আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা (ইংরেজি: Argentina) দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাষ্ট্র। বুয়েনোস আইরেস দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এটি দক্ষিণ আমেরিকার ২য় বৃহত্তম এবং বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম রাষ্ট্র।

আর্জেন্টিনায় ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিচিত্র। উত্তরের নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের মেরু-উপদেশীয় অঞ্চল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিস্তার। এর মধ্যেই আছে রুক্ষ আন্দেস পর্বতমালা ও তাঁর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আকোনকাগুয়া। তবে বেশির ভাগ লোক দেশটির মধ্যভাগে অবস্থিত বিশাল উর্বর প্রেইরি সমভূমির (যার নাম পাম্পাস) শহরগুলিতে বাস করেন। পাম্পাসেই দেশটির অধিকাংশ কৃষিসম্পদ উৎপন্ন হয় এবং এখানেই দক্ষিণ আমেরিকার বিখ্যাত কাউবয় "গাউচো"-দের আবাসস্থল। আর্জেন্টিনায় আরও আছে অরণ্যভূমি, মরুভূমি, তুন্দ্রাভূমি, সুউচ্চ সব পর্বতশৃঙ্গ, নদনদী এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আটলান্টিক মহাসাগরীয় উপকূলভূমি। এছাড়া দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের অনেকগুলি দ্বীপ আর্জেন্টিনা নিজেদের বলে দাবী করে, যার মধ্যে ব্রিটিশ-শাসিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম (আর্জেন্টিনীয়রা এগুলিকে মালবিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকে)। এর বাইরে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের একটি অংশও আর্জেন্টিনা নিজের বলে দাবী করে।

আর্জেন্টিনাতে আদি প্রস্তর যুগে মানব বসতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।[১২] আধুনিক আর্জেন্টিনার ইতিহাস ১৬শ শতকে স্পেনীয় উপনিবেশীকরণের মাধ্যমে সূচিত হয়।[১৩] ১৭৭৬ সালে এখানে স্পেনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে রিও দে লা প্লাতা উপরাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই উপরাজ্যের উত্তরসূরী রাষ্ট্র হিসেবে আর্জেন্টিনার উত্থান ঘটে।[১৪] প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ঔপনিবেশিক শাসনের পর ১৮১০ সালে আর্জেন্টিনা স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ১৮১৮ সালে স্পেনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধবিজয় শেষ হয়। আর্জেন্টিনার জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীরা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যত্রও বিপ্লবে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এরপরে দেশটিতে অনেকগুলি গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। শেষ পর্যন্ত ১৮৬১ সালে অনেকগুলি অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেশন হিসেবে দেশটি পুনর্গঠিত হয়, যার রাজধানী নির্ধারিত হয় বুয়েনোস আইরেস। এর পরে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরত আসে এবং ইউরোপ থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর আগমন ঘটে, যার ফলে সাংস্কৃতিক ও জনসংখ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ১৯শ শতকের শেষ ভাগ থেকে আর্জেন্টিনা প্রচুর পরিমাণে কৃষিদ্রব্য যেমন মাংস, পশম, গম, ইত্যাদি রপ্তানি করা শুরু করে। দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনাতেই প্রথম শিল্পায়ন শুরু হয় এবং এটি বহুদিন ধরে এই মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ ছিল। সে সময় এখানকার অধিবাসীরা ইউরোপীয় দেশগুলির সমমানের জীবনযাত্রা নির্বাহ করত। ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের ৭ম ধনী দেশে পরিণত হয়।[১৫][১৬] তবে ১৯৪০-এর দশকের পর থেকে আর্জেন্টিনা ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি, উচ্চ বেকারত্ব ও বড় আকারের জাতীয় ঋণের সমস্যায় জর্জরিত।

আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক ইতিহাস সংঘাতময়। দেশটির সবচেয়ে বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন শ্রমিক শ্রেণী ও দরিদ্রদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন একজন একনায়ক এবং সমস্ত বিরোধিতা কঠোর হাতে দমন করতেন। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ১৯৫৫ সালে পেরনের পতন ঘটে। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত কুখ্যাত সামরিক শাসনের সময় বহু আর্জেন্টিনীয়কে বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা ছেড়ে দেবার পর আর্জেন্টিনায় আবার গণতন্ত্র স্থাপিত হয় কিন্তু দেশটি অর্থনৈতিক সমস্যায় তখনও হাবুডুবু খেতে থাকে। ২১শ শতকের প্রথম দশকেও আর্জেন্টিনা তার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাম্পাস এবং বিস্তীর্ণ ঊষর পাতাগোনীয় ভূপ্রকৃতির রোমান্টিক হাতছানি সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা মূলত একটি নগরকেন্দ্রিক রাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী বুয়েনোস আইরেসকে ঘিরে থাকা আধুনিক ও ব্যস্ত শহরতলীগুলি পাম্পাসের পূর্ব অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুয়েনোস আইরেস দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক শহরগুলির একটি। উচ্ছ্বল রাত্রিজীবন এবং স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটিকে প্রায়ই প্যারিসরোমের সাথে তুলনা করা হয়। ১৯শ শতকের শেষভাগে ও ২০শ শতকের শুরুর দিকে ইতালি, স্পেনইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী এখানকার শিল্পকারখানাগুলিতে জীবিকা নির্বাহ করার লক্ষ্যে দেশান্তরী হন। বৃহত্তর বুয়েনোস আইরেস এলাকাতে আর্জেন্টিনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগণ বাস করে। দেশটির অন্যান্য প্রধান শহরগুলির মধ্যে আছে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলস্থিত মার দেল প্লাতা, লা প্লাতা ও বাইয়া ব্লাঙ্কা এবং দেশের অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত রোসারিও, সান মিগেল দে তুকুমান, কর্দোবা ও নেউকেন।

স্থানাঙ্ক: ৩৪° দক্ষিণ ৬৪° পশ্চিম / ৩৪° দক্ষিণ ৬৪° পশ্চিম

আর্জেন্টিনীয় প্রজাতন্ত্র
República Argentina  (স্পেনীয়)
আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা আর্জেন্টিনার জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
পতাকা জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্য
  • "En unión y libertad"
  • ("এন উনিওন ই লিবের্তাদ" - "ঐক্যে এবং স্বাধীনতায়")
জাতীয় সঙ্গীত: 
  • হিমনো ন্যাচিওনাল আর্জেন্টিনো
  • (আর্জেন্টাইন জাতীয় সংগীত")
সোল দে মায়ো[১]
(মে এর সূর্য)

