ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ (ইংরেজি: European European, EU; ইংরেজি: /ˌjʊərəˈpiːən ˈjuːnjən/ (শুনুন))[১] ইউরোপ মহাদেশের অধিকাংশ দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট।[২][৩] এর অধীনে অভিন্ন মূদ্রা (ইউরো), ইউরোপীয় সংসদ, ইত্যাদি অনেক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ২৮।

সদস্য রাষ্ট্রসমূহ

European Union vector map III
বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ প্রাপ্তির ইতিহাস মোট
১৯৫৭  বেলজিয়াম
 ফ্রান্স
 জার্মানিa
 ইতালি
 লুক্সেমবুর্গ
 নেদারল্যান্ডস
১৯৭৩  ডেনমার্কb
 আয়ারল্যান্ড
 যুক্তরাজ্য
9
১৯৮১  গ্রিস ১০
১৯৮৬  পর্তুগাল  স্পেন ১২
১৯৯৫  অস্ট্রিয়া
 ফিনল্যান্ড
 সুইডেন ১৫
২০০৪  সাইপ্রাস
 চেক প্রজাতন্ত্র
 এস্তোনিয়া
 হাঙ্গেরি
 লাতভিয়া
 লিথুয়ানিয়া
 মাল্টা
 পোল্যান্ড
 স্লোভাকিয়া
 স্লোভেনিয়া
২৫
২০০৭  বুলগেরিয়া  রোমানিয়া ২৭

a১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর প্রাক্তন পূর্ব জার্মানি বিশেষ আইনের মাধ্যমে পশ্চিম জার্মানির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় পূর্ব জার্মানি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ইইউ-এর সদস্যপদ লাভ করে।
b১৯৮৫ সালে একটি গৃহীত স্বরাষ্ট্র আইনের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ইইউ ত্যাগ করে। এর আগে এটি ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত ছিল।২০১৬ সালের ২৪ জুন ব্রিটেন ৪৭ বছরের সদস্য পদ গণভোট এর মাধ্যমে বাতিল করে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমস্ত ইউরোপ মহাদেশে ব্যাপকভাবে জাতীয়তাকরনে পুরো ইউরোপে সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ১৯৪৮ সালের হেগ সম্মেলন (Hague Congress) ছিল ইউরোপীয় ফেডারেল ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা কিনা পরবর্তীতে ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক আন্দোলন (European Movement International) ও ইউরোপীয় কলেজ (College of Europe) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫১ সালে ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সম্প্রদায় (European Coal and Steel Community) গঠিত হয় যা ইউরোপীয় ফেডারেশনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সমিতির লক্ষ্য ছিল ভারী শিল্প কারখানাগুলো পুরো ইউরোপময় ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের মাঝে যুদ্ধ কলহ বন্ধ করা ও পরস্পর ভাতৃত্ব্যবোধ বাড়ানো।

১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ পশ্চিম ইউরোপের ৬টি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা 'রোম চুক্তি' (Rome Treaty) নামে পরিচিত। এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় কয়লা ও ইস্পাত সম্প্রদায়ের (European Coal and Steel Community) কর্মপরিধি বর্ধিত হয় এবং বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি, লুক্সেমবার্গনেদারল্যান্ডের সমন্ময়ে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (European Economic Community) গঠিত হয়। একই দিনে অন্য আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার হলে ইউরোপীয় দেশগুলো আণবিক শক্তির উন্নয়নের জন্য ইউরোপীয় আণবিক শক্তি সম্প্রদায় (European Atomic Energy Community (Euratom)) গঠন করে। দুটি চুক্তিই ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয়। ১৯৬৭ সালে মার্জার চুক্তি (Merger Treaty) নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুসারে একই দিক নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয় এই ৩টি সম্প্রদায়ের জন্য যাদের একসাথে 'ইউরোপীয় সম্প্রদায়' (European Community) নামে অভিহিত করা হতো।

১৯৭৩ সালে EC এর পরিধি বর্ধিত হয় যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ডডেনমার্ক(গ্রীনল্যান্ড সহ, পরবর্তিতে ১৯৮৫ সালে গ্রীনল্যান্ড EC থেকে বেরিয়ে যায়) এর যোগদানের মধ্য দিয়ে। একই সময়ে নরওয়ে যোগ দিতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের ভোটারদের অসমর্থনে নরওয়ে এতে যোগ দেয়নি। ১৯৭৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রথম সরাসরি ও গনতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে গ্রিস যোগ দেয় এবং ১৯৮৬ সালে পর্তুগালস্পেন যোগ দেয়। ১৯৮৫ সালে শেনজেন চুন্তির (Schengen Agreement) মাধ্যমে সদস্য ও ইউরোপের অন্য কয়েকটি রাষ্ট্রের মধ্যে পাসপোর্টবিহীন সীমান্ত ধারণার উপায় তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালে ইউরোপীয় পতাকা ব্যবহার শুরু হয় এবং একক ইউরোপীয় আইন স্বাক্ষরিত (Single European Act) হয়। ১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানি EC এর অন্তর্ভুক্ত হয় নতুন একক জার্মানি গঠনের ফলে।

১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডের ম্যাসট্রিচটে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ম্যাসট্রিচট (Maastricht Treaty) চুক্তি নামে পরিচিত। ১ নভেম্বর ১৯৯৩ সালে এই চুক্তি কার্যকর হয় যার ফলে 'ইউরোপীয় ইউনিয়ন' এবং ইউরোপের একক মুদ্রা হিসেবে 'ইউরো' চালু হয়। ১৯৯৫ সালে অষ্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ডসুইডেন এতে যোগ দেয়। ২০০২ সালে ১২টি সদস্য রাষ্ট্র মুদ্রা হিসেবে ইউরো গ্রহণ করে। ২০০৪ সালে সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মালটা, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়াস্লোভেনিয়া EU তে যোগদান করে।

