র। ব্রিটিশরা তার ভ্রাতুষ্পুত্র খেদিভ দ্বিতীয় আব্বাস হিলমিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ১৯১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর হুসাইন কামেল মিশরের সুলতান ঘোষিত হন। নবগঠিত মিশর সালতানাত ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য ঘোষণা করা হয়। এর ফলে মিশর খেদিভাতের উপর উসমানীয়দের কর্তৃত্ব শেষ হয়ে যায়। ১৮০৫ সালে মুহাম্মদ আলি পাশা ক্ষমতালাভের পর থেকে এই কর্তৃত্ব মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে টিকে ছিল।

হুসাইন কামেলের মৃত্যুর পরে তার একমাত্র পুত্র কামেল এল দিন হুসাইন ক্ষমতা গ্রহণ করতে অসম্মতি জানান। এরপর হুসাইন কামেলের ভাই আহমেদ ফুয়াদ সিংহাসনে আরোহণ করেন।

মিশরের বাদশাহ
Greek War of Independence
Ottoman Greece
Greek Enlightenment
Western Europe
Battles
Massacres
Naval conflicts
Ships
Greek Regional Councils
Greek National Assemblies
International Conferences,
Treaties and Protocols
Greece
Philhellenes
Moldavia and Wallachia
Ottoman Empire and Egypt
Britain, France and Russia
Morea expedition
Art
Remembrance

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.