Sol de Mayo-Bandera de Argentina
Argentina orthogonal
আর্জেন্টিনার অবস্থান
রাজধানী
এবং বৃহত্তম নগরী
বুয়েনোস আইরেস
সরকারি ভাষা নেই
জাতীয় ভাষা স্প্যানিশ[a]
জাতিগোষ্ঠী
  • ৯৬.৭% শ্বেতাঙ্গ
    (৬২.৫% ইতালিয়ান)[২]
  • ২.৪% এমেরিন্ডিয়ান
  • ০.৫% এশিয়ান[৩][৪][৫][৬]
  • ০.৪% আফ্রিকান[৭]
সরকার ফেডারেল প্রেসিডেনশিয়াল সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র
 •  রাষ্ট্রপতি মাওরিসিও মাগরি
 •  উপরাষ্ট্রপতি গ্যাব্রিয়েলা মিকেতি
আইন-সভা কংগ্রেস
 •  উচ্চকক্ষ সিনেট
 •  নিম্নকক্ষ ডেপুটি চেম্বার
স্বাধীন স্পেন থেকে
 •  মে বিপ্লব মে ২৫ ১৮১০ 
 •  ঘোষিত জুলাই ৯ ১৯১৬ 
 •  সংবিধান মে ১ ১৮৫৩ 
 •  মোট  কিমি[ক] (৮ম)
 বর্গ মাইল
 •  জল/পানি (%) ১.৫৭
জনসংখ্যা
 •  ২০১০ আদমশুমারি ৪০,১১৭,০৯৬[৮] (৩২তম)
 •  ঘনত্ব ১৪.৪/কিমি[৮] (২১৪তম)
/বর্গ মাইল
মোট দেশজ উৎপাদন
(ক্রয়ক্ষমতা সমতা)
২০৮ আনুমানিক
 •  মোট $919 billion[৯] (২৫তম)
 •  মাথা পিছু $২০,৬১০[৯] (৫৬তম)
মোট দেশজ উৎপাদন (নামমাত্র) ২০১৮ আনুমানিক
 •  মোট $৪৭৫ বিলিয়ন[৯] (২১তম)
 •  মাথা পিছু $১০,৬৬৭[৯] (৫৩তম)
জিনি সহগ (২০১৬)negative increase ৪২.৪[১০]
মাধ্যম
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৭)হ্রাস ০.৮২৫[১১]
অতি উচ্চ · ৪৭তম
মুদ্রা পেসো ($) (ARS)
সময় অঞ্চল এআরটি (ইউটিসি−৩)
তারিখ বিন্যাস দিন.মাস.বছর
গাড়ী চালনার দিক ডান[b]
কলিং কোড +৫৪
ইন্টারনেট টিএলডি .ar
ক. ^ যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি, স্প্যানিশই আইন, আদালত, অফিশিয়াল ডকুমেন্টে ব্যবহৃত একমাত্র ভাষা
খ. ^ ট্রেনগুলো বামে চলে

ভূগোল

Aconcagua fjell
আকোনকাগুয়া এশিয়ার বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত, যা ৬,৯৬০.৮ মিটার (২২,৮৩৭ ফু), এবং দক্ষিণ গোলার্ধের সর্বোচ্চ[১৭]

আর্জেন্টিনার আয়তন ২৭,৮০,৪০০ কিমি (১০,৭৩,৫১৮ মা) দেশটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত। আন্দেস পর্বতমালা দেশটির পশ্চিম সীমানা নির্ধারণ করেছে, যার অপর পার্শ্বে চিলি অবস্থিত।[১৮] দেশটি উত্তরে বলিভিয়াপ্যারাগুয়ে, উত্তর-পূর্বে ব্রাজিল, পূর্বে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর[১৯] এবং দক্ষিণে ড্রেক প্রণালী।[২০] সব মিলিয়ে দেশটির স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য ৯,৩৭৬ কিমি (৫,৮২৬ মা)। রিও দে লা প্লাতা ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে দেশটির তটরেখার দৈর্ঘ্য ৫,১১৭ কিমি (৩,১৮০ মা)[১৯]

মেন্দোসা প্রদেশে অবস্থিত আকোনকাগুয়া আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ পর্বত। এটি সমুদ্রতল থেকে (৬,৯৫৯ মি (২২,৮৩১ ফু) উচ্চতায় অবস্থিত।[২১] এছাড়াও আকোনকাগুয়া দক্ষিণ গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধের সর্বোচ্চ পর্বত।[২২] আর্জেন্টিনার সর্বনিম্ন বিন্দু হচ্ছে সান্তা ক্রুস প্রদেশে অবস্থিত লাগুনা দেল কার্বন, যা সান হুলিয়ান বৃহত্‌ অবনমনের একটি অংশ। এটি সমুদ্র সমতল থেকে (−১০৫ মি (−৩৪৪ ফু) নিচে অবস্থিত[২১]। এছাড়াও এটি দক্ষিণ গোলার্ধ ও পশ্চিম গোলার্ধের সর্বনিম্ন বিন্দু, এবং পৃথিবীর ৭ম সর্বনিম্ন বিন্দু।[২৩]

আর্জেন্টিনার উত্তরতম বিন্দুটি রিও গ্রান্দে দে সান হুয়ান ও রিও মোহিনেতে নদী দুটির সঙ্গমস্থলে, হুহুই প্রদেশে অবস্থিত। দেশটির দক্ষিণতম বিন্দু হল তিয়ের্‌রা দেল ফুয়েগো প্রদেশের সান পিও অন্তরীপ। সর্বপূর্ব বিন্দুটি মিসিওনেস প্রদেশের বেরনার্দো দে ইরিগোইয়েন শহরের উত্তর-পূর্বে এবং সর্বপশ্চিম বিন্দুটি সান্তা ক্রুস প্রদেশের লোস গ্লাসিয়ারেস জাতীয় উদ্যানের মধ্যে পড়েছে।[১৯] উত্তর থেকে দক্ষিণে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,৬৯৪ কিমি (২,২৯৫ মা); এর বিপরীতে পূর্ব থেকে পশ্চিমে দেশটির সর্বোচ্চ প্রশস্ততা প্রায় ১,৪২৩ কিমি (৮৮৪ মা).[১৯]

আর্জেন্টিনার প্রধান প্রধান নদীর মধ্যে রয়েছে পারানা নদী ও উরুগুয়াই নদী (নদী দুটি একত্র হয়ে রিও দে লা প্লাতা নদী গঠন করেছে), সালাদো নদী, রিও নেগ্রো নদী, সান্তা ক্রুস নদী, পিকোমাইয়ো নদী, বের্মেহো নদী ও কোলোরাদো নদী।[২৪] এই সব নদীর পানি আর্জেন্টিনীয় সাগরে গিয়ে পড়েছে। আটলান্টিক সাগরের যে অগভীর অংশটি আর্জেন্টিনীয় শেলফ বা সমুদ্র-তাকের উপরে অবস্থিত, তাকেই আর্জেন্টিনীয় সাগর নামে ডাকা হয়। এটি একটি অস্বাভাবিকভাবে প্রশস্ত মহাদেশীয় মঞ্চ।[২৫] এই সাগরের পানি দুইটি প্রধান মহাসাগরীয় স্রোতের প্রভাবাধীন: উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত এবং শীতল ফকল্যান্ডস স্রোত। [২৬]