১ম জানুয়ারি, ২০০৭ রুমানিয়াবুলগেরিয়া এতে যোগদান করে। ওই বছরেই স্লোভেনিয়া ইউরো গ্রহণ করে। ২০০৮ সালে সাইপ্রাস ও মালটা ইউরো গ্রহণ করে এবং স্লোভাকিয়া ২০০৯ সালে ও এস্তোনিয়া ২০১১ সালে ইউরো গ্রহণ করে। ২০০৯ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আইসল্যান্ড সদস্যপদের জন্য আবেদন করে। ১ম ডিসেম্বর ২০০৯ সালে লিসবন চুক্তি কার্যকর হয় যা EU অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষকরে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামো নতুন করে তৈরি করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৩টি সম্প্রদায়ের জন্য অভিন্ন আইন তৈরি হয় এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল এর সভাপতি পদ তৈরি করে।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি

ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে।[৪][৫] নোবেল কমিটি সংস্থাটিকে নোবেল পুরস্কার প্রদানে বলেছে,[৬]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উন্মাদনা ও মরণ খেলার পর ইউরোপ নতুন করে গড়ে উঠেছে ......... আজ জার্মানি এবং ফ্রান্সের মধ্যেকার যুদ্ধের কথা চিন্তাই করা যায় না। এর মাধ্যমেই দেখা যায় আন্তরিক ইচ্ছা, পারস্পরিক সদ্বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক শত্রুতা ভুলে দেশগুলো একে-অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র

  1. dictionary.reference.com: European union
  2. "Basic information on the European Union"European Union। europa.eu। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১২
  3. টেমপ্লেট:Cite dictionary
  4. The Nobel Peace Prize 2012, Nobelprize.org, ১২ অক্টোবর ২০১২, সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১২
  5. Nobel Committee Awards Peace Prize to E.U., New York Times, ১২ অক্টোবর ২০১২, সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১২
  6. The Nobel Peace Prize for 2012, Nobelprize.org, ১২ অক্টোবর ২০১২, সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০১২

আরও দেখুন

বহিঃসংযোগ

দাপ্তরিক
প্রেক্ষাপট ও উপাত্ত
.ডব্লিউএফ

.ডব্লিউএফ ওয়ালিম ও ফুটুনা দ্বীপপুঞ্জের কাউন্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন, ইন্টারনেট প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সংকেত ও ডোমেইন সাফিক্স। এএফনিক দ্বারা এই টপ লেভেল ডোমেইনটি নিয়ন্ত্রিত হয় ও শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশসমূহের নাগরিকরাই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে।

২০০৮ সালের এপ্রিলে এএফনিক ঘোষণা করে .ডব্লিউএফ এর আওতায় প্রথমে ১৩টি ডোমেইন নাম নিবন্ধন করা হবে।

.বিজি

.বিজি বুলগেরিয়ার কাউন্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন, ইন্টারনেট প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সংকেত ও ডোমেইন সাফিক্স। বর্তমানে রেজিস্টার.বিজি এটি নিয়ন্ত্রন করছে।

ডোমেইন নাম নিবন্ধনের আবেদন করতে হলে নিম্নোক্ত নীতিমালা অণুসরন করতে হয়,

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশের কম্পানি ও নাগরিকেরা ডোমেইন নামের জন্য আবেদন করতে পারে।

শুধুমাত্র সে সকল বিদেশী কম্পানি নিবন্ধন করতে পারবে যাদের বুলগেরিয়ায় ব্যবসা করার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ডোমেইন নামের জন্য প্রতি বছর ৩০ ইউরো করে দিতে হয় (ভ্যাট সহ ৩৬ ইউরো)২০০৬ সালের মাঝামাঝি থেকে নিবন্ধনের জন্য ৫০ ইউএসডি ও প্রতি বছর ৫০ ইউএসডি (ভ্যাটসহ মোট ১২০ ইউএসডি প্রথম বছর) করে পরিশোধ করতে হত। স্থানীয়দের জন্য এই মূল্য অত্যধিক হওয়ায় অনেক বুলগেরিয়ান সাইট .কম এর অধীনে (esp -bg.com), নিবন্ধন করা। এছাড়া .ওআরজি, .নেট ইত্যাদি ডোমেইনের মূল্য তুলনামুলকভাবে কম হওয়ায় (৮-১২ ইউএসডি প্রতি বছর) অনেকেই এই ডোমেইন নামগুলো ব্যবহার করে।২৫ আগস্ট, ২০০৮ থেকে .বিজি ডোমেইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া তুলনামুলকভাবে সহজ করা হয়। এজন্য কোন প্রকার ট্রেডলাইসেন্স অথবা কম্পানি নামের দরকার হয় না। এছাড়াও নতুন গঠিত আরবিট্রেশন কমিটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ থেকে কিছু তৃতীয় স্তরের ডোমেইন চালু করা হয় যেমন, a.bg, b.bg ইত্যাদি। এ ডোমেইনগুলো কম মূল্যে (১২ ইউএসডি+ভ্যাটসহ) ও অনেক কম শর্তে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। এই ডোমেইনগুলো মূলত ব্যাক্তিগতভাবে নিবন্ধনের জন্য চালু করা হয়েছে।

অ্যানিবাল কভাকো সিলভা

অ্যানিবাল অ্যান্টনিও কাকাও সিলভা (জন্ম ১৫ জুলাই ১৯৩৯), একজন অর্থনীতিবিদ যিনি ৯ ম জুন পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি, ৯ মার্চ ২০০৬ থেকে ৯ মার্চ 2০১৬ পর্যন্ত অফিসে। ৬ নভেম্বর ১৯৮৫ থেকে ২৮ অক্টোবর ১৯৯৫. তার ১০ বছরের মেয়াদ অ্যান্টোনিও ডি অলিভিয়ার সালাজার থেকে যে কোনও প্রধানমন্ত্রীের দীর্ঘতম সদস্য ছিলেন এবং তিনি বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের জয়ী প্রথম পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন মধ্যে পর্তুগাল নেতৃস্থানীয় জন্য সুপরিচিত হয়।২৩ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি পর্তুগিজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি ২০০৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং পর্তুগিজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০১১ পুনরায় নির্বাচিত জিতেছিলেন।সিলভা ওয়াস বর্ণ ও ১৫ জুলাই ১৯৩৯ ইন বলিউইমে, পর্তুগাল. তিনি লিবিয়ার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সিলভা 1963 সাল থেকে মারিয়া কাভাকো সিলভাতে বিয়ে করেছেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। আমি বেলেম প্রাসাদে বাস করতাম।

আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া

আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া (ইংরেজি: Akrotiri and Dhekelia), যার সরকারী পূর্ণনাম আক্রোটিরি এবং ডেকিলিয়া সার্বভৌম ঘাঁটি অঞ্চলসমূহ (ইংরেজি: Sovereign Base Areas of Akrotiri and Dhekelia) একটি ব্রিটিশ অধীনস্থ সমুদ্র প্রতিকূলবর্তী অঞ্চল যা সাইপ্রাস দ্বীপে অবস্থিত। যুক্তরাজ্য, গ্রিস, তুরস্ক ও সাইপ্রাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে ১৯৬০ সালে সম্পাদিত একটি চুক্তির মাধ্যমে অঞ্চলগুলিকে যুক্তরাজ্যের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ব্রিটিশ রাজার অধীন উপনিবেশ সাইপ্রাসকে স্বাধীনতা প্রদান করা হয়। এখানে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি আছে এবং এটি ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

ইউরো

ইউরো (মুদ্রা প্রতীক: €; ব্যাংক কোড: EUR) হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশসমূহের মুদ্রা। বর্তমানে ইউরো ইউরোপের ২২টি দেশে ব্যবহৃত। ১৯৯৯ সালে ইউরোপের ১৪টি দেশ (অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবুর্গ, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সান মারিনো এবং ভ্যাটিকান সিটি) ইউরো প্রথমদিকে ব্যবহার করতে শুরু করে।

পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশ ইউরো গ্রহণ করতে শুরু করে, যেমন, ২০০১ সালে গ্রিস, ২০০৭ সালে স্লোভেনিয়া, ২০০৮ সালে সাইপ্রাস ও মাল্টা, ২০০৯ সালে স্লোভাকিয়া, ২০১১ সালে ইস্তোনিয়া, ২০১৪ সালে লাতভিয়া এবং ২০১৫ সালে লিথুয়ানিয়া। যুক্তরাজ্য, সুইডেন এবং ডেনমার্ক - ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও, এখনো ইউরো গ্রহণ করেনি।

ইউরো মুদ্রাটি সাত রকমের নোট নিয়ে গঠিত। প্রতিটি নোটের রং ও আকার ভিন্ন। নোটের মূল্য যত বেশি, এর আকারও তত বড়। ৫ ইউরো নোটের রং ছাই, ১০ ইউরো লাল, ২০ ইউরো নীল, ৫০ ইউরো কমলা, ১০০ ইউরো সবুজ, ২০০ ইউরো বাদামী-হলুদ এবং ৫০০ ইউরো হালকা বেগুনি। প্রতি নোটের সামনের দিকে একটি দরজা বা জানালার ও একটি সেতুর ছবি এবং পেছনের দিকে ইউরোপের মানচিত্র থাকে। দরজা, জানালা ও সেতুগুলি সবগুলিই কাল্পনিক, যাতে কোন নির্দিষ্ট দেশের সাথে এদেরকে সম্পর্কিত করা না যায়।

১ ইউরো ১০০ সেন্টে বিভক্ত। ১, ২, ৫, ১০, ২০ ও ৫০ সেন্ট এবং ১ ইউরো ও ২ ইউরোর জন্য পয়সা বা ধাতব মুদ্রা আছে। ১ ও ২ ইউরো মুদ্রাগুলির রং সোনালি ও রূপালির মিশ্রণ। ১০, ২০ ও ৫০ সেন্ট পয়সাগুলি সোনালি রঙের এবং ১, ২ ও ৫ সেন্টেরগুলি তামা রঙের। ইউরো নোটগুলি সবদেশের জন্য একই রকম হলেও ধাতব মুদ্রাগুলি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। মুদ্রার সামনের দিক সর্বত্র একই রকম, কিন্তু পেছনের দিকের নকশা দেশের নিজস্ব। উদাহরণস্বরূপ জার্মানিতে ১ ও ২ ইউরো মুদ্রার পেছনের দিকে জার্মানির ঐতিহ্যবাহী ঈগল পাখি রয়েছে। ১০, ২০ ও ৫০ সেন্টগুলির পেছনে রয়েছে বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ দ্বার। ১, ২ ও ৫ সেন্টগুলির পেছনে আছে ওক গাছের শাখা।

ইউরোপ

ইউরোপ (ইংরেজি: Europe) একটি মহাদেশ যা বৃহত্তর ইউরেশিয়া মহাদেশীয় ভূখণ্ডের পশ্চিমের উপদ্বীপটি নিয়ে গঠিত। সাধারণভাবে ইউরাল ও ককেসাস পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান এবং কৃষ্ণ সাগর-এর জলবিভাজিকা এবং কৃষ্ণ ও এজিয়ান সাগর সংযোগকারী জলপথ ইউরোপকে এশিয়া মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে।ইউরোপের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে কৃষ্ণ সাগর ও সংযুক্ত জলপথ রয়েছে। যদিও ইউরোপের সীমানার ধারণা ধ্রুপদী সভ্যতায় পাওয়া যায়, তা বিধিবহির্ভূত; যেহেতু প্রাথমিকভাবে ভূ-প্রাকৃতিক শব্দ "মহাদেশ"-এ সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত।