দক্ষিণে অবস্থিত ইসলা গ্রান্দে দে তিয়েররা দেল ফুয়েগো নামক দ্বীপের পূর্ব অর্ধাংশ আর্জেন্টিনার অন্তর্গত। এছাড়াও পূর্বের বেশ কিছু সামুদ্রিক দ্বীপ যেমন ইসলা দে লোস এস্তাদোস আর্জেন্টিনার অধীন।

আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।== অর্থনীতি ==

জনসংখ্যা

৩৮,৭৪৭,০০০

ইতিহাস

সাম্প্রতিক যুগ

Cristina Fernandez Comandante en Jefe
আলফোনসিন সরকার

রাউল আলফোনসিন (Raúl Alfonsín) ১৯৮৩ সালের আর্জেন্টিনার সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি একনায়কতান্ত্রিক প্রোসেসো (Proceso) পর্বে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের পক্ষে প্রচারণা চালান। এর ফলশ্রুতিতে আলফোনসিনের শাসনামলে সামরিক জান্তা এবং অন্যান্য সামরিক আদালতের বিচার হয়, যাতে সামরিক ক্যু-এর সমস্ত নেতাদের শাস্তি হয়। তবে সামরিক চাপের মুখে আলফোনসিন ১৯৮৬ সালে শেষ বিন্দু বা “পুন্তো ফিনাল” ও ১৯৮৭ সালে প্রাপ্য আনুগত্য বা “ওবেদিয়েন্সিয়া দেবিদা” নামের আইন দুটি প্রবর্তন করেন[২৭][২৮] যার ফলে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বিচার রহিত হয়।

অর্থনৈতিক সংকট খারাপ হতে শুরু করলে ও অতিমুদ্রাস্ফীতি ঘটলে আলফোনসিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে পেরনবাদী রাজনীতিবিদ কার্লোস মেনেম জয়লাভ করেন। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ জনগণ দাঙ্গা শুরু করলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আলফোনসিন পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।[২৯]

মেনেম সরকার

নির্বাচিত হয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি মেনেম নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রয়োগ করেন:[৩০] সুনির্দিষ্ট মুদ্রা বিনিময় হার, ব্যবসাসমূহের উপর নিয়ন্ত্রণ হ্রাস (deregulation), ব্যক্তিমালিকানাধীনকরণ (privatization) এবং সংরক্ষণবাদী বাধাগুলি দূরীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতি কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয়ে আসে। আলফোনসিন সরকারের যেসব সামরিক অফিসারদের শাস্তি হয়েছিল, তাদের তিনি ক্ষমা করে দেন। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার সংবিধানের সংশোধনী আনা হয়, যার বদৌলতে ১৯৯৫ সালে মেনেম দ্বিতীয়বারের মত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু ১৯৯৫ সাল থেকে আর্জেন্টিনার অর্থনীতি আবার খারাপের দিকে যেতে শুরু করে, বেকারত্বের হার বাড়তে থাকে এবং দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার নিমজ্জিত হয়।[৩১] ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে ফের্নান্দো দে লা রুয়ার নেতৃত্বে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আলফোনসিনের রাজনৈতিক দল উনিওন সিবিকা রাদিকাল আবার ক্ষমতায় ফেরত আসে।[৩২]

Presidente Macri en el Sillón de Rivadavia

তথ্যসূত্র

  1. Crow 1992, p. 457; Kopka 2011, p. 5.
  2. Departamento de Derecho y Ciencias Políticas de la Universidad Nacional de La Matanza (১৪ নভেম্বর ২০১১)। "Historias de inmigrantes italianos en Argentina" (Spanish ভাষায়)। infouniversidades.siu.edu.ar। Se estima que en la actualidad, el 90% de la población argentina tiene alguna ascendencia europea y que al menos 25 millones están relacionados con algún inmigrante de Italia.
  3. "Argentina inicia una nueva etapa en su relación con Japón"www.telam.com.ar
  4. Clarín.com। "La comunidad china en el país se duplicó en los últimos 5 años"
  5. "국가지표체계"www.index.go.kr
  6. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৮
  7. "The World Factbook — Central Intelligence Agency"www.cia.gov
  8. "Población por sexo e índice de masculinidad. Superficie censada y densidad, según provincia. Total del país. Año 2010"Censo Nacional de Población, Hogares y Viviendas 2010 (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: INDEC – Instituto Nacional de Estadística y Censos। ২০১০। ৮ জুন ২০১৪ তারিখে মূল (XLS) থেকে আর্কাইভ করা।
  9. "Argentina"World Economic Outlook Database। International Monetary Fund। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৮
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; gini নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. "2018 Human Development Report" (PDF)। United Nations Development Programme। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  12. Abad de Santillán 1971, পৃ. 17।
  13. Crow 1992, পৃ. 128।
  14. Levene 1948, p. 11; Sánchez Viamonte 1948, pp. 196–197; Vanossi 1964, p. 11.
  15. Bolt ও Van Zanden 2013
  16. Díaz Alejandro 1970, পৃ. 1।
  17. "Informe científico que estudia el Aconcagua, el Coloso de América mide 6960,8 metros" [Scientific Report on Aconcagua, the Colossus of America measures 6960,8m] (Spanish ভাষায়)। Universidad Nacional de Cuyo। ২০১২। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১২
  18. Young 2005, পৃ. 52: "The Andes Mountains form the "backbone" of Argentina along the western border with Chile."
  19. Albanese, Rubén (২০০৯)। "Información geográfica de la República Argentina" [Geographic information of the Argentine Republic] (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Instituto Geográfico Nacional। ৩১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা
  20. McKinney 1993, p. 6; Fearns & Fearns 2005, p. 31.
  21. Albanese, Rubén (২০০৯)। "Alturas y Depresiones Máximas en la República Argentina" [Maximum peaks and lows in the Argentine Republic] (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Instituto Geográfico Nacional। ২৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  22. Young 2005, পৃ. 52।
  23. Lynch, David K.। "Land Below Sea Level"। Geology – Geoscience News and Information। ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা
  24. McCloskey ও Burford 2006, পৃ. 5, 7–8, 51, 175।
  25. McCloskey ও Burford 2006, পৃ. 8।
  26. McCloskey ও Burford 2006, পৃ. 18।
  27. টেমপ্লেট:Cite Argentine law
  28. টেমপ্লেট:Cite Argentine law
  29. Galasso 2011, পৃ. 533–549, vol. II।
  30. Epstein ও Pion-Berlin 2006, পৃ. 6।
  31. Epstein ও Pion-Berlin 2006, পৃ. 9।
  32. Galasso 2011, পৃ. 551–573, vol. II।