ইউরোপ ভূপৃষ্ঠের দ্বারা বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাদেশ; ১,০১,৮০,০০০ বর্গকিলোমিটার (৩৯,৩০,০০০ মা২) বা ভূপৃষ্ঠের ২% এবং তার স্থলভাগের ৬.৮% জুড়ে রয়েছে। ইউরোপের প্রায় ৫০টি দেশের মধ্যে, রাশিয়া মহাদেশের মোট আয়তনের ৪০% ভাগ নিয়ে এ পর্যন্ত আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয়দিক থেকেই বৃহত্তম (যদিও দেশটির ভূভাগ ইউরোপ এবং এশিয়া উভয় অঞ্চলে আছে), অন্যদিকে ভ্যাটিকান সিটি আয়তনে ক্ষুদ্রতম। ৭৩৯–৭৪৩ মিলিয়ন জনসংখ্যা বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১% নিয়ে ইউরোপ এশিয়া এবং আফ্রিকার তৃতীয় সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা ইউরো।

ইউরোপ, বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিস, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্মস্থান। এটি ১৫ শতকের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে উপনিবেশবাদ শুরু হবার পর থেকে। ১৬ থেকে ২০ শতকের মধ্যে, ইউরোপীয় দেশগুলির বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, অধিকাংশ আফ্রিকা, ওশেনিয়া, এবং অপ্রতিরোধ্যভাবে অধিকাংশ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্প বিপ্লব, যা ১৮ শতকের শেষেভাগে গ্রেট ব্রিটেনে শুরু হয়, পশ্চিম ইউরোপ এবং অবশেষে বৃহত্তর বিশ্বে আমূল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, এবং সামাজিক পরিবর্তন আনে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বৃদ্ধি বোঝায়, ১৯০০ সাল দ্বারা, বিশ্বের জনসংখ্যায় ইউরোপের ভাগ ২৫% ছিল।উভয় বিশ্বযুদ্ধ মূলত ইউরোপকে কেন্দ্র করে হয়, যার ফলে মধ্য ২০ শতকে বৈশ্বিক বিষয়াবলীতে পশ্চিম ইউরোপের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে। স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে, ইউরোপ লৌহ পরদা বরাবর পশ্চিমে ন্যাটো ও পূর্বে ওয়ারশ চুক্তি দ্বারা বিভক্ত ছিল। কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং পশ্চিম ইউরোপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় একীকরণে ফলে গঠিত হয়, ১৯৮৯ সালের বিপ্লব ও ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে উভয় সংগঠন পূর্বদিকে বিস্তৃত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আজকাল তার সদস্য দেশগুলোর উপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার করছে। অনেক ইউরোপীয় দেশ নিজেদের মাঝে সীমানা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত করে।

ইউরোপীয় সংসদ

ইউরোপীয় সংসদ (ইংরেজি European Parliament সংক্ষেপে EP) জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদীয় ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান। ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাথে একত্রে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণয়নকারীর ভূমিকা পালন করে। সংসদটি ৭৫১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। ভারতের সংসদের পরে এটি বিশ্বের ২য় সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আইনসভা। এছাড়া এটি বিশ্বের বৃহত্তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক

প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা (২০০৯ সালে এতে প্রায় ৩৮ কোটি সম্ভাব্য ভোটার ছিল)।১৯৭৯ সাল থেকে পাঁচ বছর অন্তর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জনগণের সরাসরি ভোটে সংসদটির সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তবে প্রত্যেক নির্বাচনেই ভোটার উপস্থিতি আগেরবারের চেয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং ১৯৯৯ সাল থেকে ভোটার উপস্থিতি ৫০%-এর নিচে। ২০১৪ সালের সাম্প্রতিকতম নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪২.৫৪%।ইউরোপীয় সংসদের আইনি ক্ষমতা আছে যা ইউরোপীয় পরিষদ বা কমিশনের নেই, তবে বিধিগতভাবে এর "আইনি উদ্যোগ" নেওয়ার ক্ষমতাও নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সমস্ত প্রতিষ্ঠানের আগে ইউরোপীয় সংসদকে স্থান দেওয়া হয়। ইউরোপীয় সংসদ ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতিকে নির্বাচন করে এবং সমগ্র কমিশনের কর্মনিয়োগ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এমনকি কমিশনকে পদত্যাগেও বাধ্য করতে পারে।ইউরোপীয় সংসদের বর্তমান সভাপতি হলেন আন্তোনিও তাহানি। ২০১৪ সালে নির্বাচনশেষে ইউরোপীয় সংসদের সর্ববৃহৎ দুইটি দল হল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি এবং প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অফ সোশালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস। ইউরোপীয় সংসদটি কার্যক্রম তিনটি ভিন্ন শহরে পরিচালিত হয়। এগুলি হলে বেলজিয়ামের রাজধানী শহর ব্রাসেলস, লুক্সেমবুর্গ শহর এবং ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর শহর। লুক্সেমবুর্গ শহরে সংসদের প্রশাসনিক কার্যালয়গুলি অবস্থিত। অন্যদিকে সমগ্র সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনগুলি ব্রাসেলস ও স্ত্রাসবুর শহরে অনুষ্ঠিত হয়। সংসদীয় সমিতির সভাগুলি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হয়।

ইসোয়াতিনি

ইসোয়াতিনি (, টেমপ্লেট:Lang-ss টেমপ্লেট:IPA-ss) আনুষ্ঠানিকভাবে ইসোয়াতিনি রাজ্য (সোয়াজি: উম্বুসো ভাসওয়াটিনি) নামে পরিচিত, এছাড়াও সোয়াজিল্যান্ড নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। দেশটির উত্তর-পূর্ব দিকে মোজাম্বিক এবং উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তরে ২০০ কিলোমিটার (১২০ মাইল) এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে ১৩০ কিলোমিটার (৮১ মাইল) বিস্তৃত ইসোয়াতিনি আফ্রিকার ক্ষুদ্রতম দেশগুলির মধ্যে অন্যতম নয়; তা সত্ত্বেও, দেশটির জলবায়ু এবং স্থলচিত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র রয়েছে। দেশটি শীতল এবং বৃষ্টিপাত যুক্ত উচ্চ পাহাড়ী এলাকা থেকে উষ্ণ এবং শুষ্ক নিম্ন এলাকা নিয়ে গঠিত।

দেশের জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশ জাতিগতভাবে সোয়াজি। দেশের মূলভাষা ভাষা সোয়াজি (স্থানীয় আকারে সিসোয়াতি)। সোয়াজিরা ১৮ তম শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগভানে তৃতীয়-এর নেতৃত্বের অধীনে তাদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশ ও সোয়াজি জাতি তাদের নাম গ্রহণ করেছে ১৯ শতকের রাজা মসোয়াতি দ্বিতীয়-এর থেকে, যার শাসনামলে সোয়াজি অঞ্চল বিস্তৃত এবং ঐক্যবদ্ধ ছিল; বর্তমান সীমানা ১৮৮১ সালে আফ্রিকা দখলের লড়াই-এর সময়কালে তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয় বোয়ার যুদ্ধের পর, সোয়াজিল্যান্ড নামে রাজত্বটি ব্রিটিশের অধীনে ছিল ১৯০৩ সাল থেকে ১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা লাভ না হওয়া পর্যন্ত। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে দেশের সরকারী নাম কিংডম অব সোয়াজিল্যান্ড থেকে কিংডম অব ইসোয়াতিনি-এ পরিবর্তন করা হয়, যা সাধারণত সোয়াজি ব্যবহৃত হয়।দেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার সরকার রয়েছে, ১৯৮৬ সালের পর এনভেনমামা ("রাজা") মশ্বতী তৃতীয় এবং এনডলভুকতি ("রানী মা") এনফোব্বি তফওয়ালা দ্বারা দেশটি যৌথভাবে শাসিত। সাবেক রাষ্ট্রের প্রশাসনিক প্রধান এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর এবং দেশের সংসদ উভয় কক্ষের (সেনেট এবং সংসদ অধিবেশনের) প্রতিনিধি নিযুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের জাতীয় প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের প্রথাগত উৎসব এবং বার্ষিক উমলংঙা অনুষ্ঠানের সময় সভাপতিত্ব করেন। সংসদ অধিবেশনে এবং সেনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণের জন্য প্রতি পাঁচ বছরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সংবিধান ২০০৫ সালে গৃহীত হয়েছিল। আগস্ট/সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত উমলংঙ্গা এবং ডিসেম্বর/জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত রাজপরিবার নাচ ইনভাল্লা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।ইসোয়াতিনি একটি উন্নয়নশীল ছোট অর্থনীতির দেশ। দেশটি ৯.৭১৪ ডলারের মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে এটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ। সাউদার্ন আফ্রিকান কাস্টমস ইউনিয়ন (এসএসিইউ) এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএমএমএসএ) এর সাধারণ বাজারের সদস্য হিসাবে ইসোয়াতিনির প্রধান স্থানীয় বাণিজ্যিক অংশীদার হল দক্ষিণ আফ্রিকা; অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য, ইসোয়াতিনি মুদ্রা লিলাঙ্গেনে দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ডে চুড়ান্ত। ইসোয়াতিনির প্রধান বিদেশী বাণিজ্যিক অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশের অধিকাংশ কর্মসংস্থান তার কৃষি ও উৎপাদন খাত দ্বারা সরবরাহ করা হয়। ইসোয়াতিনি সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এসএডিসি), আফ্রিকান ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ নেশনস এবং জাতিসংঘের সদস্য।

সোয়াজির জনসংখ্যা প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির মুখোমুখি: এইচআইভি/এইডস এবং ক্ষুদ্রতর ব্যাপ্তির যক্ষ্মা রোগ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। দেশে আনুমানিক ২৬% প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা এইচআইভি আক্রান্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫৮ বছর ধরে ইসোয়াতিনি বিশ্বের ১২ তম সর্বনিম্ন আয়ুর দেশ। ইসোয়াতিনি জনসংখ্যার মোটামুটি অল্প বয়স্ক, দেশের জনগণের গড় বয়স ২০.৫ বছর এবং ১৪ বছরের বা তার চেয়ে কম বয়সের লোকেরা দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৭.৫% গঠন করে। বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২%।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO; ফরাসি: Organisation des Nations unies pour l'alimentation et l'agriculture, ইতালীয়: Organizzazione delle Nazioni Unite per l'Alimentazione e l'Agricoltura) জাতিসংঘের একটি সংস্থা, যা ক্ষুধাকে জয় করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা‍য় নেতৃত্ব দেয়। উভয় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য, এফএও একটি নিরপেক্ষ ফোরাম হিসেবে কাজ করে যেখানে সমস্ত জাতি সমান হয়ে নীতিমালা আলোচনা করে। এফএও জ্ঞান এবং তথ্যের একটি উৎস হিসেবে কাজ করে, এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত বন এবং মৎস্য চর্চায় সাহায্য করে সকলের জন্য পুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর ল্যাটিন নীতিবাক্য, fiat panis, যার অনুবাদ "রুটি হোক"। ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত, এফএও-এর ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্র আছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (একটি "সদস্য সংস্থা") সহ, এবং ফারো দ্বীপপুঞ্জ এবং টোকেলাউ সহযোগী সদস্য হিসেবে আছে।