বহিঃসংযোগ


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "upper-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="upper-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি, বা বন্ধকরণ </ref> দেয়া হয়নি

.এআর

.এআর হল আর্জেন্টিনার কাউন্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন, ইন্টারনেট প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সংকেত ও ডোমেইন সাফিক্স। এনআইসি আর্জেন্টিনা এটি নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা প্রথম ১৯০০ সালে অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করে।

আর্জেন্টেনীয় ক্রীড়াবিদরা গ্রীস্মকালীন অলিম্পিক গেমস এ মোট ৭০টি পদক জিতেছে। এদের মধ্যে ২৪টি এসেছে বক্সিং থেকে। অন্যান্য প্রতিযোগিতার চেয়ে আর্জেন্টিনা এই ইভেন্টে বেশি পদক অর্জন করে। দেশটি এখনো পর্যন্ত শীতকালীন অলিম্পিক গেমস এ কোন পদক জিতেনি।

১৯২৩ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় অলিম্পিক কমিটি গঠন এবং তা স্বীকৃতি লাভ করে।

বুয়েনস এয়ার ২০১৮ গ্রীষ্মকালীন যুব অলিম্পিকে আর্জেন্টিনাকে স্পনসর করবে।

আনহেল দি মারিয়া

এঙ্গেল ফাবিয়ান ডি মারিয়া এর্নান্দেজ (স্পেনীয়: Ángel Fabián di María Hernández; জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮) একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার যিনি বর্তমানে উইঙ্গার হিসেবে ফরাসী ক্লাব পিএসজি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলে থাকেন। তার কয়েকটি ডাকণাম রয়েছে: ‘‘এল আনহেলিতো’’, ‘‘দি মাহিয়া’’, ‘‘এল ফ্লাকো’’, ‘‘এল পিবিতো’’ এবং ‘‘ফিদেও’’।

আর্জেন্টিনা জাতীয় ক্রিকেট দল

আর্জেন্টিনা জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশ আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল। আর্জেন্টিনা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) কর্তৃক আয়োজিত এ দলটি আইসিসির সহযোগী সদস্য পদ লাভ করে ১৯৭৪ সালে।

দেশটিতে প্রথম খেলাটি নিয়ে আসে ব্রিটিশ অভিবাসীরা, আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলে উরুগুয়ের সাথে ১৮৬৮ সালে, এবং সূচী অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্রাজিল এবং চিলির সাথে পর্যায়ক্রেম ১৮৮৮ ও ১৮৯৩ সালে। ১৯১২ সাল থেকে শুরু করে দুইটি মৌসুমে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) সহ প্রতিনিয়ত ইংলিশ ক্রিকেট দল আর্জেন্টিনা সফরে আসত। উক্ত চারটি সফরে, আর্জেন্টিনা জাতীয় পার্শ ও সফরকারীদের মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলাগুলো প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদা পায় এবং ১৯১২ থেকে ১৯৩৮ এর মধ্যে মোট তেরটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, এবং চিলি, মূলত দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেটের অংশ, এবং ১৯২০ এর পর থেকে তাদের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ধারাবাহিক রয়েছে, যা আজ পর্যন্ত চলছে (কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশপাশের সময় ছাড়া)। উক্ত তিনটি দল ও পেরু মিলে ১৯৯৫ সালে গঠন করে দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা, যা এখন প্রতি বৎসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর্জেন্টিনা হচ্ছে উক্ত চ্যাম্পিয়ানশীপের উদ্দ্যোগী দল, অনুষ্ঠিত এগারটি আসরের সাতটিতেই আর্জেন্টিনা ছিল জয়ী।

আর্জেন্টিনা আইসিসির প্রতিযোগিতায় অভিষেক করে ইংল্যান্ডে ১৯৭৯ আইসিসি ট্রফির মাধ্যমে, যা আইসিসি কর্তৃক সহযোগী সদস্য দেশের জন্য আয়োজিত প্রথম প্রতিযোগিতা ছিল। ১৯৮২ সংস্করণে আর্জেন্টিনা তাদের ধারাবাহিক উপস্থিতি রাখতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু ১৯৮৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পাঁচ আসরে ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণ করে। যদিও আর্জেন্টিনা উক্ত প্রতিযোগিতায় তাদের প্রথম জয়ের স্বাদ পায় ১৯৯০ আসরে পূর্ব এবং মধ্য আফ্রিকা দলকে পরাজিত করে। দলটি ২০০১ সংস্করণে, দ্বিতীয় বিভাগের খেলায় চারটি জয় পায়। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন নামে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলটির কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ২০০০ সালের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনাই ছিল আইসিসি আমেরিকাস অঞ্চলের সেরা সহযোগী সদস্য দল, এবং ২০০৭ সালে, যখন বিশ্ব ক্রিকেট লীগ (ডব্লিউসিএল) গঠন করা হয়, তখন দলটিকে তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরে দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত করা হয়, এবং তড়িৎ অবনমনও করা হয়। তৎপরবর্তী বছরে আর্জেন্টিনা তাদের একে একে বিভাগ হারাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ ষষ্ঠ বিভাগের আসরে চতুর্থ স্থান অর্জন করায়, আর্জেন্টিনা বিশ্ব প্রতিযোগিতা পদ্ধতিতে তাদের স্থান হারায়। এখন পর্যন্ত দলটি যোগ্যতা অর্জনের অপেক্ষায় এবং কেবল আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এপ্রিল ২০১৮, আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সকল সদস্য দেশকে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক (টি২০আই) মর্যাদা প্রদান করবে। এরই প্রেক্ষিতে, ১ জানুয়ারি ২০১৯ এর পরে আর্জেন্টিনা ও আইসিসি সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সকল টুয়েন্টি২০ খেলাগুলো হবে পূর্ণ টি২০আই মর্যাদা সম্পন্ন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল

আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দল (স্পেনীয়: Selección de fútbol de Argentina) বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা (এএফএ) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা আর্জেন্টিনাতে ফুটবলের পরিচালক। আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠ ইস্ত্যাদিও আন্তনিও ভেসপুসিও লিবের্তি এবং তাদের প্রধান কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। দলটি বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র‍্যাংকিংএ পঞ্চম স্থানে রয়েছে।আর্জেন্টিনা মোট পাঁচবার ফিফা বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে তারা উরুগুয়ের বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপরের ফাইনাল ১৯৭৮ সালে, যেখানে তারা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার নেতৃত্বে পশ্চিম জার্মানিকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে তারা তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। আর্জেন্টিনা ১৯৯০ সালে ফাইনালে উঠে এবং যেখানে তারা জার্মানির বিপক্ষে বিতর্কিত পেনাল্টিতে ১–০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। সর্বশেষ,২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে দলটি ফাইনালে উঠে এবং অতিরিক্ত সময়ের গোলে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়।

দলটি কোপা আমেরিকায় দারুণ সফল। তারা মোট চৌদ্দবার এই শিরোপা জিতেছে। ১৯৯২ সালে তারা ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ শিরোপাও জেতে। এছাড়া ২০০৪ এথেন্স এবং ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদকও জেতে আর্জেন্টিনা।জাতীয় দলগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স ফিফা দ্বারা স্বীকৃত তিনটি সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে। যেগুলো হল: ফিফা বিশ্বকাপ, ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদক। এছাড়া তারা তাদের মহাদেশীয় শিরোপাও জিতেছে (আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা এবং ফ্রান্স উয়েফা ইউরোপীয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ)।উরুগুয়ে, ব্রাজিল, জার্মানি এবং বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সাথে আর্জেন্টিনার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্ব্বীতা রয়েছে।২০০৭ সালের মার্চে প্রথমবারের মত আর্জেন্টিনা ফিফা বিশ্ব র‍্যাংকিং-এ শীর্ষস্থান অর্জন করে।

কনমেবল

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেন (স্পেনীয়: Confederación Sudamericana de Fútbol; পর্তুগিজ: Confederação Sul-Americana de Futebol) সাধারণ্যের কাছে কনমেবল নামেই সমধিক পরিচিত। সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান ক্রীড়া পরিচালনা পর্ষদ ও ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় সংস্থার অন্যতম একটি। প্যারাগুয়ের লুকো এলাকায় এর সদর দফতর অবস্থিত। এর সভাপতি হিসেবে আছেন নিকোলাস লিওজ। কনমেবল দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন করে থাকে। কনমেবলের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল দলগুলো নয়বার বিশ্বকাপ ফুটবল জয় করেছে। তন্মধ্যে - ব্রাজিল ৫বার, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ২বার এ ট্রফি লাভ করে। এছাড়াও কনমেবলের ক্লাবগুলো ২২বার আন্তঃমহাদেশীয় কাপ এবং ৩বার ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয করে। অলিম্পিক গেমসে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ২বার স্বর্ণপদক লাভ করে। ১০ সদস্যবিশিষ্ট এ ফুটবল সংস্থাটি ফিফার সবচেয়ে ছোট্ট সংগঠন।

দক্ষিণ আমেরিকা

দক্ষিণ আমেরিকা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ। মহাদেশটির আয়তন ১,৭৮,২০,৯০০ বর্গকিলোমিটার, যা পৃথিবীর মোট স্থলভাগের ১২%। আয়তনের দিকে থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার পরেই এর স্থান। বিষুবরেখা ও মকরক্রান্তির দুই পাশ জুড়ে এর বিস্তৃতি। মহাদেশটি উত্তরে পানামা স্থলযোটকের মাধ্যমে মধ্য ও উত্তর আমেরিকার সাথে যুক্ত। উত্তরে ক্যারিবীয় সাগর থেকে দক্ষিণে হর্ন অন্তরীপ পর্যন্ত মহাদেশটির দৈর্ঘ্য ৭,৪০০ কিলোমিটার। আর পূর্ব-পশ্চিমে এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য, আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত ব্রাজিলের পুন্তা দু সেইক্সাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত পেরুর পুন্তা পারিনিয়াস পর্যন্ত, ৫,১৬০ কিলোমিটার।

২০০৬ সালে দক্ষিণ আমেরিকার প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ছিল ৩৭ কোটি ৬০ লক্ষ, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৬%। এই মহাদেশে ১২টি রাষ্ট্র আছে। এদের মধ্যে ১০টি রাষ্ট্র লাতিন: আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে, এবং ভেনেজুয়েলা। দুইটি রাষ্ট্র লাতিন নয়। এই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে গায়ানা যুক্তরাজ্যের এবং সুরিনাম নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন উপনিবেশ ছিল। ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে, এবং ভেনেজুয়েলা এই ৯ টি দেশ ছিল স্পেনের উপনিবেশ। এসব দেশের ভাষাও স্পেনিস। ব্রাজিলের ভাষা পর্তুগিজ, সুরিনামের ভাষা ডাচ এবং গায়ানার ভাষা হচ্ছে ইংরেজি। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকাতে ফ্রেঞ্চ গায়ানা বা গুইয়ান নামে ফ্রান্সের একটি জেলা সমমর্যাদার দেপার্ত্যমঁ রয়েছে। এটি এক সময় ফ্রাঞ্চের উপনিবেশ ছিল। মহাদেশটি থেকে বিরাট দূরত্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত অনেকগুলি প্রশাসনিক অঞ্চল আছে, যেগুলি দক্ষিণ আমেরিকান বিভিন্ন রাষ্ট্রের অংশ। এদের মধ্যে আছে চিলির হুয়ান ফের্নান্দেস দ্বীপপুঞ্জ ও ইস্টার দ্বীপ, এবং ইকুয়েডরের গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। উপকূলের কাছে অবস্থিত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলির মধ্যে আছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রাজিলের ফের্নান্দু দি নোরোনিয়া দ্বীপপুঞ্জ। দক্ষিণে আছে যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। এই দ্বীপপুঞ্জটিকে আর্জেন্টিনা ইসলাস মালবিনাস নামে ডাকে এবং এগুলিকে নিজেদের বলে দাবী করে। দক্ষিণ আমেরিকার তটরেখা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত প্রকৃতির, তবে একেবারে দক্ষিণে ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অনেক ফিয়ডের্র উপস্থিতির কারণে তটরেখা অত্যন্ত ভগ্ন।

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ হলো অনূর্ধ্ব-১৭ পুরুষ খেলোয়াড়দের জন্য ফিফা কর্তৃক আয়োজিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৬ বিশ্বকাপ নামে শুরু হলেও ২০০৭ সালে বর্তমান নাম করা হয়।

ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ

ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ হলো অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ খেলোয়াড়দের জন্য ফিফা কর্তৃক আয়োজিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা।১৯৭৭ সালে তিউনিসিয়ায় প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়।প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এটি ফিফা ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ নামে পরিচিত ছিলো

ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ

ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জাতীয় দলগুলোর একটি সংযুক্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট যেটি ফিফার ব্যবস্থাপনায় প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করে ছয়টি মহাদেশীয় প্রতিযোগীতার চ্যাম্পিয়ন দল; যথা: উয়েফা, কনমেবল, কনকাকাফ, সিএএফ, এএফসি, ওএফসি চ্যাম্পিয়ন দল এবং বিশ্বকাপ জয়ী দল ও স্বাগতিক দেশ; অর্থ্যাৎ মোট ৮টি দল। ২০০৫ সাল থেকে এই প্রতিযোগীতাটি পরবর্তী বছর যে দেশে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যেখানে পুরুষদের জাতীয় ফুটবল দলগুলোকে একত্রিত করে মূল্যায়ণের মাধ্যমে বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। ফিফা.কম-এ প্রকাশিত ৪ এপ্রিল, ২০১৯ তারিখের সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে বেলজিয়াম শীর্ষস্থান দখল করে আছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে ফিফা। সদস্যভূক্ত দেশগুলোর অবস্থানকে উল্লেখযোগ্য ফলাফলের মাধ্যমে সর্বাপেক্ষা সফলতম দলকে শীর্ষস্থানে উপবিষ্ট করা হয়। র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতিটি ডিসেম্বর, ১৯৯২ সালে ফিফা কর্তৃক প্রবর্তন করা হয়। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ৮টি দল - আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ,বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডস দখলে রেখেছে। তন্মধ্যে ব্রাজিল সবচেয়ে বেশী সময় ধরে এ অবস্থানে ছিল।

পয়েন্ট পদ্ধতিতে ফিফা সদস্যভূক্ত সকল দেশের মধ্যেকার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার ফলাফলকে মূল্যায়ণ করা হয়। ব্যবহৃত পদ্ধতিতে একটি দলের গত চার বছরের ফলাফলসহ সর্বশেষ ফলাফলকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ণের মাধ্যমে বর্তমানের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলন ঘটানো হয়।

সেপ্টেম্বর ২০১৭ তে ফিফা ঘোষণা করে যে তারা র‍্যাংকিং সিস্টেম টা পর্যালোচনা করছে এবং জুলাই ২০১৮ তে নতুন নিয়ম প্রবর্তনের ঘোষণা দেয়।যা ১৬ আগস্ট ২০১৮ থেকে কার্যকর হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ

ফিফা বিশ্বকাপ (ইংরেজি: FIFA World Cup) (ফুটবল বিশ্বকাপ, সকার বিশ্বকাপ, অথবা শুধু বিশ্বকাপ নামেও পরিচিত) একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা যেখানে ফিফা (ফরাসি: FIFA বা Fédération Internationale de Football Association — উচ্চারণ: ফেদেরাসিওঁ অ্যাঁতের্নাসিওনাল্‌ দ্য ফুৎবল্‌ আসোসিয়াসিওঁ‌, অর্থাৎ "আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা") সহযোগী দেশগুলোর পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল অংশ নেয়। ফিফা বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। ১৯৩০ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঝে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রতিযোগিতাটি দুটি ভাগে বিভক্ত, বাছাইপর্ব ও চূড়ান্ত পর্ব (মূল বিশ্বকাপ)। চুড়ান্ত পর্যায়ে কোন দল খেলবে তা নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বাছাইপর্বে অংশ নিতে হয়। বর্তমানে মূল বিশ্বকাপের আগের তিন বছর ধরে প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বর্তমান ধরন অনুযায়ী ৩২টি জাতীয় দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। আয়োজক দেশে প্রায় একমাস ধরে এই চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতা চলে। দর্শক সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বকাপ মূল পর্ব বিশ্বের বৃহত্তম অনুষ্ঠান। ফিফার হিসেব অনুযায়ী ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখেছেন প্রায় ৭১৫.১ মিলিয়ন দর্শক।এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২১টি আসরে কেবল ৮টি জাতীয় দল বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। বর্তমান শিরোপাধারী চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স । দ্বিতীয়বার জয়ী ১৯৯৮ , ২০১৮ । ৫ বার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল হচ্ছে বিশ্বকাপের সফলতম দল। জার্মানি ও ইতালি ৪টি শিরোপা নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যান্যদের মধ্যে উরুগুয়ে ২টি শিরোপা প্রথম(১৯৩০) ও চতুর্থ (১৯৫০) বিশ্বকাপ জয়ী, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স দু’বার করে এবং ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে শিরোপা জিতেছে।

সর্বশেষ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে রাশিয়ায়, ২০১৮ সালের ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে ৪-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয়।

১৯৯১ সাল থেকে ফিফা ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ আয়োজন শুরু করেছে। এটিও সাধারণ বিশ্বকাপের ন্যায় চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়।

মে

মে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার বা খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের পঞ্চম মাস। এ মাসে মোট ৩১ দিন।

মে মাসে উত্তর গোলার্ধে বসন্ত কাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎ কাল থাকে। যার ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে মে মাস হল উত্তর গোলার্ধের নভেম্বর মাসের সমতুল্য। মে মাসের শেষ দিক থেকে মূলত গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হয়।

লিওনেল মেসি

লিওনেল আন্দ্রেস “লিও” মেসি কুচ্চিত্তিনি (স্পেনীয় উচ্চারণ: [ljoˈnel anˈdɾes ˈmesi] (শুনুন); জন্ম: ২৪ জুন ১৯৮৭) একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় যিনি স্পেনের সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবল লীগ প্রতিযোগিতা লা লিগা তে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং বার্সেলোনার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক ধারাভাষ্যকার, ফুটবল বিশেষজ্ঞ, কোচ এবং খেলোয়াড় মেসিকে বর্তমান সময়ের সেরা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে গন্য করে থাকেন।

লিওনেল মেসি রেকর্ড পাঁচবার ব্যালন ডি অর জয় করেছেন, যার মধ্যে চারটি জিতেছেন টানা চার বছরে। পাশাপাশি রেকর্ড পাঁচবার ইউরোপীয় গোল্ডেন শু ও জিতেছেন। তিনি তার পুরো পেশাদার জীবন পার করেছেন বার্সেলোনায় যেখানে মোট ৩২টি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৯টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং ৬টি কোপা দেল রে। একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোল (৪০৮), লা লিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৫০), ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৭৩), এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল (৯১), এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল (২৬) এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের (৮) রেকর্ড। পাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও সেরা। তিনি লা লিগা (১৬৩) এবং কোপা আমেরিকার (১১) ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর রেকর্ডেরও মালিক। জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে তিনি ৬০০-এর অধিক পেশাদার গোল করেছেন।