গ্রিস

গ্রিস (গ্রিক: Ελλάδα এলাদ়া বা Ελλάς এলাস্‌) ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের একটি রাষ্ট্র যা বলকান উপদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে উত্তরে বুলগেরিয়া, প্রাক্তন যুগশ্লাভিয়া প্রজাতন্ত্রী মেসিডোনিয়া এবং আলবেনিয়া; পূর্বে তুরস্ক। গ্রিসের মূল ভূমির পূর্বে ও দক্ষিণে এজিয়ান সাগর অবস্থিত, আর পশ্চিমে রয়েছে আইওনিয়ান সাগর। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের উভয় অংশে গ্রিসের অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। গ্রিস ইউরোপ. এশিয়া এবং আফ্রিকার মিলন স্থলে অবস্থিত। বর্তমান গ্রিকদের পূর্বপুরুষ হচ্ছে এক সময়ের পৃথিবী বিজয়ী প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, বাইজান্টাইন সম্রাজ্য এবং প্রায় ৪ শতাব্দীর অটোমান সম্রাজ্য। এই দেশ পশ্চিমা বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞানের সূতিকাগার এবং গণতন্ত্রের জন্মদায়ক স্থান হিসেবে সুপরিচিত। গ্রিসের আরও কিছু বৃহৎ অবদান হচ্ছে পশ্চিমা দর্শন, অলিম্পিক গেম্‌স, পশ্চিমা সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং নাটক। সব মিলিয়ে গ্রিসের সভ্যতা সমগ্র ইউরোপে এক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী সভ্যতা হিসেবে পরিগণিত হত। বর্তমানে গ্রিস একটি উন্নত দেশ এবং ১৯৮১ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।। এছাড়া এটি ২০০১ সন থেকে ইকোনমিক অ্যান্ড মনিটারি ইউনিয়ন অফ দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৯৫১ সাল থেকে ন্যাটো এবং ১৯৬০ সাল থেকে ওইসিডি-এর সদস্য হিসেবে আছে।

চেক প্রজাতন্ত্র

চেক প্রজাতন্ত্র (চেক ভাষায় Česká republika চেস্কা রেপুব্লিকা, Česko) মধ্য ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত বৃহত্তম শহর ও রাজধানীর নাম প্রাগ (Praha প্রাহা)। ঐতিহাসিক বোহেমিয়া অঞ্চল, মোরাভিয়া অঞ্চল ও সাইলেসিয়া অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে দেশটি গঠিত। ২০শ শতকের অধিকাংশ জুড়ে দেশটি প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ার সাথে মিলিতভাবে চেকোস্লোভাকিয়া হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ১৯৯৩ সালে দেশ দুইটি ভাগ হয়ে যায়।

চেক প্রজাতন্ত্রকে চারটি দেশ ঘিরে রেখেছে। দেশটির উত্তরে পোল্যান্ড, পূর্বে স্লোভাকিয়া, দক্ষিণে অস্ট্রিয়া এবং পশ্চিমে জার্মানি। চেক প্রজাতন্ত্রের পর্বতবেষ্টিত পাহাড়ী পশ্চিম ভাগের নাম বোহেমিয়া আর পূর্বের নিম্নভূমির নাম মোরাভিয়া। উত্তরের নিম্নভূমি অঞ্চল সাইলেসিয়া নামে পরিচিত এবং এটি দক্ষিণ পোল্যান্ডেও বিস্তৃত।

চেক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। গথিক, রেনেসাঁস, বারোক ও আধুনিক ধাঁচের স্থাপত্যকলা, নৈসর্গিক দৃশ্যাবলি সমৃদ্ধ গ্রামাঞ্চল, প্রাচীন প্রাসাদ, স্বাস্থ্যসম্মত খনিজ ঝর্ণা বা স্পা, ফ্রান্‌ৎস কাফকার লেখা আর আন্তোনিন দ্‌ভোরাকের সঙ্গীতের জন্য দেশটি র বিখ্যাত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দেশটি সোভিয়েত প্রভাবাধীন ছিল। ১৯৯০-এর দশকে দেশটির অর্থনীতি বেসরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র ইউরোপের সবচেয়ে শিল্পায়িত দেশগুলির একটি। তবে এর ফলে দেশটি পরিবেশ দূষণেরও শিকার।

ঐতিহ্যবাহী চেক দ্রব্যের মধ্যে আছে সুক্ষ্ম স্ফটিক এবং বিয়ার। পর্যটনও দেশটির আয়ের অন্যতম উৎস। দেশটির অতিথিরা প্রাগের স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হন। শহরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

চেক প্রজাতন্ত্র একটি উন্নত দেশ, উচ্চ জীবনযাত্রার মান সঙ্গে তাদের আছে উচ্চ আয়ের অর্থনীতি। এছাড়াও চেক প্রজাতন্ত্র ১১তম শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, ওইসিডি, ওএসসিই এবং কাউন্সিল অফ ইউরোপের একজন সদস্য।

বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনের তালিকা

এটি বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশন সমূহের একটি তালিকা। বর্তমানে রাজধানী শহর ঢাকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ ৫০টি দূতাবাস/হাই কমিশন রয়েছে। ঢাকাতে ১৫-২০টি অবৈতনিক রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি রয়েছ এবং বাংলাদেশের জন্য পাশের দেশসমূহে ৩৫ টি রাষ্ট্রের অনুমোদিত মিশন রয়েছে। কিছু রাষ্ট্র যেমন আলজেরিয়া, বাহারাইন, এবং জর্ডান বাংলাদেশের ঢাকাতে তাদের মিশন চালু প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