মধ্য আর্জেন্টিনায় জন্ম এবং বেড়ে ওঠা মেসি ছোট বেলায় গ্রোথ হরমোন সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হন। ১৩ বছর বয়সে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দিতে স্পেনে চলে আসেন, কারণ তারা তার চিকিৎসার খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছিল। বার্সেলোনার যুব প্রকল্পে দ্রুত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে ১৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে তার বার্সেলোনা মূল দলে অভিষেক হয়। ক্যারয়ারের শুরুতে ইঞ্জুরি প্রবণ হলেও ২০০৭ সাল নাগাদ তিনি নিজেকে ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেন। ২০০৭ সালের ব্যালন ডি অর এবং ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কারে তিনি প্রথম তিনজনের একজন হিসেবে স্থান করে নেন এবং পরবর্তী বছর তিনি উভয় পুরস্কার জয় করেন। তার প্রথম অবিচ্ছিন্ন মৌসুম ছিল ২০০৮-০৯ যেখানে তিনি বার্সেলোনাকে ট্রেবল জয়ে সাহায্য করেন। ২২ বছর বয়সে মেসি রেকর্ড ভোটের ব্যবধানে ব্যালন ডি অর এবং ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার জয় করেন।

পরিসংখ্যানগত দিক দিয়ে মেসির সেরা মৌসুম ছিল ২০১১-১২, যখন তিনি লা লিগা এবং ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন এবং বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মেসির সেরা ফর্মের আরেকটি ঝলক দেখা যায় ২০১৪-১৫ মৌসুমে যখন তিনি লা লিগা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন এবং বার্সেলোনাকে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় ট্রেবল জয়ে সাহায্য করেন। ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে মেসি বার্সেলোনার অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন।

মেসি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে মেসি আর্জেনটিনাকে ২০০৫ ফিফা ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে সাহায্য করেন যে টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলম্পিকে তিনি স্বর্ণপদক জয় করেন। ২০০৫ সালের অগাস্টে তার আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এ তার অভিষেক হয়। ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ এ গোল করার মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৭ কোপা আমেরিকায় তিনি টুর্নামেন্ট সেরা যুব খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন যে টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা রানার-আপ হয়। ২০১১ সালের অগাস্টে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান। অধিনায়ক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনাকে টানা তিনটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে তোলেন: ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকা। তিনি ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল অর্জন করেন।

স্পেনীয় ভাষা

স্পেনীয় ( এস্পানিওল্‌) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের রোমান্স শাখার একটি ভাষা। বাকি সব রোমান্স ভাষার মত স্পেনীয় ভাষাও একটি প্রাকৃত লাতিন ভাষা থেকে উৎপত্তি লাভ করে; এই প্রাকৃত ভাষাটি ইবেরীয় উপদ্বীপে (বর্তমান স্পেনে) প্রচলিত ছিল। ১৬শ শতকে স্পেনীয় উপনিবেশ স্থাপনের মধ্য দিয়ে এটি দুই আমেরিকা মহাদেশ, ফিলিপিন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্রায় ৩৯ কোটি লোকের মাতৃভাষা, এবং সব মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় ৪১ কোটি লোক এই ভাষায় কথা বলেন। এদের অধিকাংশই স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকায় বাস করেন। মেক্সিকো স্পেনীয়ভাষীর সংখ্যা অনুযায়ী বৃহত্তম দেশ। তারপরেই আছে কলম্বিয়া, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

স্পেনের অধিবাসীরা স্পেনীয় ভাষাকে অন্যান্য জাতীয় ভাষার সাথে তুলনার সময় এস্পানিওল (Español) নামে ডাকেন। আবার এটিকে স্পেনের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার (যেমন- কাতালান, গালিসীয়, বা বাস্ক) সাথে তুলনার সময় কাস্তেইয়ানো (Castellano) নামে ডাকা হয়।

স্পেনীয় ভাষা ২২টি দেশের সরকারি ভাষা: আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া (কেচুয়া ও আইমারা-র সাথে সহসরকারী), চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টা রিকা, কিউবা, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, এল সালভাদোর, নিরক্ষীয় গিনি (ফরাসি-র সাথে সহসরকারী), গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পানামা, প্যারাগুয়ে (গুয়ারানি-র সাথে সহসরকারী), পেরু (কেচুয়া ও আইমারা-র সাথে সহসরকারী), পুয়ের্টো রিকো (ইংরেজির সাথে সহসরকারী), স্পেন (কিছু কিছু অঞ্চলে কাতালান, গালিসীয় ও বাস্কের সাথে সহসরকারী), উরুগুয়ে, ভেনেজুয়েলা, এবং পশ্চিম সাহারা (আরবি-র সাথে সহসরকারী)।

জাতিসংঘের ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকরী ভাষার মধ্যে স্পেনীয় একটি। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা।

হিন্দু

হিন্দু (pronunciation ) দিয়ে একটি ধর্মীয় অথবা একটি সংস্কৃতির পরিচয় বোঝানো হয় যা ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব দর্শনগত, ধর্মীয় এবং সংস্কৃতির সাথে জড়িত। বর্তমানে সাধারণভাবে হিন্দু দিয়ে হিন্দুধর্মকে বোঝানো হয়। যদিও ভারতের সংবিধানে "হিন্দু" শব্দটি ব্যবহার করে যে কোন ভারতীয় ধর্ম বিশ্বাসীকে (হিন্দুধর্ম, জৈনধর্ম, বৌদ্ধধর্ম বা শিখধর্ম) নির্দেশ করা হয়েছে। হিন্দু এবং হিন্দি শব্দ দুটিকে সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে সেই সকল লোকের জন্য যারা সিন্ধু নদের পাশে বসবাস করছেন। এইভাবে কবি যেমন ইকবাল, মন্ত্রী যেমন এম.সি.চাগলা এবং আরএসএসের মত প্রতিষ্ঠান হিন্দু এবং হিন্দি শব্দ দুটিকে ব্যবহার করেছেন সিন্ধু নদের পাড়ে বসবাসরত মানুষদেরকে বোঝাতে তা সেই যে কোন ধর্মের হোক না কেন।হিন্দু শব্দটি এসেছে (পার্সিয়ান হয়ে) সংস্কৃত শব্দ সিন্ধু (ঐতিহাসিক স্থানীয় সিন্ধু নদী বা ইন্ডাস্ রিভার) থেকে। এর অবস্থান ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরপশ্চিম অংশে (বর্তমানে পাকিস্তান এবং উত্তর ভারতের অংশে)। গেবিন ফ্লাডের মতে, "আসল পরিভাষা হিন্দু প্রথম দেওয়া হয় পার্সিয়ান ভৌগোলিক পরিভাষা থেকে যা দ্বারা সিন্ধু নদীর পাশে বসবাসকারী লোকেদের বোঝানো হত। শব্দটি দিয়ে তখন ভৌগোলিক অবস্থান বোঝানো হত এবং এর দ্বারা কোন ধর্মকে বোঝানো হত না।হিন্দু শব্দটি পরবর্তীতে মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয়েছিল কিছু সংস্কৃত লেখায় যেমন কাশ্মীরের রাজাতরঙ্গিনিসে (হিন্দুকা সি. ১৪৫০)। বিভিন্ন কবিরা হিন্দু ধর্মকে আলাদা করে ইসলাম ধর্ম (turaka dharma) থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন বিদ্যাপতি, কবির এব একনাথ। ১৬শ থেকে ১৮শ শতাব্দিতে বাংলা গৌড়িয় বৈষ্ণব লেখায় যাতে চৈতন্য চরণামৃত এবং চৈতন্য ভগবতেও একই ধরনের তুলনা করা হয়। ১৮শ শতাব্দির শেষের দিকে, ইউরোপীয় ব্যবসায়ী ও ঔপনিবেশিকরা ভারতীয় ধর্মের অনুসারীদেরকে একত্রে (একক কোন ধর্মকে নয়) হিন্দাস হিসেবে নির্দেশ করে। ঊনবিংশ শতাব্দিতে Hinduism বা হিন্দুধর্ম শব্দটি ইংরেজি ভাষায় সূচিত হয় ভারতীয়দের ধর্ম বিশ্বাস, দর্শন এবং সংস্কৃতিকে বোঝানোর জন্য।