নিচের তালিকায় বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থিত বিভিন্ন মিশন, অবৈতনিক রাষ্ট্র-প্রতিনিধি, বাংলাদেশের অন্য শহরের কনস্যুলেট জেনারেল এবং অনুমোদিত (অনাবাসিক) মিশন রয়েছে।

বুদাপেস্ট

বুদাপেশ্‌ৎ (হাঙ্গেরীয় ভাষায়: Budapest বুদপেশ্ত্‌ আ-ধ্ব-ব: ['budɒpɛʃt]) বা বুদাপেস্ট হাঙ্গেরির রাজধানী ও প্রধান শহর। এটি দেশের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামাজিক ও যোগাযোগব্যবস্থার কেন্দ্রস্থল।

বুদাপেশ্‌তের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। দানিয়ুব নদীর দুই তীরের শহর - পশ্চিম তীরের বুদা ও পুরানো বুদা, এবং পূর্ব তীরের পেশ্‌ৎ --- এই শহরগুলি একত্রিত হয়ে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর ১৭ তারিখে বুদাপেশ্‌ৎ নগরীর পত্তন হয়। বর্তমানে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর ৮ম বৃহত্তম শহর।

বুদাপেস্ট ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর। এই শহরের বিশ ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে দানিয়ুব নদীড় তীর, বুদা প্রাসাদ, আন্দ্রেসি এভিনিউ, হিরো’স স্কয়ার এবং মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ। মিলেনিয়াম পাতাল রেলপথ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন পাতাল রেলপথ। বুদাপেস্টে অবস্থিত হাঙ্গেরীয় সংসদ ভবন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংসদ ভবন। প্রতিবছর বুদাপেস্টে ৪.৩ মিলিয়ন পর্যটন আসে। ইউরোমনিটর-এর এক জরিপ অনুসারে পর্যটকদের কাছে বুদাপেস্ট বিশ্বের ২৫তম জনপ্রিয় শহর।বুদাপেস্ট মধ্য ইউরোপের একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মাস্টারকার্ডের উদীয়মান অঞ্চল সূচকে শহরটির স্থান ছিল তৃতীয়। এছাড়া জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে এটি মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর হিসেবে বিবেচিত হয়। ফোর্বস ম্যাগাজিন বুদাপেস্টকে বসবাসের জন্য ইউরোপের ৭তম উপযুক্ত শহর হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। ইউসিটিগাইড এর জরিপ অনুসারে এটি বিশ্বের ৯ম সুন্দর শহর। ইনোভেশন সিটিস-এর শীর্ষ একশটি শহরের তালিকায় বুদাপেস্টের অবস্থান প্রথম।

ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ

ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ (ইংরেজি ভাষায়: British Virgin Islands, সংক্ষেপে BVI), সরকারীভাবে শুধু ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ নামেও পরিচিত (Virgin Islands), একটি ব্রিটিশ অধিকৃত সামুদ্রিক অঞ্চল। এটি ক্যারিবীয় সাগরে পুয়ের্তো রিকোর পূর্বে অবস্থিত। এই দ্বীপগুলি বৃহত্তর ভার্জিন দ্বীপাঞ্চল-এর অংশবিশেষ গঠন করেছে। এই দ্বীপাঞ্চলে আরও রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং স্পেনীয় ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ

ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপগুলির মোট আয়তন প্রায় ১৫০-বর্গকিলোমিটার (৫৮-বর্গমাইল)। এর মূল দ্বীপগুলি হল টর্টোলা, ভার্জিন গর্ডা, অ্যানেগাডা এবং জস্ট ভ্যান ডাইক। এছাড়াও এতে আরও প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্রতর দ্বীপ ও "কে" (cay) আছে। মোট প্রায় ১৫টি দ্বীপে মনুষ্যবসতি আছে। রাজধানী শহরের নাম রোড টাউন; এটি বৃহত্তম দ্বীপ টর্টোলাতে অবস্থিত (২০ কিমি (১২ মা) দীর্ঘ ও ৫ কিমি (৩ মা) প্রশস্ত)। এই দ্বীপগুলিতে মোট প্রায় ২৮ হাজার লোকের বাস, যাদের প্রায় ২৩,৫০০ জন টর্টোলা দ্বীপে বাস করে।

ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীদেরকে ব্রিটিশ-অধিকৃত সামুদ্রিক অঞ্চলের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০০২ সাল থেকে তারা পূর্ণ ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। যদিও অঞ্চলটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অন্তর্ভুক্ত নয় কিংবা সেখানকার আইনের আওতায় পড়ে না, এর অধিবাসীদেরকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবেও গণ্য করা হয়।

ভাল্টার হালষ্টাইন

ভাল্টার হালষ্টাইন (১৭ নভেম্বর ১৯০১ – ২৯ মার্চ ১৯৮২) একজন জার্মান শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। ইউরোপীয় কমিশ ইউরোপীয় ইকোনোমিক কমিউনিটির এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (প্রতিষ্ঠাতাদের একজন) তিনি প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

হালষ্টাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তার শিক্ষাগত কর্মকাণ্ড শুরু করেন, ২৯ বছর বয়সে জার্মানির সর্বকনিষ্ঠ আইন অধ্যাপক হয়ে উঠেন। যুদ্ধের সময় তিনি ফ্রান্সের জার্মান সেনাবাহিনী (ওয়েরমাখ) জার্মান সেনাবাহিনীতে একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৪ সালে আমেরিকান সৈন্য দ্বারা অপহৃত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বন্দী-যুদ্ধের শিবির যুদ্ধের বাকি অংশ ব্যয় করেন। যুদ্ধের পর তিনি জার্মানিতে ফিরে যান এবং ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তার একাডেমিক কর্মজীবন অব্যাহত রাখেন, তিনি নিযুক্ত হন কূটনৈতিক কর্মজীবন, জার্মান পররাষ্ট্র দফতর এ নেতৃস্থানীয় সিভিল সার্ভিসে হয়ে উঠেন, যেখানে তিনি হলস্টেইন ডক্টরিন, পশ্চিম জার্মানি এর কূটনৈতিকভাবে পূর্ব জার্মানি বিচ্ছিন্ন করার নীতি।

ফেডারেল ইউরোপের একটি গভীর প্রবক্তা, ইউরোপীয় ইন্টিগ্রেশন এবং পশ্চিম জার্মানির যুদ্ধোত্তর পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে হলস্টাইন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জার্মান অর্থনীতি মন্ত্রীদের তালিকা অর্থনীতি মন্ত্রী, লুডভিগ এর্হার্ড, ইউরোপীয় ইন্টিগ্রেশন এর পথে। ইউরোপীয় কয়লা এবং ইস্পাত সম্প্রদায় এবং ইউরোপীয় কমিশনের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির তালিকা; কমিশনের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইউরোপীয় ইকোনোমিক কমিউনিটি এর একজন আর্কিটেক্ট। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়ে ওঠে। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং ইউরোপীয় কমিশন বা তার পূর্বসূরিদের সভাপতি হিসেবে চাকরি করার জন্য একমাত্র জার্মান ছিলেন।

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য (ইংরেজি: United Kingdom ইউনাইটেড্‌ কিংডম্‌) ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের সন্নিকটে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র। রাষ্ট্রটির সরকারি নাম হল গ্রেইট ব্রিটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুক্তরাজ্য (ইংরেজি: The United Kingdom of Great Britain and Northern Ireland)। রাষ্ট্রটি চারটি সাংবিধানিক রাষ্ট্র: ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েল্‌স্‌ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড-এর সমন্বয়ে গঠিত।

যুক্তরাজ্য অনেকগুলো দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বীপগুলোকে একত্রে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ নামে অভিহিত করা হয়। এদের মধ্যে সর্ববৃহৎ দ্বীপটির নাম বৃহৎ ব্রিটেন বা গ্রেট ব্রিটেন। গ্রেট ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল ভাগটির নাম ইংল্যান্ড, যা দ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্ব অংশ গঠন করেছে। পশ্চিম অংশে আছে ওয়েলস এবং উত্তরে স্কটল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড দ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে উত্তর আয়ারল্যান্ড অবস্থিত। আয়ারল্যান্ড দ্বীপ ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ২য় বৃহত্তম দ্বীপ। এই দ্বীপের সিংহভাগ জুড়ে অবস্থিত আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সাথে যুক্তরাজ্যের একমাত্র স্থল সীমান্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাকী অংশকে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তর সাগর, ইংলিশ চ্যানেল এবং আইরিশ সাগর ঘিরে রেখেছে। গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপটি চ্যানেল টানেলের মাধ্যমে ফ্রান্সের সাথে যুক্ত। এছাড়াও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকালীন সময়ে হস্তগত ১৪টি বহিঃস্থ এলাকা এখনও যুক্তরাজ্যের অধীনে রয়েছে।

ব্রিটেন একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ রাষ্ট্রপ্রধান। এখানে একটি সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা বিদ্যমান। লন্ডন শহর যুক্তরাজ্যের রাজধানী; এটি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।

সমগ্র যুক্তরাজ্যকে ব্রিটেন নামেও ডাকা হয়। তবে গ্রেট ব্রিটেন নামটি আর সমগ্র দেশটিকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয় না; এটি কেবল গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। ইংল্যান্ড দিয়েও সমগ্র যুক্তরাজ্যকে বোঝানো হয় না। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের অধিবাসীরা সবাই ব্রিটিশ। আবার ইংল্যান্ডের অধিবাসীরা ইংরেজ, ওয়েলসের অধিবাসীরা ওয়েলশ,আয়ারল্যান্ডের অধিবাসীরা আইরিশ এবং স্কটল্যান্ডের অধিবাসীরা স্কটিশ হিসেবে পরিচিত।

দুইটি বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ক্ষুণ্ণ হয়। তা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী দেশ। যুক্তরাজ্য একটি উন্নত দেশ; এর অর্থনীতি বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম। দেশটির নিউক্লীয় অস্ত্রক্ষমতা রয়েছে; প্রতিরক্ষা খাতে এর ব্যয় বিশ্বে ৩য় সর্বোচ্চ। এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং জি-৮, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ অব নেশন্সে‌র সদস্য।

হোসে মারিয়া সিসন

হোসে মারিয়া ক্যানালাস সিসন (ফেব্রুয়ারী ৮, ১৯৩৯ জন্মগ্রহণকারী) একটি ফিলিপিনো লেখক এবং সক্রিয় কর্মী যিনি ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মাওবাদ এর তত্ত্বে তার দর্শনে যোগ করেছেন।

২০০২ সালের আগস্ট থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাকে "সন্ত্রাসী সমর্থনকারী" হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আদালত তাকে "সন্ত্রাসী সমর্থনকারী ব্যক্তি" হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য শাসন করে এবং অ্যাসেসমেন্ট ফাঁসির জন্য সদস্য দেশগুলোর একটি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়।

২৬ সেপ্টেম্বর

২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ২৬৯তম (অধিবর্ষে ২৭০তম) দিন। বছর শেষ হতে আরো ৯৬ দিন বাকি রয়েছে।

২০১২ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী
রসায়ন
সাহিত্য
শান্তি
পদার্থবিজ্ঞান
চিকিৎসাবিজ্ঞান
অর্থনীতি

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.