২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী অনুসারীর দিক থেকে খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের পর হিন্দুধর্ম পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ হিন্দু ধর্ম অনুসারী বাস করে ভারতে যা প্রায় ১.০৩ বিলিয়ন। অন্যান্য দেশেও হিন্দু ধর্ম অনুসারী রয়েছে যেমন নেপাল, বাংলাদেশ,চীন,মালয়েশিয়া,আর্জেন্টিনা,ব্রাজিল, পর্তুগাল, কানাডা,ওমান, সংযুক্ত আরবআমিরাত, অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড,জার্মানি, কোরিয়া, নেদারল্যান্ড,পাকিস্তান, আফগানিস্তান,মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, কানাডা, ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে, ফিজি, ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো, যুক্তরাজ্য সহ প্রায় পৃথিবীর অনেক দেশে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা বসবাস করেন।

১৯৭৮ ফিফা বিশ্বকাপ

১৯৭৮ সালে ১১ তম ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় আর্জেন্টিনার ৫ টি শহরের ৬টি ভেন্যুতে। ১-২৫ জুন অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে সর্বমোট ১৬ টি দেশ অংশ নেয়। ২৫ জুনের ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ড। আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলের ব্যবধানে নেদারল্যান্ড কে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা ১ম বারের মতো ঘরে তোলে। ৩য় এবং ৪র্থ স্থান পায় যথাক্রমে ব্রাজিল এবং ইটালি । সর্বমোট ম্যাচ হয় ৩৮টি এবং গোল হয় ১০২টি। সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ম্যারিও ক্যাম্পেস।

২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ

২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ (ইংরেজি: 2010 FIFA World Cup) হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ঊনিশতম আসর। ফিফা বিশ্বকাপ হচ্ছে বিশ্বের প্রধান ফুটবল প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের ১১ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত। বিশ্বকাপের এই আসরটির আয়োজক দেশ হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৭ সালের আগস্ট মাস থেকে এই বিশ্বকাপের জন্য যোগ্য ৩২টি দল নির্বাচনের লক্ষ্যে ফিফার ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারশনগুলোতে বাছাইপর্ব শুরু হয়। এই বাছাইপর্বে ফিফার মোট ২০৮টি সদস্য দেশের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের মধ্যে ২০৪টি দল অংশ নেয়। জার্মানিতে ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপাধারী ইতালি এই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শুরু করে। এই বিশ্বকাপের সর্বশেষ ড্র অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ৪ ডিসেম্বর, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে।

এইবারই প্রথমবারের মতো আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক দেশ নির্বাচনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজক হতে ইচ্ছুক, আফ্রিকার দেশ মরোক্কো ও মিশরকে পরাজিত করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফিফার কনফেডারেশন ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন। এখন পর্যন্ত এই কনফেডারেশনের আওতায় কোনো বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়নি।

বিশ্বকাপের এই আসরের শিরোপাধারী দল হচ্ছে স্পেন। ফাইনালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে আসা নেদারল্যান্ডসকে ১–০ গোলে পরাজিত করে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের খেলার শেষ দিকে স্পেন আন্দ্রেজ ইনিয়েস্তার জয়সূচক গোলে নেদারল্যান্ডসকে পরাজিত করে। সেই সাথে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং গতবারের শিরোপাজয়ী দল ইতালি ও রানার্স-আপ ফ্রান্স গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়। এছাড়াও ফুটবলের মহারথী দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ও জার্মানিও নকআউট পর্বেই বাদ পড়ে যায়। এই বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দলটি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড যদিও তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, কিন্তু গ্রুপ পর্বের কোনো খেলাতেই তারা পরাজিত হয়নি।

২০১০ সালের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো কোনো দেশ ইউরোপের বাইরে বিশ্বকাপ জয় করার গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও এবারই প্রথমবারের মতো দুটো ইউরোপীয় দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়, যারা এর আগে কখনো বিশ্বকাপে পরস্পরের মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ফিফার মোট ২০৮টি সদস্য ফেডারেশনের মধ্যে ২০৪টি ফেডারেশন অংশ নেয়। এর মাধ্যমে ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ, একই সাথে ২০০৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের সাথে যৌথভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেশের অংশগ্রহণকারী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার স্বীকৃতি পায়।

২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ

২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ (ইংরেজি: 2014 FIFA World Cup) হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২০তম আসর। এটি একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা যা দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশ ব্রাজিলে ২০১৪ সালের ১৩ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের পর এটি হচ্ছে ব্রাজিলের আয়োজিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। সেই সাথে মেক্সিকো, ইতালি, ফ্রান্স এবং জার্মানির পর ব্রাজিল হচ্ছে পঞ্চম দেশ যারা প্রত্যেকে দুইবার করে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এটি হবে আমেরিকা মহাদেশে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ। সেই সাথে ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় আয়োজিত বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আমেরিকায় আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল প্রতি আট বছর পর পর ইউরোপে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রচলিত ঐতিহ্য ভঙ্গ করেছে।

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া সবকয়টি দলই এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহনের সুযোগ পেয়েছে। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় ৪ বার বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে যার সবকয়টিই জিতেছে দক্ষিণ আমেরিকান কোন দল।

আর্জেন্টিনার বিভিন্ন বিষয়ের নিবন্ধসমূহ
দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্র ও এলাকাসমূহ
সার্বভৌম রাষ্ট্র
অধীনস্থ এলাকা

অন্যান্য ভাষাসমূহ

This page is based on a Wikipedia article written by authors (here).
Text is available under the CC BY-SA 3.0 license; additional terms may apply.
Images, videos and audio are available under their respective licenses.